ঢাকা, Tuesday 21 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ড্যান্সবারের আড়ালে প্রতারণার ভয়ঙ্কর ফাঁদ

প্রকাশিত : 08:43 AM, 14 September 2020 Monday
66 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

বিনোদন জগতের রোমাঞ্চকর নাম ড্যান্স বার। নাচ, গান করানোর নামে ব্যবহৃত চমকপ্রদ নামটি এখন প্রলোভন, প্রতারণার ফাঁদ। শোবিজের নাম, যশ, খ্যাতির উচ্চ শিখরে ওঠার প্রত্যাশী কিশোরী, তরুণী, যুবতীদের চুম্বকের মতো আকর্ষণ করাতে এই ধরনের নাম ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্র। আলো ঝলমলে তারকা খ্যাতির প্রলোভনের টোপ ফেলে বাংলাদেশ থেকে কিশোরী, তরুণী, যুবতীদের পাচার করা হচ্ছে দুবাইয়ে।? জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রেফতারের পর দুবাইয়ে নারী পাচারের চাঞ্চল্যকর কাহিনী বের হয়ে আসছে তদন্তে। নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে থলের বিড়াল বের হয়ে আসার মতো চলচ্চিত্র জগত আর শোবিজের অনেকের নাম তদন্তকারীর টেবিলে।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

বিগত ১০ বছরে দুবাইয়ে পাচার হয়েছে সহস্রাধিক তরুণী-কিশোরী। পাচারের অভিযোগে ইতোমধ্যে প্রায় এক ডজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা ডান্স বারের মতো প্রতিষ্ঠান খুলে পাচার করছে। বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে পাচার হওয়া তরুণী-কিশোরীদের উদ্ধারে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন-ইন্টারপোলের সহায়তা নিচ্ছে পুলিশ।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ে নারী পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছে জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। তাকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাচারে জড়িত অনেকের নামই বেরিয়ে আসছে। পাচারকারীর তালিকায় আছে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার কাম কোরিওগ্রাফার গৌতম সাহার নামও। দুবাইয়ে ড্যান্স বারের মালিক আজম খান, তার ভাই

নাজিম এবং এরশাদের কাছে নৃত্যশিল্পীদের তুলে দিতেন গৌতম সাহা। তিনি শোবিজপাড়ায় অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার ও কোরিওগ্রাফার হিসেবে পরিচিত। দুবাইয়ে নৃত্যশিল্পীদের পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামির জবানবন্দীতে গৌতম সাহার নাম উঠে এসেছে।

শুক্রবার গ্রেফতার হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নৃত্যশিল্পী ইভান। এরপর তাকে হাজির করা হয় আদালতে। আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুবাইয়ে নারী পাচারের অভিযোগে নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগের জামিন নামঞ্জুর হয়। লালবাগ থানায় মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার

আবেদন করে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১০ বছরে সহস্রাধিক কিশোরী-তরুণী পাচার হয়েছে দুবাইয়ে। পাচার হওয়া তরুণী-কিশোরীদের উদ্ধারে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন-ইন্টারপোলের সহায়তা নেবে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে পাচারকারী চক্রের হোতা আসামি আজম খান ও আলামিনকে। পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যরা এখনও পলাতক। দুবাইয়ের বিলাসবহুল হোটেলে মোটা অঙ্কের টাকার চাকরি দেয়ার প্রলোভন দিয়ে তাদের পাচার করেছে পাচারকারী চক্র। দুবাইয়ে পাচার করার পর তাদের দিয়ে নাচ, গান করানোর নামে পতিতাবৃত্তিতে জড়ানো হয়েছে। দুবাই থেকে ফিরে এসেছে বেশ কয়েক তরুণী যার মধ্যে দুই তরুণী আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। দুই তরুণী ফিরে আসতে পারলেও পাচার হওয়া বেশিরভাগ

কিশোরী-তরুণী ও কিশোরী যারা ফিরে আসতে পারেনি তাদেরকে উদ্ধারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত দশ বছরে বিশ/বাইশ বছর বয়সী হাজারের বেশি তরুণী-কিশোরীকে পাচার করা হয়েছে দুবাইয়ে। যাদের দুবাইয়ে বিলাসবহুল হোটেলে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরি দেয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করা হয়েছিল, তাদের অনেককেই জিম্মি করে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে জড়ানো হয়। দুবাইয়ে বাংলাদেশী এসব তরুণী-কিশোরীকে উদ্ধার করে পাচারকারীদের ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেবার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের-সিআইডি এক কর্মকর্তা বলেছেন, আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রটি শুধু বাংলাদেশ নয়, পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান থেকেও মেয়েদের দুবাইয়ে পাচার করে পতিতাবৃত্তিতে জড়ায়। আমরা পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল

সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইব। সেজন্য আমরা ডকুমেন্ট তৈরি করছি। যদিও সময় একটু বেশি লাগছে। তবে আমরা সেখানে জিম্মি বাংলাদেশীদের উদ্ধার করব। সেজন্য ইন্টারপোলের সহায়তা দরকার। সম্প্রতি চক্রটির বাংলাদেশের হোতা আজম খানসহ তার দুই সহযোগী ময়না ও মোঃ আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ডকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন আজম খান ও তার সহযোগী ডায়মন্ড।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির হাতে গ্রেফতার আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের হোতা আজম খানের দেয়া জবানবন্দী, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুবাইয়ের ফরচুন পার্ল হোটেল এ্যান্ড ড্যান্স ক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্রান্ড

ও হোটেল সিটি টাওয়ারের অন্যতম মালিক বাংলাদেশে চক্রটির গডফাদার আজম খান। অর্ধশত দালালের মাধ্যমে অল্পবয়সী মেয়েদের অথবা বিশ/বাইশ বছরের তরুণীদের উচ্চ বেতনে কাজ দেয়ার কথা বলে প্রলুব্ধ করতেন। বিশ্বস্ততার জন্য চাকরির আগেই ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হতো। পাশাপাশি দুবাইয়ে যাওয়া-আসার সব খরচও দিত চক্রটি। দালালরা নির্ধারিত দুটি বিদেশী এয়ারলাইন্স এজেন্সির মাধ্যমে তাদের দুবাই পাঠাত। সেখানে যাওয়ার পরে প্রথমে তাদের ছোটখাটো কাজ দেয়া হতো। এরপর জোরপূর্বক ড্যান্স বারে নাচতে বাধ্য করা হতো। অন্যথায় শারীরিকভাবে নির্যাতন অথবা বদ্ধ ঘরে আটকে রেখে বৈদ্যুতিক শক পর্যন্ত দেয়া হতো। দেয়া হতো না কোন খাবার। একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্ক

স্থাপন অর্থাৎ প্রস্টিটিউশনে (পতিতাবৃত্তি) বাধ্য করা হতো তাদের।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশী পাচারকারীদের গডফাদার আজম খান আদালতে সব স্বীকার করেছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগও পেয়েছি, সেগুলোর অনুসন্ধান চলছে। তার বিরুদ্ধে সিআইডি শিগগিরই মানি লন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করা হবে। পাচারকারী চক্রটি একসঙ্গে ৪/৫ মেয়েকে দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী মেয়ে এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দূতাবাসের সহযোগিতায় ১৬ ভুক্তভোগী দেশে ফিরেছেন। গত ২ জুলাই সিআইডির এএসপি মৃণাল কান্তি সাহা বাদী হয়ে

লালবাগ থানায় যে মামলা দায়ের করেছেন, সেখানে আজম খান এবং আরও আট জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দুবাই থেকে ফেরা তিন তরুণীর নাম উল্লেখসহ তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনাও করা হয়েছে। তরুণীরা জবানবন্দীতে বলেছেন, আজম খান এক তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে অন্য লোক দিয়েও ধর্ষণ করিয়েছেন। কিন্তু এর বিনিময়ে তাকে কোন টাকা দেয়া হয়নি। দুই তরুণী আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে তারা বলেছেন, দুবাইয়ে নেয়ার পর তিন মাস ঘরে বসিয়েই খাওয়ানো হতো। টুকটাক কাজ কাউকে দিত, কাউকে দিত না। ভিসার মেয়াদ শেষ হলেই আজম খানের আসল রূপ সামনে আসত। এরপর তরুণীদের নেয়া হতো নাইট

ক্লাবে। কেউ যেতে রাজি না হলে তার ওপর চলত বর্বর নির্যাতন। হাত-পা কেটে দেয়া হতো, ইলেকট্রিক শক দেয়া হতো। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তরুণীরা রাজি হতেন। তখন তরুণীদের আজম খান নিজেই ধর্ষণ করতেন। পরে পাঠানো হতো নাইট ক্লাবে। সেখানেই মনোরঞ্জন করতে হতো আগন্তুকদের। এ পর্যন্ত আজম খান দুবাইয়ে পাচার করেছেন ১ হাজারে বেশি নারীকে। দুই-এক জন ফিরে এলেও অধিকাংশই সেখানে রয়ে গেছেন।

সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে দুবাইয়ে বাংলাদেশী আজম খানের মালিকানাধীন ড্যান্স বার থেকে পাচার হওয়া একাধিক নারীকে উদ্ধার করার ঘটনার তদন্তে পাওয়া সর্বশেষ ওই মামলায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রেফতার

করা হয়। গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত আজম খান ছাড়াও তার এজেন্ট ইয়াসিন ও নির্মল সরকার আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। এরপর ইয়াসিন ও নির্মল সরকারের জবানবন্দীতে গৌতম সাহার নাম উঠে আসে।

আসামি ইয়াছিন সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে বলেছেন, দুবাইয়ে নারীদের নেয়ার কাজে সহায়তা করে আজম খানের ভাই এরশাদ, আলমগীর, স্বপন ও অনিক। দেশ থেকে এরশাদ ও আজমদের নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ড্যান্স ক্লাব থেকে ‘আর্টিস্ট’ দেয় নায়িকা অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার গৌতম, আক্তার, সোহাগ, রাসেল ও অপূর্ব।

নির্মল সরকার জবানবন্দীতে বলেন, দুবাইয়ে ড্যান্স বারের মালিক আজম খানের ভাই নাজিম একদিন তার ড্যান্স একাডেমিতে যান। সেখানে মেয়েদের নাচ দেখে

সন্তুষ্ট হন। জবানবন্দীতে নির্মল সরকার বলেছেন, নির্মলের ড্যান্স একাডেমি নামে একটি নাচের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরপর সেখান থেকে নাজিমের কথায় দু’জন মেয়েকে দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এজন্য তিনি ৩০ হাজার টাকা পান। এ ছাড়া মাইনুদ্দিন, সজীব, ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, ওয়াসিম, জসিম, সোহেল রহমান, ওয়াসেক মুস্তাকিনুর রহমান, আনিসুল ইসলাম হিরুসহ অনেকেই তার কাছে আর্টিস্ট চায়। অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার গৌতম ছাড়াও আক্তার, সোহাগ, অপূর্ব তাকে আর্টিস্ট সরবরাহ করেন। তিনি তাদের সঙ্গে আর্টিস্টদের যোগাযোগ করিয়ে দিতেন। পরে দু’জন মেয়ে তাকে জানায়, চুক্তি অনুযায়ী তারা কাজ ও বেতন পাচ্ছে না। তাদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি বুঝতে পারেন

এই জগৎ খারাপ। তখন তিনি নিজের ড্যান্স একাডেমি বন্ধ করে দেড় বছর ধরে রিক্সা চালিয়ে সংসার খরচ চালাচ্ছেন বলে জবানবন্দীতে বলেছেন নির্মল সরকার।

পাচারের হোতা আজম খান জবানবন্দীতে বলেছেন, লালবাগের স্বপন, বংশালের আনোয়ার হোসেন ওরফে ময়না, আলামিন ওরফে ডায়মন্ড, চট্টগ্রামের মাহফুজ ও ময়মনসিংহের অনিক তাকে মেয়ে সংগ্রহের কাজে সাহায্য করে। তার দুই ভাই এরশাদ, আজমও বিভিন্ন মাধ্যমে মেয়ে সংগ্রহ করত। বাড্ডার সজীব ও ময়মনসিংহের অনিকেরও দুবাইয়ে ড্যান্স বার রয়েছে।

চিত্র নায়িকা অপু বিশ্বাস গণমাধ্যমে বলেছেন, চলচ্চিত্রে অনেকের সঙ্গে কাজ করলেও গৌতম নামে তার কোন ম্যানেজার নেই, কখনও ছিলও না। অবশ্য কোরিওগ্রাফার গৌতমসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনে গৌতম নামের বেশ

কয়েকজনকে চেনেন তিনি।

গৌতম সাহার সঙ্গে তার সেলফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, দুবাইয়ে জিম্মি অনেক তরুণী দেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব। শতাধিক তরুণীর দেশে ফেরার কাকুতি-মিনতির অডিও-ভিডিও রেকর্ডও সিআইডির হাতে এসেছে। আজম খানের মোবাইল ফোন থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বেশকিছু ভিকটিমের সঙ্গে ইতোমধ্যে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তাদের জবানবন্দী ও বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তারা অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তাদের মাধ্যমে আমরা জেনেছি, দুবাইয়ের স্থানীয় কিছু সদস্যও পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত- বলেন ওই কর্মকর্তা।

এ চক্রের হোতা আজম

খান ছাড়াও বেশ কয়েকজনের নাম আমরা জেনেছি। তদন্তের স্বার্থে এখন নামগুলো বলা যাচ্ছে না। তাদের অনেকের অবস্থানও আমরা নিশ্চিত করেছি। আন্তর্জাতিক এই নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে ভারতীয় ও পাকিস্তানী নাগরিকরাও রয়েছেন। তারা সবাই এখন দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। তাদের সম্পর্কে তথ্য বের করাটা বেশ কঠিন। দুবাইয়ে যে হোটেলগুলোতে বাংলাদেশীদের রাখা হয়, সেগুলোর পরিচালনায় রয়েছেন আজমের দুই ভাই এরশাদ ও নাজিমউদ্দিন। তারা সেখানেই অবস্থান করছেন। পাচারকারীদের গ্রেফতার এবং জিম্মি বাংলাদেশীদের উদ্ধারে আমরা পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তা নিচ্ছি। সেজন্য ডকুমেন্ট তৈরির কাজ চলছে বলে সিআইডি কর্মকর্তার দাবি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT