ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

মুজিব শতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী

প্রকাশিত : 07:10 AM, 24 March 2021 Wednesday
80 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

বাঙালী জাতির ভাগ্যাকাশে যে সকল নক্ষত্র কোন এককালে উদয় হয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম শেখ মুজিবুর রহমান। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালী যখন ভুগছে অস্তিত্ব সঙ্কটে, তখনই বাঙালী জাতির পরিত্রাণের প্রধান নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দক্ষিণ এশিয়ার বুকে যে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র আজ মানচিত্রে জ্বলজ্বল করছে তা শেখ মুজিব ছাড়া কল্পনাই করা যেত না। সেজন্যই স্বাধীন বাংলাদেশ তাকে দিয়েছে জাতির জনকের সম্মান।

মুজিববর্ষ হলো বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের জন্য ঘোষিত বর্ষ। বাংলাদেশ সরকার ২০২০-২১ সালকে (১৭ মার্চ ২০২০ সাল থেকে ১৭ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত) মুজিববর্ষ

হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত এ বর্ষ উদ্যাপন করার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে গ্রহণ করা কর্মসূচীগুলো নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে করতে না পারায় মুজিববর্ষের মেয়াদ প্রায় ৯ মাস বাড়িয়ে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়।

জাতির জনক গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। আবার ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। শেখ মুজিবুর রহমান ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায় ঘোষিত বর্ষটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বর্ষ উদ্যাপনকালীন সময় জাতির জনকের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ভূমিকা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার জন্য দেশব্যাপী ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ৭ মার্চ

ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ৩ নবেম্বর জেলহত্যা দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বৃদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, সারাদেশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে।

জাতির জনক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, তিনি সারা বিশ্বের শোষিত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির বার্তা বহনকারী নেতা। বঙ্গবন্ধুর নাম একজন গণতন্ত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। পাকিস্তান কারাগার থেকে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি এবং ১২ জানুয়ারি তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর ধ্বংসপ্রাপ্ত যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের জনগণকে বলেছিলেন কিছু

দিতে পারবেন না। কিন্তু তাঁর শাসনের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি অনেক কাজ করেন। যেমন-

১) ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী শরণার্থীদের ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করেন। ২) তিনি বাংলাদেশে অবস্থানকারী মিত্রবাহিনীর (ভারতীয় সেনাবাহিনী) সদস্যদের তিন মাসের মধ্যে ভারতে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হন। ৩) স্বল্পতম সময়ে বিশ্ব ইতিহাসে অবিস্মরণীয় একটি ঘটনা, বাংলাদেশের সংবিধান রচিত হয়েছে মাত্র ১০ মাসে। ৪) বিশ্বের সৌদি আরব, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কমনওয়েলভুক্ত দেশ, ওআইসি এবং আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা ও দেশসমূহ বঙ্গবন্ধুর দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। ৫) আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্রে ৭৪-এর দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট, কোর্ট-কাছারি

নির্মাণ করেন। তাঁর আমলে চালের কেজি ছিল ১০ টাকা। ৬) বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি ছিল সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। সারা বিশ্বের অন্য রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে তিনি নিজের অবস্থান অন্যান্য উচ্চতায় নিয়ে যান। কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সেই বিখ্যাত উক্তি ‘আমি হিমালয় দেখিনি, তবে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি হিমালয়ের সমতুল্য। আর এভাবেই আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা লাভ করেছি’। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু ছিলেন হিমালয়ের মতো বিশাল। তাঁকে হত্যা করে, মাহাথীরের মালয়েশিয়া এবং উন্নত সিঙ্গাপুর গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অনেক পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে আশার কথা বঙ্গবন্ধুর

সুযোগ্যাকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করিয়েছেন এবং স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়শীল দেশের মর্যাদায় নিয়ে গেছেন। জাতিসংঘসহ বিশ্বের উন্নত দেশসমূহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ পরিচালনার ভূয়সী প্রশংসা করেছে এবং নিজেরাও নিজেদের দেশকে গড়ার এই ফর্মুলা গ্রহণ করেছে। করোনা মহামারীতেও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অর্থনীতিতে বেশি সাফল্য অর্জন করেছে।

বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বেড়েছে, ৪৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ হয়েছে, পদ্মা সেতু নির্মাণ সমাপ্তির পথে, মেট্রোরেল চালু হতে যাচ্ছে, ১ লাখ গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষ গৃহ ও ভূমি পেয়েছে, ১২ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় পেয়েছে, ইউরোপসহ অনেক দেশে যেখানে ভ্যাকসিন নেই, সেখানে

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জীবন মান উন্নত করেছেন এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় রেখেছেন। বাংলাদেশ এখন ভারত, চীন-এর অর্থনীতির সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে চলেছে।

বিবিসি বাংলা বঙ্গবন্ধুকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী ঘোষণা করেছে। ৭ মার্চের ভাষণ ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবরে ইউনেস্কো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃত দিয়েছে। জাতিসংঘের শিক্ষা-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংগঠনের (টহবংপড়) ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে মুজিববর্ষ পালনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১৯ সালের ১২-১৭ নবেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ২৫ নবেম্বরে ইউনেস্কোর সকল সদস্যের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট পাকিস্তানপন্থী আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় দালালের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা

করা হয়। বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতা এনেছেন এবং নিজের বুকের রক্ত দিয়ে বাঙালী জাতির ঋণ পরিশোধ করে গেছেন। জাতির পিতা সত্যিকার অর্থে যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন তা তাঁর সুযোগ্যাকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা পূরণের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। এই মুজিববর্ষে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য কামনা করি এবং সবারই ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁকে সহযোগিতা করা উচিত। জাতির জনকের জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না। তেমনি তাঁর কন্যার নিরন্তর পরিশ্রম ও রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা ছাড়া বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হতে পারত না। তাই তার প্রতি রইল নিরন্তর শুভ কামনা।

জাতির জনকের সুযোগ্যাকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার কারণে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তুী

উদ্যাপন প্রাক্কালে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘ চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদার সুপারিশ প্রদান করল বাংলাদেশকে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল এবং বাংলাদেশ বিশ্ব ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের দুয়ার উন্মোচিত করল। মুজিব শতবর্ষের গত ১০ ডিসেম্বর ২০২০ পদ্মা সেতুর শেষ স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে আরেকটি ঈর্ষান্বিত বিজয় অর্জিত হলো। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয় যুক্ত করলেন প্রমত্ত পদ্মার এপার-ওপার। বিশ্বনেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়ে এই পদ্মা সেতু স্থান করে নিল ইতিহাসের পাতায়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৯৭ সালে ২৫ মার্চ বাংলাদেশে এসেছিলেন নোবেল পুরস্কারজয়ী দক্ষিণ

আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, সেই সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত আর তৎকালীন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল। এবারও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলদেশে সফর করার জন্য সম্মতি দিয়েছেন বাংলাদেশের পরীক্ষিত অকৃত্রিম বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। করোনার এই সঙ্কটকালেও বাংলাদেশের এবারের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী হবে বিশ্ব ইতিহাসের সাক্ষী। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। এই দেশকে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত করে বাস্তবে রূপ দান করব। সকল অপশক্তি জঙ্গীবাদ মৌলবাদকে প্রতিহত করে আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করব এই হোক স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের অঙ্গীকার।

ডাঃ মোঃ

শারফুদ্দিন আহমেদ
লেখক : চেয়ারম্যান, কমিউনিটি অফথালমোলজি বিভাগ, সাবেক মহাসচিব, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন এবং সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT