ঢাকা, Sunday 19 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বিক্ষোভে উত্তাল সারাদেশ

প্রকাশিত : 11:55 AM, 7 October 2020 Wednesday
53 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনা কেন ৩২ দিন ধামাচাপা পড়েছিল-সেটাই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এ ঘটনার মূল নায়ক দেলোয়ার হোসেন এর আগে নির্যাতিতা নারীকে দু’বার ধর্ষণ করেছিল। সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই পৈশাচিক ঘটনার তদন্তে সরকার কঠোর অবস্থানে নিয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল আসামি দেলোয়ারকে দুইদিন ও বাদলকে ৭ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। নির্যাতিতা নারীর সঙ্গে কথা বলে পুরো ঘটনা শুনেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি বেগমগঞ্জ মডেল থানার

একটি কক্ষে একান্তে ভিকটিমসহ তার স্বজনদের সঙ্গে আধা ঘণ্টা সময় ধরে কথা বলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্যাতিতা নারীর মুখ থেকে তিনি বিস্তারিত শুনেছেন। এ ঘটনায় কী করণীয় সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনাসহ অন্যান্য ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার বিচারের দাবিতে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের গণঅবস্থান ও মিছিলে বাধা দিয়েছে পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তিতে কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ ঘটনাকে চরমসীমা লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

জানা গেছে, দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের পাশাপাশি কেন ৩২ দিন

ধামাচাপা পড়েছিল সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার মূল নায়ক দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেনের ঘটনার পরও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বেগমগঞ্জ থানার পুলিশের সঙ্গে সখ্য বজায় রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে। দেলোয়ারের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছে নোয়াখালীসহ গোটা দেশের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার লোকজন। নির্যাতিতা নারীর পারিবারিক সূত্র বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছে, সেই পৈশাচিক নির্যাতনের কথা। তবে কেন ৩২ দিন ধামাচাপা পড়েছিল জানতে চাইলে নোয়াখালী পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন দৈনিক জনকণ্ঠকে বলেন, এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য। কেউ আমাদের নোটিসে না আনা বা অভিযোগ না করায় বিষয়টি জানা সম্ভব হয়নি। তবুও আমরা সবই খতিয়ে

দেখছি।

কেউ অভিযোগ না করা পর্যন্ত কি এ ধরনের ঘটনা জানা সম্ভব নয়। কিংবা আপনাদের নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স নেই এমন প্রশ্ন করা হলে আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা এখন কাজ করছি। সবই জানতে পারবেন।

এদিকে এ ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে একটি মানবাধিকার সংগঠন জানতে পেরেছে, সেই নারীকে এর আগেও দু’বার ধর্ষণ করে দেলোয়ার। ভুক্তভোগী ওই নারী রাতের বেলায় তখন বাবার বাড়িতে একা ছিল। দেলোয়ারের সঙ্গে আরেক আসামি কালামও তাকে ধর্ষণ করেছে। মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ ও তদন্ত পরিচালক মাহমুদ ফায়জুল কবির মঙ্গলবার ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলে নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি দাবি করেন,

দেলোয়ার ভুক্তভোগী ওই নারীকে রাতের বেলায় নৌকায় নিয়েও ধর্ষণ করেন। দেলোয়ার এলাকায় প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করার সাহস পাননি তিনি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত দল নোয়াখালীতে গিয়ে ঘটনাস্থল বেগমগঞ্জ উপজেলা ও ভুক্তভোগী নারী ও তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। এছাড়াও তদন্ত দল জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ভিকটিম ও তার পরিবারকে নিরাপত্তা দেয়ার ওপর গুরুত্বরোপ করেন। ভুক্তভোগী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হবে।

নোয়াখালী থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয় মেম্বারসহ আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের একজন একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়াার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম

হোসেন সোহাগ (৪৮)। আরেকজন এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি সাজু (২১)। এদিকে পলাতক আসামি সাজুকে সোমবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে জেলা পুলিশের একটি দল গ্রেফতার করে। মোয়াজ্জেম হোসেনকে একই রাত সাড়ে ১২টার দিকে জয়কৃষ্ণপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, মোয়াজ্জেম হোসেন একলাশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। এর আগে রবিবার রাতে র‌্যাবের একটি দল সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকা থেকে অস্ত্রসহ নারী নির্যাতন মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে বেগমগঞ্জে তার মাছের খামারে আরও বিস্ফোরক ও গুলি রয়েছে। পরে র‌্যাব-১১ লক্ষ্মীপুর ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে একটি

দল মাছের খামারে অভিযান চালিয়ে ৭টি তাজা ককটেল ও দুটি বন্দুকের কার্তুজ উদ্ধার করে। বিস্ফোরক ও গুলি উদ্ধার ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের একজন ডিএডি বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এদিকে ঘটনার প্রধান মূলনায়ক ও স্থানীয় সন্ত্রাসী দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। সোমবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এই মামলা দায়ের করেন র‌্যাব-১১-এর ডিএডি আবদুল বাশেদ। এর আগে দেলোয়ারের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোমবার রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তার মাছের খামারে অভিযান চালিয়ে

৭টি তাজা ককটেল ও দুটি গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব। র‌্যাব-১১-এর ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম জানান, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাব বাদী হয়ে দেলোয়ার বাহিনী প্রধান দেলোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কামরাঙ্গীচর থেকে নূর হোসেন বাদলকে গ্রেফতার করা হয়।

সব বাহিনীকে ধরা হবে ॥ এদিকে নির্যাতনের শিকার নারীর সঙ্গে কথা বলে পুরো ঘটনা শুনেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বেগমগঞ্জ মডেল থানার একটি কক্ষে তিনি একান্তে ভিকটিমসহ তার স্বজনদের সঙ্গে

আধা ঘণ্টা সময় ধরে কথা বলেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, নির্যাতিতা নারীর মুখ থেকে তিনি বিস্তারিত শুনেছেন। এ ঘটনায় কী করণীয় সে বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে পুলিশ। ওই নারী ও তার স্বজনদের নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। নোয়াখালীতে দেলোয়ার বাহিনীর মতো তথাকথিত যেসব বাহিনী রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এরপর ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকায় ওই নারীকে নির্যাতন করা সেই টিনের ঘর পরিদর্শনে যান। তার সঙ্গে ছিলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ

শাহজাহান শেখ ও বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোঃ হারুনুর রশিদ চৌধুরী।

ক্ষোভ বিক্ষোভে উত্তাল ॥ এ ঘটনাসহ দেশের অন্যান্য ধর্ষণ নির্যাতনের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশব্যাপী মঙ্গলবারও বিক্ষোভ হয়েছে। তারা মিছিল সমাবেশ করে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির দাবি তোলে। ধর্ষণবিরোধী গণজমায়ত নিয়ে রাজধানীর শাহবাগ থেকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অভিমুখে শুরু হওয়া কালো পতাকা মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সামনে পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। এ সময় মিছিলকারী ও পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছাত্র ইউনিয়নের ৫ জন কর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে

জড়ো হয়ে গণঅবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বামধারার কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সমর্থক শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। সোয়া একটার দিকে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা কালো পতাকা মিছিল বের করেন। এক সময় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিপরীত পাশের সড়কে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এ সময় তারা পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করার প্রতিবাদে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন। দুপুর দুইটার দিকে সড়ক ছেড়ে দিয়ে তারা শাহবাগে চলে যান। এখানে ছাত্র ইউনিয়নের কলাবাগান থানার সদস্য সাদিয়া ইমরোজ সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ আমাদের বাধা দেয়। এ সময় ছাত্র ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর থানার সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আসমানী আশাসহ ৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া শাহবাগে

‘ধর্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ লেখা ব্যানার নিয়ে গণ-অবস্থান চলে। অবস্থানকারীরা- ধর্ষকদের ঠাঁই নাই-যে রাষ্ট্র ধর্ষক পুষে, সে রাষ্ট্র ভেঙ্গে দাও- ধর্র্ষকদের কারখানা, ভেঙ্গে দাও, গুঁড়িয়ে দাও- পাহাড় কিংবা সমতলে, লড়াই হবে সমানতালে-গুঁড়িয়ে দাও, আমার মাটি আমার মা, ধর্ষকদের হবে না-আমার সোনার বাংলায়, স্লোগানে স্লোগানে বিক্ষোভ করেন। গণ-অবস্থানে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণের ঘটনার কারণ যতটা না জৈবিক বিকার, তারচেয়ে ক্ষমতার বিকার। পাহাড়ে, সিলেটের এমসি কলেজে, নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ও বেগমগঞ্জে যেসব ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তাতে দেখা গেছে ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্যই জৈবিক বিকার ঘটছে। দেশে গণতন্ত্রহীন ক্ষমতার কারণেই একের পর এক ধর্ষণ

ঘটছে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, সারাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি অব্যাহত নিপীড়ন নেমে এসেছে। জানা গেছে, সমাবেশ থেকে মিছিলে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় ৭টায় মশাল মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করে। মিছিল শেষে ধর্ষণ প্রতিরোধে ‘ব্যর্থ’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কুশপুত্তলিকা দাহ করার কথাও জানান তারা। সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, আজকের ধর্ষণের মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়ে প্রমাণ করেছে তারা ধর্ষকের পক্ষে। যেসব পুলিশ মিছিলে বাধা দিয়েছে তাদের মধ্যে কোন নারী পুলিশ সদস্য ছিল না। পুরুষ পুলিশ সদস্যরা আমাদের নারী কর্মীদের আঘাত করে। কালো পতাকা মিছিলে যোগ দিয়েছেন

ছাত্র ইউনিযন, যুব ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ প্রগতিশীল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী, লেখক-কবি ও ব্লগাররা। সোমবার সকাল থেকেই এ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে শাহবাগে মোড়ে অবস্থান নিতে শুরু করে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

যুব মহিলা লীগের মানববন্ধন ॥ নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুব মহিলা লীগ। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাদুঘর সংলগ্ন মিরপুর রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে অবিলম্বে নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ বন্ধ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা। বক্তারা নারী নির্যাতনকারীদের বর্বর ও

মানুষরূপী পশু আখ্যা দেন। তারা নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। এসব অপরাধরোধে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যুব মহিলা লীগ সভাপতি নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে এতে অংশ নেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল, সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম ও খোদেজা নাসরিন, সহ-সভাপতি কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি প্রমুখ।

শাবিপ্রবিতে মানববন্ধন ॥ স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস থেকে জানান, সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-ের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লে-কার্ড নিয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের প্রতিবাদ জানান তারা।

মানববন্ধনে

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, বর্তমানে মা-বোনেরা তার ইজ্জত নিয়ে শঙ্কিত, ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। নিত্যদিন এসব ঘটনা দেখে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ লজ্জিত। দেশব্যাপী ধর্ষণ, নারী নির্যাতন কমাতে সরকারকে ঘরে-বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, যাতে আর কোন মা বোনকে এভাবে নির্যাতিত হতে না হয়। এছাড়া ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় এই অপরাধ মহামারী আকার ধারণ করেছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবীবুর রহমান (রঃ) প্রজন্মের ধিক্কার মিছিল ॥ দেশে মহামারীর চেয়েও ভয়ঙ্কর রূপে ছড়িয়ে পড়েছে ধর্ষণ। শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে বস্তি এলাকায়ও যেন ধর্ষকদের অভয়ারণ্য। একক ধর্ষণের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে

ক্রমাগত হারে। ধর্ষকদের পাশবিকতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশু থেকে শতবর্ষী বৃদ্ধা, এমনকি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীরাও।

ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষা ॥ এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের মামলায় আট আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ এ বিষয়ে আরও নিশ্চিত হতে পারবে। এদিকে ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আসামি আইনুদ্দিন ও রাজনের নাম এজাহারে উল্লেখ করেননি বাদী। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করে রাজন ও আইনুদ্দিনের সম্পৃক্ত থাকার সত্যতা পান। এই দুই আসামি ও বাদীর অবস্থানের বিষয়টিও পুলিশ গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT