ঢাকা, Thursday 23 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

প্রকাশিত : 08:14 AM, 25 December 2020 Friday
68 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি নিঃসন্দেহে শাহবাগ মোড়। অথচ এখানেই কংক্রিটের বিশাল এক জঙ্গল সেই কবে থেকে দৃশ্যমান হয়ে আছে। সিমেন্টের কিম্ভুতকিমাকার কাঠামো। উঁচু কাঠামোর চূড়ায় ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিজ্ঞাপন বাণিজ্য। যাচ্ছেতাইভাবে বাণিজ্য করার অসৎ চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। তীব্র সমালোচনার মুখে সরিয়ে নেয়া হয় বিলবোর্ড। তবে মোড়টির সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করা দানব কাঠামোটি রয়ে গেছে এখনও। ত্রিকোণ কাঠামোর গায়ে যার যত খুশি পোস্টার মারছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে খসে পড়ছে কৃত্রিম সাজ। আসা যাওয়ার পথে তাকালে কী যে অরুচি হয়! তারচেয়ে বড় কথা বাণিজ্যিক স্থাপনাটি জাদুঘরের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ

প্রতিষ্ঠানের মুখ একদম ঢেকে দিয়ে নির্লজ্জের মতো দাঁড়িয়ে আছে। খোলা আকাশটিও আগের মতো দেখা যায় না। বিস্ময়কর যে, এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনাসৃষ্টি। সদ্য সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের সময় করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় ‘কর্পোরেশন বিজ্ঞাপন নীতিমালা’ উপেক্ষা করে বিভিন্নস্থানে মোট ৫১১টি ছোট বড় এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। ছোটগুলো বসানো হয় ফুটপাত ও সড়ক বিভাজক। বড়গুলো প্রধান প্রধান রাস্তার মোড়ে। সবচেয়ে বড় তিন মনিটরের এলইডি বোর্ডটি স্থাপন করা হয় শাহবাগ মোড়ে। এরপর থেকে প্রচার হতে থাকে বিজ্ঞাপন। উচ্চ শব্দের জিঙ্গেল সরাসরি পৌঁছে যায় খুব কাছের দুটি হাসপাতালে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

ও বারডেমের মুমূর্ষু রোগীদের জন্য এ ছিল মরার ওপর খাড়ার ঘা। বিলবোর্ডের অতি প্রচার বিঘ্ন ঘটায় জাতীয় জাদুঘরের কাজকর্মেও। সর্বোপরি এলইডি স্ক্রিন থেকে বিচ্ছুরিত আলো গাড়িচালক ও পথচারীদের জন্য বিপজ্জনক বলে প্রতীয়মান হয়। দুর্ঘটনাকবলিত এলাকায় দুর্ঘটনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এর আগে বিএনপি জামায়াতের আমলে একইস্থানে একটি ডিজিটাল বিলবোর্ড বসানো হয়েছিল। গাড়ি চালকদের মনোযোগ নষ্টের কারণ হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সেটি সরিয়ে নেয়া হয়। তাতে কী? আবারও একই কাজ করেন সাঈদ খোকন। সিটি কর্পোরেশনের বিজ্ঞাপন নীতিমালা ২০০৩-এ পরিষ্কার বলা হয়েছে, ‘ট্রাফিক সেফটির প্রতি হুমকি স্বরূপ এরূপ আলোকিত বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ। এছাড়া আলোকিত বা বৈদ্যুতিক

বিজ্ঞাপন যার তীক্ষèতা ড্রাইভার এবং পথচারীর দৃষ্টিকে ঝলকে দেয়; ফ্লাসিং বিজ্ঞাপন অথবা তীব্র উজ্জ্বলতা বিশিষ্ট সোডিয়াম বাতির বিজ্ঞাপন এবং বিভিন্ন বর্ণে, আঙ্গিকে, উজ্জ্বলতা অথবা ফ্লাসসমৃদ্ধ বিজ্ঞাপন বা অফিসিয়াল ট্রাফিক লাইট, সিগন্যাল সাইন প্রভৃতির জন্য বাধা অথবা এর কার্যকারিতা হ্রাস করে এমন বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ।’ জোর অভিযোগ রয়েছে, শুধু বাণিজ্য চিন্তা থেকে সিটি কর্পোরেশনের এই নীতিমালা উপেক্ষা করা হয় তখন। আশার কথা যে, বাণিজ্য চিন্তাটি সফল হয়নি। স্ক্রিনগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে গোটা এলাকার সৌন্দর্য গিলে খাওয়া কংক্রিটের কাঠামো সরানো হয়নি আজও। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ফজলে নূর তাপস অবৈধ মার্কেটসহ এ ধরনের বিভিন্ন স্থাপনা

উচ্ছেদে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু শাহবাগের জঙ্গল সরানোর কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এ অবস্থায় পোস্টার সাঁটানোর নোংরা দেয়াল অপসারণের জোর দাবি জানাচ্ছে নাগরিক সমাজ।

অন্য প্রসঙ্গ। আজ ২৫ ডিসেম্বর। শুভ বড়দিন। খ্রীস্ট ধর্মের অনুসারীদের প্রধান উৎসব এবারও ঘটা করেই উদ্যাপিত হবে। শুধু একটি সম্প্রদায় নয়, অসাম্প্রদায়িক বাঙালী সমাজ যুক্ত হবে উদ্যাপনের সঙ্গে। রাজধানীর বিভিন্ন বাসায় সাজানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। বর্ণাঢ্য আয়োজন থাকছে পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে। খাওয়া-দাওয়া খেলাধুলা বেড়ানো সবই হবে করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উৎসবের এই উপলক্ষ্য সবার হোক। বড়দিনের আনন্দে ছড়িয়ে পড়ুক সবার মনে।

শেষ করি ঢাকার স্বনামধন্য নাট্যজন মান্নান হীরার চলে

যাওয়ার খবরটি দিয়ে। হ্যাঁ, এরইমাঝে সবাই জেনে গেছেন এই শোক সংবাদ। কিন্তু মেনে নিতে নিশ্চয়ই কষ্ট হচ্ছে। নাটক নিয়ে, বিশেষ করে পথনাটক নিয়ে সে কী ব্যস্ত সময় পার করছিলেন মানুষটি! বাঙালীর সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগ্রামে সরব ছিলে সব সময়। অথচ হঠাৎ করেই আলোটি নিভে গেল। হায়! এই করোনারকালে কত বরেণ্য ব্যক্তিত্ব চলে যাচ্ছেন। এমন মানুষ আর কোথায় পাবো আমরা? মান্নান হীরা, আপনার সৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখবে আপনাকে। বিদায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT