নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হরমুজ এড়িয়ে তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন বন্ধ করল সৌদি
ক্ষেপণাস্ত্র ও সাইবার হামলায় এআই ব্যবহারের বিস্ফোরক দাবি অ্যানথ্রোপিকের
আরব আমিরাত-সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর সৌদি আরবের হামলা
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুদিনে ৪ বাংলাদেশির প্রাণহানি
মোদিবিরোধিতায় একজোট, রাহুলকে প্রধানমন্ত্রী মানতে আপত্তি শরিকদের
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দরপতন, তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ
‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ স্লোগানে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ দখলে নিল হুথিরা
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজার পাকিস্তানিকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বহিষ্কার
পাকিস্তানিদের উৎপাতে অতিষ্ট মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নাগরিক জীবন। ফলে চলতি বছরের ১লা মার্চ থেকে ১৩ই জুলাইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে ২০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি নাগরিককে ‘ঘাড় ধাক্কা দিয়ে’ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফেরত পাঠানোর এই তালিকায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সম্প্রতি পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে পেশ করা তথ্যে এ চিত্র ফুটে উঠেছে।
পাকিস্তানের নারকোটিক্স কন্ট্রোল মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা যায়, মূলত ভিক্ষাবৃত্তি, সীমান্ত আইন লঙ্ঘন, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণেই মূলত উপসাগরীয় দেশগুলো এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
উক্ত সময়ের মধ্যে একক দেশ হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৫০০ জন পাকিস্তানিকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ৩ হাজার ৮০৩ জনকে।
এছাড়া অন্যান্য দেশের মধ্যে ওমান ১ হাজার ৬০৬ জন, বাহরাইন ৫২১ জন, কাতার ৪২৯ জন এবং কুয়েত ৯৭ জন পাকিস্তানিকে দেশে ফেরত পাঠায়।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেআইনি অনুপ্রবেশ, ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও অবস্থান, ভিক্ষাবৃত্তি, মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ, নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মতো সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগেই এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
প্রত্যাবাসন হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত বা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি এবং ১ হাজার ২৯৪ জন সাজা ভোগ শেষ করে দেশে ফিরেছেন। তাছাড়া ৯৬৮ জনকে স্থায়ীভাবে কালো তালিকাভুক্ত বা ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে।
একই সাথে ১,১৫৫ জন পাসপোর্ট হারানো ব্যক্তি, ৬৮৯ জন ভিসা নীতি ভঙ্গকারী এবং ৩৪২ জন বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ফিরে আসতে বাধ্য হন। তবে এর বাইরে থাকা আরও প্রায় ৬ হাজার জনকে ফেরত পাঠানোর পেছনে সুনির্দিষ্ট কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি।
প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চরম উত্তেজনার সময় বিভিন্ন শহরে ইরানি হামলার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধেও বেশ কিছু পাকিস্তানিকে গ্রেপ্তার ও পরবর্তীতে বহিষ্কার করা হয়। যা কেবল অভিবাসন আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে।
অবশ্য পাকিস্তানের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরী আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে জানান, উপস্থাপিত এই হিসাবটি ওই সময়ে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে আসা সকল পাকিস্তানির সামগ্রিক চিত্র নয়।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কেবল সেসব নাগরিকের তথ্যই এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাদেরকে স্থানীয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করেছিল এবং দেশে ফেরাতে পাকিস্তান দূতাবাস থেকে জরুরি ট্রাভেল ডকুমেন্ট (এনওসি/পাস) ইস্যু করা হয়। যারা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নিজ দায়িত্বে ফিরে এসেছেন কিংবা যাদের কাছে বৈধ কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছিল, তারা এই হিসেবটির বাইরে রয়েছেন।

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]