ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন

প্রকাশিত : 08:58 AM, 10 March 2021 Wednesday
47 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

কমনওয়েলথভুক্ত দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে অন্যতম সফল এবং অনুকরণীয় তিনজন মহিলা সরকারপ্রধানের একজন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক অভিনন্দন। এ বছরের বিশ্ব নারী দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে কমনওয়েলথের মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি কমনওয়েলথভুক্ত দেশের সরকারপ্রধানের তিনজন অনুকরণীয় মহিলা সরকারপ্রধানের নাম ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্য দুজন সরকারপ্রধান হলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন এবং বারবাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোতলি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন স্বীকৃতি এটিই প্রথম নয়। ইতোপূর্বে ফোর্বস ম্যাগাজিনসহ অনেক আন্তর্জাতিক মাধ্যমেই তিনি বিশ্বের সেরা নেতৃত্বের একজনের স্বীকৃতি পেয়েছেন। আমাদের দেশের ধারাবাহিক অর্থনৈতিক উন্নতিসহ এমন সব যুগান্তকারী অর্জন সাধিত হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, সে তুলনায় এই স্বীকৃতি তার জন্য তেমন কিছুই নয়। কিন্তু যে মুহূর্তে দেশের অনেক অর্জন বিশেষ করে করোনা মহামারী রোধসহ দেশের মানুষের মাঝে করোনা প্রতিরোধ ভ্যাকসিন প্রদানে দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী সফলতা এবং উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি লাভের মতো অনেক অর্জনকে ম্লান করে দেয়ার মতলব নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশ-বিদেশে চক্রান্ত ও অপপ্রচার অব্যাহত রেখেছে, এমনকি আলজাজিরার মতো বিতর্কিত সংবাদ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের সকল অর্জন এবং সফলতাকে হেয় করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক সংস্থার এমন একটি স্বীকৃতির গুরুত্ব যে অনেক বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যেহেতু স্বীকৃতিটি এবারের বিশ্ব নারী

দিবসকে উপলক্ষ করে দেয়া হয়েছে, সে কারণেই তিনজন অনুকরণীয় মহিলা সরকারপ্রধানের অন্যতম একজন হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। মূলত কমনওয়েলথভুক্ত সব দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যেও যদি তুলনা করা যায় দেখা যাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম তিনজনের অন্যতম একজন। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে বিশ্ব যেখানে উন্মুক্ত, সেখানে কারও স্বীকৃতির অপেক্ষা রাখে না। একটু চোখ-কান খোলা রাখলে খুব সহজেই বুঝতে পারা যায় কোন্ দেশের সরকারপ্রধান কতটা সফল। কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে চারটি শক্তিশালী দেশ হলো ব্রিটেন, কানাডা, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া। নিউজিল্যান্ডকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিশ্বে অবস্থান এবং ভূমিকার

দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অবস্থান একটু স্বতন্ত্র। কেননা এই দুই দেশ কিছুটা নিজেদের মতো করে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ। তাদের দেশের নেতৃত্ব যথেষ্ট দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। তাদের যোগ্যতা নিয়ে কারও মনে কোন প্রশ্ন বা সংশয় নেই। কিন্তু তারপরও করোনা মহামারী রোধ করা বা সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করার ক্ষেত্রে সে দেশের সরকারপ্রধানকে যথেষ্টই বেগ পেতে হচ্ছে।

বিগত এক বছর ধরে করোনা মহামারী রোধ করার ক্ষেত্রে কানাডা এবং ব্রিটেনের বেহাল অবস্থা তো বিশ্বের সকলেরই জানা। ব্রিটেন তার দেশের জনগণের মাঝে ব্যাপকহারে ভ্যাকসিন দিতে পারলেও দেশে মৃত্যু এবং

আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে রাখতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বললেও কম বলা হবে। কানাডা মহামারীর শুরুর দিকে ভাল ম্যানেজ করতে পেরেছিল এবং অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় মৃত্যুহার যথেষ্ট কমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই সফলতার পেছনে দেশের সরকারপ্রধানের চেয়ে প্রাদেশিক সরকারপ্রধানের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। এ কথা সত্যি যে, কানাডার সরকারপ্রধান ট্রিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ঋণের দায়ের বিনিময়ে নির্বিচারে অর্থ বিলিয়ে এখানকার সাধারণ মানুষের অর্থকষ্ট লাঘব করতে সফল হয়েছেন। আমরা ব্যক্তিগতভাবে এই অর্থের সুযোগ না পেলেও এই বিশাল অঙ্কের ঋণের দায় আমাদের কষ্টার্জিত উপার্জনের ওপর বর্ধিত হারে কর দিয়েই পরিশোধ করতে হবে। এমনিতেই উপার্জনের অর্ধেকেরও বেশি কর দিয়ে এখানে

কোনমতে দিন এনে দিন খাওয়ার মতো করে জীবনযাপন করতে হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি হলে এই করের হার যখন বেড়ে যাবে তখন আমাদের যে কি অবস্থা হবে তা ভাবতেও কষ্ট হয়। তারপরও সাধারণ মানুষের আর্থিক কষ্ট লাঘব করার নিমিত্তে প্রণোদনার মাধ্যমে অর্থ প্রদানে সফল হলেও দেশের মানুষের মাঝে করোনা ভ্যাকসিন প্রদানে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন কানাডার সরকারপ্রধান। প্রতিবেশী দেশ আমেরিকা যেখানে মে মাসের মধ্যে তাদের সকল নাগরিকের জন্য ভ্যাকসিন প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলেছে, সেখানে কানাডাতে কবে নাগাদ সকল নাগরিক ভ্যাকসিন পাবে তা এখনও কেউ জানে না। শুধু অর্থ ঢেলে যে কোন সমস্যার

প্রকৃত সমাধান করা যায় না তার বড় উদাহরণ করোনা ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে কানাডার অবস্থান। পক্ষান্তরে অঢেল অর্থ না থাকলেও যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সঠিক দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে যে করোনা মহামারীর মতো দুর্যোগও ভালভাবে ম্যানেজ করা যায় এবং দেশের মানুষের মাঝে অনেকের আগে ভ্যাকসিনও দেয়া যায় তার বড় উদাহরণ বাংলাদেশ, যার সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্বে অর্থনৈতিক মর্যাদার দিক থেকে বাংলাদেশ কানাডা এবং ব্রিটেনের চেয়ে অনেক নিচে অবস্থান করলেও করোনা মহামারী ব্যবস্থাপনায় যেমন সফল হয়েছে, তেমনি দেশের মানুষের মাঝে ভ্যাকসিন প্রদানেও যথেষ্ট সফলতার স্বাক্ষর রেখেছে। আমরা কানাডাতে কবে নাগাদ ভ্যাকসিন পাব জানি না, তবে

বাংলাদেশে যাদের সঙ্গে কথা হয় তাদের সকলেই করোনা প্রতিরোধ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। এমনকি আমার অনেক নিকট আত্মীয়ও এই ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন। এর সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে। এই কারণেই কমনওয়েলথভুক্ত সব দেশের সরকারপ্রধানের প্রথম তিনজন সরকারপ্রধানের অন্যতম একজন যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে কথা আজ এক বাক্যে সকলেই স্বীকার করবেন।

এখানেই শেষ নয়। বিশ্বের অন্য কোন দেশ পরিচালনার সঙ্গে বাংলাদেশ পরিচালনার তুলনা করাও এক কষ্টসাধ্য কাজ। বিশেষ করে উন্নত দেশের সঙ্গে তো কোন তুলনাই চলে না। সেসব দেশে উন্নত পদ্ধতি এবং একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু

আছে। নেই কোন প্রতিবন্ধকতা, না আছে বিরোধিতার নামে বিরোধিতা। বিশ্বে বাংলাদেশই হয়ত একমাত্র দেশ যেখানে দেশের অর্জন ও সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশে একটি মহল ক্রমাগত ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। এরকম বৈরী পরিবেশ মোকাবেলা করে সফলভাবে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া বিশ্বে আর কোন রাষ্ট্রনায়কের নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতকিছু বৈপরীত্য, প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা এবং সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে সফল নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বের একটি সম্মানজনক স্থানে নিয়ে গেছেন। এখানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষত্ব এবং বিশ্বের অন্যান্য সরকারপ্রধানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা এবং

অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হয়ত সেভাবে হয় না। কেননা তিনি একটি উন্নয়নশীল দেশের প্রধানমন্ত্রী। শক্তিশালী দেশের সরকারপ্রধান না হলে বিশ্ব নেতৃত্বে স্থান করে নেয়া খুব সহজ কাজ নয়। এরপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা এবং অর্জন এতটাই বেশি যে, বিশ্ব গণমাধ্যম নানাভাবে আলোচনা করতে বাধ্য হয়েছে এবং এরকম কিছু আলোচনা এখানকার সংবাদ অঙ্গনে মাঝে-মধ্যেই দেখা যায়। অনেক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সফলতার বিষয় নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়ে থাকে, যদিও সেসব আলোচনা এখানকার মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমে খুব একটা আসে না। এখানকার একটি কনফারেন্সের নির্ধারিত অনুষ্ঠানের মাঝে বিশ্বের মানবাধিকার এবং রিফিউজি সমস্যা নিয়ে কথা উঠলে আমেরিকার জনপ্রিয়

সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ইউরোপের অনেক দেশের রিফিউজি সমস্যা সমাধানে ব্যর্থতার জন্য তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্চ প্রশংসা করে দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সমস্যা সফলভাবে ম্যানেজ করার কথা উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে আমি তাকে তার ম্যাগাজিনে এই চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন লেখার অনুরোধও জানিয়েছি। জানি না আমার মতো অতি সাধারণের এই ক্ষুদ্র অনুরোধ তিনি রাখবেন কিনা। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যেভাবেই আসুক না কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সফলতা আজ সর্বজনবিদিত এবং সর্বক্ষেত্রে প্রশংসিত। আর এজন্য দেশবাসীর মতো আমরা প্রবাসীরাও গর্বিত। নজিরবিহীন করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব দুর্যোগের সময়

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সাফল্যকে কমনওয়েলথের মহাসচিবের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, এর চেয়ে আরও অনেক বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃত তিনি অদূর ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই পাবেন।

লেখক : ব্যাংকার, টরন্টো, কানাডা

Nironjankumar_roz@zahoo.com

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT