ঢাকা, Saturday 18 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ফার্মেসি মালিক রিমান্ডে লভ্যাংশ দেয়ার নামে ভয়ংকর প্রতারণা

প্রকাশিত : 07:40 PM, 23 August 2020 Sunday
55 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

সরকারি সংস্থায় ওষুধ সরবরাহের চুক্তির কথা বলে এবং মূলধনের ওপর লভ্যাংশ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রতারক সোলায়মান মিয়া। ছলচাতুরী ধরা পড়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন প্রতারিত ব্যক্তিরা। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোলায়মান প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। আদালত তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

শুক্রবার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হলে সোলায়মানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর আদালতে তাকে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, সোলায়মানকে মূলধনের জন্য চাপ দেয়া হলে কোস্টগার্ড থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছে বলে জানায়।

একটি আবেদনপত্রও ভুক্তভোগীদের দেখানো হয়। ২০১৯ সালের ৮ জুলাইয়ের ওই আবেদনটিও ভুয়া ছিল। কারণ, নিজের প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন না করে সে কোস্টগার্ডের প্যাডে আবেদন করে। সে জানায়, ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের পর ১৫ দিনের মধ্যেই আরও ৪২ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য আবেদন করা হবে। সাদা কাগজে এ সংক্রান্ত একটি আবেদনও দেখানো হয়। মামলার এজাহারে আরও বলা হয়- সোলায়মান একজন অভ্যাসগত প্রতারক। বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে পূর্বাচল উপশহর এবং ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সম্পত্তি কিনেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই বিশ্বজিৎ সূত্রধর বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোলায়মান বিভিন্নজনের কাছ

থেকে দুই কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেছে। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া টাকা দিয়ে সে প্লট-ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছে বলেও স্বীকার করেছে। রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তার কাছ থেকে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

রেখা ড্রাগ হাউসের মালিক আবদুর রশীদ যুগান্তরকে বলেন, ৪০ বছর ধরে পশ্চিম আগারগাঁওয়ে ওষুধের ব্যবসা করছি। ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেনটেটিভ সোলায়মানের সঙ্গে ৭-৮ বছর আগে আমার পরিচয় হয়। আগারগাঁও-তালতলা সড়কে সোলায়মানের অগ্রণী ফার্মেসি নামে দুটি ওষুধের দোকানও আছে। সোলায়মান তাকে জানায়, ২০১৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কোস্টগার্ড সদর দফতরের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছে। চুক্তিনামা (ভুয়া) দেখিয়ে সোলায়মান বলে, ‘সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কোস্টগার্ডেকে

ওষুধ সরবরাহ করতে পারলে যতদিন ইচ্ছা ততদিন সেখানে ওষুধ সরবরাহ করা যাবে। কিন্তু ওষুধ সরবরাহ করার মতো পর্যাপ্ত মূলধন আমার নেই। আপনি সহায়তা করলে মূলধনের ওপর ৭ ভাগ লভ্যাংশ পাবেন।’ তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে আমরা কয়েকজন মিলে তাকে ৭২ লাখ টাকা দিয়েছি।

রশীদ আরও জানান, সোলায়মানকে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি ৫১ লাখ এবং ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট হুমায়ন কবির কাজল, আবদুল মমিন ভূঁইয়া ও শাহানারা ২১ লাখ টাকা দিয়েছেন। পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, কোস্টগার্ড সদর দফতরে ওষুধ সরবরাহের ভুয়া চুক্তিনামা দেখিয়ে জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের এরিয়া ম্যানেজার সোলায়মান মিয়া প্রতারণা করে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে দুই

কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে।

ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির কাজল বলেন, টাকা নেয়ার পর লভ্যাংশ বা আসল টাকা না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে সোলায়মান। কখনও বলে কোস্টগার্ডে বিল আটকে গেছে। বিল আটকে যাওয়ার কারণ হিসেবে কখনও বলে- সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিদেশ গেছেন বা ছুটিতে আছেন, কখনও বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্ত্রী মারা গেছে ইত্যাদি। কোস্টগার্ড থেকে যে চেক দেয়া হয়েছে, সেটা তার (সোলায়মান) স্যালারি অ্যাকাউন্টে গেছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চেক আটকে দিয়েছে। এ কারণে লভ্যাংশ দেয়া যাচ্ছে না। কাজল আরও বলেন, সোলায়মানের কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কোস্টগার্ডের সদর দফতরে খোঁজ নেয়া হয়। জানা যায়, সেখানে সোলায়মান

ওষুধ সরবরাহ করে না। এরপর তার কাছ থেকে লভ্যাংশ নয়, পুরো মূলধন দাবি করি আমরা।

এদিকে কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, যে চুক্তি দেখিয়ে সোলায়মান টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সেটি ভুয়া। কোস্টগার্ডের পরিচালক (লজিস্টিক) এম গোলাম হোসেন যুগান্তরকে বলেন, তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আমাদের কাছে এলে আমরা সহযোগিতা করব। কোস্টগার্ডের উপপরিচালক (চিকিৎসা) লে. কর্নেল তানভীর আহমেদ বলেন, অগ্রণী ফার্মেসি বা জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল আমাদের কোনো ওষুধ সরবরাহ করে না। কোস্টগার্ডের সহকারী পরিচালক (গোয়েন্দা) লে. কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম বলেন, চুক্তিনামার মাধ্যমে আমরা ওষুধ ক্রয় করি না। টেন্ডারের মাধ্যমে আমরা ওষুধ ক্রয় করি। কোনো ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি করার সুযোগ নেই।



শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT