ঢাকা, Thursday 28 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে হবে

প্রকাশিত : 08:35 AM, 15 March 2021 Monday
59 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভাবমূর্তির কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীসেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, এটা আমাদের দেশ। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এই দেশ স্বাধীন করেছি। এদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা আমাদের সকলেরই দায়িত্ব, সকলেরই কর্তব্য। দেশটা যত উন্নত হবে বা অর্থনৈতিকভাবে আমরা যত বেশি স্বাবলম্বী হতে পারব, যাত্রীসেবা যত বেশি উন্নত করতে পারব, তাতে দেশেরই লাভ হবে। দেশের মানুষ লাভবান হবে এবং আমাদের দেশটাও তত বেশি এগিয়ে যাবে। কাজেই সেদিকে সবাই লক্ষ্য রেখেই আপনাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন- সেটাই আমি চাই।

রবিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নতুন কেনা ড্যাশ ৮-কিউ৪০০ মডেলের দুটি উড়োজাহাজ

‘আকাশতরী’ ও ‘শ্বেতবলাকা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এমন আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

দেশের বিমান বহরে আরও দুটি নতুন এয়ারক্রাফট যোগ করা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের বিমানগুলোকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এ পর্যন্ত জনগণের টাকায় ১৬টি নিজস্ব নতুন আধুনিক উড়োজাহাজ ক্রয় করে বিমান বহরে যোগ করা হয়েছে। সর্বমোট এখন আমাদের ২১টি উড়োজাহাজ আছে। সেগুলো যেন সুন্দরভাবে সুরক্ষিত থাকে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়ার জন্য আপনাদের কাছে আমার আহ্বান থাকল।

বিমান শুধু বাংলাদেশ না, সারা

বিশ্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যখন সারা বিশ্বে ঘোরে, বিদেশে যায় তখন বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করে। সেজন্য সব সময় আমাদের প্রচেষ্টা ছিল যে এই বিমান যেন ভালভাবে আমরা গড়তে পারি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে ‘প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন জানিয়ে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, অর্থাৎ আমাদের যে ভৌগলিক অবস্থানটা আছে এবং আমরা ইন্টারন্যাশনাল এয়ার রুটের ভেতরে আছি। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিন্তু প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের একটা সেতুবন্ধন রচনা করতে পারে। তাছাড়া আমরা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ বৃদ্ধি, যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি

করা, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর অনেক সুযোগ আমাদের রয়েছে। সেই সুযোগগুলো কাজে লাগানো- এটাও জাতির পিতার আকাক্সক্ষা ছিল।

বিমানের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে তাঁর সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন যারা বিমানে চলাচল করেন, তারা ইন্টারনেটসহ সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করতে পারেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের নতুন বিমানগুলোয় ওয়াইফাই প্রযুক্তি সংযোজন করা রয়েছে। বিমানে যারা যাতায়াত করেন তাদের বেকার বসে থাকা লাগবে না, বিমানে বসেই ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজটাও চালাতে পারবেন, সেই সুযোগ আমরা তৈরি করে দিয়েছি।

বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা যখন যান, আগে বাইরে থেকে প্লেন ভাড়া নিয়ে আসতে

হতো। এখন আমরা আমাদের নিজস্ব বিমানেই হাজীদের খুব ভালভাবে পাঠাতে পারি এবং ফেরত আনতে পারি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক টার্মিনালের কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেন, হযরত শাহজালালে অত্যন্ত আধুনিক টার্মিনাল আমরা নির্মাণ করে দিচ্ছি। যাতে প্লেন সেবাটা আরও উন্নত মানের হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের আগে বিমান ‘দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায়’ ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর সরকারে এসে আমরা চেষ্টা করি বিমানবন্দর উন্নয়ন করার। এর আগে বিমানবন্দরে কোন বোর্ডিং ব্রিজ বা কোন কিছু কিন্তু ছিল না। যতটুকু উন্নত আমরাই তৈরি করে দিয়ে যাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক

বিমানবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, সে কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজশাহী বিমানবন্দর, বরিশাল বিমানবন্দর, সৈয়দপুর বিমানবন্দর সবই প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর আবার সেগুলো চালু করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উন্নতি করছে, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল সব বিমানবন্দর যেমন চালু করেছে, পাশাপাশি কক্সবাজার বিমানবন্দরকে উন্নত ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশাল এয়ার রুটে কক্সবাজার বিমানবন্দরটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আর্থিকভাবে লাভবান হলে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের মেয়াদে বিমান বহরে অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত করার

কথা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে আমরা আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগটা বাড়াতে পারব এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযাগ ব্যবস্থাও আরও উন্নত হবে। কাজেই সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমাদের যোগাযোগটা বাড়াতে পারব এবং যাত্রীসেবাটাও সুন্দরভাবে করা যাবে। সেই ক্ষেত্রে মনে করি, এ বিমানগুলো যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কেননা এই বিমানগুলা অত্যন্ত আধুনিক বিমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বিমানের জয়যাত্রা অব্যাহত শুভ কামনা করে বিমান বহরে যুক্ত হওয়া নতুন দুটি উড়োজাহাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

নতুন ক্রয়কৃত আধুনিক বিমান দুটির উদ্বোধন

উপলক্ষে হযরত শাহজাহাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি ভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এম মোকাম্মেল হোসেন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এ সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মোস্তফা কামালসহ মন্ত্রণালয় ও বিমানের উর্ধতন কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে নতুন কেনা বিমান দুটির ওপর ভিডিও চিত্রও পরিবেশিত হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে সদ্য

যুক্ত হওয়া সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত সম্পূর্ণ নতুন ২য় ও ৩য় ড্যাশ ৮-৪০০ ‘আকাশতরী’ ও ‘শ্বেতবলাকা’- বাংলাদেশ ও কানাডা সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে ক্রয় করা ৩টি উড়োজাহাজের মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয়।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন এই উড়োজাহাজ দুটির নাম রেখেছেন ‘আকাশতরী’ ও ‘শ্বেতবলাকা’। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অত্যাধুনিক ড্যাশ ৮-৪০০ দুটি উড়োজাহাজ বহরে যুক্তকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ও স্বল্প দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটগুলোতে ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এতে সম্মানিত যাত্রীসাধারণ অতি সহজেই তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।

কানাডার বিখ্যাত এয়ারক্রাফট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডি হ্যাভিল্যান্ড নির্মিত অত্যাধুনিক ৭৪ সিট সংবলিত নতুন ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ। ড্যাশ-৮ বিমানটি খুব ছোট রানওয়ে থেকে

উড্ডয়নক্ষম ও স্বল্প খরচে নিরবচ্ছিন্ন এবং মসৃণ উড্ডয়নের জন্য বিখ্যাত। এই মডেলের বিমানগুলোতে কেবিন নয়েজ সাপ্রেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব এবং অধিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ এ উড়োজাহাজে রয়েছে হেপা ফিল্টার প্রযুক্তি, যা মাত্র ৪ মিনিটেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করার মাধ্যমে উড়োজাহাজের অভ্যন্তরের বাতাসকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ করে। যা যাত্রীগণের যাত্রাকে করে তোলে অধিক নিরাপদ। এছাড়াও এ উড়োজাহাজে বেশি লেগস্পেস, এলইডি লাইটিং এবং প্রশস্ত জানালা থাকার কারণে ভ্রমণ হয়ে উঠবে অধিক আরামদায়ক ও আনন্দময়। বর্তমানে বিমান বহরে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৯, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ছয়টি বোয়িং ৭৩৭ এবং পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT