ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মেলার প্রকৃত সৌন্দর্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে

প্রকাশিত : 09:32 AM, 21 March 2021 Sunday
95 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

দুই আঙ্গিনায় বিন্যস্ত হয়েছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। সাত বছর ধরে বাংলা একাডেমি সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঠাঁই নিয়েছে এই প্রাণের মেলা। ২০১৪ সালে প্রথমবার অমর একুশে গ্রন্থমেলার ঠাঁই হয় স্বাধীনতার স্মৃতিধন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এর আগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং তার সামনের সড়কটিতে অনুষ্ঠিত হতো গ্রন্থমেলা। লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তৃত পরিসরে উদ্যান অংশে মেলাকে স্থানান্তর করে আয়োজক বাংলা একাডেমি। সেই বাস্তবতায় পাঠকের চাহিদার কেন্দ্রে থাকা সৃজনশীল প্রকাশনীসমূহকে নিয়ে যাওয়া হয় উদ্যান অংশে। তবে উদ্যানের স্থানান্তরিত মেলার প্রথম বছর শিশুচত্বর এবং লিটল ম্যাগাজিন কর্নার ছিল বাংলা একাডেমিতে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের মেলায় শিশু চত্বর চলে

যায় উদ্যান অংশে। একাডেমির নজরুল মঞ্চ ছেড়ে ২০১৭ সালে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চটিও স্থানান্তরিত হয় উদ্যানে। ২০১৯ সালে যুক্ত হয় মেলার নতুন সংযোজন লেখক বলছি মঞ্চ। ২০২০ সালে ছোট কাগজের আলোকিত সম্ভার লিটল ম্যাগাজিন কর্নারও পৌঁছে গেছে উদ্যানে। সেই অর্থে গ্রন্থমেলার আসল রূপের দেখা মিলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে উপলক্ষ করে চমৎকার বিন্যাসের মেলার সকল সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে উদ্যানে। তাই গল্প-কবিতা, উপন্যাস, ভ্রমণসাহিত্য কিংবা মননশীল বইয়ের জন্য পাঠকের ঠিকানা এখন একটাই। খুদে পাঠকের জন্য চমৎকার সজ্জায় রাশি রাশি গ্রন্থসম্ভার নিয়ে সেজেছে শিশু চত্বর। বিকল্প ভাবনার প্রকাশে নবীন লেখকদের জ্বলে ওঠার কাগজ লিটল

ম্যাগাজিনগুলো হাতছানি দিচ্ছে ভিন্ন ধারার পাঠককে। অভিধানসহ গবেষণাধর্মী ও মননশীল বইয়ের জন্য পাঠকসমাদৃত বাংলা একাডেমির বইগুলোও সহজে মিলে যাচ্ছে উদ্যানে। এভাবেই গ্রন্থমেলার সামগ্রিক সৌকর্যকে ধারণ করেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

এ বিষয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি এবং সময় প্রকাশনের প্রকাশক ফরিদ আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের কাছে গ্রন্থমেলাটি হচ্ছে একইসঙ্গে প্রাণেরমেলা ও মিলনমেলা। আর এই দুই সৌন্দর্যকে এখন একসঙ্গে ধারণ করেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এবার ১৫ লাখ বর্গফুটের বিস্তৃত পরিসরের মেলায় সেটি আরও বেশি পূর্ণতা পেয়েছে। ঘুরেফিরে বই কেনার সঙ্গে প্রশস্ত প্রান্তরে আড্ডা দিয়ে সময় কাটানোর সুযোগটি বেড়েছে। সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থার স্টল থেকে শিশু চত্বর কিংবা লেখকের গল্প

শোনার লেখক বলছি মঞ্চÑ সবটাই মিলছে এক স্থানে। এতে পাঠকের জন্য দারুণ সুবিধা হয়েছে। তারা এক জায়গা থেকেই সংগ্রহ করতে পারছেন পছন্দের বইগুলো। কারণ মেলার বাংলা একাডেমি অংশে মূলত বিভিন্ন সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকে। সেখানে বই কেনার চেয়ে দেখার বিষয়টাই বেশি প্রাধান্য পায়।

তৃতীয় দিনের গ্রন্থমেলা ॥ শনিবার ছিল একুশে গ্রন্থমেলার তৃতীয় দিন। এদিন রাত নয়টায় শেষ হওয়া দশ ঘণ্টাব্যাপ্তির মেলার সূচনা হয় সকাল এগারোটায়। সেসময় উদ্যানজুড়ে ভাসছিল চৈত্রের চিকচিকে রোদ্দুর। সেই রৌদ্র¯œানকে সঙ্গী করে সমাগত হওয়া পাঠকের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। আফসান আজিম নামের তেমনই এক পাঠকের দেখা মেলে কথা প্রকাশের প্যাভিলিয়নে। সেখান থেকে

সংগ্রহ করছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মপ্রক্রিয়ার প্রথম প্রহরের ঘটনাবলি নিয়ে গবেষক আফসান চৌধুরীর লেখা বই ‘১৯৭১ : অসহযোগ আন্দোলন ও প্রতিরোধ’। কথা প্রসঙ্গে এই বেসরকারী চাকরিজীবী বললেন, কর্মজীবনের বাইরে আমার অবসর কাটে বই পড়ে। গল্প-উপন্যাসের পরিবর্তে রাজনৈতিক ইতিহাস বা প্রবন্ধের বই পড়তে পছন্দ করি। পত্রিকায় প্রকাশিত বইমেলার প্রতিবেদনের নতুন বইয়ের তথ্য দেখে পছন্দের কয়েকটি বইয়ের তালিকাও এনেছি। এর মধ্যে রয়েছে গোলাম মুরশিদের ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাংস্কৃতিক পটভূমি’ এবং মওদুদ আহমদের ‘সেনা সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০০৭-২০০৮’।

সকালের তুলনায় বিকেলের বইমেলায় বেড়েছে পাঠক ও দর্শনার্থী সমাগম। তাদেরই একজন তানিয়া অরিন নামের এক শিক্ষার্থী। আপলাপচারিতায় জানালেন মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘বনবালিকা’

নামের কল্পবিজ্ঞান এবং সাদাত হোসাইনের ‘তোমার নামে সন্ধ্যা নামে’ শিরোনামের উপন্যাস সংগ্রহ করেছেন। এরপর বললেন, সারা বছর এই মেলার জন্য অপেক্ষা করি। এখানে এলে এক ধরনের ভাললাগা কাজ করে।

এদিকে তৃতীয় দিনেও শেষ হয়নি সব স্টল ও প্যাভিলিয়নের নির্মাণ কাজ। শেষ হয়নি শৌচাগার ও নামাজের স্থানের নির্মাণ কাজও। জায়গায় জায়গায় ছড়িয়ে বালু-সুরকিসহ নানা বর্জ্য। এ বিষয়ে গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ বলেন, আমরা এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি। এবার মেলা হওয়ার সিদ্ধান্ত আমরা পাই ১৮ জানুয়ারি। সেদিক থেকে খুব বেশি সময় পেয়েছি তা বলা যাবে না। আর সুন্দর করে টাইলস দিয়ে টয়লেট নির্মাণ

করতে গেলে একটু সময়ের প্রয়োজন।

নতুন বই ॥ বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মেলার তৃতীয় দিনে গল্প, উপন্যাস, কবিতা, কল্পবিজ্ঞান, রাজনীতি, ইতিহাস, ধর্মীয়, অনুবাদসহ বিবিধ শাখায় প্রকাশিত হয়েছে ১০৪টি নতুন গ্রন্থ। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বইয়ের তালিকা দেয়া হলো। আগামী প্রকাশনী থেকে এসেছে আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরী রাজনৈতিক কলাম ‘হাসিনা ও রেহানা অ-রূপকথার দুই বোন’, হাসনাত আবদুল হাইয়ের ‘দিনলিপি ২০২০’ এবং মোনায়েম সরকারের ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ : সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের ভূমিকা’। কথা প্রকাশ থেকে বেরিয়েছে আহমদ রফিকের স্মৃতিকথা ‘স্মরণীয় বরণীয় আপন বৈশিষ্ট্যে’ ও হাসান আজিজুল হকের কাব্যগ্রন্থ ‘সুগন্ধি সমুদ্র পার হয়ে’। অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে মোস্তফা কামালের

উপন্যাস ‘১৯৭৫’, শাইখ সিরাজের উপন্যাস ‘করোনাকালে বহতা জীবন’। ঐতিহ্য থেকে বেরিয়েছে শামীম মনোয়ারের অনুবাদগ্রন্থ ‘মানসা মুসা’। শিশু গ্রন্থ কুটির থেকে প্রকাশিত হয়েছে ঝর্ণাদাশ পুরকায়স্থর শিশুতোষ গল্প ‘জাদুকর ও আইসক্রিমের ঘর’। এ্যাডর্ন থেকে এসেছে আতা সরকারের উপন্যাস ‘তিতুর লেঠেল’। অনুপম থেকে এসেছে আহসান হাবীবের বিজ্ঞান গ্রন্থ ‘আরো রহস্য আরো বিজ্ঞান’। সময় থেকে বেরিয়েছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস ‘যেটুকু টুনটুনি সেটুকু ছোটাচ্চু’ ও আনিসুল হকের কিশোর উপন্যাস ‘চার কিশোর অভিযান’। অনন্যা থেকে বেরিয়েছে মাসুদা ভাট্টির উপন্যাস ‘সবুজ সালোয়ার’। অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে হারুন-অর-রশীদের ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’।

মেলা মঞ্চের আয়োজন : এদিন বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বাধীনতার

সুবর্ণজয়ন্তী : স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ শীর্ষক আলোচনা। এতে আবুল মোমেন লিখিত প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলা একাডেমির সহপরিচালক সাহেদ মন্তাজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আবুল কাশেম এবং ফওজুল আজিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খুরশীদা বেগম।

প্রাবন্ধিক বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ গণপরিষদে খসড়া শাসনতন্ত্র অনুমোদন উপলক্ষে প্রদত্ত ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের আলোকে দেশের চারটি মৌলিক আদর্শ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। ১২ অক্টোবর ১৯৭২ স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার নির্বাচনের অধিবেশনে তিনি এ সংবিধানকে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্যে নির্দেশনা হিসেবে আখ্যায়িত করেনÑ অর্থাৎ এটির মূল ভাবধারাকে স্থায়ী হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন তিনি। ৪ নবেম্বর ১৯৭২ সংবিধান বিলের ওপর দীর্ঘ ভাষণেও তিনি এর মূল চার

স্তম্ভের কথা আবেগ দিয়ে আবারও বলেছেন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও ঘোষণাপত্র নিয়ে অনেক অযথা বিতর্কের জন্ম দেয়া হয়েছে, এ সম্পর্কিত ইতিহাসকে রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটিয়ে বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে স্বাধীনতার রূপকল্প একাত্তরের বহু আগেই তৈরি করে রেখেছিলেন। একাত্তরের ৭ মার্চ তার ঐতিহাসিক বক্তৃতার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সূত্রগুলো এদেশের জনগণের কাছে উপস্থিত করে আসন্ন মুক্তিযুদ্ধের জন্য ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এ নিয়ে কোন বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।

শনিবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আবদুস সেলিম, শাহেদ কায়েস এবং আঁখি হক।

আজকের গ্রন্থমেলা ॥ আজ রবিবার গ্রন্থমেলার চতুর্থ

দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেলে মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন কল্যাণী ঘোষ, বুলবুল মহলানবীশ ও আশরাফুল আলম। সভাপতিত্ব করবেন রামেন্দু মজুমদার।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT