ঢাকা, Thursday 28 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বেরিয়েছে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বিবিধ বই

প্রকাশিত : 07:01 AM, 24 March 2021 Wednesday
84 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

দুপুরের খরতাপ মিলিয়ে নেমেছে প্রশান্ত বিকেল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়নে একটি বইয়ের পৃষ্ঠা পাল্টা উল্টাচ্ছিলেন ফারহানা রহমান। নিবিড় মনোযোগে দেখছিলেন ‘স্বাধীনতার পথে বঙ্গবন্ধু : পরিপ্রেক্ষিত ১৯৭০-এর নিবার্চন’ শিরোনামের গ্রন্থটি। একপর্যায়ে সংগ্রহ করলেন মুর্শিদা বিন্তে রহমান রচিত বইটি। গ্রন্থটি সংগ্রহের তাগিদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই পাঠক বললেন, ইতিহাসবিষয়ক বইয়ের প্রতি রয়েছে আমার আলাদা অনুরাগ। আর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস। সেই বিবেচনায় সত্তরের সাধারণ নিবার্চন ছিল বিশেষ গুরুত্ববহ। এ বইয়ে ছবিসহ সেই নির্বাচনের বিভিন্ন জনসভায় বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনামূলক বক্তবসমূহ বিশ্লেষিত হয়েছে। মূলত সত্তরের নির্বাচন কীভাবে স্বাধীনতার পথকে প্রশস্ত করেছিল তারই বিশ্বস্ত বয়ান

হয়ে উঠেছে বইটি।

এবারের বইমেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে অসংখ্য বই। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন থেকে শুরু করে তার শাসনামল, রাষ্ট্রদর্শন, শিল্প-সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ, বহির্বিশ্বে তার নেতৃত্বের মূল্যায়ন, সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ, দেশ গঠনের ভাবনাসহ বিবিধ বিষয় উঠে এসেছে সেসব বইয়ের পাতায় পাতায়। ইতিহাসসচেতন পাঠকদের মনোযোগ টানছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের প্রতিচ্ছবিময় গ্রন্থগুলো। বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে নিবেদিত অমর একুশে বইমেলায় এমন কিছু বইয়ের তথ্য মেলে ধরা হলো এই লেখায়।

তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বেশ কিছু বই। এ বিষয়ে প্রকাশনা সংস্থাটির পরিচালক তাসনুভা সেঁজুতি জনকণ্ঠকে বলেন, সাধারণ পাঠকের পাশাপাশি মূলত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের

গ্রন্থাগারগুলো এসব বই সংগ্রহ করছে।

পাঠক সমাবেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ড. সুনীল কান্তি দে রচিত ‘বঙ্গবন্ধু মানিক মিয়া’ শিরোনামের গ্রন্থ। আগামী প্রকাশনী থেকে এসেছে শেখ হাসিনার লেখা ‘মাই ফাদার মাই বাংলাদেশ’ এবং আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরী রচিত ‘ বঙ্গবন্ধু-মক্তিযুদ্ধ : বাংলাদেশের রাজনীতি’সহ বেশ কিছু বই । সম্পাদিত ও মৌলিক রচনা মিলিয়ে পাঞ্জেরী প্রকাশনী থেকে এসেছে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক ১৯টি বই। অন্যপ্রকাশ থেকে এসেছে হারুন-অর-রশীদ রচিত ‘ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা’। এছাড়াও প্রকাশনীটি থেকে বেরিয়েছে সেলিনা হোসেন সম্পাদিত ‘নির্বাচিত গল্পে বঙ্গবন্ধু’। পার্ল পাবলিকেশন্স থেকে বেরিয়েছে সাহিদা বেগম সম্পাদিত ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ইতিবৃত্ত ও বঙ্গবন্ধুসহ অভিযুক্তদের জীবনবন্দী’। অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে এসেছে

দুখু বাঙালির লেখা ‘দীর্ঘ কবিতায় পিতা তুমি’। পুঁথিনিলয় থেকে এসেছে অধ্যাপক মুহম্মদ জালালউদ্দিন সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’। শামসুজ্জামান খানের লেখা বঙ্গবন্ধু ‘ভাষা-আন্দোলন ও মক্তিযুদ্ধ’ প্রকাশ করেছে শোভা প্রকাশনী। চারুলিপি থেকে এসেছে শেখ হাসিনা সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : জনক আমার নেতা আমার’। সুরমা জাহিদের লেখা ‘বহির্বিশে^ গণমাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও মক্তিযুদ্ধ’ প্রকাশ করেছে অন্বেষা। পাঞ্জেরী প্রকাশনী থেকে এসেছে আনিসুজ্জামান সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধু-বীক্ষণ : কর্মজীবন’, হাবীবুল্লাহ সিরাজীর ‘আমাদের বঙ্গবন্ধু’ এবং সেলিনা হোসেনের লেখা ‘আওয়ার বিলাভড শেখ মুজিব’। আমীরুল ইসলামের লেখা ‘বঙ্গবন্ধু ও দোয়েলের গল্প’, শামসুজ্জামানের লেখা ‘বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও বর্তমান বাংলাদেশ’, মানিক

মোহাম্মদ রাজ্জাকের ‘জনকের প্রতিবাদী জীবন’সহ বেশ কিছু বই প্রকাশ করেছে কথাপ্রকাশ।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর মেলায় তাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রকাশ করেছে মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমি। এর মধ্যে ৩৬টি বইয়ের দেখা মিলছে মেলার প্রথম দিন থেকে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে গত বছরের মেলার আলোচিত ‘আমার দেখা নয়া চীন’ বইয়ের ইংরেজী অনুবাদ ‘নিউ চায়না ১৯৫২’। এছাড়া উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে হারুন-অর-রশিদের ‘বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব: কী ও কেন’ ‘৭ মার্চের ভাষণ কেন বিশ্ব-ঐতিহ্য সম্পদ : বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ’, অজয় দাশগুপ্তের ‘বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন কৌশল ও হরতাল’, নূহ-উল-আলম লেনিনের ‘রাজনীতিতে হাতেখড়ি ও কলকাতায় শেখ মুজিব’, অনুপম হায়াতের ‘বঙ্গবন্ধু ও চলচ্চিত্র’, মোহাম্মদ আলী খানের

‘ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু’, জালাল ফিরোজের ‘বঙ্গবন্ধু গণপরিষদ সংবিধান’, সাইমন জাকারিয়ার ‘সাধক কবিদের রচনায় ‘বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি’, সমীর কুমার বিশ্বাসের ‘বঙ্গবন্ধুর সমবায় ভাবনা’ এবং পিয়াস মজিদের ‘মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধু ও বাংলা একাডেমি’।

ষষ্ঠ দিনের নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্যানুযায়ী মঙ্গলবার অমর একুশে বইমেলার ষষ্ঠ দিনে প্রকাশিত হয়েছে ১১৮টি নতুন বই। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে তাম্র্রলিপি থেকে এসেছে অনিমেষ আইচের উপন্যাস ‘যামিনী’। অনন্যা থেকে বেরিয়েছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর উপন্যাস ‘পরাজয়’। ঐতিহ্য থেকে এসেছে পিয়াস মজিদের ‘আমার সিনেমাঘর’। আগামী থেকে ড. এম আবদুল আলীমের ‘আওয়ামী লীগ ও ভাষা আন্দোলন’। নন্দিতা প্রকাশনী প্রকাশ করেছে শামীম পারভেজের কাব্যগ্রন্থ ‘হৃদয়ের

ছবিতে ছন্দ’।

মেলা মঞ্চের আয়োজন : মঙ্গলবার মেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধ ও নারী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মনিরুজ্জামান শাহীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মোহাম্মদ জাকীর হোসেন এবং একেএম জসীমউদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন সেলিনা হোসেন।

প্রাবন্ধিক বলেন, সাধারণত মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকাকে দেখা হয় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার হিসেবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে আমাদের দেশে নারীসমাজের রয়েছে অসাধারণ ভূমিকা। দেশমাতৃকার টানে জীবনবাজি রেখে তাদের অনেকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিরোধ ও রণাঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। সংগঠকের দায়িত্ব পালন, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়দান, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা, মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী হিসেবে থাকা, শত্রুশিবিরের তথ্য সংগ্রহ

করা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখাসহ বিভিন্ন ভূমিকা পালন করেন। নারীদের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে বিজয়লাভ সহজ ছিল না।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলার আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসে নারীর প্রতিবাদী, বিদ্রোহী ও যোদ্ধা-রূপ নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও নারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণ স্বাধীনতার চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যায় বাঙালী জাতিকে। লড়াইয়ে অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি পর্যায়ে নারীর ভূমিকা ছিল অনন্য। মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা ছাড়াও দেশে-বিদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন গড়ে তোলায় নারীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। মুক্তিযুদ্ধে নারীর অসীম সাহসিকতা ও বহুমাত্রিক ভূমিকার কথা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সেলিনা হোসেন বলেন, নারী-পুরুষের যৌথ শক্তিতেই আমাদের মহান

মুক্তিযুদ্ধে সফলতা লাভ করে। মুক্তিযুদ্ধে বাঙালী নারীরা যে অসীম সাহস ও বীরত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন তা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশগ্রহণ ছাড়াও নারীরা সমাজের নেপথ্য-শক্তি হিসেবে সমাজ-কাঠামো ধরে রেখেছিল বলেই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশ পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছিল।

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মোহিত কামাল, জাহেদ সারওয়ার ও অনন্ত উজ্জ্বল।

আজকের মেলা : আজ বুধবার বইমেলার সপ্তম দিন। মেলা চলবে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : মুক্তিযুদ্ধে সংবাদ সাময়িকপত্র শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন জাফর ওয়াজেদ। আলোচনায় অংশ নেবেন মোহাম্মদ সেলিম, মোঃ এমরান জাহান

ও কুতুব আজাদ। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT