ঢাকা, Friday 17 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে কফিন, সবখানেই এক ফুল

প্রকাশিত : 10:34 AM, 23 December 2020 Wednesday
239 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

শীতের কাল সবে শুরু হলো। এরই মাঝে বদলাতে শুরু করেছে প্রকৃতি। অদল বদলের মধ্যে অনেকেই খেয়াল করে থাকবেন, বাগান ভরে উঠছে ফুলে। নানা রকমের ফুল এ সময় দেখা যায়। তবে কিছু ফুল শীতের কালটাকে বিশেষভাবে তুলে ধরে। শীত যে এসেছে, মনে করিয়ে দেয়। চন্দ্রমল্লিকা সেইসব ফুলের একটি। হ্যাঁ, খুব চেনা। আবার চিনতে গিয়ে বিভ্রান্তিতেও পড়ে যান অনেকে। কবি তারাপদ রায় সে বিভ্রান্তির কথা স্বীকার করে নিয়ে লিখেছেন : কোনটা যে চন্দ্রমল্লিকার ফুল/আর কোনটা যে সূর্যমুখী- বার বার দেখেও/আমার ভুল হয়ে যায়,/আমি আলাদা করতে পারি না…। চন্দ্রমল্লিকা চেনা আসলেই কিছুটা মুশকিলের কাজ। সূর্যমুখীর সঙ্গে এর যেমন

ভাল মিল, তেমনি খুব অমিল নেই জারবেরার সঙ্গে। দোকানিরা প্রায়শই চন্দ্রমল্লিকা নাম করে জারবেরা ফুল ধরিয়ে দেন। চন্দ্রমল্লিকার জাতপাতও অনেক। একেকটি একেক রঙের। গঠনের দিক থেকেও কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এসব কারণে চন্দ্রমল্লিকা চেনার জন্য কখনো কখনো আলাদা করে সময় দিতে হয়।

ফুলটি বাইরের দেশে ক্রিসানথেমাম নামে পরিচিত। বাংলাদেশে চন্দ্রমল্লিকা। চন্দ্র বা চাঁদ থেকে চন্দ্রমল্লিকা নাম। চাঁদের মতোই সুন্দর ও আকর্ষণীয়। ডাকা হয় চন্দ্রমুখী নামেও। কুঁড়ি আসা শুরু হয় অক্টোবরে। নবেম্বর থেকে ফুল। এখন ডিসেম্বর। সৌন্দর্যের সবটুকু নিয়ে ঠিক ফুটেছে চন্দ্রমল্লিকা। কোনটি ছোট টেনিস বলের মতো দেখতে। পাপড়ি ভেতরের দিকে মোড়ানো। কোনটির পাপড়ি বাইরের দিকে। ঝুলন্ত।

কিছু ফুলের মাঝখানটা আবার চাকতির মতো। চন্দ্রমল্লিকার অনেক রং। সাদা, হলুদ, মেরুন, হাল্কা গোলাপি, কালচে লাল- সবই গায়ে মেখে আছে। সাদা রং চন্দ্রমল্লিকা শুদ্ধতার প্রতীক। পবিত্র একটি আবহ তৈরি করে। এ বিবেচনায় প্রিয়জনের কফিনে, সমাধির ওপর ছড়িয়ে দেয়া হয় সফেদ চন্দ্রমল্লিকা। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে এ দৃশ্য বেশি চোখে পড়ে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়ায় সাদা চন্দ্রমল্লিকায় শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। প্রয়াত প্রিয়জনের স্মরণানুষ্ঠানে বা প্রার্থনাসভায়ও সাদা ফুলটি ব্যবহৃত হয়। তাই বলে সাদা চন্দ্রমল্লিকা শুধুই শোক প্রকাশের নয়। বিয়ের অনুষ্ঠানেও চন্দ্রমল্লিকার বিশেষ ব্যবহার হয়ে আসছে। নব দম্পতির শুভ কামনায় সাদা চন্দ্রমল্লিকা উপহার

দেয়া হয়। জন্মদিনসহ আনন্দঘন উৎসব অনুষ্ঠানে অনিবার্য হয়ে ওঠে ফুলটি। জাপানে শুধু এই ফুলে বড় একটি উৎসব হয়। উৎসবের নাম- ফেস্টিভ্যাল অব হ্যাপিনেস।

এবার পেছনের ইতিহাসটি জেনে নেয়া যাক। জাপানে অষ্টম শতকে চাষ শুরু হয় চন্দ্রমল্লিকার। দেশের এটি জাতীয় ফুল। জাপান থেকে ধীরে ধীরে ফুলটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। প্রবেশ করে আশপাশের দেশগুলোতে। পনেরো শতকে চাষ শুরু হয় চীনে। চীন ও কোরিয়া ফুলটিকে বিশেষভাবে আপন করে নিয়েছে। দেশগুলোর মানুষ ফুলটিকে নিজেদের জ্ঞান করে। চন্দ্রমল্লিকা ১৭ শতকে আসে ইউরোপে। বর্তমানে প্রায় সব দেশেই হয়।

উদ্ভিদবিদ প্রয়াত দ্বিজেন শর্মার বর্ণনা থেকে জানা যায়, ইউরোপ ও ইংল্যান্ডের প্রজাতিটির নাম ক্রিসানথেমাম সেগেটাম।

এই গাছ ৩০ থেকে ৬০ সেমি লম্বা। ফুল চওড়ায় ৫ সেমি পর্যন্ত হয়। পাপড়িতে সাদা ও হলুদ রঙের মিশেল। কখনও আবার মাঝখানে বাদামি। পাপড়িতে হাল্কা হলুদ রং দেখা যায়। মেক্সিকোর প্রজাতিটির নাম ক্রিসানথেমাম কারিনেটাম। গাছ প্রায় ৬০ সেমি উঁচু। ফুলের পাপড়িতে সাদা হলুদ লাল গোলাপি কমলা ও বেগুনি রঙের মিশেল। পাপড়ির গোড়া ও মাঝখানে গাঢ় রং। চীন ও জাপানের প্রজাতি চন্দ্রমল্লিকা সংকরণ ও নির্বাচনের মাধ্যমে ইউরোপ ও আমেরিকায় শ্রীবৃদ্ধি ঘটানো হয়। পাপড়ির গঠন ও ফুলের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী চন্দ্রমল্লিকা কয়েকটি শ্রেণীর হয়ে থাকে। হেয়ারি, কেয়ারি, জাপানিজ, ইনকারভড, পমপরা ইত্যাদি এ ফুলের উন্নত জাত। বর্তমানে শুধু থাইল্যান্ডে

আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার জাতের চন্দ্রমল্লিকা হয়।

বাংলাদেশে অত নেই। তবে যা আছে, নেহাত কম নয়। অন্য অনেক ফুলের তুলনায় বেশি। শীতের পুরোটা উপভোগ করা যাবে প্রিয় ফুলের সৌন্দর্য। চিনে নিন চন্দ্রমল্লিকা। সৌন্দর্য উপভোগ করুন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT