ঢাকা, Tuesday 28 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত : 06:16 AM, 1 January 2021 Friday
120 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

অবশেষে বিদায় নিল ২০২০। কী যে অভিশপ্ত একটি বছর! সন্তাপের আগুনে পুড়িয়ে বিদায় নিল। বিগত বছরে সবচেয়ে বেশি ভুগেছে বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকা। ঢাকা বলতে, ঢাকার মানুষ। কোভিডের সংক্রমণ এখানেই বেশি ছিল। মৃত্যুও। আহা কত প্রিয়জন হারিয়ে গেল চিরতরে! স্মৃতি হয়ে গেল। ভাবতে অবাক লাগে। বিশ^াস হয় না। বিভিন্ন অঙ্গনের একেবারে শীর্ষ পর্যায়ের বরেণ্য মানুষগুলোকে ছুঁ মেরে নিয়ে গেছে কোভিড। যারা যুগ যুগ ধরে এ শহরে বাস করছিলেন, জাতীয় যে কোন সঙ্কটে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন, আলো ছড়িয়েছেন, আন্দোলন রচনা করেছেন হঠাৎ চলে গেলেন তারা। একজনের মৃত্যুতে শোক করতে করতেই

আরেকজনের করোনা সংক্রমণের খবর। মৃত্যু। সারাজীবন যাদের ঘিরে ছিল অসংখ্য গুণগ্রাহী তারা নিঃসঙ্গ একা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাটিয়েছেন। কারও সঙ্গে দেখা হয়নি। শেষ কথাটি বলা হয়নি। ২০২০ এমনই নিষ্ঠুর ছিল। সংক্রমণের ভয়ে মানুষে মানুষে দূরত্ব বেড়েছে শুধু। সেই মার্চ থেকে শুরু। হ্যান্ডশেক কোলাকুলি গলাগলি সব বন্ধ। প্রাণখোলা গল্প আড্ডা হারিয়ে গিয়েছিল। মুখে মাস্ক নিয়ে কী আর গল্প হবে? একই কারণে বহুদিন উৎসব অনুষ্ঠানহীন ঢাকা। অন্যান্য বছর এই শীতের কালটাতে শিল্প সাহিত্য সঙ্গীতের লোক ঐতিহ্যের কত উৎসব আয়োজন করা হয়! এবার তার কিছুই নেই। অজস্র না থাকা নিয়েই শুরু হলো ২০২১। নতুন বছরে জীবন কতটা ছন্দ

ফিরে পাবে সে তো এখনই বলা যাবে না। তবে আশায় বুক বাঁধছে সবাই। নতুন বছরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে। অনেক তো হলো। এবার ঘুরে দাঁড়ানো চাই। খুব জরুরী। ২০২১ মরতে মরতে বেঁচে থাকা মানুষকে সেই শক্তি দেবে। বড় প্রত্যাশা করে আছে সবাই। জানুয়ারির শেষ নাগাদ দেশে করোনা ভ্যাকসিন চলে আসার কথা। যেন তাই হয়, যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে মানুষ। ২০২১ এর কাছে জরামুক্ত নতুন পৃথিবীই প্রত্যাশা করছেন সবাই।

বোমা নাকি একাত্তরের স্মারক ॥ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে। তবে টার্মিনাল নির্মাণের খবরটিকে পেছনে ফেলে সামনে চলে এসেছে বোমা উদ্ধারের নতুন

খবর। পাইলিংয়ের সময় মাটির নিচ থেকে একের পর এক বোমা উদ্ধার করা হচ্ছে। নতুন এবং চমকিত হওয়ার মতো খবর বৈকি। গত ৯ ডিসেম্বর প্রথম বোমাটি পাওয়া যায়। এরপর থেকে একে একে পাঁচটি বোমা। সর্বশেষ গত বুধবার পঞ্চম বোমাটি উদ্ধার করা হয়। এর ওজন আনুমানিক ২৫০ কেজি। প্রতিটি বোমাই বিশাল ওজনের। আকারেও বড়। এগুলো সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয় করছে বিমান বাহিনীর বোমা ডিসপোজাল টিম। পরে সেগুলো টাঙ্গাইলের রসুলপুরে বিমান বাহিনীর ফায়ারিং রেঞ্জে নিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। কিন্তু অনুসন্ধান এবং ধ্বংসই কি শেষ কথা? মোটেই তা নয়। বিশেষ করে যখন অনুমান করা হচ্ছে বোমাগুলো বাঙালীর মহান

মুক্তিযুদ্ধের স্মারক তখন এ নিয়ে গবেষণার দাবি রাখে। আজ যেখানে থার্ড টার্মিনাল নির্মিত হচ্ছে সে জায়গাটি ১৯৭১ সালে কাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল? বোমাগুলো কি পাক আর্মির? ওরা এখানে এগুলো সংরক্ষণ করছিল? নাকি মিত্রবাহিনীর? সংশ্লিষ্ট এলাকার অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধা এখনও জীবিত। আরও জানতে, নিশ্চিত হতে তাঁদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। মতামত নেয়া যেতে পারে। নিয়মতান্ত্রিক গবেষণায় আসতে পারে ভাল ফল। ঢাকা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধকে আরও জানার সুযোগ হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছিল ইতিহাসবিদ ড. ফিরোজ মাহমুদের সঙ্গে। জাতীয় জাদুঘরের জন্য বহু অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক বোমা উদ্ধারের বিষয়টি তার দৃষ্টিতে আনা হলে এই

গবেষক বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নিদর্শন সংরক্ষণ ও সংগ্রহের ব্যাপারে গোড়া থেকেই উদাসীন ছিলাম আমরা। ব্যক্তির ইতিহাসচেতনা, দায় তেমন পরিলক্ষিত হয়নি। তেমনি সরকারও ছিল অন্য জরুরী কাজে ব্যস্ত। ফলে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বহু অমূল্য নিদর্শন নষ্ট হয়ে গেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণের অনুকূল অবস্থা ছিল না। সেই ক্ষতি আজ আমরা অনুভব করছি। তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটি সুচও যদি কোথাও পাওয়া যায় তবে তা গবেষণার প্রয়োজনে সংরক্ষণ করা উচিত। তবে বিমানবন্দর এলাকায় বোমাগুলো সক্রিয় অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে। সংরক্ষণের সুযোগ এ ক্ষেত্রে কম। তিনি বলছিলেন, এর পরও কোন বিকল্প আছে কিনা আমাদের পরীক্ষা করে দেখা

উচিত। বোমার অংশবিশেষও সংরক্ষিণ করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। সংশ্লিষ্টরা কি ভেবে দেখবেন তার প্রস্তাবগুলো?

কড়াকড়ির মাঝেই নিউ ইয়ার উদ্যাপন ॥ ইংরেজী নববর্ষটা সবার। দুনিয়াজুড়েই গ্র্যাগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা হয়। একই কারণে দেশে দেশে উদ্যাপিত হয় থার্টিফার্স্ট নাইট। এবার সময়টা বৈরী। তবুও কম বেশি উদ্যাপন প্রস্তুতি চলছিল। তবে ঢাকার পুলিশ ইংরেজী নববর্ষ শুনলেই কেমন যেন চোখ রাঙাতে শুরু করে। হ্যাঁ, পাশ্চাত্য রীতিতে বর্ষবরণের কিছু বিপদ আছে। সে তো আছেই। তাই বলে সব কিছু বন্ধ করে দেয়া কতটা যৌক্তিক? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় কর্তারা হয়তো বলবেন, উচ্ছৃঙ্খলা হয়। তাহলে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। গোটা উৎসবটিকেই কেন টার্গেট

করতে হবে? কয়েক বছর ধরে পুলিশ ও প্রশাসন তা-ই করছে। এবারও অনেক আগে থেকে ‘এই করা যাবে না’ ‘ওই করা বারন’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমনকি নিজের বাসা বাড়ির ছাদে যে যার মতো অনুষ্ঠান করবে, গত বছরের দুঃখ ভুলে নতুন করে জেগে ওঠার চেষ্টা করবে, না, সেটিও করতে দেয়া হবে না! কোন মানে হয়? অবশ্য তাই বলে ছাদে বা নিজের বাড়ির উৎসবে বাধা দিতে পারেনি পুলিশ। ক’জনকে বাধা দেবে? বর্ষবিদায়ের রাতে শহরের ছাদগুলো দখলে নিয়েছিল শিশুকিশোররা। তরুণরা। সবাই মিলে বরণ করে নিয়েছে ২০২১ সালকে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT