ফুলের তোড়া, প্যাকেটে মাজারে যাচ্ছে ইয়াবা – বর্ণমালা টেলিভিশন

ফুলের তোড়া, প্যাকেটে মাজারে যাচ্ছে ইয়াবা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ | ৮:২৯ 76 ভিউ
প্রথমে ফলের ব্যবসা। পরে অস্ত্র ব্যবসা। সুবিধা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নামেন ইয়াবা বাণিজ্যে। তাতেই কপাল খুলে যায়। রাতারাতি বিপুল ধন-সম্পদের মালিক। আবার ইয়াবা কারবারেও আনেন মৌলিক পরিবর্তন। গতানুগতিক পদ্ধতি ছেড়ে কাটআউট পদ্ধতি চালু করেন ইয়াবা ব্যবসায়। এতে এক ইয়াবার ডিলার আরেকজনকে চেনেন না। ফুলের তোড়া বা প্যাকেটের আড়ালে মাজারে যাচ্ছে ইয়াবা। সেখান থেকে সাপ্লাই চেন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। নতুন করে ইয়াবা কারবার সহজ করতে গড়া হচ্ছে মাজার। সর্বশেষ ইয়াবার সঙ্গে আইসের চালানও এসেছে বিমানযোগে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মাদক ব্যবসার অন্যতম হোতা মোঃ আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনির ও তার সহযোগীকে হাজারীবাগ থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিদেশী অস্ত্র, ইয়াবা ও নগদ অর্থ। তখনই বেরিয়ে আসে ইয়াবা কারবারে কাটআউট কাহিনী। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-২’র একটি দল হাজারীবাগের মধুবাজারের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসার অন্যতম হোতা আব্দুল্লাহ মনির ওরফে পিচ্চি মনির (৩৩) ও তার সহযোগী মোঃ জুবায়ের হোসেনকে (৩৩) গ্রেফতার করে। অভিযানে জব্দ করা হয় ২টি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগজিন, ১২ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৮ হাজার ৭৭০ পিস ইয়াবা, ৬ গ্রাম আইস এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার মনির মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেছেন। র‌্যাব জানতে পাওে, পিচ্চি মনিরের পরিবার জীবিকার সন্ধানে ১৯৯৫ সালে ঢাকায় এসে লালবাগের শহীদনগর এলাকায় বসবাস শুরু করেন। মনিরের বাবা চাতক শাহ জীবিকা নির্বাহের জন্য ফলের ব্যবসা শুরু করেন। মনির তাকে সহযোগিতা করতেন। এক সময় মনির এলাকার বখে যাওয়া ছেলেদের সঙ্গে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের মাধ্যমে জড়িয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে তিনি এলাকার বখাটেদের নিয়ে লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় একটি অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন। চক্রের হাত ধরে মাদক ব্যবসায় নামেন মনির। তারপর ২০১২ সাল থেকে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় মনির তার বন্ধুর সঙ্গে পার্টনারশিপে মাদক ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে স্থানীয় মাদক ডিলারদের কাছ থেকে অল্প অল্প করে মাদক কিনে খুচরা মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করতেন। ২০১৬ সাল থেকে নিজেই কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ডিল শুরু করেন। গড়ে তোলে নিজস্ব মাদক নেটওয়ার্ক। এরপর টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে তার কাছে নিয়মিত ইয়াবা সরবরাহ করা হতো। মাঝেমধ্যে তিনি ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঢাকা থেকে কক্সবাজার গিয়ে মাদকের চালান নিয়ে আসতেন। মূলত তারা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করত। শতকরা ২০ শতাংশ হারে এ্যাডভান্স পেমেন্টের মাধ্যমে ইয়াবা ঢাকায় আসত। র‌্যাব জানিয়েছে, প্রতিমাসে কয়েকটি চালান টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে আসতেন। রাজধানীর মিরপুর-১৩, ইসলামবাগ, মোহাম্মদপুর, ধানম-ি, হাজারীবাগ, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, আজিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খুচরা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক সরবরাহ করতেন। প্রত্যেক খুচরা বিক্রেতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন তিনি। মনির ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় ভাড়াটিয়ার ছদ্মবেশে মাদকের কারবার করতেন। কখনও ফুলের তোড়া বা প্যাকেটের আড়ালে মাজারে পৌঁছে দিতেন ইয়াবার চালান। সেখান থেকে ডিলাররা পৌঁছে দিত গন্তব্যে। নিজের ও ইয়াবা ব্যবসার নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে খুচরা বিক্রেতা বা কারবারিদের পারস্পরিক পরিচয় নেই। শুধু তাই নয়, রাজধানীর মিরপুর-১৩, ইসলামবাগ, মোহাম্মদপুর, ধানম-ি, হাজারীবাগ, কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, আজিমপুরে তার ডিলার বা কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন আটটি মোবাইলফোন থেকে। ব্যবহার করেন ভিন্ন ভিন্ন সিম। যাতে ডিলারদের মধ্যে পরিচয় না হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে মোহাম্মদপুর থানার হাতিরপুল এলাকার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া করা বাসা থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কাছে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন মনির। এরপর থেকে সাবধান হয়ে যান। এক-একটি এলাকায় এক-দুই বছরের বেশি সময় অবস্থান করতেন না তিনি। এ বিষয়ে র‌্যাব কমান্ডার মঈন জানান, গ্রেফতার মনির শরীয়তপুরে নিজ বাড়িতে কোটি টাকার স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। তিনি তার মৃত বাবার কৃতি সন্তান এমনটিই জনসাধারণকে জানানো ও এলাকায় প্রচারের উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবসার অবৈধ টাকা দিয়ে একটি মাজার নির্মাণ করছেন। তবে র‌্যাব জানতে পারে, ওই মাজার গড়া হচ্ছে ইয়াবা কারবারের জন্য। মাজারের আড়ালে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাব হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল তার। মনির ২০১৮ সাল থেকে অস্ত্র ব্যবসা শুরু করেন। তিনি ২০১৮ সালে অবৈধ পিস্তলসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং ৭ মাস কারাভোগ করে। ২০২০ সালে তিনি আবারও অস্ত্র ও মাদক মামলায় গ্রেফতার হন। এ সময় তিনি এক বছর কারাভোগ করেন। তার নামে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত ৩টি মামলা রয়েছে। তিনি কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন উপায়ে ইয়াবা আনতেন। কখনও কক্সবাজার-টেকনাফের কারবারিরা নিজেরাই ঢাকায় এসে ইয়াবা পৌঁছে দিতেন। তবে সর্বশেষ ইয়াবার চালান এসেছে বিমানযোগে। সেই ইয়াবা আনা হয় কার্বন পেপারে মুড়িয়ে। ২০০ পিস ইয়াবার একেকটি চালান প্যাকিং করে কারবারিদের মাধ্যমে রাজধানীর আটটি জোনে সরবরাহ করেন মনির। মাদক কারবারের অর্থ তিনি পাঠান বিকাশে, কখনও টেকনাফ থেকে আসা ব্যবসায়ীদের নগদে পেমেন্ট করতেন। বিমানে কীভাবে আসছে ইয়াবা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা নিয়ে আসা দুজনের এয়ার টিকেট পেয়েছি। যারা মনিরের কাছে ২০ হাজার পিস ইয়াবার চালান ও ৫০ গ্রাম আইস পৌঁছে দিয়েছি। মনিরের বক্তব্যে উঠে এসেছে বিমানেই এসেছিল সেই চালান। তার অন্যান্য সহযোগীদেরকেও ধরার জন্য মাঠে রয়েছে র‌্যাব।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:



































শীর্ষ সংবাদ:
বেনাপোল সীমান্তে সচল পিস্তলসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার নির্মাণসামগ্রীর দাম চড়া, উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি কলম্বোতে কারফিউ জারি টিকে থাকার লড়াইয়ে ছক্কা হাকাতে পারবেন ইমরান খান? করোনায় আজও মৃত্যুশূন্য দেশ, শনাক্ত কমেছে ‘ততক্ষণ খেলব যতক্ষণ না আমার চেয়ে ভালো কাউকে দেখব’ এবার ইয়েমেনে পাল্টা হামলা চালাল সৌদি জোট স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালিতে যুবলীগ নেতার মৃত্যু সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র রপ্তানি করেছে মোদি সরকার বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দেওয়া নিয়ে আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ, এলাকা রণক্ষেত্র ইউক্রেনকে বিপুল ক্ষেপণাস্ত্র ও মেশিনগান দিয়েছে জার্মানি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে নারীকে ধর্ষণ, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৩ ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের ‘লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বজুড়ে আনবে একতা‘-শীর্ষক সভা বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁর নওহাঁটায় স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন । ভূরুঙ্গামারীতে ব্যাপরোয়া অটোরিকশা কেরে নিল শিশুর ফাহিম এর প্রাণ ভূরুঙ্গামারী কিশোর গ‍্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আহত যশোরিয়ান ব্লাড ফাউন্ডেশন এর ৬ তম রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ক্যাম্পেইন বেনাপোলে পৃথক অভিযানে ৫২ বোতল ফেনসিডিল সহ আটক-২ বেনাপোল স্থলপথে স্টুডেন্ট ভিসায় বাংলাদেশিদের ভারত ভ্রমন নিষেধ গেরিলা যোদ্ধা অপূর্ব