ঢাকা, Monday 27 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

পদ্মায় ৪১ প্রজাতির জলচর পাখির কলতান

প্রকাশিত : 08:42 AM, 6 January 2021 Wednesday
86 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

শুরু হয়েছে এ বছরের জলচর পাখি শুমারি। শুমারির প্রথম দিনে সোমবার রাজশাহীতে পদ্মা নদীর ৩৯ কিলোমিটার এলাকায় ৪১ প্রজাতির দুই হাজার ৭০৯টি জলচর পাখি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে ৫৭৭টি প্রিয়ং হাঁস। বিরল প্রজাতির পাখির মধ্যে আছে কালো মানিকজোড় ও একটি ফুলুরি হাঁস। প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংঘ আইইউসিএন বাংলাদেশের ওয়াইল্ড বার্ড মনিটরিং প্রোগ্রাম ও সুইডেনের লিনিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে সোমবার থেকে পাখি শুমারি শুরু হয়েছে। আইইউসিএন বাংলাদেশে প্রতিবছর পাখি শুমারি করে। এতে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, রাজশাহী বার্ড ক্লাব ও বন অধিদফতরের সদস্যরা।

রাজশাহীর পদ্মা নদীর

প্রায় ৩৯ কিলোমিটার অংশে পাখি শুমারি করা হয়েছে। রাজশাহীতে পদ্মা নদীর চর খানপুর থেকে শুরু করে মাঝারদিয়াড় চর পর্যন্ত শুমারির কাজ চালানো হয়। আগামী এক সপ্তাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাখি শুমারি চলবে। বছর শেষে ওয়েটল্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংস্থা থেকে পাখি শুমারির ফল প্রকাশ করা হবে।

আইইউসিএন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম কর্মকর্তা সরোয়ার আলম দিপু জানান, এ বছর পদ্মা নদীতে পরিযায়ী পাখির প্রজাতি বাড়লেও পাখির সংখ্যা কম। গত বছরের শুমারিতে পদ্মা নদীর ওই এলাকায় ৩৭ প্রজাতির চার হাজার ২৫টি পাখি গণনা করা হয়েছিল।

এদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ পাল্টে দিয়েছে পরিযায়ী পাখি। হাজারো পাখির কলতানে প্রাণে

ছোঁয়া লাগে পুরো ক্যাম্পাসে। করোনাকালীন বন্ধ ক্যাম্পাসে প্রতিবারের মতোই এবারের শীতেও এসেছে হাজারো পরিযায়ী পাখি। এদের আগমনে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে নির্জন ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হল, তাপসী রাবেয়া হল, রহমতুন্নেছা হলের পেছনের চামপঁচা, শামসুজ্জোহা হলের পাশের পুকুরসহ বেশ কয়েকটি জলাশয়ে বসেছে পরিযায়ী পাখির মেলা। জলাশয়ের পাড়ে সরালিরা ঝাঁকবেঁধে উড়ছে শাঁই শাঁই করে, খোলা আকাশে দু/এক চক্কর দিয়ে আবার নেমে আসছে। খুনসুটি করছে নিজেদের মধ্যে, দিচ্ছে ডুবসাঁতার।

কেউ স্বচ্ছ পানিতে ডানা ঝাপটাচ্ছে, কেউ আবার পালকের ভেতর মুখ গুঁজে পোহাচ্ছে মিষ্টি রোদ। প্রতিবছর শীতজুড়ে অবাধ বিচরণ থাকে তাদের। এবারও পরিযায়ী পাখির কলকাকলি, খুনসুটি আর জলকেলিতে নিসর্গমতী এই ক্যাম্পাস

হয়ে উঠেছে স্বর্গ।

প্রতিবছর অক্টোবর-নবেম্বর মাসে সুদূর সাইবেরিয়া বা হিমালয়ের উত্তরাঞ্চল থেকে ঝাঁকবেঁধে উড়ে আসে এরা। তীব্র শীত আর ভারি তুষারপাতে টিকতে না পেরে উষ্ণতার খোঁজে তারা পাড়ি জমায় দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ দেশ বাংলাদেশে। দেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে সেসবের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।

দুই ধরনের পাখি আসে রাবি ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি থাকে ডাঙায় বা ডালে। আরেক ধরনের পাখি থাকে পানিতে। তবে রাবির জলাশয়গুলোতে আসা বেশিরভাগ পাখিই হাঁস জাতীয়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পাখিই ছোট সরালি। আর বাকিদের মধ্যে রয়েছে বড় সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুন্তে হাঁস, ভূতি হাঁস ও ঝুঁটি হাঁস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পরিযায়ী পাখিদের

দেখে উচ্ছ্বসিত হন। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেও অনেকে আসেন পরিযায়ী পাখি দেখতে। ক্যাম্পাসে এবার খুব বেশি পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটেছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি আ-আল মামুন। বন্ধ ক্যাম্পাসে একদিন সকালে হাঁটতে গিয়ে ছাত্রী হল সংলগ্ন পুকুরে তিনি পরিযায়ী পাখিগুলো দেখতে পান। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অন্যান্য সময় খুব কম পরিমাণে পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। তবে এবারে প্রচুর পরিমাণে পরিযায়ী পাখির আগমন আমাকে মুগ্ধ করেছে।

নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে পরিযায়ী পাখিরা নিরাপদ

আশ্রয় ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাওয়ায় কয়েকবছর ধরেই আসছে। প্রতিবারের ন্যায় এবারেও এসেছে। ইতোমধ্যে হাজারো সরালি পাখি পাড়ি জমিয়েছে ক্যাম্পাসে। এবং দিন দিন এর পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ আরও বলেন, নবেম্বরের শুরু থেকে পাখি আসতে শুরু করেছে। পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরীদের সতর্ক থাকতে বলেছি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT