ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ব্যবসাবাণিজ্য বাড়বে ॥ মালদ্বীপের সঙ্গে পিটিএ সইয়ে ঐকমত্য

প্রকাশিত : 09:55 AM, 19 March 2021 Friday
82 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ উভয় দেশের মধ্যকার ব্যবসাবাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিতে (পিটিএ) স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পিটিএ চুক্তিতে স্বাক্ষরের বিষয়ে দুই নেতা ঐকমত্যে পৌঁছেন। মালদ্বীপে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশীদের বৈধ করতে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট।

এছাড়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে মৎস্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট

ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালদ্বীপের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জবাবে বাংলাদেশকে মালদ্বীপের সম্ভাবনাময় বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করে বলেন, শীঘ্রই দু’দেশের মধ্যে পিটিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁর দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিজে’তে (ইন্টারন্যাশনাল কোর্টস জাস্টিস) রোহিঙ্গাদের অধিকার যাতে নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করতে চায়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে

যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ দু’দিনের সফরে বুধবার সকালে ঢাকায় আসেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী, মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি ম্যাডাম ফাজনা আহমেদও তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দিয়ে রাতেই মালদ্বীপের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ।

বৈঠক শেষে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রেসিডেন্ট সলিহর মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

হয়েছে। উভয় নেতা দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক দিক পর্যালোচনা করেন এবং উভয় দেশের বিভিন্ন সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মালদ্বীপে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণ, মানবসম্পদ ও যুব সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ওষুধসামগ্রী, কৃষি, সামুদ্রিক সম্পদ ও মৎস্য, পর্যটন, সংস্কৃতি, দু’দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, দু’দেশের মধ্যে বিমান ও নৌ যোগাযোগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সমস্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও প্রশমন। এ সময় বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও বিস্ময়কর সফলতার প্রশংসা করেন

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট সলিহ।

তিনি জানান, বৈঠকে উভয় নেতা দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্ভাবনা উন্মোচনের ওপর জোর দেন। শুল্ক সহযোগিতা ও দ্বৈত কর পরিহার বিষয়ক প্রস্তাবিত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে উভয়পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া মালদ্বীপের রাজধানী মালে ও বাংলাদেশের তিনটি সমুদ্রবন্দরের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক জাহাজ চালু করতে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে উভয় নেতা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। মালদ্বীপে অবস্থানরত সকল প্রবাসীকে বিনামূল্যে টিকা প্রদানের বিষয়ে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের ঘোষণার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মালদ্বীপের আর দক্ষ জনবল প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত আছে। বৈঠকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ

হাসিনাকে মালদ্বীপ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এ আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করে দু’দেশের সুবিধাজনক সময়ে সেদেশ সফরে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উভয়পক্ষের মধ্যে বৈঠকে এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, এলজিআরডিমন্ত্রী এম তাজুল ইসলাম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং মালদ্বীপের পক্ষে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহীদ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ফায়েজ ইসমাইল, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সচিব সাবরা ইব্রাহিম নূরদীন ও পররাষ্ট্র সচিব আবদুল গফুর মোহামেদ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর

করেন।

চার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ॥ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে মৎস্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানান। দুই নেতা প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। পরে দুই দেশের প্রতিনিধি দল দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসে। সেই বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষে

সংশ্লিষ্টরা সমঝোতা স্মারকে (এমওএইউ) স্বাক্ষর করেন।

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো হচ্ছে- সমন্বিত সহযোগিতার লক্ষ্যে যৌথ কমিশন (জেসিসি), দ্বিপাক্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশনের (এফওসি) ওপর সমঝোতা স্মারক, মৎস্য ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক এবং ২০২২-২০২৫ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক বিনিময়ের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালদ্বীপের পক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহর নেতৃত্বে দু’পক্ষের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি হয়। পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য যৌথ কমিশনের (জেসিসি) বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন ও মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহিদ। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক ফরেন

অফিস কনসালটিংয়ের (এফওসি) জন্য সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও মালদ্বীপের পররাষ্ট্র সচিব আব্দুল গফুর মোহাম্মদ।

মৎস্য ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম ও মালদ্বীপের অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী ফাইয়াজ ইসমাইল। পাশাপাশি, ২০২২-২০২৫ পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মসূচী বিনিময়ের (সিইপি) জন্য একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ ও মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহিদ।

অবৈধদের বৈধ করার অনুরোধ মালদ্বীপকে ॥ মালদ্বীপে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশীদের বৈধ করতে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে মালদ্বীপ। বাংলাদেশ-মালদ্বীপের

মধ্যে এক যৌথ ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহর বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুই দেশ ২৬ দফা যৌথ ঘোষণা দিয়েছে। যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে সে দেশে অবস্থানরত সব অবৈধ বাংলাদেশীকে বৈধ করতে অনুরোধ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে মালদ্বীপ।

ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে ডবল ট্যাক্স পরিহারে কাস্টমস সহযোগিতা চুক্তি করতে একমত হয়েছে। মালদ্বীপ-বাংলাদেশ নৌপথ চালুর জন্য একমত হয়েছে। মালদ্বীপে ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সকে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। এছাড়া মালদ্বীপের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক

বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে মালদ্বীপ।

শীঘ্রই মালেতে সরাসরি ফ্লাইট-জাহাজ ॥ বাংলাদেশ থেকে শীঘ্রই মালদ্বীপের মালেতে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট এবং জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। দু’দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বিকেলে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহিদের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, শীঘ্রই বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপে যাবে বাংলাদেশ বিমান। আরেকটি সুখবর হচ্ছে, শীঘ্রই চট্টগ্রাম ও মালের মধ্যে আমরা একটা শিপিং লাইন চালু করব। তিনি বলেন, ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে প্রিফারেন্সিয়াল ট্রেড এ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) সই করার

প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ তাতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এখনও খুব বেশি আমরা অগ্রসর হইনি। এজন্য আমরা ওদের কাছে একটা প্রস্তাব দিয়েছি যে, আমরা পিটিএ করতে চাই, যেটা ভুটানের সঙ্গে আমরা করলাম কিছুদিন আগে।

এ সময় মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহিদ বলেন, আমরা সমন্বিত যৌথ কমিশন করতে যাচ্ছি, যাতে দৃঢ় আইনী ভিত্তি ও কাঠামোর ওপর ভর করে আমরা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারি। এর মাধ্যমে নিয়মিত সব ইস্যুকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা সমাধান করতে পারব।

১৭ মার্চ দুই দিনের সফরে বুধবার ঢাকায় আসেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ বুধবার সকালে ঢাকায় আসেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী, মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি ম্যাডাম ফাজনা আহমেদও তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।

ঢাকায় আসার পর মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে নিহত বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি ধামন-ি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং জাদুঘর ঘুরে ঘুরে প্রত্যক্ষ করেন। বিকেলে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে দেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। ঢাকা সফরকালে

তিনি রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট। পরে বঙ্গভবনে তিনি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় যোগ দেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ভোজসভায় উপস্থিত ছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই দেশে ফিরে যান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহিদ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রীসহ মোট ২৭ জনের একটি প্রতিনিধি দল এই সফরে দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন।

বঙ্গভবনে নৈশভোজ ॥ বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী মালদ্বীপ। এক্ষেত্রে

আকাশ এবং নৌপথে যোগাযোগ স্থাপনে দেশটির সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ। বৃহস্পতিবার সফররত মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে এই আগ্রহের কথা জানান। সন্ধ্যা সাতটায় মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট সস্ত্রীক বঙ্গভবনে গেলে রাষ্ট্রপতি ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম তাদের অভ্যর্থনা জানান। পরে দুই রাষ্ট্রপ্রধান বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে বৈঠকে বসেন।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, সাক্ষাতে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে খুবই গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, আকাশ ও নৌপথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা পেলে বাণিজ্য-বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে। এ ব্যাপারে তার

সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। রাষ্ট্রপতি এ সময় বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়াতে ঢাকা ও মালের মধ্যে সরাসরি নৌ যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের উভয়ের পর্যটন সম্ভাবনা খুবই উজ্জ্বল। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের যৌথ উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান আবদুল হামিদ।

বাংলাদেশীদের বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের টিকা দিতে মালদ্বীপ সরকারের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মালদ্বীপে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনবল পাঠাতে প্রস্তুত আছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ওষুধ, তৈরি পোশাক, সিরামিকসহ বিভিন্ন বিশ্বমানের পণ্য উৎপাদন করে। মালদ্বীপ বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি করতে পারে। এতে উভয় দেশ লাভবান হবে।

এদিকে মালদ্বীপের ফার্স্ট

লেডি ফাজনা আহমেদ এবং রাষ্ট্রপতির স্ত্রী রাশিদা খানম কুশল বিনিময় করেন। এ সময় রাশিদা খানম নারীর উন্নয়নও ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মালদ্বীপের ফার্স্ট লেডি, রাষ্ট্রপতির স্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT