ঢাকা, Thursday 23 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

নৌকা ও ধানের শীষ প্রার্থীর স্লোগানে মুখর চট্টগ্রাম

প্রকাশিত : 09:11 AM, 12 January 2021 Tuesday
74 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হামলার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই এগিয়ে চলছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোটের প্রচার। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর গণসংযোগে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে ঝিমিয়েপড়া রাজনীতিতেও। ভোটারের উদ্দেশে প্রার্থীরা দিচ্ছেন এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জন্য এ লড়াই মর্যাদা রক্ষার। অপরদিকে, বিএনপি চায় এ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে। সোমবার মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগের পাশাপাশি বেশকিছু প্রার্থী পথসভায়ও বক্তৃতা করেন। এদিকে, কাউন্সিলর পদে প্রচারে বাড়তি মাত্রা যোগ হয়েছে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায়, যাদের প্রায় সকলেই আওয়ামী লীগের। এলাকায় জনসমর্থন থাকায় তারা কোন অংশেই দল সমর্থিত

প্রার্থীর চেয়ে পিছিয়ে নেই।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী সোমবার গণসংযোগ করেন মহানগরীর মোহরা ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায়। তার সঙ্গে ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ভোটের প্রচারে যখনই কোন গলিতে যাচ্ছেন সেখানেই বিপুল জনসমাগম ঘটছে । নিজ হাতে প্রচারপত্র বিলি করছেন ভোটারের মধ্যে, যাতে রয়েছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার আহ্বানের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার অঙ্গীকার। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নে একের পর এক মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত হলে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোন ভুল করবে না বলে আশাবাদ আওয়ামী

লীগের মেয়র প্রার্থীর। বিএনপির বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা পরাজিত হবে জেনেই আগেভাগে ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ আনছে।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডাঃ শাহাদাত হোসেন সোমবার গণসংযোগ চালান বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল, পুরাতন চান্দগাঁও থানা, মৌলভী পুকুরপাড় এবং ওসমানিয়া গ্লাস ফ্যাক্টরি এলাকায়। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং তাদের ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, হারুন জামান এবং দল ও অঙ্গ সংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা। ডাঃ শাহাদাত বলেন, ধানের শীষ হচ্ছে উন্নয়ন,শান্তি

ও সমৃদ্ধির প্রতীক। জনগণ ঠিকমতো ভোট দিতে পারলে ধানের শীষ প্রতীকেরই বিজয় হবে দাবি করে তিনি ভোটারদের কেন্দ্রে যাবার আহ্বান জানান। তিনি অভিযোগ এনে বলেন, ধানের শীষের প্রতি জনগণের সাড়া দেখে সরকারী দল দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাই নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার পথ বেছে নিয়েছে। দলীয় ক্যাডার লেলিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। জনগণ আগামী ২৭ জানুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে সকল মিথ্যা অপপ্রচারের জবাব দেবে। এদিন জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ ফোরামের ব্যানারে মহানগরীর জামালখান, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, আসকারদীঘি, ব্যাটারিগলি এলাকায় গণসংযোগ হয়। ফোরাম সভাপতি রণজিৎ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে গণসংযোগে অংশ নেন সাধারণ সম্পাদক রুবেল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির

সদস্য সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া, ফোরামের উপদেষ্টা বোধিমিত্র ভিক্ষু, সাংগঠনিক সম্পাদক কমল জ্যোতি বড়ুয়াসহ নেতৃবৃন্দ।

গণজমায়েত থেকে বিরত থাকার অনুরোধ ইসির ॥ চসিক নির্বাচনে প্রার্থীদের গণজমায়েত পরিহার করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটের প্রচার চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জািনয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হাসানুজ্জামান। সোমবার বিকেলে নগরীর কাজির দেউড়ি মোড় এলাকায় সচেতনতা সৃষ্টি এবং ইভিএম সম্পর্কিত প্রচারপত্র বিতরণকালে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী কোন ধরনের গণজমায়েত করা যাবে না। তাছাড়া এখন করোনা পরিস্থিতি চলছে। লোক সমাগম ঘটবে এমন আয়োজন পরিহার করে নির্বাচনী প্রচার করতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন

কর্মকর্তা আতাউর রহমান, অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমদ, সহকারী রিটার্নিং অফিসার জাকিয়া হোসাইন, বুলবুল আহমদ প্রমুখ।

এদিকে, ২৭ জানুয়ারি ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১১ হাজার ৫৭২টি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। প্রতিটি ভোট কক্ষের জন্য একটি করে ইভিএম প্রদান করা হবে। বিকল্প হিসেবে দুটি ভোট কক্ষের বিপরীতে একটি করে মেশিন অতিরিক্ত দেয়া হবে। সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের দায়িত্বে থাকবে ইভিএম মেশিন ও ভোটের সামগ্রী।

প্রচারে পিছিয়ে নেই বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীরা ॥ কাউন্সিলর পদে প্রার্থীর ভোটের প্রচারে জমে উঠেছে মহানগরীর অলিগলি। প্রচারে বাড়তি মাত্রা যুক্ত হয়েছে মহানগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের

মধ্যে বেশিরভাগ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায়। নেতাদের হুমকি-ধমকিতেও সরে দাঁড়াননি বিদ্রোহীরা। বরং ভালভাবেই রয়েছেন ভোটের লড়াইয়ে। প্রার্থীদের মধ্যে ১১ সাবেক কাউন্সিলর, যারা এবার দলীয় সমর্থন পাননি। পুরনো কাউন্সিলর এবং এলাকায় জনসমর্থন থাকায় তাদের প্রচারেও প্রচুর জনসমাগম পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ প্রার্থীরা নিজেদের বিদ্রোহী প্রার্থী মানতে নারাজ। তারা বলেন, আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। কাউন্সিলর পদে কোন দলীয় প্রতীক নেই। ফলে বিদ্রোহী হওয়ার প্রশ্নই আসে না। আগামী ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে রায় দেবে বলে আশাবাদ স্বতন্ত্র কাউন্সিলর প্রার্থীদের।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT