ঢাকা, Thursday 23 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

টিকা কেনাসহ স্বাস্থ্যে আরও ৫ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ

প্রকাশিত : 08:53 AM, 6 January 2021 Wednesday
110 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়াতে আরও ৫ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার, যেখানে টিকা আমদানি, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য থাকছে সোয়া চার হাজার কোটি টাকার বেশি। তাতে করোনা মোকাবেলাসহ টিকার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়াল ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কেনাসহ ছয় প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সভায় কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রস্তাব তোলা হলে মেয়াদ বাড়ানোর কারণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অনুমোদন না দিয়ে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার একনেক সভায় মোট ৬ প্রকল্প অনুমোদন

দেয়া হয় এবং কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের বিলম্বের কারণ খুঁজতে তদন্তের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে নয় হাজার ৫৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে তিন হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাঁচ হাজার ৭০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

পরিকল্পনামন্ত্রী

বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানের অনুমোদিত নীতিমালা সর্বসাধারণের বোধগম্যভাবে সারসংক্ষেপ আকারে প্রণয়ন এবং ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়ার একটি সহজবোধ্য ফ্লো-চার্ট তৈরি করতে হবে। প্রতিটা উপজেলায় ভ্যাকসিন দেয়ার বিষয়ে প্রচারের জন্য ব্যানার, মাইকিং ও প্রকাশনা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য একটি করে মোট দুটি মোবাইল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ভ্যানের সংস্থান রাখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দ্বৈততা পরিহারপূর্বক গঠিত ১০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এবং ১০ জেলায় মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে।

টিকার জন্য বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ বেড়ে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা হলো বলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গত এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জরুরী ভিত্তিতে ১ হাজার ১২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এই বৈঠকে টিকা আমদানিসহ অতিরিক্ত ৫ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে সংশোধন করা হলো। এই অতিরিক্ত অর্থায়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংক ৫০ কোটি ডলার এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ১০ কোটি ডলার দেবে। আর সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭২ কোটি টাকার যোগান দেবে বলে জানান মন্ত্রী।

এক প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী টিকা পাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি এবং বিশ্বাস করি, ভ্যাকসিন আমরা পাব।’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্বাস্থ্য সেবা সচিব মোঃ আব্দুল

মান্নানের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আমদানির জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, সেটি জিটুটি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) চুক্তি ছিল, না সেরাম ইনস্টিটিউট আর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ছিল। উত্তরে সচিব আবদুল মান্নান বলেন, ‘ভ্যাকসিন আনার প্রক্রিয়া যাই হোক না কেন, আমরা সময় মতো তা পাব।’

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্পের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী ১৩ কোটি ৭৬ লাখ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৩ কোটি ডোজ

টিকা আমদানি করা হচ্ছে। মহামারীর অগ্রাধিকার বিচারে স্বাস্থ্য কর্মী, শ্রমঘন এলাকা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গণমাধ্যম কর্মীসহ সবাইকে পর্যাক্রমে এই টিকার আওতায় আনা হবে।

সংশোধিত প্রকল্পের কার্যক্রম হিসেবে ১৭ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব স্থাপন, আইইডিসিআর এবং বিআইটিআইডিতে তিনটি ল্যাব স্থাপন, একটি মোবাইল মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব স্থাপন, ঢাকা এবং চট্টগ্রামের সংক্রামক হাসপাতালে পাঁচ শয্যার আইসিইউ ইউনিট স্থাপন, প্রতিটি জেলা সদরে ৫ শয্যার আইসিউ স্থাপন, প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ২০ শয্যার আইসোলেশন স্থাপন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি, চট্টগ্রাম স্থলবন্দরে একটি এবং মংলা স্থলবন্দরে একটি মেডিক্যাল স্ক্রিনিং সেন্টার স্থাপনসহ অন্যান্য

কাজ করা হবে।

এদিকে, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প নিয়ে সভায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০১২ সালে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেয়া হয়। ২৭৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়। কিন্তু সময় মতো শেষ করতে না পারায় এক বছর পর আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর ২০১৬ সালে প্রকল্পটি সংশোধন করে ৬১১ কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয় করার পাশাপাশি বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব একনেক অনুমোদন দেয়। কিন্তু তাতেও কাজ শেষ না হওয়ায় মঙ্গলবারের

বৈঠকে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়িয়ে ৬৮২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু একনেক তাতে সায় দেয়নি।

এ বিষয়টি জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ প্রকল্প ২০১২ সালে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তার কাজের গতিবিধি সন্তোষজনক নয়। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প ২০১৪ সালে শেষ হওয়ার কথা, কিন্তু শেষ না হওয়ায় প্রথমে দুই দফায় দুইবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। এরপর সংশোধন করে ২০১৯ সাল করা হয়। এখন দ্বিতীয় সংশোধন করে ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পের কাজের গতিতে

প্রধানমন্ত্রী অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের প্রকল্প আমরা গ্রহণ করব না।’ তিনি বিষয়টি আইএমইডিকে দিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আদ্যোপান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছেন। আমরা শীঘ্রই এটি তদন্ত করব।’ পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই প্রকল্পটি অনুমোদন হয়নি। বরং তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দুই বছরের প্রকল্পে আট বছরে মাত্র ৫০ শতাংশ কাজ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

সভায় ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের সময় অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরী যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহের লক্ষ্যে নেয়া প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের

অনুমোদন দিয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে দুই হাজার ২৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। প্রকল্পের সার সংক্ষেপে বলা হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরী যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) বাস্তবায়ন করবে। দুর্যোগকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরী সাড়া দেয়ার লক্ষ্যে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্য পেশাগত দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি একটি উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন ও সমন্বিত জরুরী সাড়া প্রদান পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের সম্পদহানি হ্রাস এবং জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করাই এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো- ‘জেলা পর্যায়ে

আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প’ এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরী যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্তুতায় উন্নীতকরণ প্রকল্প এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২ কোটি ৮২ লাখ টাকা। চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প। প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৪৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। কোভিড-১৯ ইমারজেন্সি রেসপন্স এ্যান্ড প্রিপারেডেন্স প্রকল্প। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে

৫ হাজার ৬৫৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

সভায় আরও যুক্ত ছিলেনÑ কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান সভার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT