ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

জন্মশতবার্ষিকীর বড় উপহার গিনেস বুকে অন্তর্ভুক্তি

প্রকাশিত : 08:36 AM, 18 March 2021 Thursday
63 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

শেষ পর্যন্ত পাখির চোখে দেখা ইতিহাসের পটভূমি বিশে^র ইতিহাসে নাম লেখাতে সক্ষম হলো। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বালেন্দা গ্রাম। ওই গ্রামের ১২০ বিঘা জমির মধ্যে ১০৫ বিঘা জমির ক্যানভাসে বীজ চারা বুনে অঙ্কিত হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পোর্ট্রটে। যা বিশে^র ইতিহাসে বিরল। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড এই ইতিহাসের স্বীকৃতি এমন মাহেন্দ্রক্ষণে দিল যখন জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে দেশজুড়ে। বগুড়ার এই ভূমি যেন একটি বাংলাদেশ। বিশে^র মানুষ তাকিয়ে রয় কৃতজ্ঞ জাতি কিভাবে বঙ্গবন্ধুকে মাটি থেকে হিমালয় চূড়ায় পৌঁছে দিল।

কিভাবে এই ছবি রচিত হলো বগুড়ার মাটিতে। বগুড়ার কৃষিমন্ত্রীর

এক অনুষ্ঠানে সে কথা লিখিতভাবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিস রাইটার (সচিব মর্যাদার) মোঃ নজরুল ইসলাম। বলেছেনÑ গত বছর ডিসেম্বর মাসের ৮ তারিখে এ্যাগ্রিকেয়ার নামের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান দুজন টিভি সাংবাদিককে নিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। তাদের একজন টিভি সাংবাদিক ফয়জুল সিদ্দিকী। ক্রপ ফিল্ড মোজাইকে (ফসলের মাঠে বিশাল প্রতিকৃতি) জাতির পিতার বিশাল পোর্ট্রেট অঙ্কনের প্রস্তাব দিয়ে সহযোগিতা চান। তারপর নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এত বড় কর্মযজ্ঞ কিভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এ নিয়ে ভাবনায় পড়েন তারা। এর পর শুরু হয় জমি দেখার পালা। ঢাকার আশপাশে মির্জাপুর ও টাঙ্গাইলে জমি দেখা হয়। শেষ

পর্যন্ত উর্বর জমি মিলে বগুড়ার শেরপুরের বালেন্দা গ্রামে।

জমি তো মিলল। এতবড় কাজ কিভাবে করা সম্ভব। কাজে সম্পৃক্ত করা হয় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ১৮৪ সদস্যকে। এর নেতৃত্ব দেন গোর্কি নামের এক তরুণ ক্যাডেট। এর সঙ্গে যুক্ত হন ১২ কৃষি প্রকৌশলী। তাদের নক্সা অনুযায়ী আড়াই ফুট দৈর্ঘের ১ হাজার ২শ’ খুঁটি স্থাপন করে লে আউটের কাজ শুরু হয়। মাঠের মধ্যে কাজগুলো এত সূক্ষè- নিখুঁতভাবে করতে হয় যে ভূমির ওপর সাদা ডটের একটু হেরফের হলেই ভুল হয়ে যাবে। এসব কাজ প্রতিনিয়ত পর্যক্ষেণের জন্য কমিটি গঠিত হয়। যার মধ্যে অন্যতম আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আ

ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম। তার নেতৃত্বে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নামে ৫১ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। এর মধ্যে আরও একজন অন্যতম হিসেবে থাকেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি বগুড়ার ম. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ও তার একটি টিম সর্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করেন বগুড়ার শেরপুরের বালেন্দা গ্রামে। শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। কর্মসূচীর প্রধান সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন কৃষিবিদ ও টিভি সাংবাদিক ফয়জুল সিদ্দিকী। তারা প্রত্যেকেই এই মাঠে এসেছেন। সর্বশেষ ১৪ মার্চ আসেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। আগের দিন আসেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম।

এই কর্মযজ্ঞের পালা শুরু

হওয়ার পর ভবানীপুর ইউনিয়নের প্রায় ৮শ’ জনগোষ্ঠীর ৩৭ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট একটি গ্রাম বালেন্দা ধীরে ধীরে বিশে^র মানুষের দৃষ্টি কাড়তে থাকে। শস্যচিত্রটি যে মাঠে অঙ্কিত হবে তা বালেন্দা ও আম্বইল মৌজার কড়িতলা পাথার। এই পাথারে এত বড় কাজ হবে তা কেউ ভাবতেও পারেনি। এ বছর ২৯ জানুয়ারি এই মাঠের ১২০ বিঘা (৪০ একর) ভূমিকে শস্যচিত্রের ক্যানভাস বানানো হয়। তারপর ভেতরে বেছে নেয়া হয় ১০৫ বিঘা জমি। যে ক্যানভাসে অঙ্কিত হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু।

শস্যচিত্রের মাঠে ৬০ শতাংশ বেগুনি ধান। ৪০ শতাংশ সবুজ ধান। ১২০ বিঘা জমির মধ্যে বেগুনি ও সবুজ চারায় প্রতিকৃতি রয়েছে ১০৫ বিঘা জমির মধ্যে।

বাকি ১৫ বিঘায় বঙ্গবন্ধুর নাম অঙ্কিত হয়েছে। বেগুনি চারা বীজ আমদানি করা হয় চীনের চংচিং জং সীড কোম্পানি থেকে। সবুজ বীজ ও চারা ন্যাশনাল এ্যাগ্রিকেয়ারের হাইব্রিড ভ্যারাইটি। যার নাম জনকরাজ। দুই রং মিলেই অঙ্কিত হয় বঙ্গবন্ধু।

বিশে^ এ ধরনের শস্যচিত্র বিরল। বাংলাদেশের শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর আয়তন ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট। দৈর্ঘ ৪০০ মিটার। প্রস্থ ৩০০ মিটার। বিশে^র কোন দেশে এত বড় আয়তনের শস্যচিত্র নেই। শুধু চীনে ছিল যার আয়তন ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৭৮৬ বর্গফুট। চীনে এটি তৈরি হয় ২০১৯ সালে। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর শস্যচিত্র বিশে^ সবচেয়ে বড়। এই শস্যচিত্র গিনেস বুকে অন্তর্ভুক্তির পালা শুরু হয়। গত

৯ মার্চ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডের প্রতিনিধি শেরে বাংলানগর কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড.কামাল উদ্দিন আহাম্মদ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এমদাদুল হক চৌধুরী শস্যচিত্রের ‘উইটনেস’ হিসেবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেন। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে অন্তর্ভুক্তির জন্য যে বিষয়গুলো দরকার তার সবই বগুড়ার এই ফসলের মাঠে পাওয়া যায়। শস্যচিত্রের ভিডিও ও দালিলিক সকল বিষয় গিনেস কর্তৃপক্ষকের কাছে জমা দেয়া হয়। তারা আশা করেছিলেন, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীতে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে বঙ্গবন্ধুর এই ক্রপ ফিল্ড মোজাইক ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। তাদের কথাই বাস্তবায়িত হলো।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT