ঢাকা, Thursday 23 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত : 10:08 AM, 8 January 2021 Friday
131 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

ঢাকার ছোট্ট একটি গলির কথা বলি। মনিপুরীপাড়ার এই গলিটি পার্টেক্সের গলি নামে পরিচিত। যথেষ্ট শান্ত, নীরব ও পরিচ্ছন্ন গলি। ছোট্ট রাস্তার দুই ধারে নতুন পুরনো মিলিয়ে কয়েকটি এ্যাপার্টমেন্ট। বসবাসকারীদের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। তার চেয়ে বড় কথা, এটি কানাগলি। গলির ভেতর দিয়ে ঢুকে অন্য কোন রাস্তায় ওঠা যায় না। ফলে বহিরাগতদের আনাগোনা নেই বললেই চলে। ভিআইপি রোডের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় ঢুকতে পারে না রিক্সাও। তদুপরি এলাকাবাসী মোটামুটি সচেতন। ফলে শান্তি বা সৌন্দর্য বিনষ্টের কোন ঘটনা এখানে বহু বছর ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেই এমন ধারণা পাওয়া যায়। তবে সম্প্রতি ঘটে গেছে বড় পরিবর্তন। না,

ইতিবাচক কিছু নয়। বরং উল্টো ছবি। একেবারে হঠাৎ করেই পোস্টারে ঢাকা পড়তে থাকে দেয়াল। বিশাল কাঠের ফ্রেমে বাঁধানো ডিজিটাল ব্যানার বসতে শুরু করে। প্রথম দিকে কেউ অত গা করেনি। ভেবে নিয়েছিলেন বেশি দূর গড়াবে না। কিন্তু হায়! দেখতে দেখতে গলির দেয়াল, সীমানা প্রাচীর, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছের ডাল সবই পোস্টারে ব্যানারে ঢাকা পড়ে যায়। আর এখন চোখ তুলে তাকানো যায় না। কুৎসিত প্রচারে গলির যেটুকু সৌন্দর্য ছিল, বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিটি পোস্টারে প্ল্যাকার্ডে ডজনখানেক ছোট বড় মাঝারি নেতার ছবি। নানা ছুঁতোয় নির্লজ্জ প্রচার। ভুল বানান, হ্যাংলো উপস্থাপনা, যাচ্ছেতাইভাবে প্রচারে আসার অন্ধ মোহ দেখে যে কারও অরুচি

হবে। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হচ্ছে, নিজেদের প্রচারে এই নেতারা ব্যবহার করছেন এমনকি জাতির জনকের প্রতিকৃতি। বেশ আগে দড়ি দিয়ে টানানো একটি ব্যানার ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। ঝুলন্ত একটি টুকরোয় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি! এমন অবমাননা যারা করছেন, বুঝতে বাকি থাকে না, তারা একই দলের নেতাকর্মী। আরও নিশ্চিত হতে খোঁজখবর নিতেই বের হয়ে আসে মূল রহস্য। জানা যায়, সম্প্রতি মনিপুরীপাড়ার এই গলিটিতে এসে বসবাস শুরু করেছেন সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা। নাম সৈয়দ মিজানুর রহমান। লক্ষ্য করে দেখা গেল, হ্যাঁ, সব পোস্টার প্ল্যাকার্ডেই আছে তার ছবি। গলিতে ঢোকার মুখে একেবারে নাকে এসে লাগে এমন একটি প্ল্যাকার্ডে তুলে ধরা

হয়েছে পরিচয়ও। সে অনুযায়ী, তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে যুবলীগে সক্রিয়। গলির মুখে নতুন নির্মিত একটি এ্যাপার্টমেন্ট। এখানেই তিনি ফ্ল্যাট কিনেছেন অথবা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। তার পর থেকেই ব্যানার পোস্টারের আমদানি। নানা দিন তারিখ আশ্রয় করে নিজের প্রচার চালাচ্ছেন এই নেতা। ফলে গলিটি প্রায় ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এভাবে একটি পরিচ্ছন্ন গলিকে দায়িত্বশীল কোন নেতা নোংরা করে দিতে পারেন, নিজ চোখে না দেখলে সত্যি বিশ্বাস হতো না। পাশাপাশি তার বাসার সামনে, মোড়ে মোটারসাইকেলের জটলাও চোখে পড়ছে। সব মিলিয়ে গলির বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। কিন্তু আরও মন্দ কিছুর শঙ্কায় কেউ তেমন মুখ খুলতে চান

না। নাইবা খুলল। নেতাটি কেন বুঝবে না? কবে আর বুঝবেন রাজনীতির লোকেরা?

চ্যালেঞ্জ নিয়ে রাস্তা উদ্ধার ॥ ঢাকার দুই মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ফজলে নূর তাপস দুজনই চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন। এরই মাঝে নগরবাসী তা জেনে গেছেন। ফলে তাদের কাছে প্রত্যাশাও বাড়ছে দিন দিন। আশার কথা যে, প্রত্যাশার চাপে পিষ্ট না হয়ে বরং নব উদ্যমে কাজ করে চলেছেন তারা। সর্বশেষ আলোচনায় এসেছে ভাসানটেকের অভিযানটি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন গত মঙ্গলবার এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের ফলে ৩০ বছরের পুরনো দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পায় আশপাশের এলাকার মানুষ। ক্যান্টনমেন্ট থেকে ভাসানটেক বাজারে যাওয়ার জন্য এতকাল তারা একটি ছোট্ট

পকেট গেট ব্যবহার করতেন। যানজটে বসে থাকতে হতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কারণ অসংখ্য মানুষের প্রতিদিনের পথ আটকে দাঁড়িয়ে ছিল একটি দ্বিতল বাড়ি। অবৈধভাবে নির্মিত এ বাড়ি চ্যালেঞ্জ নিয়ে শেষতক উচ্ছেদ করেছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। বাজারে যাওয়ার যে পকেট গেটটিই ছিল, সেটি এখন আর ব্যবহার করতে হচ্ছে না। পকেট গেটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা জঞ্জাল ভেঙ্গে নতুন প্রশস্ত রাস্তা বের করা হয়েছে। ম্যাজিকের মতোই ব্যাপার! এমন ম্যাজিক চলতে থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মেয়র। তার বলাটি পরিষ্কার, যারা দখলবাজ তাদের আর কোন ছাড় দেয়া হবে না। আপনারা নিজ উদ্যোগে সরে যান। অন্যথায় রাজউকের নক্সা বহির্ভূত কোন প্রকার দখল

টিকবে না। এমন স্পষ্ট উচ্চারণ এমন নির্ভীক পথচলার জয় হোক। নগরবাসী নিশ্চয়ই পাশে থাকবেন দুই মেয়রের।

শীতে গরমাগরম অনুভূতি ॥ শীতের কাল এখন। পৌষ চলছে। মাসের শুরুতে মোটামুটি ঠাণ্ডা পড়েছিল। আভাস ছিল, সামনে আরও বাড়বে। কিন্তু তা আর হয়নি। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায়, কেউ কেউ মজা করে বলছেন, গরমাগরম অবস্থা চলছে। আবহাওয়াবিদরাও বলছেন, পৌষের শেষভাগে এসে শীত কমেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, পৌষের এই সময়ে সারাদেশে সর্বনিম্ন স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা ১২.৫ ডিগ্রী সেলসিয়া। আর রাজধানী ঢাকা এই তাপমাত্রা থাকার কথা ১২.৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সেখানে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭.৬ ডিগ্রীতে উন্নীত হয়েছে। অপর দিকে এই সময়ে সারাদেশে

সর্বোচ্চ স্বাভাবিক তাপমাত্রার পরিমাপ ২৫.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ঢাকায় এই তাপমাত্রা হওয়ার কথা ২৫.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। অথচ ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছে ৩০.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াসে, অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য শীত কমায় রাজধানীর হতদরিদ্র মানুষেরা কিছুটা হলেও স্বস্তিতে। শীত উপভোগ করতে না পেরে যারা মন খারাপ করছেন তারা এই বিষয়টি ভেবে ভাল বোধ করতে পারেন। আসুন সেভাবেই ভাবি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT