ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পাঠকের পদচারণায় সুবর্ণজয়ন্তীর বর্ণাঢ্য বিকেল

প্রকাশিত : 09:15 AM, 27 March 2021 Saturday
74 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

সকালের রূপটি ছিল একরকম। পাঠক আর দর্শনার্থী খরায় ভুগেছে অমর একুশে বইমেলা। অনেকটা বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছিল মেলার দুই ক্যানভাস সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি আঙিনা। তবে দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। বাড়তে থাকে বইপ্রেমীদের আনাগোনা। সন্ধ্যায় সেই চিত্রটি হয়ে ওঠে আরো রঙিন। ১৫ লাখ বর্গফুটের বিশাল মেলা প্রান্তরে বয়ে যায় প্রাণের প্রবাহ। জনসমাগম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়তে থাকে বইয়ের বিকিকিনি। প্যাভিলিয়ন থেকে স্টলে জমতে থাকে ভিড়। দেখা মেলে অটোগ্রাফসহ লেখকের কাছ থেকে বই সংগ্রহের সুন্দরতম দৃশ্য। সেই সুবাদে হতাশা কেটে বিস্তৃত হয় প্রকাশকের হাসি। শুক্রবার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক দিবসে এভাবেই সজীব হয়ে

ওঠে বইয়ের উৎসব।

এদিন বিকেলের জমে ওঠা মেলায় মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘অপারেশন নীলাঞ্জনা’ নামের কিশোর উপন্যাস সংগ্রহ করছিলেন তামান্না আফরোজ। অনুপম প্রকাশনীর সামনে কথা হয় এই চাকরিজীবী নারীর সঙ্গে। আলাপচারিতায় বললেন, ছোট ভাইয়ের জন্য বইটি কিনলাম। এরপর নিজের পছন্দের বইগুলো সংগ্রহ করব। তালিকাটি আগেই করে রেখেছি। আজ মেলায় আসব কি আসব না-এমন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলাম। কারণ শহরে ঘটে গেছে বেশ কিছু অনাকাক্সিক্ষত বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে ইতিহাসের সাক্ষ্যবহ এমন দিনে ঘরে বসে থাকা যায় না। তেমনটা হলে অপশক্তি আরও বেশি প্রশয় পায়। তাই সকল সংশয় ঝেড়ে ফেলে চলে এলাম প্রাণের মেলায়। অতঃপর মানুষের পদচারণায় উদ্দীপ্ত বই উৎসবে এসে

খুঁজে পেলাম ভাললাগার অপার অনুভব। উৎসবের রঙে বর্ণিল হলো হৃদয়।

উদ্যানের মেলা প্রান্তরে কথা হয় এই সময়ের জনপ্রিয় তরুণ লেখক স্বকৃত নোমানের সঙ্গে। আলাপকালে বলেন, সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সজীব হলো বইমেলা। আজকের মেলাটি যেন বইয়ের সঙ্গে পাঠকের প্রণয় পর্ব রূপে ধরা দিয়েছে। বইকে ঘিরে এমন উচ্ছ্বাস মূলত বাঙালীর সাংস্কৃতিক বিকাশের সুন্দরতম রূপটিকে প্রকাশ করে। জাতিসত্তার সেই অহংকারকে সঙ্গী করেই মেলায় আজ বইছে জনস্রোত।

জমাট বাঁধা মেলার সূত্র ধরে হতাশার উল্টোপিঠে থাকা আশার আলো খুঁজে পান নালন্দা প্রকাশনীর প্রকাশক রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল। কথা প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, সকালবেলায় কেটেছে অলস সময়। পাঠক বা দর্শনার্থীর খরা দেখে মনটা খারাপ

হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিকেলে ঘুচে গেছে সেই আক্ষেপ। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে গ্রন্থানুরাগীদের সমাগম। সবচেয়ে বড় কথা করোনার ভয়কে জয় করে মানষ আসছে মেলায়। একটা অনেক ইতিবাচক বিষয়। তাছাড়া করোনাকালে মেলা না হলে আমরা সৃজনশীল প্রকাশকরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতাম। সেই বিবেচনায় মেলা হওয়ায় একইসঙ্গে ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি বইয়ের উৎসবে উদ্যাপিত হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

শুক্রবার ছুটির দিনে মেলার দুয়া খুলেছে বেলা ১১টায়। এই সময় হাতেগোনা কিছু মানুষের দেখা মিলেছে মেলায়। সেই তুলনায় বিকেল থেকে দেখা গেছে বিশেষ দিনে মেলার চিরচেনা রূপটি। এ সময় উদ্যানের একটি অংশে বিজিবির ব্যান্ড পার্টি অন্যরকম এক আয়োজন সাজিয়ে বসে। দেশাত্মবোধক

গানের সুরে মেলায় স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে দেয় ৩০ সদস্যের দলটি। তাদের ঘিরে ছিলন উৎসুক মানুষের বিরাট জটলা। উৎসবের সূত্র ধরে এক সুতোয় মিলে যায় নানা শ্রেণী-পেশা থেকে বয়সের বিভেদ রেখা। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনটিতে অনেকের মুখেই ছিল লাল-সবুজ রঙের মাস্ক। স্বাধীনতা স্তম্ভকে ঘিরে বইমেলার খোলা আবহে অনেকেই অনুভব করেছেন প্রিয় স্বাধীনতাকে।

নতুন বই : শুক্রবার দশম দিনের বইমেলায় নতুন বই এসেছে ২৭৬টি। এর মধ্যে গল্প ৩৭টি, উপন্যাস ৪৭টি, প্রবন্ধ ১২টি, কবিতা ৯৫টি, গবেষণা ৭টি, ছড়া ৪টি, শিশুসাহিত্য ৩টি, জীবনী ৯টি, মুক্তিযুদ্ধ ১১টি, বিজ্ঞান ৪টি, ভ্রমণ ২টি, ইতিহাস ১টি, রাজনীতি ২টি, বঙ্গবন্ধু ৮টি, রম্য/ধাঁধা ৪০টি, ধর্মীয় ২টি, অনুবাদ ২টি,

সায়েন্স ফিকশন ২টি এবং অন্যান্য ২৪টি। এর মধ্যে কাকলী প্রকাশনী থেকে এসেছে মিলু শামসের গল্পগ্রন্থ ‘অমরলোকের প্রত্যাগত’। কথাপ্রকাশ এনেছে মোঃ আবদুল হামিদের ভূমিকায় ও মুস্তাফিজ শফি সম্পাদিত প্রবন্ধ ‘মুজিব কেন জরুরি’, সেলিনা হোসেনের শিশু কিশোরদের ‘ছোটদের বঙ্গবন্ধু’ ও রামেন্দু মজুমদারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু ও বিবিধ ভাবনা’। অনুপম এনেছে ধ্রুব এষের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর উপন্যাস সমগ্র’। নালন্দা থেকে এসেছে নওশাদ জামিলের উপন্যাস ‘প্রত্যাবর্তন’। আগামী থেকে বেরিয়েছে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, মোনায়েম সরকার ও সৈয়দ জাহিদ হাসানের যৌথ সম্পাদনায় প্রবন্ধগ্রন্থ ‘একাত্তরের ঐতিহাসিক মার্চ শতপ্রবন্ধ’, আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর রাজনৈতিক কলাম ‘বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের রাজনীতি’। পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে এসেছে সঙ্গীতা

ইমামের কিশোর উপন্যাস ‘স্বাধীনতা ও আত্মজার গল্প’। প্রহেলিকা প্রকাশন এনেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থ ‘হাওয়া কলে জোড়া-গাড়ি’। সাহিত্যবিকাশ থেকে এসেছে হাসান টুটুলের গল্পগ্রন্থ ‘যুদ্ধ জয়ের পর’ ও নির্মলেন্দু গুণের কাব্যগ্রন্থ ‘চুমুর নূপুর’। কাকলী এনেছে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ‘শর্টকাট প্রোগ্রামিং’। সময় থেকে এসেছে আনিসুল হকের উপন্যাস ‘সুবেদার ওহাব আব্বা আব্বা বলে কাঁদেন’। এ্যাডর্ন এনেছে গুলতেকিন খানের কাব্যগ্রন্থ ‘আজ তবে উপনিবেশের কথা বলি’ অন্যতম।

মেলা মঞ্চের আয়োজন : শুক্রবার বিকেলে বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মফিদুল

হক। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শাহরিয়ার কবির এবং মোহাম্মদ হান্নান। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

আজকের মেলা : আজ শনিবার অমর একুশে বইমেলার দশম দিন। মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী : বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেনন জালাল ফিরোজ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন আশফাক হোসেন এবং সাব্বির আহমেদ। সভাপতিত্ব করবেন মোঃ মইনুল কবির।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT