ঢাকা, Monday 20 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

জেরুজালেম: মিষ্টি মিষ্টি কথায় থামার জিনিস ওরা না

প্রকাশিত : 09:25 PM, 22 May 2021 Saturday
90 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

যে ছাগলের বেড়া দেখভালের কথা সেই বেড়া খাচ্ছে। আর বানরের পিঠা ভাগের মতো ‘ডায়লগ ডায়লগ’ কপচাইতেছে। আসলে আপনি দুর্বল হলে অনাচার আর উপদেশেজ্ঞাই ভাগ্য। আজকর দুনিয়ায় মুসলমানরা নেতাহীন, দিশাহীন, নৈতিকতাহীন, অন্তহীন ঘুরছে। কিন্তু অনন্তকাল ধরে এ খেলা ও পেন্ডুলামের মতো ঘোরাঘুরির সুযোগ দেখি না। কেউ না কেউ ছাগলের মুখে গুমাই লাগাবে আর দুষ্টু বালক ইসরায়েলকে দেবে সজোরে কিক। সেটা হবে একদম কর্দমাক্ত আকাশ, মেঘযুক্ত মাঠ আর সজোর কিকে রেফারি মাঠের বাইরের মতো।

এক্ষত্রে আজারি-তুর্কি মডেল উদাহরণ হতে পারে। আজারবাইজানের দখলকৃত ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার নামে খেলছিল পশ্চিমারা। আর আজারিরা পেছন পেছন ঘুরছিল। এবার দেখেন

কিক খেয়ে আর্মেনিয়া পগাড় পাড়। আর ফ্রান্সের ম্যাক্রো ‘কেওমেও-কেওমেও’ করতেছে। দর্শক হিসেবে রাশিয়ার ভূমিকাও এখানে কম না।

মোটাদাগে তুরস্ক চেয়েছে আর্মেনিয়াকে একটা শিক্ষা দিতে আর রাশিয়া তার ঘরের সামনে ঘেউ ঘেউ করা আমেরিকা তথা পশ্চিমাদের সপাট থাপ্পর লাগাতে। সুতরাং মাইনাসে মাইনাসে প্লাস। ম্যাক্রো এখনো সে পরাজয় মেনে নিতে পারে নাই। তার জ্বলন দেখেন, জ্বলছে, ফুঁসছে, বিলাপ করছে। আফসোস, ম্যাক্রো ছাগলের হাতেই ছিল আজেরি-আর্মেনিয় সমস্যা সমাধানের ভার!

তাই বরাবরই আমার কাছে মনে হয়েছে, আলোচনায় গাজা তথা ফিলিস্তিনের মুক্তি নেই। মুক্তি হবে লড়াই-সংগ্রামেই। যুদ্ধ-ধ্বংস-যুদ্ধে। জানি অনেকেই অবাক হবেন বলে কি! অশান্তি ছড়ায়। কিন্তু পবিত্র বাইতুল

মোকাদ্দাসের অতীত ঘাটলে ‘জাস্ট আলোচনা’ বলে কিছু পাওয়া যায় না। এখনতো আরও সম্ভব না। যুদ্ধ মানে রক্তপাত আর যুদ্ধ মানে বিপন্ন জীবন জেনেও আমার মনে হয়-দখলদারেরা বুঝতে বাধ্য হলে সে হবে কেবলই অস্ত্রের ভাষা।

জেরুজালেম বা মাসজিদ উল আকসা জটিল ইস্যু। আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার মতো না সহজ, না আবেগহীন, না একক কোন কিছু। জেরুজালের খ্রিস্টানদেরও বুকে, তাদের ধর্মের জন্মভূমি এখানে। তারা এখন ইহুদিদের মুসলমানের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে মজা লুটছে। কখনো ইহুদিরা যদি জেরুজালেমের একক অধিকার দাবি করে এই খ্রিস্টানরাই আবার তাদের লঠিপেটা করে জেরুজালেম ছাড়া করবে। খ্রিস্টান ধর্মের উৎপত্তির পর থেকে তারাই কিন্তু ইহুদিদের মাইরের ওপরে রাখছে।

আর ইহুদিদের সব সময়ের আশ্রয়দাতা ছিল মুসলমানেরা। মুসলমানেরা উদারহস্তেই দুনিয়া শাসন করেছে।

যাইহোক, আমার চোখে সমস্যাটা আসলে মুসলমানদের। তারা গত ১০০ বছর যাবৎ রিঅ্যাকশন করছে বেশি কিন্তু একশনে নেই বা একশন যাওয়ার সামর্থ রাখে না। নিরীহ রিঅ্যাকশনে কারো কিছু যায় আসে না। বাইডেন কেন ন্যায় বিচার করছে না, পশ্চিমা মিডিয়া কেন মিথ্যা খবর প্রচার করছে, আরবরা কেন চুপ, ভারতীয়রা কেন ইসরায়েলকে সমর্থন করছে এইসব কান্দা কেন্দে কোনও লাভ নাই। দুই পয়সার দামও নাই। এভাবে ভিক্ষাবৃত্তি করে চার পয়সা পকেটে পুরানো যায় কিন্তু কাউকে কোনকিছু মানানো যায় না।

ভাইরে তোমার এক আলজাজিরা তৈয়ার করতে হইব। মার্ক

জুকারবার্গের কাছে কিছু চাওনের আগে নিজের চেহারাটা আয়নায় কয়েকবার দেখতে হবে। গাজা যুদ্ধ-২০২১ এর চিত্র বর্ণনার মোড় এক আলজাজিরাই ঘুরাই দিল। সঙ্গে ছিল তুর্কি সংস্থা আনাদুলো ও জাতীয় টিভি তেরেতে/টিআরটি। রিঅ্যাকশন না করে এভাবে একশন করত হবে। করলে দেখা যাবে একদিকে যেমন বিবিসি ন্যাংটা হইয়া যাইতেছে। অন্যদিকে বরিস জনসনের লুঙ্গি নিয়া টানাটানি শুরু হইয়া গেছে। বাইডেন আমতা আমতা করে বলতেছে-ফিলিস্তিনিদেরও আত্মরক্ষার অধিকার আছে। ইরানী মিডিয়াগুলোতো আরেকদাগ সরস, পাড়ার কথার আগে গাইল পাড়া সেই পুলার মতো। যা মন চায় তাই লেখে। এর একটা ফল দেখেন- বাংলাদেশের অনেক মিডিয়া একসময় হামাসের নামের আগে জঙ্গি লেখত, এখন লেখে

না। এমনকি কলকাতার বর্ণবিদ্বেষী আনন্দবাজারপত্রিকারও কনফিউশনে পইড়া যায় কী লিখবে!

যা করতে পারলে লাভ আছে তা হামাস কিছুটা হলেও করে দেখিয়েছে এই যুদ্ধে। বিমান হামলার জবাবে রকেট ছুড়েছে। সাধারণ ইসরায়েলিরা রকেটের ভয়ে মাটির নিচে বাঙ্কারে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এতে আর কিছু না হোক ইসরায়েলিদেরও যে জীবনের ভয় আছে তাতো প্রমাণ হইছে। হামাসের সম্বল শুধু গুলতি আর পাথর হলে ইসরায়েল হয়তো আরও বছর দশেক আগেই পুরো গাজা দখল করে ফেলত। একবার ভাবেন, হামাস যদি বিমান হামলার জবাবে তেল আবিবে স্থল অভিযান চালানোর ঘোষণা দিত পারত! তাহলে কি ঘটত! আজারবাইজানে যা ঘটছে তাই।

আসলে হামাস এখানে একটা প্রতিক।

আইয়ূবীর মতো কেউ কেউ না কেউ ঠিকই সেই দিনকার নেতানিয়াহুর ডান গালে বাম হাতে চড় লাগাবে। এই চড় লাগানোর শক্তি যতদিন মুসলিমরা অর্জন করতে না পারবে ততদিন তাদের ভূমি বেদখল হতে থাকবে, তারা মাইরের উপরে থাকবে। ‘গরিবের বউ সবার ভাবী’র মতো আদর সোহাগও কুড়াবে।

যা বুঝি, মিষ্টি মিষ্টি কথায় থামার জিনিস ওরা না। দুনিয়া শক্তের ভক্ত নরমের জম। আজ মুসিলমরা দুর্বল বলে কতজন কতভাবে দয়া দেখায়। মুসলিমরা শক্ত হলে ভক্তি দেখাতো। দাদা দামোদর মোদী সমাবেশ করে বলত-মুসলিম মেরা ভাই হে। হাম প্যালেস্তাইন কে সাত হে (আমি হিন্দি ভাষাটা জানি না। ভুলটা মাফ করবেন।) আজ দুর্বল

বলে বাউড়ালও মুখ ভ্যাংচায়…

ইসরায়েল হয়তো আসছে দিনে পুরো ফিলিস্তিন দখল করে নেবে। এই অঞ্চলের আরবদের বড় অংশই হয়তো চূড়ান্ত গৃহহীন হবে। এরপর গল্প শেষ? আমিতো দেখি শুরু। দেখি, কেউ একজন বলছে-খেলা হবে। আজকে মুসলমানরা সারা পৃথিবীতে মাইর খাচ্ছে বলে ইমাম মাহদীর অপেক্ষায় আছে। ঈসা এসে তাদের উদ্ধার করবে বলে নিজেকে নিজে সান্তনা দেয়।

একটু ফিরে তাকান মঙ্গোলদের দিকে। পৃথিবীর ইতিহাসে এক অজেয় যোদ্ধা বাহিনী, সর্ববৃহৎ স্থল সাম্রাজ্যের অধিকারী। যারা এক নিমিষে ছাই করে দিয়েছিল শত বছরে গড়ে উঠা বাগদাদের মুসলিম সভ্যতাকে। সেদিনও মুসলমানদের অনেকে বলেছিল আমাদের পক্ষে মঙ্গোলদের মোকাবেলা করা সম্ভব না। ইমাম মাহদী

আসছে। আমরা তার অপেক্ষায় আছি। ইমাম মাহদীর দরকার হয়নি। সেই মঙ্গোল আগ্রাসনকে রুখে দিয়েছিল যাযাবর তুর্কিরা! এরপর তারা পৃথিবী শাসন করেছে কয়েকশত বছর। এখনো মাহদী আসেনি, তবে মাহদী আসার অপেক্ষার প্রহর গুণছে মুসলিমদের বিশাল একটি অংশ। আশ্চর্য্য…

আমি এভাবে দেখি না। শেষ যামানা/কেয়ামত কবে তা নিয়েও ভাবি না। আমি ভাবি, একটা দিন গত হতে হতে নিজেকে কতটা আপডেট করতে পারছি, নিজে কতটা যোগ্য হইতেছি তা নিয়া। এবং বিশ্বাস করি কোনও এক জাজাবর হঠাৎ একদিন আমেরিকার কলার ধইরা কইব আমাদের ভূমিতে তোদের মাতব্বরি করতে কে কইছে! বিনা নোটিশে গাট্টি বোস্কা বাইন্দা রাইতের মধ্যে এই এলাকা

ছাড়বি ব্যাডা, নইলে এখান থেকে ধইরা নিয়া আটলান্টিকে চুবামু। সেদিন আবার আল আকসা মুক্তির হাসি হাসবে। ইহুদিরা খোলা চিঠি লেখবে-সারা দুনিয়া থেকে আমরা বিতাড়িত। বড় আশা করে আপনাদের ভূমির দিকে আসছি। দয়াকরে মাথাগুঁজার আশ্রয়টুকু দেন। এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে জেরুজালেম শহরে বসবাস বা প্রার্থণা করার অনুমতি পাবে… আর একদল নতুন ষড়যন্ত্র দাগাবে….
এভাবে চলতেই থাকবে…

(লেখায় মিশ্র ভাষাভঙ্গী অনুসরণ করা হয়েছে।)
লেখক: সরোজ মেহদী
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও মিডিয়া বিশ্লেষক

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT