ঢাকা, Wednesday 22 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

তৃণমূলে ভোট উৎসব শুরু হচ্ছে

প্রকাশিত : 10:11 AM, 27 December 2020 Sunday
100 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

তৃণমূলে ভোটের উৎসব শুরু হচ্ছে কাল থেকে। রাত পোহালে পৌরসভায় প্রথম দফায় ভোট। দীর্ঘ করোনা ভয় পেরিয়ে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। সুষ্ঠুভাবে পৌর নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইসির পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে নির্বাচনী এলাকায়। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার। এখন জয়পরাজয়ের হিসাব কষছেন তারা।

ইসির তথ্যানুযায়ী প্রথম দফায় প্রায় সব পৌরসভায় মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এর বাইরের অংশ রাজনৈতিক দলের খুব কম সংখ্যক প্রার্থীই এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ফলে জাতীয় ও

সিটি নির্বাচনের পর আরও এক দফায় কাল থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভোটের লড়াই শুরু হচ্ছে। করোনাকালে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শূন্য পরিবেশে পৌরনির্বাচনে কিছুটা হলে রাজনৈতিক উত্তাপ ছাড়াবে। এটা অব্যাহত থাকবে আগামী বছরজুড়েই। বিশেষ করে পৌরসভায় নির্বাচনের পর আগামী মার্চ অথবা এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সারাদেশে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে ইসির।

গত মার্চ মাসে দেশে প্রথম করোনা আঘাত হানে। সব সেক্টরের মতো এর প্রভাব পড়ে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর। ফলে একে একে উপনির্বাচন, সিটি নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার পরিষদের সব নির্বাচন। ভীতি কাটতে শুরু হওয়ায় গত জুলাই থেকে স্বল্প পরিসরে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম

শুরু করে ইসি। এরই মধ্যে স্থগিত থাকায় সব স্থানীয় পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করেছে তারা। নির্ধারিত সময়ে অনেক পরে হলেও শূন্য ঘোষিত সংসদীয় আসনের নির্বাচনও সম্পন্ন হয়েছে। গত মার্চে স্থগিত হয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের পুনরায় ভোটগ্রহণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচনের এই ধারাবাহিকতায় সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে পৌরসভায় ভোট। প্রার্থী দফায় ২৫ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হবে। এছাড়া আরও তিন থেকে চার ধাপে ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের নির্বাচন উপযোগী সব পৌরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি ইসির পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন দফায় নির্বাচনের জন্য ১৫০টি পৌরসভায় তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দফায় কাল সকাল

৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমে ভোটগ্রহণ করার সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর আগামী বছরের প্রথম মাস জানুয়ারি ১৬ তারিখে দ্বিতীয় দফায় ৬১ পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। জানুয়ারির শেষে তৃতীয় দফায় আরও ৬৪ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হবে।

করোনাকালে এই পৌরসভা নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূলে ভোটের উৎসব শুরু হচ্ছে। এছাড়া এবার প্রথম পৌরসভায় ইভিএম মেশিন ব্যবহার করে ভোট দেবেন ভোটারা। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন প্রথম দফায় সব পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হবে ইভিএমে। এর আগে জাতীয় এবং সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও তৃণমূলের ভোটাররা এবারই প্রথম ইভিএমে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইভিএমে ভোটের সংশয়

দূর করতে নির্বাচনী এলাকায় ইতোমধ্যে মক বা অনুশীলন ভোট সম্পন্ন করা হয়েছে।

প্রথম দফায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদের জন্য ভোট হবে ২৪ পৌরসভায়। বাকি একটি পৌরসভায় শুধু কাউন্সিলর পদে ভোট নেয়া হবে। গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় মেয়র পদের প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে এই পদে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। তবে কাউন্সিলর পদে ভোট নেয়া হবে।

ইসির পক্ষ থেকে পৌরসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার শেষ হয়েছে। এখন তারা ভোটারের সমর্থনের অপেক্ষায় ভোটের প্রহর গুনছেন। ইসির পক্ষ থেকে নির্বাচনী এলাকায় যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে সেসব প্রতিষ্ঠানে ভোটের দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজকের মধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনসহ ভোটার সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে।

ইসির উপসচিব আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ মধ্য রাত থেকে আগামীকাল ভোটের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত সব ধরনের নৌযান ও স্পিডবোট চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। তবে ভোটারদের চলাচলের জন্য ক্ষুদ্র নৌযান ব্যবহারের ওপর কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। এছাড়াও রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি সাপেক্ষে প্রার্থীর এজেন্ট, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক, সাংবাদিকরা পরিচয়পত্র বহন সাপেক্ষে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী পৌরসভায় মেয়র পদে ভোট হবে দলীয়

ভিত্তিতে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভায় প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধিত ৫টি রাজনৈতিক দল ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে মূলত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন। দুটি দল থেকে সব পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীক নিয়ে তারা ভোটের মাঠে রয়েছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সব পৌরসভায় প্রার্থী দিলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সংখ্যা তৃতীয় অবস্থানে। কয়েকটি পৌরসভায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এছাড়াও একটি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির।

২০১৫ সালে পৌরসভায় প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে ভোটগ্রহণ করা হয়। ওই বছর ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২শ’র

বেশি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হয়। ২০টি রাজনৈতিক দল ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু ৫ বছর পরে এসে পৌরসভায় রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ অনেক কমেছে। ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা রয়েছে ৪০ এর ওপরে। সেখানে এবার মাত্র ৫টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছে। আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত দলের প্রার্থীরা রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। তারা দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবেন। দলের মনোতীত প্রার্থীই কেবল দলের পক্ষ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এর বাইরে অন্য প্রার্থীরা ইসির খাতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে কাউন্সিলর পদে ভোট হবে নির্দলীয়।

গত ২২ নবেম্বর প্রথম দফায় ২৫ পৌরসভায় নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা

হয়। তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপের পৌরসভায় মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ১ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১০ ডিসেম্বর। ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান জানান, প্রথম দফায় ২৪ পৌরসভায় মেয়র পদে চূড়ান্ত প্রার্থী রয়েছেন ৯০ জন। ২৫ পৌরসভায় সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৭৭ জন এবং ৮৪৮ জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে প্রথম দফায় মেয়র কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মোট প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ২১৫ জন।

এদিকে প্রথম ধাপে ২৫ পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেও গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় একজন মেয়র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ওই পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এই পৌরসভায়

বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ শহিদুল্লাহ শহিদের মৃত্যুর কারণে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মোঃ ইস্তাফিজুল হক আকন্দ মেয়র পদে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন। তবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে অন্যান্য পদে ভোটগ্রহণ করা হবে। ফলে প্রথম দফায় ২৪ পৌরসভায় মেয়র ও কাউন্সিলর পদে ভোট হলে একটি ভোট হচ্ছে শুধু কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে।

জানা গেছে, এই পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থী শহিদুল্লাহ ফুসফুসের রোগে ভুগছিলেন। পরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তিনি মারা যান। মোঃ শহীদুল্লাহ শহিদ ছাড়াও মেয়র পদের অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের মোঃ আনিছুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের

মুহাম্মদ ফরহাদ আহমেদ রফিক মমতাজী। পরবর্তী তফসিল অনুসারে এই পৌরসভায় মেয়র পদে ভোটগ্রহণ করা হবে।

দেশের মোট পৌরসভা রয়েছে ৩২৯টি। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যেই পৌরসভার ভোট করতে হয়। তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় ৬১ পৌরসভায় ভোট হবে ১৬ জানুয়ারি। এই দফায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন প্রার্থীরা ভোট প্রার্থনায় মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়াও জানুয়ারির ৩০ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় দফায় পৌর নির্বাচন। এই দফায় ভোট হবে ৬৪ পৌরসভায়। এছাড়া চতুর্থ দফায় ভোট অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে ইসি। জানা গেছে, মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যেই বাকি পৌরসভায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

সর্বশেষ

২০১৫ সালে ২৪ নবেম্বর পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ৩৬ দিন সময় দিয়ে ভোটের তারিখ দেয়া হয় ৩০ ডিসেম্বর। এক দিনে ভোট হয় ২৩৪টি পৌরসভায়। বাকিগুলোয় মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ বিবেচনায় ও বিভিন্ন জটিলতা সেরে ভোট হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT