ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ব্যারিস্টার মওদুদ আর নেই

প্রকাশিত : 08:20 AM, 17 March 2021 Wednesday
47 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

সাবেক উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তিনি কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শোক প্রকাশ করেছেন।

১৯৭৭ থেকে ৭৯ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করলে মওদুদ আহমদ ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম। পরে সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা

দখলের পর তিনি তার দল জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। এরপর আবারও বিএনপিতে ফিরে আসেন।

১৯৭৯ সালে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে মওদুদ আহমদ আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি এরশাদ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতি এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় মিছিলে অংশ নিয়ে পুলিশী নির্যাতনের শিকার ও কারাবরণ করেন ব্যারিস্টার মওদুদ। তবে ঘটনা তাকে করে রাজনৈতিক সচেতন করে তুলে। ঢাকা কলেজ ছাত্রসংসদের আপ্যায়ন সম্পাদক ও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এ্যাডভোকেট ফরমান উল্লাহ খান প্রতিষ্ঠিত খেলাফত রব্বানীর ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির নেতা ছিলেন। পেশাজীবী হিসেবে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে নানা ভূমিকায় নিজেকে রেখেছিলেন রাজনীতির কক্ষপথেই। বিএনপি আর জাতীয় পার্টি গঠনে পালন করেন মুখ্য ভূমিকা। রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সরকারের সময় কারাভোগ করেছেন।

শিক্ষাজীবনে মওদুদ আহমদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাস করে ব্রিটেনের লন্ডনে লিঙ্কন্স ইন থেকে অর্জন করেন বার-এ্যাট-ল। দেশে ফিরে হাইকোর্টে ওকালতির একপর্যায়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শামিল হয়েছিলেন আইনী লড়াইয়ে। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আইনী লড়াই করতে খ্যাতনামা ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসিকে বাংলাদেশে

আনতে রেখেছিলেন ভূমিকা।

১৯৭১-এ ইয়াহিয়া খান আহূত গোলটেবিল বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগঠকের ভূমিকা ছাড়াও ব্যারিস্টার মওদুদকে পোস্টমাস্টার জেনারেল নিয়োগ করে মুজিবনগর সরকার। মওদুদ ছিলেন দেশের প্রথম পোস্ট মাস্টার জেনারেল। মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা মওদুদ পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের মেয়ে।

১ ফেব্রুয়ারি মধ্য রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্ত্রী হাসনা মওদুদকে নিয়ে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপর ১০ মার্চ সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেয়া হয়।

এর আগে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া

ও বুকে ব্যথার কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত বছর ২৯ ডিসেম্বর গুলশানের বাসা থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। এরপর স্বাস্থ্যের আরও অবনতি হলে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে ৭ জানুয়ারি তার হৃদযন্ত্রে স্থায়ী পেস মেকার স্থাপন করা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে ২২ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর ২০ জানুয়ারি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুলশানের বাসায় ফিরে যান। তবে এভারকেয়ার হাসপাতালের ডাক্তারদের পরামর্শে গুলশানের বাসায় অবস্থান করেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেন তিনি। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শেই তিনি সিঙ্গাপুর গিয়ে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার

পিতা মাওলানা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমদ ছিলেন চতুর্থ।

মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাঁর এই চলে যাওয়া জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি সারাদেশের একজন মুরব্বি ছিলেন। অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, আইনজ্ঞ ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে, জনগণ একজন জনপ্রতিনিধিকে হারালো। তিনি মওদুদ আহমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তাঁর মৃত্যুতে

শোক প্রকাশ করেছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT