ঢাকা, Sunday 26 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পাঠক খরায় প্রকাশকের আগামীর প্রত্যাশা

প্রকাশিত : 09:43 AM, 6 April 2021 Tuesday
71 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে এখন চাইলে নানাভাবে বই পড়া যায়। স্মার্টফোন কিংবা কম্পিউটারের স্ক্রিনেও বই পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে পৃষ্ঠা উল্টে-পাল্টে সরাসরি গ্রন্থপাঠের আনন্দটা অন্যরকম। এই তৃপ্তিটা কখনই ডিজিটাল মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। সে কারণেই এই লকডাউনের এই অবরুদ্ধ সময়ে ছুটে এসেছি বইমেলায়। রাজনীতি, গবেষণা থেকে গল্প-উপন্যাসহ বিচিত্র বিষয়ের কিছু বই সংগ্রহ করলাম। মেলায় লোকজন একেবারের কম থাকায় বই কিনতেও সুবিধা হয়েছে। উল্টোদিকে আবার দর্শক বা পাঠক খরায় ভোগা সুনসান মেলার রূপটি দেখে ভাল লাগছে না। অধিকাংশ প্রকাশনা সংস্থায় কোন বিকিকিনি নেই। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পাঠক বা দর্শনার্থী আসার সুযোগটি একেবারে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে

প্রকাশকদের লোকসানের কথা বিবেচনা করে খারাপ লাগছে। কথাগুলো বলছিলেন মধ্যবয়সী পাঠক শামসুল আলম। সোমবার অমর একুশে বইমেলায় এই কর্মজীবী বইপ্রেমীর সঙ্গে কথা হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

এই পাঠকের কথা মতোই মেলার ১৯তম দিনে পাঠক খরায় ভুগেছে বইমেলা। বেলা ১২টায় মেলা খুললেও সেই সময় শূন্যতা বিরাজ করেছে মেলার দুই প্রান্তের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি আঙ্গিনায়। তবে লকডাউনের মেলায় মানুষ কম আসবে- সেটাই ছিল স্বাভাবিক। এ কারণে বিক্রি কম হওয়ার বিষয়টিও আগেই আন্দাজ করেছিলেন প্রকাশক থেকে পাঠক কিংবা লেখক। তাই বলে এদিন একেবারে জনমানশূূন্য ছিল না বইমেলা। সংখ্যায় স্বল্প হলেও পাঠকের আনাগোনা প্যাভিলিয়ন থেকে স্টলে। আর এমন বাস্তবতায়

প্রকাশকদের কেউ কেউ আগামী দু-একদিনের মধ্যে কিছুটা হলেও মেলায় জনসমাগম বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন। অনেকেই আবার এই বিরূপ সময়ে সরাসরি মেলা বন্ধ করে দেয়ার কথা বলছেন। এভাবেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মাঝে এগিয়ে চলছে মেলা।

মধ্য দুপুরে কথা হয় তাম্রলিপি প্রকাশনীর প্রকাশক তারিকুল ইসলাম রনির সঙ্গে। তিনি বলেন, মূলত সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেই মেলা চালু রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে। দেশের বিজ্ঞজনদের মতামত নিয়েই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই আমরা সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মেলা করছি। অতীতে হরতালে মেলা জমে উঠতে দেখেছি আমরা। এ পরিস্থিতির মেলা হয়ত আবার স্বাভাবিক রূপ ফিরে পেতে পারে। যদি তা না হয় তখন পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেব।

সাহিত্য

প্রকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি কামাল হোসেন বলেন, সারাদিনে সব মিলিয়ে দুই হাজার টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এতে লাভ তো দূরের কথা প্রতিদিনের খরচ চালানো নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। চন্দ্রবিন্দু প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি জাহিদ হাসান জানান, বেলা ১২টা থেকে মেলা শুরু হলেও তেমন পাঠক আসেনি। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ৮ থেকে ১০টি বই বিক্রি হয়েছে। লকডাউনের কারণে মানুষ আসতে পারছে না। আর বই তো কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নয় যে, মানুষ দ্বিগুণ রিক্সা ভাড়া খরচ করে মেলায় আসবে। এসব কারণে মেলা চালিয়ে রাখাটাই এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ।

এদিন দুপুরে মেলা শুরুর পর পাঠকের আনাগোনা ছিল না বললেই চলে। বেলা সাড়ে

তিনটার পর থেকে পদচারণা বাড়ে পাঠকের। মোড়ক উন্মোচন কেন্দ্র, সিলন টি স্টলসহ মেলার মাঠে ছোট ছোট দলে দলে আড্ডা বসেছিল লেখক পাঠকের। উদ্যানে মোড়ক উন্মোচন কেন্দ্রের পাশেই টি স্টলে আড্ডা জমিয়ে তুলেছিলেন কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমান, মোজাফফর হোসেন, পিয়াস মজিদ, মনি হায়দারসহ কয়েকজন। বইমেলা চালু রাখা ভাল হচ্ছে নাকি ভুল হচ্ছে- এ নিয়ে চলছিল নানা বিশ্লেষণ। চায়ের কাপ শেষ করে আড্ডা ভাঙ্গার আগে সবাই একমত হলেন বইমেলা খোলা রাখা মন্দের ভালই হয়েছে।

বিকেলে মেলায় সপরিবারে মেলায় এসেছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যস্ততার কারণে বইমেলায় আসা হয় না। লকডাউন সে সুযোগ এনে দিয়েছে।

রাস্তায় ভিড় কম সহজেই মেলায় আসতে পারলাম। ভিড় কম থাকায় সহজে বই কেনাও যাচ্ছে। এই ভাললাগার উল্টোপিঠে আবার মেলা ঘুরে প্রকাশকদের কষ্টটাও চোখে পড়ল। মহামারীর কারণে সরকারেরও মেলা খোলা রাখার চেয়ে বিশ কিছু করার নেই। তবে সংস্কৃতি খাতে যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা কম সেটাও উপলব্ধি করলাম। লকডাউনে মেলা সেভাবে জমবে না- এটা সবারই জানা। ফলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রকাশকের মান অনুযায়ী সরকার বইমেলায় অংশ নেয়া প্রতিটি প্রকাশকদের থোক অনুদান দিতে পারত। সেটা এমন খুব বেশি টাকা নয়। যা সরকার দিতে পারে না।

এদিকে রবিবার সন্ধ্যার ঝড়ের কবলে পড়েছিল বইমেলা। এ কারণে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট প্রান্তের বেশকিছু স্টল ক্ষতিগ্রস্ত

হয়েছে। ওই প্রান্তের প্রায় সব স্টলেই কিছু বই ভিজে নষ্ট হয়েছে। আর প্রায় ১৫টি প্রতিষ্ঠানে কাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাবুই, নিউ শিখা প্রকাশনী, সাঁকোবাড়ি, ন্যাশনাল পাবলিকেশন্স, চন্দ্রদ্বীপ, কলি প্রকাশনী, মাতৃভাষা, তিউড়ি প্রকাশনী, আদর্শ প্রভৃতি।

নতুন বই : সোমবার বইমেলার ১৯তম দিনে নতুন বই এসেছে ২৮টি। এর মধ্যে উপন্যাস-১, প্রবন্ধ-৫, কবিতা-১০, গবেষণা-, ছড়া-১, শিশু সাহিত্য-১, জীবনী-২, রচনাবলী-, মুক্তিযুদ্ধ-১, নাটক-১, বিজ্ঞান-, ভ্রমণ-১, ইতিহাস-৩, রাজনীতি-০, চিকি./স্বাস্থ্য-, বঙ্গবন্ধু-১, রম্য/ধাধা-, ধর্মীয়-, অনুবাদ-, অভিধান-, সায়েন্স ফিকশন-, অন্যান্য-১টি বই। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে আজব প্রকাশ এনেছে ইথার আখতারুজ্জামানের কাব্যগ্রন্থ ‘নৈশব্দের ঘোর’, ইমন আহমেদের ‘দুঃখপোকা’ ও শহীদ মাহমুদ জঙ্গীর ‘নিলাম্বরি শাড়ি পরে’।

নবরাগ এনেছে পবিত্র অধিকারী সম্পাদিত ‘তিনশ বছরের বাংলা ব্যঙ্গ কবিতা’। আকাশ এনেছে খালেক বিন জয়েনউদদীন সম্পাদিত ‘অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছড়াসমগ্র’। যুক্ত এনেছে তপন কুমার দাসের ‘প্যারিসের মায়া’। আল গাজী পাবলিকেশন্স এনেছে আমিনুর রহমান সুলতানের ‘লোকনাট্য ঘাটুগান’। আগামী এনেছে জালাল ফিরোজের ‘বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র নির্মাণ’।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT