ঢাকা, Sunday 19 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পরিত্যক্তপ্রায় ফোয়ারা, প্রাচীন ইশরাত মঞ্জিলের স্মৃতি

প্রকাশিত : 09:09 AM, 7 January 2021 Thursday
48 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

বহুকাল আগের কথা। শহর ঢাকায় ইশরাত মঞ্জিল নামে একটি দ্বিতল বাড়ি ছিল। ঠিক বাড়ি নয়, প্রাসাদ। নবাবরা বসবাস করতেন। প্রাসাদের সামনের অংশে ছিল অদ্ভুত সুন্দর এক জলের ফোয়ারা। সারাক্ষণ জল গড়িয়ে পড়ত। আজ সেই প্রাসাদ নেই। ফোয়ারাও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে একইরকম দেখতে একটি ফোয়ারা এখনও আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায়। কারও কারও মতে, এটিই ইশরাত মঞ্জিলের ফোয়ারা।

টিএসসির মূল প্রবেশপথ ধরে ভেতরের দিকে হেঁটে গেলে মিলনায়তন। যেখানে মিলনায়তনের শেষ এবং যেখান থেকে গেমসরুমের শুরু তার ঠিক মাঝখানে ফোয়ারাটির অবস্থান। ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দ-ায়মান মূল কাঠামো ঘিরে তিনটি পদ্মপাতার নক্সা। একেবারে উপরের অংশটি

ফুলের আধফোটা কলির মতো। দেখে অনুমান করা যায়, এ কলির মুখেই ছিল জলের প্রবাহ। জল ওপর থেকে নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ত। প্রথমে কানায় কানায় পূর্ণ হতো ছোট আকৃতির পদ্মপাতাটি। এর পর মাঝের বড় পাতা। সবশেষে ভূমিসংলগ্ন বিশাল পাতাটি হয়ে জল নিচে নেমে যেত। প্রতিবারই নিচে নামার সময় স্বচ্ছ জল গোলাকার খাঁজকাটা পদ্মপাতার ফর্ম ধারণ করত। সচল অবস্থায় ফোয়ারাটি তাই মুগ্ধ করে রাখত সবাইকে। তবে এখন এটি পরিত্যক্তপ্রায়। চারপাশটা জঙ্গলের মতো হয়ে গেছে। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ফোয়ারার নিচের অংশ লতাগুল্ম দ্বারা আবৃত। গায়ে শ্যাওলা জমেছে। অযত্ন অবহেলার আরও অনেক চিহ্ন দৃশ্যমান। তবুও বিশেষ গঠন নির্মিতির কারণেই

হয়তো এখনও টিকে আছে। সাধারণ চোখে ইশরাত মঞ্জিলের স্মৃতি হিসেবেই দেখা হয় এটিকে।

ইশরাত মঞ্জিলের ইতিহাস, হ্যাঁ, অনেক পুরনো। এর সঙ্গে শাহবাগের ইতিহাসটিও জড়িয়ে আছে। যতদূর তথ্য, ১৮৭৩ খ্রীস্টাব্দের দিকে নবাব আহসানউল্লাহ একটি বিশাল বাগানের কাজে হাত দেন। নবাব খাজা আব্দুল গণি এ বাগানের নামকরণ করেন ‘শাহবাগ’ বা রাজার বাগান। বর্তমান শাহবাগ তো বটেই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিবাগ মিন্টু রোডসহ আশপাশের বিশাল এলাকা সেসময় শাহবাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের মতে, ইশরাত মঞ্জিলের অবস্থান ছিল জাতীয় জাদুঘর ও চারুকলা অনুষদের পেছনের অংশে। আবার কোন কোন ইতিহাসবিদ মনে করেন, বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই ছিল ইশরাত

মঞ্জিলের অবস্থান।

ভবনটি বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা হয়। নাচঘর হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। বলা হয়ে থাকে, নামকরা বাইজিরা এখানে নাচতেন। বইজিদের কিছু নামও খুঁজে বের করেছেন ইতিহাসবিদরা। এই যেমন: পিয়ারী বাই, ওয়ামু বাই ও আবেদী বাই। নাচ থামলে ইশরাত মঞ্জিলকে ‘হোটেল শাহবাগ’ নামে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এবং এটিই ছিল শহরের প্রথম এবং আন্তর্জাতিক মানের হোটেল। ১৯৬৫ সালে ভবনটি ইনস্টিটিউট অফ পোস্ট-গ্রাজুয়েট মেডিসিন এ্যান্ড রিসার্চ অধিগ্রহণ করে নেয়। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে অধিগ্রহণ করে নেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

ফলে ইশরাত মঞ্জিল এখন আছে শুধু ছবিতে। সাদা কালো ছবি। কিন্তু স্থাপনাটির সৌন্দর্য উপলব্ধি করতে কোন সমস্যা হয় না।

মঞ্জিলের সামনের অংশে একটি ফোয়ারা দৃশ্যমান হয়। এবং এ ফোয়ারাটির সঙ্গে টিএসসির ফোয়ারাটির হুবহু মিল!

এরপরও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন মনে করেন, ইশরাত মঞ্জিলের ফোয়ারা এখনও টিকে থাকার কথা নয়। পরবর্তী কোন সময়ে ওই ফোয়ারার আদলে টিএসসির ফোয়ারাটি নির্মাণ করা হয়ে থাকতে পারে। একইরকম ফোয়ারা ষাটের দশকে শাহবাগ মোড়ে দেখেছেন বলে জানান মুনতাসীর মামুন।

তাহলে কী দাঁড়ালো বিষয়টি? জানতে কথা হয় আরেক ঢাকা বিশারদ ও ঢাকা ইতিহাস গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী হাশেম সুফীর সঙ্গে। নতুন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, সে কালে শাহবাগ এলাকায় একটি দুটি নয়, অনেক ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় সবই অভিন্ন দেখতে। লন্ডনে নির্মিত ফোয়ারা

বহন করে এনে বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছিলেন ঢাকার নবাবরা। টিএসসির ফোয়ারাটি একইরকম দেখতে হলেও এটি ইশরাত মঞ্জিলের বা শাহবাগের সেই ফোয়ারা কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি সুফী।

তার মানে, বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও গবেষণার প্রয়োজন। কেউ না কেউ নিশ্চয় এ গবেষণা সম্পন্ন করবেন। তার আগে এটুকু স্বীকার করতে বাধা নেই যে, টিএসসির ফোয়ারাটি ইশরাত মঞ্জিলের ফোয়ার কথাই মনে করিয়ে দেয়। এই মনে করিয়ে দেয়ারও প্রয়োজন আছে বৈকি!

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT