বর্ষাকালেও খরায় পুড়ছে উত্তরবঙ্গ, ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক


অথর
দিনাজপুর জেলা সংবাদদাতা   বর্ণমালা টেলিভিশন
প্রকাশিত :১৫ জুলাই ২০২২, ৪:২৫ অপরাহ্ণ | পঠিত : 188 বার
0
বর্ষাকালেও খরায় পুড়ছে উত্তরবঙ্গ, ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

ভরা বর্ষাকালেও খরায় পুড়ছে কৃষিনির্ভর জেলা দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদ। ছয় ঋতুর এই দেশে এ সময় জমি জলমগ্ন থাকার কথা থাকলেও আবাদী জমি ফেটে হয়েছে চৌচির। এতে আমন আবাদ দিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষিনির্ভর এ জেলার কৃষকরা। বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে দিন গুনছেন তারা। এদিকে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় দাবদাহে পুড়ছে এ অঞ্চল। ছয় ঋতুর এই বাংলাদেশে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস বর্ষাকাল। বর্ষাকালে আবাদী জমি থাকে জলমগ্ন। আর জমির এই পানিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা আমন চাষ করে থাকেন। কিন্তু এবার তার চিত্র উল্টো। আষাঢ় মাস আজ শুক্রবার শেষ হতে চললেও দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলে বৃষ্টির অভাবে জমিতে নেই কোনো পানি। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার আবাদী জমি ফেটে হয়েছে চৌচির। কোথাও কোথাও জমিতে চৈত্র মাসের মতো উড়ছে ধুলা। এ অবস্থায় আমন চারার বয়স পেরিয়ে যেতে শুরু করলেও জমিতে পানির অভাবে আমন রোপণ করতে পারছেন না কৃষকরা। ভরা বর্ষাকালেও খরা অবস্থা বিরাজ করায় আমন আবাদ দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। জমিতে পানি না থাকায় বিকল্প সেচব্যবস্থা করে এ পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬ শতাংশ জমিতে আমন রোপণ করতে পেরেছেন কৃষকরা। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামের কৃষক সোহরাব হোসেন জানান, আমন চারার বয়স পেরিয়ে গেলেও জমিতে পানি না থাকায় আমন রোপণ করতে পারছেন না তিনি। পরে বাধ্য হয়েই জমিতে সেচ দিয়ে আমন রোপণ শুরু করেছেন। এতে তাকে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। বৃষ্টিনির্ভর আমন চাষ হওয়ায় জেলার অধিকাংশ কৃষক আমন চারা রোপণে বৃষ্টির জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হক জানান, দিনাজপুর জেলায় চলতি মৌসুমে দুই লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এর জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ১৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত আমন রোপণ করা হয়েছে মাত্র ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। জমিতে পানি না থাকায় আবাদ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। যদি এরই মধ্যে বৃষ্টি না হয়, তা হলে সম্পুরক সেচব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষসহ কৃষকদের সেচ যন্ত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টি না হলেও সম্পুরক সেচব্যবস্থার মাধ্যমে আমন রোপণকরা হবে। তবে তিনি বলেন, আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত আমন রোপণ করা যায়। তাই বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এদিকে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তেমন বৃষ্টির দেখা নেই দিনাজপুর জেলায়। বৃষ্টির জন্য শুরু হয়েছে হাহাকার। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে সবশেষ গত ৩ জুলাই বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১ মিলিমিটার। এর পর আর দেখা নেই বৃষ্টির। আগামী ১৮ জুলাইয়ের দিকে বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুরে গত বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনাজপুরে এটিই এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। আর বৃহস্পতিবার দিনাজপুরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, আর দুই-একদিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১৮ জুলাই থেকে ভারি বৃষ্টিপাত শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানান তিনি।

No Comments

আরও পড়ুন