ঢাকা, Thursday 23 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

জবই বিলে পরিযায়ী পাখি- প্রয়োজন অভয়াশ্রম

প্রকাশিত : 09:12 AM, 12 January 2021 Tuesday
61 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

শীতের শুরুতে নওগাঁর সীমান্তঘেঁষা সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে পরিযায়ী পাখিদের আগমন ও বিচরণ শুরু হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিলে মৎস্য শিকারীদের অবাধ বিচরণ ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা দিয়ে মৎস্য আহরণের ফলে পাখিগুলো আবারও হারিয়ে যেতে বসেছে।

এদিকে, নাটোরের বিলেও এসে ভিড় জমিয়েছে অজস্র পরিযায়ী পাখি। বিল পাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন মুরব্বি ও অভিজ্ঞজনদের মতে, উত্তরে ভারত বর্ষের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা, দক্ষিণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদী ও পুনর্ভবা নদী এবং পূর্ব ও পশ্চিমে সাপাহার উপজেলাকে দু’ভাগে বিভক্ত করে বয়ে যাওয়া দিগন্ত ছোঁয়া এই বিলে অতীতে প্রতি শীত মৌসুমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশসহ সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজারো অতিথি পাখির আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকত

পুরো বিল এলাকা। জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরা এ বিলে সে সময় পাখি শিকারে তেমন কোন বাধ্যবাধকতা না থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এমনকি রাজধানী ঢাকা শহর থেকে সাহেবরা এসে পাখি শিকার করত এই বিলে। সে সময় সারা বিলজুড়ে ছিল অসংখ্য কচুরিপানা বিলের অধিকাংশ এলাকায় পানির দেখা মিলত না। সারা বছরে খরা মৌসুমে একবার বিলে মাছ ধরা হতো। সে সময় ২০ কেজি, ৩০ কেজি এমনকি এক দেড় মণ ওজনের শোল, বোয়াল, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ত জেলেদের জালে। দেশ স্বাধীনের পর মধ্যবর্তী সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে জাল যার জলা তার নীতি ঘোষণা করায় এলাকার

কিছুসংখ্যক অসাধু স্বার্থন্বেষী মানুষ বিলটিকে আবাদি জমিতে পরিণত করার উপায় অবলম্বন করে বিল থেকে সমস্ত কচুরিপানা অপসারণ করে ফেলে বিলটিকে মৎস্য শূন্য ও আবাদি জমিতে পরিণত করে। এরপর থেকে বিলে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য মাছ ধরা পড়ত না জেলেদের জালে এবং প্রতিবছর শীতকালে পরিযায়ী বা অতিথি পাখিরাও আসা বন্ধ করে ওই বিলে। এলাকার অভিজ্ঞ মহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা জানান, ১৯৯৬ সালের দিকে তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এক সরকারী সফরে সাপাহারে এলে পুরো বিলটিকে একটি মৎস্য প্রকল্পের অধীনে এনে এলাকার প্রকৃত মৎস্যজীবীদের ভাগ্য উন্নয়নে একটি বৃহৎ প্রকল্পের ঘোষণা দেন। সেই থেকে বিল পাড়ের প্রকৃত

মৎস্যজীবীদের নিয়ে একটি সমিতি তৈরি করে তার সকল সদস্যরা বিলটি দেখাশোনা করে সেখান থেকে মৎস্য আহরণ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। দেশে মৎস্য ও কৃষির আধুনিকায়নের ফলে মাঝের কয়েক বছর ধরে বিলটি প্রায় মৎস্য ও পাখি শূন্য হয়ে পড়ে। গত ২০০৮ সালের দিকে ওই বিল এলাকার উজ্জীবিত যুবক সোহানুর রহমান সবুজ এলাকার কিছু উজ্জীবিত যুবকদের নিয়ে জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজকল্যাণ সংস্থা নামে একটি সংগঠন তৈরি করে। পরবর্তীতে তারা তৎকালীন এমপি ও বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি, উপজেলা প্রশাসন ও বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর সহায়তায় জেলে ও স্থানীয়দের নিয়ে

বিভিন্ন সভা, সেমিনার, প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিলের অতিথি পাখিদের আগমন ঘটা ও তাদের আশ্রয়ের জন্য বিলের বিভিন্ন অংশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য সরকারের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি ইতোমধ্যে ঐতিহ্যবাহী এই জবই বিলকে ঘিরে বিল এলাকায় একটি অত্যাধুনিক ইকোপার্ক গঠনের ঘোষণা দেন। যাতে পর্যাটকরা বিলে এসে একটু স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ও পাখ-পাখালিদের সমন্বয়ে ভরা বিলের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন। জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি সোহানুর রহমান সবুজ বলেন, প্রতিবছর এ বিলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক পর্যটক আসেন। শীতে

বিলের জীববৈচিত্র্যের প্রতি খেয়াল না করে তারা ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে সারা বিল ঘুরে বেড়ায়। এতে বিলে অবস্থানরত পাখির স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হয়। তাছাড়া বিলে এখনও পাখি শিকারীদেরও অপচেষ্টা রয়েছে। জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজকল্যাণ সংস্থার এক জরিপ মতে, গত ২০১৯ সালে এ বিলে পাতিসরালী ৩ হাজার, লাল ঝুঁটি ভুতি হাঁস ৫০টি, গিরিয়া হাঁস ২৫টি, পাতি-তিলি হাঁস ১২টি, টিকি হাঁস ৫০টি, পিয়াং হাঁস ৪শ’টি, কালা পাখ-ঠেঙ্গি ৫২টি, গেওয়ালা বাটান ৫০টি, চা-পাখি ২শ’ ৮০টি, প্রশান্ত সোনা গিরিয়া ২শ’টি, পাতি ভুতি হাঁস ২শ’ ৫০টি, বেগুনি বক ৪টি, কানি বক ১শ’টি, বাজলা বক ১শ’ ২০টি, গো-বক ১শ’টি, শামুকখোল

৪শ’টি, পানকৌড়ি ৫শ’টিসহ মোট ৫ হাজার ৫শ’ ৯৩টি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ছিল। সংস্থার সভাপতিসহ এলাকার অভিজ্ঞজনদের মতে, মৎস্য শিকারীদের অবাধ বিচরণ বন্ধ করে ভবিষ্যতে বিলে দেশী ও পরিযায়ী পাখির অবাধ বিচরণ ধরে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বিলের কোন এক অংশে একটি ঈড়সসঁহরঃু পড়হংবৎাধঃরড়হ তড়হব বা বিশেষ পাখির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত অঞ্চল গড়ে তুলতে পারলে দেশের বৃহত্তম ও অন্যতম জীববৈচিত্র্যে ভরপুরসহ পর্যটন সমৃদ্ধ বিল হিসেবে পরিচিতি পাবে ঐতিহ্যবাহী জবই বিল।

এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলার নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরী একই মতপ্রকাশ করে বলেন, মৎস্য শিকারীদের কারণে একটু হলেও পাখিদের ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে অচিরেই মৎস্যজীবীদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে একটি

সমাধান করা হবে। এছাড়া বিলটিকে পর্যাটক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের খাদ্যমন্ত্রীও নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তারই সহযোগিতায় ইতোমধ্যে বিলে অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

নাটোরের বিলে ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বড়ভিটা বিল ও মল্লিকহাটি বিলে পরিযায়ী পাখি এসেছে। পাখির কিচিরমিচির, মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ে চলা, খাবারের সন্ধানে যেখানে-সেখানে অবাধ বিচরণ দেখতে সবারই ভাল লাগে। এমনই ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পরিযায়ী পাখির দেখা মিলছে নাটোর শহরতলি এবং শহরের বড় হরিশপুর ইউনিয়নের বড়ভিটা বিলে। বড়ভিটা বিল এখন হয়ে উঠেছে লাখো পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল। এর বিপরীত দিকে মল্লিকহাটি বিলেরও ঠিক একই চিত্র। বিলের দেশী ছোট

ছোট মাছই মূলত পরিযায়ী পাখির প্রধান খাদ্য। বিশ্বের শীত প্রধান নানা দেশ থেকে পাখি এসেছে বড়ভিটা বিলে। এ বিলটিকে গত বছর পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। নাটোরে কোন হাওড়-বাঁওড় না থাকলেও আছে কয়েকটি বড় বিল। হালতি পাখির নামানুসারে নামকরণ করা হালতির বিল ছাড়াও রয়েছে চলনবিল, চিনিডাঙ্গার বিল আর ভাত ঝারার বিলের মতো অনেক বড় বড় বিল। নাটোরের এসব বিলে অতিথি পাখিদের জন্য আবহাওয়া অনুকূল আর পর্যাপ্ত খাবার থাকায় প্রতিবছর লাখো অতিথি পাখির দেখা মিলছে। শীতকালে সোলি, বদর, লালমোন, শামুকখোল, বক, বালিহাঁস, কাইয়ুম ও বাগাড়িসহ নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির ডাকে ওইসব বিলের সর্বত্রই মুখরিত থাকে।

বিলের দেশী ছোট ছোট মাছই মূলত এসব পাখির প্রধান খাদ্য। নাটোরের দুই বিলে প্রতিবছর লাখো অতিথি পাখির দেখা মিলছে। বর্তমানে বড়ভিটা ও মলিকহাটি বিলের পরিযায়ী পাখির সংখ্যা কয়েক লাখ হবে বলে স্থানীয় পাখিপ্রেমীদের ধারণা। বিলটি শহরের একদম কাছে হওয়ায় সেখানে প্রতিদিনই সকাল-বিকেল দর্শনার্থীরা যাচ্ছেন পরিযায়ী পাখির কলতান, নীলাকাশে ডানা মেলে উড়ে চলার মতো মোহময় দৃশ্য উপভোগ করতে। আর অনেকেই ক্যামেরাবন্দী করছেন সেই মুহূর্ত।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT