ঢাকা, Thursday 23 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

দুর্নীতির দায়ে শিক্ষার প্রকল্প পরিচালক ওএসডি

প্রকাশিত : 10:47 PM, 5 January 2021 Tuesday
70 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

সম্মানীর নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনার প্রমান পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধিন আইসটি প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুস সবুর খানকে অবশেষে ওএসডি করা হয়েছে। তবে দুর্নীতিতে তার সহযোগী কর্মকর্তাদের কারো বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন (দ্বিতীয় পর্যায়ে) প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুস সবুর খানকে মঙ্গলবার প্রেষণ প্রত্যাহার করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্পের পরিচালকের বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষরে কেবল সম্মানী বাবদই সাড়ে তিন মাসে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ

থেকে মো. আব্দুস সবুর খানকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সারা দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের ৩১ হাজার ৩৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে ক্লাস পরিচালনার জন্য ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালে ‘আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন’ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এতে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। প্রথমে ৪ বছর মেয়াদে শুরু হলেও পরে অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে এ প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে। যদিও প্রকল্পের কাজ হয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এটি বাস্তবায়ন করছে। আগামী জুনে শেষ হবে প্রকল্পের

বর্ধিত মেয়াদ। বেহাল দশার এ প্রকল্পের দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি তদন্ত করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রকল্পটির দুর্নীতি তদন্ত করে।

তদন্তে উঠে এসেছে প্রকল্পের পরিচালক আব্দুস সবুর খান বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত না হয়েও প্রোগ্রাম পরিচালক হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষরে সাড়ে তিন মাসে ১৭ লাখ টাকা সম্মানী নিয়েছেন। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনেকেই এভাবে সম্মানীর নামে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে মঙ্গলবারের আদেশে তাদের বিষয়ে কোন পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি। যদিও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিষয়েও পদক্ষেপ নেয়া হবে শিঘ্রই।

তদন্তে জানা গেছে, ক্রয়প্রক্রিয়া শুরুর আগেই পৌনে এক কোটি টাকার

প্রশিক্ষণসামগ্রী গ্রহণ করা হয়েছে। দরপত্র বা ক্রয়বিধি ছাড়াই সোয়া ২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। নিয়ম ভেঙে ব্যয় করা হয়েছে আরও ২১ লাখ টাকা। বর্তমান প্রকল্প পরিচালকের যোগ দেয়ার আগে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষের উপকরণ কেনাকাটার জন্য দরপত্রের কাজও শেষ হয়েছিল।

কিন্তু অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে উপকরণ কেনাকাটা বন্ধ করা হয়। এ নিয়ে একটি মামলাও চলছে। তখন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালককে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। ৫ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রেষণ প্রত্যাহার করে মো. আব্দুস সবুর খানকে ওএসডি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকির হোসনকে প্রকল্প পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব

পালন করতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT