ঢাকা, Monday 27 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

বছরের প্রথম দিনে কমেছে সবজি ডিম ও পেঁয়াজের দাম

প্রকাশিত : 08:54 PM, 1 January 2021 Friday
118 বার পঠিত

রাছেল রানা | বগুডা

নতুন বছরের প্রথম দিনে নিত্যপণ্যের বাজারে কমেছে সবজি, ডিম ও পেঁয়াজের দাম। ডাল, আটা ও চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। স্থিতিশীল রয়েছে মাছ-মাংসের দাম। তবে বাজারে চাল ও ভোজ্যতেলের দাম আরেকদফা বেড়েছে। সবজির দাম আরও কমায় খুশি সাধারণ ভোক্তারা। নতুন পেঁয়াজ ও আলুর সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি বিরাজ করছে বাজারে।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, মুগদা বড় বাজার, খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন মার্কেট ও মালিবাগ রেলগেট কাঁচা বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল ও ভোজ্যতেল। চালের দাম কমাতে আমদানি কার্যক্রম বাড়ানো হলেও মিলমালিক

ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে দাম কমছে না। দাম বেড়ে স্বর্ণা ও চায়না ইরিখ্যাত প্রতিকেজি মোটা চাল ৪৬-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ৪০ টাকার মধ্যে মোটা চাল বিক্রি করার ঘোষণা রয়েছে। বছরের বেশিরভাগ সময় মোটা চাল ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও এখন সেই চাল বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম বাড়ায় কষ্ট বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন মার্কেট থেকে চাল কিনছিলেন সিএনজি চালক রফিক আহমেদ। তিনি জানান, একটু ভাল মানের মোটা চাল ৫০ টাকা দরে কেনা হয়েছে। গত এক মাস আগেও এই চাল ৪৫ টাকায় কেনা গেছে। দাম বাড়ায় আমাদেও

মতো অল্প আয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, শুনেছি ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চাল কেনা হচ্ছে। এই চাল দ্রুত বাজারে নিয়ে আসতে হবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামে চালের দাম কমানোর কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া ঢাকার বাদামতলী ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। এ কারণে খুচরা বাজারে দাম কমছে না। কাপ্তান বাজারের নূর রাইছ এজেন্সীর সত্বাধিকারী মো. নূরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, গত এক মাস ধরেই চিকন ও মোটা চাল বাড়তি দাম বিক্রি হচ্ছে। মোকামে চালের দাম না কমা পর্যন্ত খুচরায় কোন প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, ভারত থেকে চাল আমদানি

করা হলেও সেই চালও এখন বাজারে আসেনি। ওই চাল বাজারে আসলে দাম কমতে পারে।

দাম বেড়ে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মোটা চাল জাত মানভেদে ৪৬-৫২, সরু নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৬০-৬৬ এবং মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল ৫৩-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে গত এক বছরে সব ধরনের চালে ২০-৪৭ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। চালের পাশাপাশি অস্থির ভোজ্যতেলের বাজার গত পনের দিনে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। প্রতি পাঁচলিটার বোতলে দাম বেড়েছে ৮০-১০০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমান খুচরা বাজারে পাঁচ লিটারের ক্যান দাম বেড়ে ৫৬০-৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের

তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। এছাড়া তীর, বসুন্ধরা, মেঘনা গ্রুপের তেলের দামও অনেক বেড়ে গেছে। খুচরা বাজারে প্রতিলিটার সয়াবিন লুজ ১০৭-১০৯, পামওয়েল লুজ ৯৫-৯৭ এবং পামওয়েল সুপার ৯৮-১০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ১ লিটারের বোতল ১২০-১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। দাম কমেছে সবজি, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম।

প্রতিকেজি নতুন পেঁয়াজ ৩৫-৪৫ এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ২৫-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিহালী ডিম ২৮-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩৫ টাকায়। সরবরাহ বাড়ায় কমেছে সবজির দাম। সবজির দামে স্বস্তি থাকায় খুশি ভোক্তারা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম

কমে প্রতি এক কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, শালগম বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪০ টাকা, করলার ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৬০ টাকা, পাকা টমেটো ৭০ টাকা, কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। প্রতিটি লাউয়ে ১০ টাকা দাম বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়, ১০ টাকা কমে বাঁধাকপি ২০ টাকায় এবং ফুলকপি ১৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। কেজিতে পাঁচ টাকা কমে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০

থেকে ৪৫ টাকায়। দাম কমে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায়। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়, বকরির মাংস ৭২০ থেকে ৭৫০ টাকায়, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়, মহিষ ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকায়।

এছাড়া বাজারে দেশী জাতের মাছের সরবরাহ বেড়েছে। পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ মাছ। সবরবাহ বাড়লে মাছের দাম কমেনি। শীতে স্বাদের শৈল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে। চিংড়ি ৫০০-৮০০, রুই মাছ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়, মাগুর মাছ ১২০ থেকে ৬০০ টাকায়, মৃগেল ১৭০ থেকে ২৫০

টাকায়, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ২০০ টাকায়, ইলিশ প্রতি কেজি (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১,২০০ টাকা ও বোয়ালমাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT