টাকা ছাড়া সচল হয় না সিসিকের সার্ভার - বর্ণমালা টেলিভিশন

সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের বাসিন্দা সকিনা খাতুন। ছেলে-মেয়ের স্কুলে ভর্তির আবেদনে মা-বাবার জন্মসনদ প্রয়োজন। এজন্য স্বামী রায়হান খান ও নিজের জন্মসনদের জন্য আবেদন করেছিলেন সেপ্টেম্বরে।

নভেম্বরে সনদ পাওয়ার কথা। প্রতি সপ্তাহে দুই-তিন দিন এসে খোঁজ নেন, কিন্তু জন্মসনদ পাচ্ছেন না। একইভাবে মজুমদারপাড়ার পারুল বেগমকে সার্ভার কাজ করছে না বলে চার মাস ধরে ঘোরানো হচ্ছে।

অপরদিকে আম্বরখানার আহবাব হোসেন এসেই একজনকে ৭০০ টাকা দিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে তার আত্মীয়ের জন্মসনদ নিয়ে চলে গেছেন। মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস লেনদেন হয় এ

শাখায়। টাকা না দিলে সার্ভার কখনো সচল হয় না। টাকা দিলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেলে সেবা। তবে জন্ম নিবন্ধনের সার্ভারে সারা দেশেই রয়েছে ধীরগতি দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করার শর্তেও জটিলতা রয়েছে। রয়েছে সনদ প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা। পাসপোর্ট তৈরি, বিয়ে, জমি রেজিস্ট্রেশন, শিশুদের করোনার টিকা এবং স্কুলে ভর্তিসহ ১৭টি সেবার ক্ষেত্রে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এই সনদ পেতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখায় ইন্টারনেটের ধীরগতি ও সার্ভারে নানা জটিলতার কারণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা।

সম্প্রতি দেশে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হলে জন্ম নিবন্ধনের সনদ উত্তোলনের হার

বেড়ে যায়। কিন্তু এই সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অভিভাবকরা ঘাটে ঘাটে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকাও। আবার অনেকের জন্মসনদ সংশোধন করতে হচ্ছে। সেখানে ভোগান্তি আরও বেশি। জন্ম নিবন্ধন উত্তোলন ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দালালচক্র। সেবাদানকারীর দুর্ব্যবহার, তথ্য প্রদানে অনীহা এবং নাগরিকদের সচেতনতার অভাবে ‘জন্ম নিবন্ধন সনদ’ কার্যক্রম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুর্ভোগ লাঘবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায় নগর ভবনের তৃতীয় তলার জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখার ৩১৬নং কক্ষে জন্ম নিবন্ধন কম্পিউটার ল্যাবে গিয়ে। দরজা বন্ধ রেখে এই কক্ষে কাজ করেন চারজন কর্মকর্তা। বেলা আড়াইটায় পরিচয় গোপন রেখে কক্ষে প্রবেশ করে ‘জন্ম নিবন্ধন করতে

এসেছি’ বললে জানানো হয় সার্ভার নেই। পরে আসেন। কিন্তু প্রতিবেদক কক্ষেই দাঁড়িয়ে থাকেন। এর মধ্যেই একজন এসে একটি আবেদন ও কিছু টাকা দিলেন ওই কক্ষে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নাসিম উদ্দিনকে। নাসিম খুচরা টাকা দেওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে টাকাগুলো গুনে পকেটে রাখেন। এরপর তিনি ঘণ্টাদেড়েক সময়ের জন্য বের হয়ে যান সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নিবন্ধক ডা. জাহিদুল ইসলামের কক্ষে। নাসিমের পাশের চেয়ারে বসে কাজ করছেন তামান্না বেগম। একই শাখার কর্মকর্তা রাজ্জাক একজন মুরুব্বিকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তামান্নার হাতে ১০০ টাকার কয়েকটি নোট দিয়ে মুরুব্বির কাজটি দ্রুত করে দিতে বলেন। গোপনে নাসিম ও তামান্নার টাকা (ঘুস) গ্রহণের স্থিরচিত্র গ্রহণ

করেন এ প্রতিবেদক। ওই কক্ষেই অপর চেয়ারে বসে টাকা নিয়ে বিভিন্ন জনকে নিবন্ধন করিয়ে দিচ্ছেন স্বাস্থ্য শাখার আমির আলী। তাকেই ৭০০ টাকা দিয়ে একটি জন্ম নিবন্ধন করিয়েছেন আহবাব। এর আগেও আমির আলীকে নানা অভিযোগে জন্ম নিবন্ধন শাখা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চতুর আমির প্রতিবেদকের গতিবিধি বুঝতে পেরে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর এসে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি সাংবাদিক না? আমি আপনাকে চিনি। মাস্ক খুলেন। এরপর ‘পারলে কিছু কইরেন (করেন)’ বলে দাম্ভিকতা দেখিয়ে চলে যান। প্রতিবেদকও বেরিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর আবার এসে কাকুতি-মিনতি করেন আমির। নিজের ভুল স্বীকার করেন। তবে টাকা গ্রহণের (ঘুস) বিষয়টি অস্বীকার করেন।

কথাবার্তা শুনে এগিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। এর

মধ্যে নগরীর চৌকিদেখির মাফিয়া বেগম প্রতিবেদককে জানান, দুই বছর ধরে মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করার জন্য স্থানীয় কাউন্সিল অফিস ও সিসিকে দৌড়াদৌড়ি করছেন। টাকা না দেওয়ায় এলেই বলা হয় সার্ভার নষ্ট। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার পরে এসেও অনেকে টাকা দিয়ে সনদ নিয়ে যান। আমার জামাই রিকশা চালায়; দিন আনে দিন খাই। ঘুস দেওয়ার টাকা নাই, আর গরিব বলে কেউ গুরুত্বও দেয় না।’

নগরীর উপশহরের বাসিন্দা লন্ডনপ্রবাসী মিনারা বেগম। তিনি জানান, জন্মসনদ হারিয়ে গেছে। এখন জন্মসনদ প্রয়োজন। এখানে এসে কারও সঙ্গে কথাই বলতে পারছেন না। দক্ষিণ সুরমার মেনিখলার লিজা বেগম। আগে ঢাকায় থাকতেন, ১০ বছর ধরে সিলেটে আছেন। ছেলে-মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করার জন্য

দীর্ঘদিন ধরে আসা-যাওয়া করছেন। তিনি বলেন, ফর্মে ভুল ও ওয়ার্ড নম্বর না থাকার অজুহাতে প্রতিদিনই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মূলত টাকা দিতে না পারায় আমাকে সনদ দেওয়া হচ্ছে না।

জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখার জন্ম নিবন্ধন কম্পিউটার ল্যাবে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নাসিম জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত শূন্য থেকে ৪৫ দিনের শিশুদের ৭ হাজার ১১৫টি, ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের শিশুদের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৪৬টি ও ৫ বছর থেকে বাকি সব বয়সিদের ৫ লাখ ৪০ হাজার ৭২৭টি জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রদান করা হয়েছে। ওইদিন নতুন জন্মসনদের ৭৯টিসহ সর্বমোট ১ হাজার ১২টি, জন্মসনদ সংশোধনের ৩ হাজার ২১২টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৬৩টি

আবেদন। মৃত্যুসনদ ৯৬টি অপেক্ষমাণ। মৃত্যুসনদ সংশোধনের জন্য ৯টির মধ্যে একটি বাতিল হয়েছে।

বুধবার বিকালে নাসিমকে ফোন করে মঙ্গলবারের ঘুস গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে জোর করে টাকা নিই না। কেউ খুশি হয়ে দিয়ে গেলে তা নিই। টাকা না দিলে সার্ভার নেই বলে মানুষকে ফিরিয়ে দেন কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাউন্সিলরদের অফিস এবং জরুরি কিছু কাজ আসে তাদেরগুলো করে দিই। টাকার জন্য সার্ভার নেই বলি না।

একইভাবে তামান্না বেগম বলেন, রাজ্জাক ভাইসহ অফিসের বড় ভাইরা ওনাদের কাজ করে দিলে খুশি হয়ে যা দেন তা নিই। আমরা কোনো পাবলিকের কাছ থেকে জোর করে টাকা গ্রহণ করি না। তামান্নাকে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, মুরুব্বির জন্মসনদ সংশোধনীর জন্য টাকা দিয়েছি। টাকা তো ব্যাংকে জমা দিতে হয়, তামান্নার কাছে কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে রাজ্জাক বলেন, সংশোধনী করে পরের দিন তিনি ব্যাংকে ৫০ টাকা জমা দিয়ে দেবেন। তাহলে ১শ টাকার কয়েকটা নোট দিলেন কেন জানতে চাইলে বলেন, কত দিছি মনে নেই। ওই শাখায় কর্মরত অস্থায়ী এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে নাসিম, তামান্না, রাজ্জাক, আমির আলী, সুলতানাসহ কয়েকজনের একটি চক্র রয়েছে। তারা জাহিদ স্যারের (প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) নির্দেশ উপেক্ষা করে স্যারের অগোচরে এসব কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। ৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস নিচ্ছে। বিনিময়ে নিয়মনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সব কাজ করে দিচ্ছে। এই শাখার কার্যক্রম নিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করলে এদের সব অপকর্ম বেরিয়ে আসবে।

এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নিবন্ধক ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নাসিম ও তামান্না টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তামান্না বলছে, স্যার আমার কাছে বাইরের লোকজন আসার কোনো সুযোগ নেই। অফিসের যারা কাজ করায়, তারা খুশি হয়ে যা দেন তা নিই। একইভাবে নাসিমও বলছে, স্যার আমি কারও কাছ থেকে জোর করে বা চেয়ে টাকা গ্রহণ করি না। কেউ খুশি হয়ে দিলে গ্রহণ করি। ডা. জাহিদ বলেন, রোববার থেকে অভিযুক্ত সবাইকে সরিয়ে ফেলব এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সর্বোচ্চ দু-এক সপ্তাহের মধ্যে এই শাখায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে জানান তিনি।

সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের বাসিন্দা সকিনা খাতুন। ছেলে-মেয়ের স্কুলে ভর্তির আবেদনে মা-বাবার জন্মসনদ প্রয়োজন। এজন্য স্বামী রায়হান খান ও নিজের জন্মসনদের জন্য আবেদন করেছিলেন সেপ্টেম্বরে।

নভেম্বরে সনদ পাওয়ার কথা। প্রতি সপ্তাহে দুই-তিন দিন এসে খোঁজ নেন, কিন্তু জন্মসনদ পাচ্ছেন না। একইভাবে মজুমদারপাড়ার পারুল বেগমকে সার্ভার কাজ করছে না বলে চার মাস ধরে ঘোরানো হচ্ছে।

অপরদিকে আম্বরখানার আহবাব হোসেন এসেই একজনকে ৭০০ টাকা দিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে তার আত্মীয়ের জন্মসনদ নিয়ে চলে গেছেন। মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস লেনদেন হয় এ

শাখায়। টাকা না দিলে সার্ভার কখনো সচল হয় না। টাকা দিলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেলে সেবা। তবে জন্ম নিবন্ধনের সার্ভারে সারা দেশেই রয়েছে ধীরগতি দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করার শর্তেও জটিলতা রয়েছে। রয়েছে সনদ প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা। পাসপোর্ট তৈরি, বিয়ে, জমি রেজিস্ট্রেশন, শিশুদের করোনার টিকা এবং স্কুলে ভর্তিসহ ১৭টি সেবার ক্ষেত্রে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এই সনদ পেতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখায় ইন্টারনেটের ধীরগতি ও সার্ভারে নানা জটিলতার কারণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা।

সম্প্রতি দেশে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হলে জন্ম নিবন্ধনের সনদ উত্তোলনের হার

বেড়ে যায়। কিন্তু এই সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অভিভাবকরা ঘাটে ঘাটে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকাও। আবার অনেকের জন্মসনদ সংশোধন করতে হচ্ছে। সেখানে ভোগান্তি আরও বেশি। জন্ম নিবন্ধন উত্তোলন ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দালালচক্র। সেবাদানকারীর দুর্ব্যবহার, তথ্য প্রদানে অনীহা এবং নাগরিকদের সচেতনতার অভাবে ‘জন্ম নিবন্ধন সনদ’ কার্যক্রম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুর্ভোগ লাঘবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায় নগর ভবনের তৃতীয় তলার জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখার ৩১৬নং কক্ষে জন্ম নিবন্ধন কম্পিউটার ল্যাবে গিয়ে। দরজা বন্ধ রেখে এই কক্ষে কাজ করেন চারজন কর্মকর্তা। বেলা আড়াইটায় পরিচয় গোপন রেখে কক্ষে প্রবেশ করে ‘জন্ম নিবন্ধন করতে

এসেছি’ বললে জানানো হয় সার্ভার নেই। পরে আসেন। কিন্তু প্রতিবেদক কক্ষেই দাঁড়িয়ে থাকেন। এর মধ্যেই একজন এসে একটি আবেদন ও কিছু টাকা দিলেন ওই কক্ষে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নাসিম উদ্দিনকে। নাসিম খুচরা টাকা দেওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে টাকাগুলো গুনে পকেটে রাখেন। এরপর তিনি ঘণ্টাদেড়েক সময়ের জন্য বের হয়ে যান সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নিবন্ধক ডা. জাহিদুল ইসলামের কক্ষে। নাসিমের পাশের চেয়ারে বসে কাজ করছেন তামান্না বেগম। একই শাখার কর্মকর্তা রাজ্জাক একজন মুরুব্বিকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তামান্নার হাতে ১০০ টাকার কয়েকটি নোট দিয়ে মুরুব্বির কাজটি দ্রুত করে দিতে বলেন। গোপনে নাসিম ও তামান্নার টাকা (ঘুস) গ্রহণের স্থিরচিত্র গ্রহণ

করেন এ প্রতিবেদক। ওই কক্ষেই অপর চেয়ারে বসে টাকা নিয়ে বিভিন্ন জনকে নিবন্ধন করিয়ে দিচ্ছেন স্বাস্থ্য শাখার আমির আলী। তাকেই ৭০০ টাকা দিয়ে একটি জন্ম নিবন্ধন করিয়েছেন আহবাব। এর আগেও আমির আলীকে নানা অভিযোগে জন্ম নিবন্ধন শাখা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চতুর আমির প্রতিবেদকের গতিবিধি বুঝতে পেরে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর এসে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি সাংবাদিক না? আমি আপনাকে চিনি। মাস্ক খুলেন। এরপর ‘পারলে কিছু কইরেন (করেন)’ বলে দাম্ভিকতা দেখিয়ে চলে যান। প্রতিবেদকও বেরিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর আবার এসে কাকুতি-মিনতি করেন আমির। নিজের ভুল স্বীকার করেন। তবে টাকা গ্রহণের (ঘুস) বিষয়টি অস্বীকার করেন।

কথাবার্তা শুনে এগিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। এর

মধ্যে নগরীর চৌকিদেখির মাফিয়া বেগম প্রতিবেদককে জানান, দুই বছর ধরে মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করার জন্য স্থানীয় কাউন্সিল অফিস ও সিসিকে দৌড়াদৌড়ি করছেন। টাকা না দেওয়ায় এলেই বলা হয় সার্ভার নষ্ট। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার পরে এসেও অনেকে টাকা দিয়ে সনদ নিয়ে যান। আমার জামাই রিকশা চালায়; দিন আনে দিন খাই। ঘুস দেওয়ার টাকা নাই, আর গরিব বলে কেউ গুরুত্বও দেয় না।’

নগরীর উপশহরের বাসিন্দা লন্ডনপ্রবাসী মিনারা বেগম। তিনি জানান, জন্মসনদ হারিয়ে গেছে। এখন জন্মসনদ প্রয়োজন। এখানে এসে কারও সঙ্গে কথাই বলতে পারছেন না। দক্ষিণ সুরমার মেনিখলার লিজা বেগম। আগে ঢাকায় থাকতেন, ১০ বছর ধরে সিলেটে আছেন। ছেলে-মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করার জন্য

দীর্ঘদিন ধরে আসা-যাওয়া করছেন। তিনি বলেন, ফর্মে ভুল ও ওয়ার্ড নম্বর না থাকার অজুহাতে প্রতিদিনই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মূলত টাকা দিতে না পারায় আমাকে সনদ দেওয়া হচ্ছে না।

জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখার জন্ম নিবন্ধন কম্পিউটার ল্যাবে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নাসিম জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত শূন্য থেকে ৪৫ দিনের শিশুদের ৭ হাজার ১১৫টি, ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের শিশুদের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৪৬টি ও ৫ বছর থেকে বাকি সব বয়সিদের ৫ লাখ ৪০ হাজার ৭২৭টি জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রদান করা হয়েছে। ওইদিন নতুন জন্মসনদের ৭৯টিসহ সর্বমোট ১ হাজার ১২টি, জন্মসনদ সংশোধনের ৩ হাজার ২১২টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৬৩টি

আবেদন। মৃত্যুসনদ ৯৬টি অপেক্ষমাণ। মৃত্যুসনদ সংশোধনের জন্য ৯টির মধ্যে একটি বাতিল হয়েছে।

বুধবার বিকালে নাসিমকে ফোন করে মঙ্গলবারের ঘুস গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে জোর করে টাকা নিই না। কেউ খুশি হয়ে দিয়ে গেলে তা নিই। টাকা না দিলে সার্ভার নেই বলে মানুষকে ফিরিয়ে দেন কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাউন্সিলরদের অফিস এবং জরুরি কিছু কাজ আসে তাদেরগুলো করে দিই। টাকার জন্য সার্ভার নেই বলি না।

একইভাবে তামান্না বেগম বলেন, রাজ্জাক ভাইসহ অফিসের বড় ভাইরা ওনাদের কাজ করে দিলে খুশি হয়ে যা দেন তা নিই। আমরা কোনো পাবলিকের কাছ থেকে জোর করে টাকা গ্রহণ করি না। তামান্নাকে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, মুরুব্বির জন্মসনদ সংশোধনীর জন্য টাকা দিয়েছি। টাকা তো ব্যাংকে জমা দিতে হয়, তামান্নার কাছে কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে রাজ্জাক বলেন, সংশোধনী করে পরের দিন তিনি ব্যাংকে ৫০ টাকা জমা দিয়ে দেবেন। তাহলে ১শ টাকার কয়েকটা নোট দিলেন কেন জানতে চাইলে বলেন, কত দিছি মনে নেই। ওই শাখায় কর্মরত অস্থায়ী এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে নাসিম, তামান্না, রাজ্জাক, আমির আলী, সুলতানাসহ কয়েকজনের একটি চক্র রয়েছে। তারা জাহিদ স্যারের (প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) নির্দেশ উপেক্ষা করে স্যারের অগোচরে এসব কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। ৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস নিচ্ছে। বিনিময়ে নিয়মনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সব কাজ করে দিচ্ছে। এই শাখার কার্যক্রম নিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করলে এদের সব অপকর্ম বেরিয়ে আসবে।

এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নিবন্ধক ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নাসিম ও তামান্না টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তামান্না বলছে, স্যার আমার কাছে বাইরের লোকজন আসার কোনো সুযোগ নেই। অফিসের যারা কাজ করায়, তারা খুশি হয়ে যা দেন তা নিই। একইভাবে নাসিমও বলছে, স্যার আমি কারও কাছ থেকে জোর করে বা চেয়ে টাকা গ্রহণ করি না। কেউ খুশি হয়ে দিলে গ্রহণ করি। ডা. জাহিদ বলেন, রোববার থেকে অভিযুক্ত সবাইকে সরিয়ে ফেলব এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সর্বোচ্চ দু-এক সপ্তাহের মধ্যে এই শাখায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে জানান তিনি।

জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রদানে অনিয়ম-ভোগান্তি

টাকা ছাড়া সচল হয় না সিসিকের সার্ভার

টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তিন কর্মকর্তা * অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নিবন্ধক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:৪৯ 66 ভিউ
সিলেট নগরীর সুবিদবাজারের বাসিন্দা সকিনা খাতুন। ছেলে-মেয়ের স্কুলে ভর্তির আবেদনে মা-বাবার জন্মসনদ প্রয়োজন। এজন্য স্বামী রায়হান খান ও নিজের জন্মসনদের জন্য আবেদন করেছিলেন সেপ্টেম্বরে। নভেম্বরে সনদ পাওয়ার কথা। প্রতি সপ্তাহে দুই-তিন দিন এসে খোঁজ নেন, কিন্তু জন্মসনদ পাচ্ছেন না। একইভাবে মজুমদারপাড়ার পারুল বেগমকে সার্ভার কাজ করছে না বলে চার মাস ধরে ঘোরানো হচ্ছে। অপরদিকে আম্বরখানার আহবাব হোসেন এসেই একজনকে ৭০০ টাকা দিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে তার আত্মীয়ের জন্মসনদ নিয়ে চলে গেছেন। মঙ্গলবার বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। ৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস লেনদেন হয় এ

শাখায়। টাকা না দিলে সার্ভার কখনো সচল হয় না। টাকা দিলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেলে সেবা। তবে জন্ম নিবন্ধনের সার্ভারে সারা দেশেই রয়েছে ধীরগতি দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জন্ম নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করার শর্তেও জটিলতা রয়েছে। রয়েছে সনদ প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা। পাসপোর্ট তৈরি, বিয়ে, জমি রেজিস্ট্রেশন, শিশুদের করোনার টিকা এবং স্কুলে ভর্তিসহ ১৭টি সেবার ক্ষেত্রে জন্মসনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু এই সনদ পেতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখায় ইন্টারনেটের ধীরগতি ও সার্ভারে নানা জটিলতার কারণেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। সম্প্রতি দেশে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হলে জন্ম নিবন্ধনের সনদ উত্তোলনের হার

বেড়ে যায়। কিন্তু এই সনদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অভিভাবকরা ঘাটে ঘাটে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। দিতে হচ্ছে বাড়তি টাকাও। আবার অনেকের জন্মসনদ সংশোধন করতে হচ্ছে। সেখানে ভোগান্তি আরও বেশি। জন্ম নিবন্ধন উত্তোলন ও সংশোধনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে দালালচক্র। সেবাদানকারীর দুর্ব্যবহার, তথ্য প্রদানে অনীহা এবং নাগরিকদের সচেতনতার অভাবে ‘জন্ম নিবন্ধন সনদ’ কার্যক্রম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। দুর্ভোগ লাঘবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায় নগর ভবনের তৃতীয় তলার জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখার ৩১৬নং কক্ষে জন্ম নিবন্ধন কম্পিউটার ল্যাবে গিয়ে। দরজা বন্ধ রেখে এই কক্ষে কাজ করেন চারজন কর্মকর্তা। বেলা আড়াইটায় পরিচয় গোপন রেখে কক্ষে প্রবেশ করে ‘জন্ম নিবন্ধন করতে

এসেছি’ বললে জানানো হয় সার্ভার নেই। পরে আসেন। কিন্তু প্রতিবেদক কক্ষেই দাঁড়িয়ে থাকেন। এর মধ্যেই একজন এসে একটি আবেদন ও কিছু টাকা দিলেন ওই কক্ষে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নাসিম উদ্দিনকে। নাসিম খুচরা টাকা দেওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করে টাকাগুলো গুনে পকেটে রাখেন। এরপর তিনি ঘণ্টাদেড়েক সময়ের জন্য বের হয়ে যান সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নিবন্ধক ডা. জাহিদুল ইসলামের কক্ষে। নাসিমের পাশের চেয়ারে বসে কাজ করছেন তামান্না বেগম। একই শাখার কর্মকর্তা রাজ্জাক একজন মুরুব্বিকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। তামান্নার হাতে ১০০ টাকার কয়েকটি নোট দিয়ে মুরুব্বির কাজটি দ্রুত করে দিতে বলেন। গোপনে নাসিম ও তামান্নার টাকা (ঘুস) গ্রহণের স্থিরচিত্র গ্রহণ

করেন এ প্রতিবেদক। ওই কক্ষেই অপর চেয়ারে বসে টাকা নিয়ে বিভিন্ন জনকে নিবন্ধন করিয়ে দিচ্ছেন স্বাস্থ্য শাখার আমির আলী। তাকেই ৭০০ টাকা দিয়ে একটি জন্ম নিবন্ধন করিয়েছেন আহবাব। এর আগেও আমির আলীকে নানা অভিযোগে জন্ম নিবন্ধন শাখা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। চতুর আমির প্রতিবেদকের গতিবিধি বুঝতে পেরে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর এসে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি সাংবাদিক না? আমি আপনাকে চিনি। মাস্ক খুলেন। এরপর ‘পারলে কিছু কইরেন (করেন)’ বলে দাম্ভিকতা দেখিয়ে চলে যান। প্রতিবেদকও বেরিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর আবার এসে কাকুতি-মিনতি করেন আমির। নিজের ভুল স্বীকার করেন। তবে টাকা গ্রহণের (ঘুস) বিষয়টি অস্বীকার করেন। কথাবার্তা শুনে এগিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। এর

মধ্যে নগরীর চৌকিদেখির মাফিয়া বেগম প্রতিবেদককে জানান, দুই বছর ধরে মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করার জন্য স্থানীয় কাউন্সিল অফিস ও সিসিকে দৌড়াদৌড়ি করছেন। টাকা না দেওয়ায় এলেই বলা হয় সার্ভার নষ্ট। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার পরে এসেও অনেকে টাকা দিয়ে সনদ নিয়ে যান। আমার জামাই রিকশা চালায়; দিন আনে দিন খাই। ঘুস দেওয়ার টাকা নাই, আর গরিব বলে কেউ গুরুত্বও দেয় না।’ নগরীর উপশহরের বাসিন্দা লন্ডনপ্রবাসী মিনারা বেগম। তিনি জানান, জন্মসনদ হারিয়ে গেছে। এখন জন্মসনদ প্রয়োজন। এখানে এসে কারও সঙ্গে কথাই বলতে পারছেন না। দক্ষিণ সুরমার মেনিখলার লিজা বেগম। আগে ঢাকায় থাকতেন, ১০ বছর ধরে সিলেটে আছেন। ছেলে-মেয়ের জন্ম নিবন্ধন করার জন্য

দীর্ঘদিন ধরে আসা-যাওয়া করছেন। তিনি বলেন, ফর্মে ভুল ও ওয়ার্ড নম্বর না থাকার অজুহাতে প্রতিদিনই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মূলত টাকা দিতে না পারায় আমাকে সনদ দেওয়া হচ্ছে না। জন্ম-মৃত্যু সনদ বিতরণ শাখার জন্ম নিবন্ধন কম্পিউটার ল্যাবে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটর নাসিম জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত শূন্য থেকে ৪৫ দিনের শিশুদের ৭ হাজার ১১৫টি, ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের শিশুদের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৪৬টি ও ৫ বছর থেকে বাকি সব বয়সিদের ৫ লাখ ৪০ হাজার ৭২৭টি জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রদান করা হয়েছে। ওইদিন নতুন জন্মসনদের ৭৯টিসহ সর্বমোট ১ হাজার ১২টি, জন্মসনদ সংশোধনের ৩ হাজার ২১২টি আবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৬৩টি

আবেদন। মৃত্যুসনদ ৯৬টি অপেক্ষমাণ। মৃত্যুসনদ সংশোধনের জন্য ৯টির মধ্যে একটি বাতিল হয়েছে। বুধবার বিকালে নাসিমকে ফোন করে মঙ্গলবারের ঘুস গ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারও কাছ থেকে জোর করে টাকা নিই না। কেউ খুশি হয়ে দিয়ে গেলে তা নিই। টাকা না দিলে সার্ভার নেই বলে মানুষকে ফিরিয়ে দেন কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাউন্সিলরদের অফিস এবং জরুরি কিছু কাজ আসে তাদেরগুলো করে দিই। টাকার জন্য সার্ভার নেই বলি না। একইভাবে তামান্না বেগম বলেন, রাজ্জাক ভাইসহ অফিসের বড় ভাইরা ওনাদের কাজ করে দিলে খুশি হয়ে যা দেন তা নিই। আমরা কোনো পাবলিকের কাছ থেকে জোর করে টাকা গ্রহণ করি না। তামান্নাকে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে মো. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, মুরুব্বির জন্মসনদ সংশোধনীর জন্য টাকা দিয়েছি। টাকা তো ব্যাংকে জমা দিতে হয়, তামান্নার কাছে কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে রাজ্জাক বলেন, সংশোধনী করে পরের দিন তিনি ব্যাংকে ৫০ টাকা জমা দিয়ে দেবেন। তাহলে ১শ টাকার কয়েকটা নোট দিলেন কেন জানতে চাইলে বলেন, কত দিছি মনে নেই। ওই শাখায় কর্মরত অস্থায়ী এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে নাসিম, তামান্না, রাজ্জাক, আমির আলী, সুলতানাসহ কয়েকজনের একটি চক্র রয়েছে। তারা জাহিদ স্যারের (প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা) নির্দেশ উপেক্ষা করে স্যারের অগোচরে এসব কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। ৫০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস নিচ্ছে। বিনিময়ে নিয়মনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সব কাজ করে দিচ্ছে। এই শাখার কার্যক্রম নিয়ে সঠিকভাবে তদন্ত করলে এদের সব অপকর্ম বেরিয়ে আসবে। এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও নিবন্ধক ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নাসিম ও তামান্না টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তামান্না বলছে, স্যার আমার কাছে বাইরের লোকজন আসার কোনো সুযোগ নেই। অফিসের যারা কাজ করায়, তারা খুশি হয়ে যা দেন তা নিই। একইভাবে নাসিমও বলছে, স্যার আমি কারও কাছ থেকে জোর করে বা চেয়ে টাকা গ্রহণ করি না। কেউ খুশি হয়ে দিলে গ্রহণ করি। ডা. জাহিদ বলেন, রোববার থেকে অভিযুক্ত সবাইকে সরিয়ে ফেলব এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সর্বোচ্চ দু-এক সপ্তাহের মধ্যে এই শাখায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে জানান তিনি।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


































শীর্ষ সংবাদ:
নিয়োগে দুর্নীতি: জীবন বীমার এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা মিহির ঘোষসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে গাইবান্ধায় সিপিবির বিক্ষোভ গাইবান্ধায় সেনাবাহিনীর ভূয়া ক্যাপ্টেন গ্রেফতার জগন্নাথপুরে সড়ক নির্মানের অভিযোগ এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তারাকান্দায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ দেবহাটায় অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার আটক -১ রামগড়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাগমারায় ভেদুর মোড় হতে নরদাশ পর্যন্ত পাকা রাস্তার শুভ উদ্বোধন সরকারি বিধিনিষেধ না মানায় শার্শায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায় মধুখালীতে তিন মাসে ৪৩ টি গরু চুরি গাইবান্ধায় বঙ্গবন্ধু জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন গাইবান্ধায় শীতবস্ত্র বিতরণ রাজশাহীতে পুত্রের হাতে পিতা খুন বাগমারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার রামগড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শীতবস্ত্র বিতরণ করেন ইউএনও ভাঃ উম্মে হাবিবা মজুমদার জগন্নাথপুরে জুয়ার আসরে পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ এক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সিপিবি নেতা মিহির ঘোষসহ ৬ জন কারাগারে পিআইও’র মানহানির মামলায় গাইবান্ধার ৪ সাংবাদিকসহ ৫ জনের জামিন গাইবান্ধায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনালী ব্যাংক লি. গোমস্তাপুর শাখায় শীতবস্ত্র বিতরণ