ঢাকা, Monday 20 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

টিকা শুরু আগামী মাসেই ॥ ২৫ জানুয়ারির মধ্যে আসছে প্রথম চালান

প্রকাশিত : 09:20 AM, 12 January 2021 Tuesday
50 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে সারাদেশে এক যোগে গণহারে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরুর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে ভ্যাকসিনের প্রথম চালান পাওয়া যাবে। সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচীর আওতায় অনলাইনে ২৬ তারিখ থেকে নিবন্ধন শুরু করা হবে। ভ্যাকসিন গ্রহীতা সব নাগরিক শুরুতে একটি টিকা কার্ড পাবেন। ভ্যাকসিনের দুই ডোজ গ্রহণ শেষ হলে একটি সনদ দেয়া হবে। শুরুতেই প্রতিমাসে ৫০ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী আদর পুনেওয়ালার একটি বক্তব্যকে ঘিরে বাংলাদেশের ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে সংশয়

শুরু হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এই বক্তব্য প্রচারের দিন থেকেই সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। এতে করে সেরামের পক্ষ থেকেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ সময় বলা হয়, ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন অনিশ্চয়তা নেই। আমরা নির্ধারিত সময়েই ভ্যাকসিন পাব।

অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঠপর্যায়ে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সেজন্য আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকেই অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হবে। সারাদেশে বিনামূল্যে

ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে সরকার।

কিভাবে নিবন্ধন এবং টিকা গ্রহণ শুরু ও শেষ হবে ॥ মোট ছয় ধাপে ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়টি শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচীর (ইপিআই) মাধ্যমে ভ্যাকসিনগুলো প্রয়োগ করা হবে। ধাপ-১-এ নির্দিষ্ট ওয়েব পোর্টালে যে কোন ব্যক্তি তার এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) নাম্বার দিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নিবন্ধন নেবেন। ধাপ-২-এ ওয়েবপোর্টাল থেকে ভ্যাকসিন কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। ধাপ-৩-এ নিবন্ধিত ব্যক্তির দেয়া মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে ভ্যাকসিন প্রদানের তারিখ এবং তথ্য প্রেরণ করা হবে। ধাপ-৪-এ প্রথম ডোজ নেয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময় জানিয়ে দেয়া হবে। প্রথম ডেজ গ্রহণের পর ধাপ-৫-এ দ্বিতীয় ডোজ প্রদানের

তারিখ এবং সময় জানানো হবে। দুটি ডোজ নেয়ার পর ওয়েব পোর্টাল থেকে ভ্যাকসিন সনদ গ্রহণ করতে হবে।

ভ্যাকসিন সনদ কেন গুরুত্বপূর্ণ ॥ এখন দেশের বাইরে ভ্রমণের ক্ষেত্রে করোনা পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পিসিআর ল্যাবে করা করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে যেতে হয়। অন্যদিকে ভবিষ্যতে যখন বেশিরভাগ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া শেষ হবে তখন ভ্যাকসিন সনদ প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে ভ্যাকসিন সনদকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। তবে ভ্যাকসিনটি কতদিন কার্যকর থাকবে সে বিষয়ে এখনও কারও কাছেই নিশ্চিত কোন তথ্য নেই। ভবিষ্যতে মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হলে অতীতের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।

এই সব তথ্যই পোর্টালে সংরক্ষিত থাকবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ সম্মেলন ॥ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি ডাঃ এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, বেক্সিমকো ফার্মা আমাদের জানিয়েছে, আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি মধ্যে এই ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আসবে। ভ্যাকসিন আসার পর দুই দিন বেক্সিমকোর ওয়্যারহাউজে থাকবে। সেখান থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের তালিকা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় ভ্যাকসিন পাঠিয়ে দেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের এমএনসিএ্যান্ডএএইচ অপারেশনাল প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডাঃ মোঃ শামসুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে টিকা পৌঁছবে ২৭ জানুয়ারি। টিকা পাওয়ার পর কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকদের টিকা দেয়া হবে। এক সপ্তাহ পর, মাঠপর্যায়ে টিকা

দেয়া শুরু হবে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।

প্রথম দিকে বলা হয়েছিল প্রথম ডোজ দেয়ার ২৮ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। তবে গত রবিবার টিকা দেয়ার নতুন নিয়ম জানিয়েছে অক্সফোর্ড এ্যাস্ট্রাজেনেকা। তাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে প্রথম ডোজ দেয়ার ২ মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। এতে দেশেও ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য আগে মাসে ২৫ লাখ লোককে দেয়া হবে জানানো হলেও এখন বলা হচ্ছে ৫০ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার নতুন তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ডোজ দেয়ার দুই মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে। সে কারণে প্রথম চালানে পাওয়া টিকা প্রথম

মাসেই একসঙ্গে ৫০ লাখ মানুষকে দেয়া হবে। তিনি বলেন, এর আগে আমাদের জানানো হয়েছিল, প্রথম ডোজ দেয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। সে হিসেবে প্রথমে ২৫ লাখ মানুষকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গতকাল (রবিবার) নতুন নিয়ম জানার পর আমরা পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছি। প্রথম যে ৫০ লাখ টিকা আসবে তা দিয়ে দেয়া হবে। দুই মাসের মধ্যে আরও টিকা চলে আসবে।

অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানা ও অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিমাসে ৫০ লাখ ভ্যাকসিন পাবে বাংলাদেশ ॥ ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে গত নবেম্বরে

যে চুক্তি হয়েছিল, তাতে প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। এরপর প্রতিমাসে ৫০ লাখ করে টিকা পাবে। মোট তিন কোটি টিকার জন্য বাংলাদেশ চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

আরও ভ্যাকসিন কবে ॥ বিশে^র ৯০ দেশকে বিনামূল্যে ২০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেবে কোভ্যাক্স। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ফাইজারের ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী কি না জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে কোভ্যাক্স। আগামী ১৮ জানুয়ারির মধ্যে মতামত জানাতে হবে। অর্থাৎ সেখান থেকেও শীঘ্রই ভ্যাকসিন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। কোভ্যাক্স ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ছয় কোটি ৮০ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দেবে। এর বাইরে অন্য কোম্পানিগুলোর কাছ থেকেও ভ্যাকসিন সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার। এজন্য

ভ্যাকসিন বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT