নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হামে মৃত্যু হাজার পার, ডেঙ্গুতে হাহাকারঃ স্বাস্থ্য খাতের চরম প্রশাসনিক দেউলিয়াত্ব
বেতন দ্বিগুণ সেবা অনিশ্চিত
উগ্রবাদের সতর্কবার্তা যাচাই ছাড়া প্রত্যাখ্যান করার সামর্থ্য কি রাখে বাংলাদেশ?
মানবিক ও বিবেকবান বাঙালিদের উচিত একে অপরের পাশে দাঁড়ানো ও ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা
‘ভারতের সাথে দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি’ বয়ান সৃষ্টি করা মানুষগুলো কেন ‘মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে নীরব?
ফুলবাড়ি কোল বেসিনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হবে সরকারের আরেকটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
সক্ষমতা, সাহস, সম্মান এবং শৈলী
ড. আসিফ নজরুল- আপনার এক অঙ্গে কতো রূপ?
ক্রিকেট বিশ্বকাপ আর ফুটবল বিশ্বকাপ—দুটো ভিন্ন প্রসঙ্গ। কিন্তু দুই ভিন্ন প্রসঙ্গ, দুই ভিন্ন আয়োজন যখন একজন মানুষের মুখোশের আড়ালের কুৎসিত মিথ্যাচারী মুখটা বের করে নিয়ে আসে, তখন সেটা হয় দেখার মতো বিষয়।
বাংলাদেশ যখন ভারতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ বর্জন করল, তখন এটি ক্রিকেট ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হয়ে রইল—কোনো যুদ্ধ, কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ, কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই একটি দেশ বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াল। তখনকার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রথমে দাবি করেছিলেন, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত—নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে। পরে নিজের বক্তব্য বদলে বলেন, এটা আসলে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত ছিল, সরকারের নয়। এতো ভোলবদল করেও যেই লজ্জা আর কলংকটা এড়ানো যায়নি, সেটা হচ্ছে বিশ্বমঞ্চের একটি ক্রিকেত টুর্নামেন্টকে বাংলাদেশ বর্জন করেছে।
এর বিপরীতে এখন দেখা যাচ্ছে, একই আসিফ নজরুল ফুটবল বিশ্বকাপে মুসলিম-সংহতির বার্তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহনকে গ্রহন করে ইরানকে সমর্থন জানাচ্ছেন—এমন এক ইরান, যারা সদ্য যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে, এবং বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘদিন ভিসা না পাওয়ার মতো বাস্তব বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তবুও ইরান টুর্নামেন্ট বর্জন করেনি; বরং প্রস্তুতি ক্যাম্প তুরস্ক ও মেক্সিকো ঘুরিয়ে নিয়ে অংশগ্রহণের পথ খুঁজে নিয়েছে।
এখানেই প্রশ্নটা দাঁড়ায়—একটি দেশ যখন প্রকৃত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিশ্ব মঞ্চে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, আর আমাদের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণে একটা প্রজন্মের ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করা হয়—তখন নেতৃত্বের এই অসামঞ্জস্যতা সাধারণ মানুষের চোখ এড়ায় না। যিনি একদিকে ভূ-রাজনৈতিক সহানুভূতির ভিত্তিতে এক দেশকে সমর্থন জানান, অন্যদিকে নিজের দেশের খেলোয়াড়দের সেই একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন শুধুমাত্র “ভারতবিদ্বেষ” ও “ভারত বিরোধীতার” পালে হাওয়া দিয়ে নিজস্ব অনুগামীদের কাছে গ্রহনযোগ্যতা আর জনপ্রিয়তা বাড়াতে।
জনাব আসিফ নজরুল, আপনার এই যে পারস্পরিক বিরোধী অবস্থান, সেটা কি ধারনা দিলো জানেন? ধারনা দিলো “ড আসিফ নজরুল ধর্মেও আছে, আবার জিরাফেও আছে”।
যেই মুষ্ঠিমেয় বিদ্বেষীদের ঘৃনা আর ক্ষোভকে উষ্কে দিয়ে আপনি ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ বর্জন করলেন, তারচেয়েও বড় কারন থাকা সত্ত্বেও কেন যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপ বর্জন করেনি ইরান, সেই প্রশ্নটা করেছেন নিজেকে কখনো? অথবা আপনি নিজেই কেন মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধিত্ব করে ইরানের জন্য বিশ্বকাপ বর্জনের ডাক দিলেন না? আপনার মানসিকতা আর যুক্তি হিসাবে তো ইরানের বিশ্বকাপ বর্জন করাই যুক্তিযুক্ত ছিলো, তাই না?
এটা আপনি করতে চাননি, কারন আপনি আপনার অনুগামীদের মাঝে যেই ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠিত করতে ‘গলদঘর্ম’ হচ্ছেন, সেটা প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে “ভারতীয় আগ্রাসাসন রুখে দাও” পর্যন্ত ঠিক আছে। “মার্কিন আগ্রাসন রুখে দাও” আওয়াজ তুলতে গেলে চাকরী আর ভিসা কোনটাই যে থাকবে না, সেটা আর কেউ না জানুক আপনার মতো সুবিধাবাদী বান্দা ঠিকই জানে।
তো যাই হোক, আপনার মুসলিম স্বত্বা জাগ্রত থাকুক, ইরান বিশ্বকাপে ভালো করে আপনার মুখ উজ্জ্বল করুক, এই কামনা করি হযরত…

বর্ণমালা টেলিভিশন এর সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।
[TheChamp-FB-Comments]