আজ ৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,ইংরেজি- ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,
 
২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ও চামড়া সিন্ডিকেট ঠেকানোয় জোর

চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন। একই সাথে কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহে সিন্ডিকেট যেন সক্রিয় হতে না পারে সেদিকে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংস্থার প্রধান ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা কোরবানিতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সামনের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সাথে সাথে চামড়া শিল্প যাতে ধ্বংস না হয় সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন বলেন, আর কয়েকদিন পরেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। এ উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি গবাদি পশুর হাট পরিচালনা করতে হবে। গবাদি পশুর বাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য আলাদা পথ রাখতে হবে। মাস্ক পরিধান ছাড়া বাজারে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সবার মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক। এটা অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, বাজার ইজারাদার কর্তৃক পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার মজুত রাখতে হবে। জাল টাকা শনাক্তকরণের মেশিন ও ব্যাংক বুথ স্থাপনসহ মলম পার্টি, থুথু পার্টি, অজ্ঞান পার্টি এবং ছিনতাইকারী রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এ সময় তিনি করোনা পরিস্থিতির কারণে শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের কোরবানির গরু-ছাগল ক্রয়-বিক্রয় করতে বাজারে না যাওয়ার অনুরোধ করেন।

কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহে সিন্ডিকেট যেন সক্রিয় হতে না পারে সেদিকে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেন, কোরবানির চামড়া সিন্ডিকেট রোধে প্রশাসনকে তৎপর থাকার পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক হতে হবে।

প্রবাসীদের করোনা টেস্টে হয়রানি করা যাবে না

বিদেশগামীদের করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) টেস্ট বিষয়ে সচিব বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগের লাখ লাখ মানুষ বিদেশে থাকে। যারা ইতোপূর্বে বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন তাদের বিদেশ যেতে হলে কোভিড-১৯ টেস্ট নেগেটিভ বাধ্যতামূলক। ঈদের পরও অনেক লোক বিদেশ যাবেন। এ জন্য তারা করোনা টেস্টের জন্য নির্দিষ্ট সেন্টারে ভিড় করছেন। তাদের কোনো ধরনের হয়রানি করা যাবে না, নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট দিতে হবে। কোনো বিদেশযাত্রী যাতে বিমানবন্দর থেকে ফিরে না আসে সে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে। অনলাইনে রিপোর্ট দিতে গিয়ে সার্ভারে ত্রুটি দেখালে প্রয়োজনে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে তা সমন্বয় করতে হবে।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর প্রাক্কালে রোগীদের জন্য চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড, অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর, হাই ফ্লু ন্যাজাল ক্যানলা ও অন্যান্য সরঞ্জামের সংকট ছিল। বর্তমানে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য কোনো কিছুর অভাব নেই। করোনা হাসপাতালগুলোতে এখনও অনেক সিট খালি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে করোনা মোকাবিলায় এগিয়ে এসেছে বলেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমে এসেছে। একসময় করোনার নমুনা টেস্টের রিপোর্ট পেতে বেশ কিছুদিন সময় লাগত, আর এখন দ্রুততার সাথে মিলছে রিপোর্ট।

তিনি বলেন, যাদের ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট ও কিডনিজনিত রোগ আছে তারা আরও সচেতন হলে মানুষ উপকৃত হবে। কোভিড-১৯ ভাইরাস ফুসফুসে পৌঁছার আগেই শেষ করে দিতে হবে। এটি জটিল হয়ে গেলে মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় আর ফিরে আসে না।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ এনডিসির সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ইয়াছমিন পারভীন তিবরিজি, জেলা পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. শামীম হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেন, বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ, বিএমএ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মুজিবুল হক খান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, আগ্রাবাদ মা-শিশু জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক মোর্শেদ হোসেন, ম্যাক্স হাসপাতালের পরিচালক ডা. লেয়াকত হোসেন প্রমুখ।

0 Reviews

Write a Review

Test Admin

Read Previous

পৃথিবীতে সংঘাতের অন্যতম কারণ ঘৃণা, বিদ্বেষ ও হিংসা

Read Next

পুলিশে মৌলিক পরিবর্তন আনতে চাই : আইজিপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *