ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মোদির আগমনের খবরে মতুয়াদের মধ্যে আনন্দের বন্যা

প্রকাশিত : 10:28 AM, 14 March 2021 Sunday
58 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৭ মার্চ সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুরে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শন করবেন বলে কর্মসূচী দেয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফরে আসছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এই সরকারপ্রধান সফরকালে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির পরিদর্শন করতে এসে সেখানে মাত্র ২০ মিনিট অবস্থান করবেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। মোদির আগমন ঘিরে নতুনরূপে সাজতে শুরু করেছে সুন্দরবনের কোলঘেঁষা উপজেলা শ্যামনগর। সংস্কার করা হচ্ছে কালীমন্দিরটি। সবখানে চলছে সাজ সাজ রব। মোদির আগমনের খবরে শ্যামনগরের মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো

সফরসূচীতে জানানো হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৬-২৭ মার্চ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরকালীন বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জ সফর করবেন। ২৭ মার্চ সকাল নয়টা ৫০ মিনিটে তিনি শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুরে অবস্থিত যশোরেশ্বরী দেবী মন্দির পরিদর্শন শেষে দশটা ১০ মিনিটে সাতক্ষীরা ত্যাগ করবেন। ১০টা ৫০ মিনিটে গোপালগঞ্জে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ পরিদর্শন, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও চারাগাছ রোপণ করবেন। এরপর বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানির ওড়াকান্দি মন্দির পরিদর্শন করবেন। ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও মোদির নিরাপত্তা দলের সদস্যরা গত সপ্তাহেই সাতক্ষীরায় সরেজমিন ঘুরে মন্দির এলাকা রেকি করে গেছেন। মন্দিরের অবকাঠামো, যাতায়াত পথ, নিরাপত্তাসহ সবকিছু দেখে

গেছেন তারা। বর্তমানে সাতক্ষীরা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে ওই মন্দির এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে যশোরেশ্বরী কালীমন্দির এবং এর আশপাশের এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারিতে আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ ইসমাইল হোসেন এনডিসির নেতৃত্বে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালসহ বিভিন্ন দফতরে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাতক্ষীরার সফর সামনে রেখে জরুরী বৈঠক করেছেন। এরই মধ্যে সেখানে তিনটি হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সাতক্ষীরার বিভিন্ন স্থানে মতুয়া সম্প্রদায়ের ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে শুধু শ্যামনগর উপজেলায়ই রয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। জেলা মতুয়া সম্প্রদায়ের সভাপতি ও শ্যামনগর উপজেলা সভাপতি

কৃষ্ণান্দ মুখার্জী জানান, নরেন্দ্র মোদির আগমন উপলক্ষে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের পুরোহিত দিলীপ মুখার্জী মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তিনি জানান, এ মন্দিরে প্রতি বছর শ্যামা কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রতি শনি ও মঙ্গলবার এ মন্দিরে পূজা অর্চনা হয়ে থাকে।

শ্যামনগরের যশোরেশ্বরী কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে নানা রকম তথ্য পাওয়া গেছে। একান্ন শক্তিপীঠের একটি যশোরেশ্বরী দেবী মন্দির। সত্যযুগ থেকে দেবী এখানে অধিষ্ঠিত। কবিরামের দিগি¦জয় গ্রন্থ থেকে জানা যায়, প্রাচীনকালে অনরি নামে একজন ব্রাহ্মণ ঈশ্বরীপুরে যশোরেশ্বরী দেবীর শতদ্বার যুক্ত মন্দির নির্মাণ করেন। প্রাকৃতিক কারণে এই মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হলে ধেনুকর্ণ নামের এক ক্ষত্রিয় নৃপতি ভগ্ন মন্দির সংস্কার

করেন। পরবর্তীতে রাজা লক্ষণসেন প্রাচীন যশোর রাজ্যের ঈশ্বরীপুরে অবস্থিত শক্তিপীঠ যশোরেশ্বরী মন্দির সংস্কার ও মন্দিরের উত্তর-পূর্ব কোনে চন্ডভৈরবের ত্রিকোণ মন্দির নির্মাণ করেন। লোক ইতিহাসের মতে, অষ্টম শতাব্দিতেও এখানে মন্দির ছিল। প্রাকৃতিক ও অন্য কোন সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণে এ স্থান পরিত্যক্ত হয়।

মধ্যযুগে বাংলাদেশে বারো ভুঁইয়াদের অন্যতম প্রধান নৃপতি রাজা প্রতাপাদিত্য রায় যশোহর রাজ্যে যমুনা ও ইছামতি নদীর সঙ্গমস্থল মুক্তবেণীতে তার নতুন রাজধানী গড়ে তোলার সময় (১৮৫০-৮৩) বনের মধ্যে এই মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় খুঁজে পান। তিনি যশোরেশ্বরী দেবীকে ভাগ্যদেবতা মেনে দেবীর চকমিলান মন্দির পুনর্নির্মাণ করেন। এ মন্দিরের চারপাশে তিনি নতুন রাজধানী শহর গড়ে তুলে নাম রাখেন

যশোরেশ্বরী পুর। বর্তমানে এটি ঈশ্বরীপুর।

‘যশোহর খুলনার ইতিহাস’ প্রণেতা সতীশ চন্দ্র মিত্র এ মন্দির স্থাপনা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করেছেন। এতে বলা হয়, ১৫৬০-৮০ সাল পর্যন্ত রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্বকালে তিনি স্বপ্নে আদিষ্ট হন ঈশ্বরীপুর এলাকায় একটি মন্দির নির্মাণের। মন্দিরটি নির্মাণের পর সেটি বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে মন্দিরটি জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে ওঠে। সে সময় শ্যামনগরের ধুমঘাট ছিল বাংলার বারো ভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী। রাজা প্রতাপাদিত্য এ সময় দেখতে পান ওই জঙ্গল থেকে এক আলোকরশ্মি বেরিয়ে আসছে। তিনি তখন মন্দিরটি খোলার নির্দেশ দেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT