ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

নিত্যপণ্যের বাজারে ফের বাড়লো মুরগি পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের দাম

প্রকাশিত : 10:25 AM, 14 March 2021 Sunday
88 বার পঠিত

রাছেল রানা | বগুডা

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ফের বাড়লো মুরগি পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের দাম। আগের বেড়ে যাওয়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। আটা, ডাল, চিনি, ছোলা ও গরু-খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আদার দাম কমেছে। স্থিতিশীল রয়েছে সবজির বাজার। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে লেবু। কিছুটা দাম বেড়েছে মাছের।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, মুগদা বড় বাজার, যাত্রাবাড়ি বাজার, গোঁড়ান কাঁচা বাজার এবং খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি) ঢাকার অধিকাংশ নিত্যপণ্যের বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার তথ্য দিয়েছে। রোজা সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে

বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত দাম কমানোর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে শবে-বরাতের আগে বাজার পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী, ভোগ্যপণ্যের আমদানিকারক এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধওে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, রোজার একমাস আগে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। রোজার সময় সেই বাড়তি দামেই পণ্য বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এতে করে সাধারণ ভোক্তাদের কষ্ট বাড়লেও অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেট ভারি হয়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, এ মুহূর্তে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। নিত্যপণ্যের বাজারে মূলত চার প্রকারের

মুরগি বিক্রি হয়। এর মধ্যে রয়েছে দেশী, পাকিস্তানি কক, লেয়ার ও ব্রয়লার। মাসখানেক আগে দেশী মুরগির কেজি ছিল ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা। কয়েক দফায় দাম বেড়ে এখন দেশী মুরগির কেজি হয়েছে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা। অর্থাৎ দেশী মুরগির দাম কেজিতে বেড়ে গেছে ১০০ টাকার ওপরে।

রাজধানীর বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পাকিস্তানি কক মুরগি। মাসখানেক আগে এ মুরগির দাম ছিল প্রতিকেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। অথচ রাজধানীর বাজারে কক মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোনো কোনো বাজারে ৩৫০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে এই কক মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫০

থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত। গরির মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস বলা হয় ব্রয়লার মুরগিকে। কারণ সবচেয়ে কম দাম হওয়ায় গরিব মানুষ পরিবারের মাংসের চাহিদা মেটান এই ব্রয়লার মুরগির মাংস খেয়ে। গত এক মাস ধরে ব্রয়লার মুরগিও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগিতে ৫০ টাকা দাম বেড়ে বাজারে এখন ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এক মাস আগেও লেয়ার মুরগির প্রতিকেজি দাম ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা। এখন এর দাম হয়েছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন উৎসবের মৌসুম আর একারণে মুরগির দাম চড়া। পিকনিক, বিয়েশাদীসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়ায় মাংসের

চাহিদা বেড়ে গেছে। এর সবচেয়ে বড় চাপ মুরগির উপর। আর এ কারণে দাম বাড়তি।

ফকিরাপুল বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী আব্দুছ ছালাম এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠকে বলেন, চাহিদা বাড়ার কারণে সব ধরনের মুরগির দাম বেড়ে গেছে। উৎসবে ব্রয়লার মুরগির চেয়ে পাকিস্তানি কক, লেয়ার ও দেশী মুরগির চাহিদা বেশি থাকার কারণে এসব মুরগির দাম বেশি। তবে উৎসব পাবর্ণ কমে এলে আবার দাম কমে যাবে বলেও তিনি জানান। তবে খামার মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, মুরগির বাচ্চার দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া মুরগির খাবার ও অন্যান্য ওষুধ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে সরবরাহও কিছুটা কমে গেছে। তবে ক্রেতারা

বলছেন, এক মাস ধরে চড়া দামে বিক্রি সব ধরনের মুরগি। দাম কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর একমাস পরে রোজা শুরু হচ্ছে। ওই সময় দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত দাম কমানোর উদ্যোগ না নিলে বাজার পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে গরু ও খাসির মাংস ও মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম। বাজারে প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, বকরির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০-৬০০ টাকায়। এছাড়া মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, চিংড়ি জাত

ও মানভেদে ৫৫০-১২০০ এবং প্রতিকেজি ইলিশ মাছ ৯০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য মাছের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

মুরগির পাশাপাশি পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে ১০ টাকা বেড়ে মানভেদে প্রতিকেজি দেশী পেঁঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খুচরা বাজারে পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলে মিসর, তুরস্কসহ বিশ্বেও আরও কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। আমদানি করা সেই পেঁয়াজ টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি

করছে। বাজারে ভোজ্যতেলের দাম প্রতিলিটাওে ২-৩ টাকা বেড়েছে। সয়াবিন তেল খোলা প্রতিলিটার ১১৬-১২১, বোতল সয়াবিন পাঁচলিটার ৬১০-৬২০, বোতল একলিটার ১৩০-১৩৫ এবং পামওয়েল লুজ ১০০-১০৫ এবং পামওয়েল সুপার ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া আগের দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। প্রতিকেজি নাজিরশাইল ও মিনিকেট সরু চাল ৬২-৭০, মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা ৫২-৬০ এবং মোটা স্বর্ণা ও চায়না ইরি ৪৭-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। দাম কমে প্রতিকেজি আদা ৭০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তায় ৭০-১২০ টাকায় এই আদা বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া স্থিতিশীল রয়েছে সবজির বাজার। বাজারে গ্রীষ্মকালীণ সবজিখ্যাত করল্লা, উস্তে এবং পেঁপের সরবরাহ বেড়েছে।

এছাড়া শীতকালীন সবজি ফুলকপি, বাধাকপি ও শিমের সরবরাহ ভাল। প্রতিকেজি সবজি ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কমে প্রতিকেজি আলু ১৮-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে লেবু। প্রতিহালী লেবু ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। গরম পড়তে শুরু করায় লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT