ঢাকা, Monday 27 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ছোট পরিসরে বড়দিন, সবার উৎসব

প্রকাশিত : 09:02 AM, 26 December 2020 Saturday
56 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

করোনাকালে আরও একটি উৎসব। এবার হ্যাপি ক্রিসমাস। বাংলায় বললে, বড়দিন। বড় বটে। উদ্যাপিত হলো ছোট পরিসরে। তাতে কী? হাসিরাশি আনন্দ চোখে পড়েছে ঠিকই।

ক্রিসমাস, হ্যাঁ, খ্রিস্টধর্মের অনুসারীদের প্রধান উৎসব। তবে বারাবরের মতোই সব ধর্মের মানুষ মিলে মিশে উদ্যাপন করেছে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে শুরু হয় উদ্যাপন। দিনভর চলে। ঘরে যেমন, তেমনি বাইরে। বিশেষ করে ঢাকার পাঁচতারকা হোটেলগুলোতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ক্রিসমাস উদ্যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভিন্ন বয়সী মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা হাসি আনন্দের এ উপলক্ষ একরকম লুফে নেয়।

প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ের পক্ষ থেকে এবারও বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করা হয়। আলোকসজ্জা করা হয় লবিসহ বিভিন্ন অংশে। ছিল ক্রিসমাস ট্রি,

গুডিজ হাউস। বড়দিনের আকর্ষণীয় ডিসপ্লে। টেরাকোটা কর্নারে বলগা হরিণসহ সান্তাক্লজকে উপস্থাপন করা হয়। ডিসপ্লের সামনে দাঁড়িয়ে অনেকেই ছবি তুলেন। পেটমোটা লাল জামা আর লেজওয়ালা টুপি পরে সকাল থেকেই ঘুরে বেড়ান সান্তাক্লজ। শিশুদের মধ্যে চকোলেট ও অন্যান্য উপহার বিতরণ করে চলেন। তবে মূল আয়োজনটি ছিল হোটেলের পুলসাইডে। খোলা প্রাঙ্গণটি এদিন চমৎকার সাজিয়ে নেয়া হয়। এখানে আয়োজন করা হয় কিডস কার্নিভ্যালের। ফান রাইডস, মিনি ট্রেন, নাগরদোলা, ম্যাজিক, পাপেট শোসহ নানা আয়োজনে দারুণ মেতে ছিল ছেলে মেয়েরা। উৎসব মঞ্চে উঠে নাচ গানও করতে দেখা যায় তাদের। মোটামুটি স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলে উদ্যাপন।

সকালে স্বামী সন্তানসহ হোটেল সোনারগাঁওয়ে বড়দিন উদ্যাপন করতে

এসেছিলেন তেজকুনীপাড়ার সেলেনা গোমেজ। বললেন, আমার বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ। নিজেও বেশিরভাগ সময় ঘরে বসে কাটাই। মাঝেমধ্যে, কী বলব, হাঁপিয়ে উঠি। তাই ক্রিসমাসের দিন একটু বের হলাম। আমাদের তো এটাই সবচেয়ে বড় উৎসব। মিস করতে মন চাইল না। একদিনের জন্য ভাইরাসের কথা ভুলে যতটুকু সম্ভব উদ্যাপন করতে এসেছি। বাচ্চারা এখানে এসে ভীষণ খুশি হয়েছে বলে জানান তিনি।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের লবি ও রেস্তরাঁ নতুন করে সাজিয়ে নেয়া হয়েছিল। এখানে তেমন কোন ইভেন্ট না থাকলেও বড়দিনের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এলিমেন্টেস অল ডে ডাইনিংয়ের স্পেশাল মেন্যু ক্রিসমাসের আনন্দ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। গুলশানের নতুন হোটেল রেনেসাতেও ছিল বড়দিনের আয়োজন।

জিনজার ব্রেড হাউসসহ দারণ সব খাবারের আয়োজন করা হয় এখানে। রাতে ছিল বুফে। হোটেলের লবিতে ২৪ ঘণ্টা খোলা ছিল গুলশান বেকিং কোম্পানি। ক্রিসমাস উপলক্ষে এখান থেকে ক্রিসমাস গুডিজ সংগ্রহ করেন অনেকে। মেরিডিয়ান হোটেলেও ছিল বিশেষ বুফে লাঞ্চ ও ডিনারের ব্যবস্থা। রেডিসন ব্লু, ওয়েস্টিন, ঢাকা রিজেন্সিও সীমিত পরিসরে বড়দিন উদ্যাপন করে।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ক্রিসমাস উদ্যাপন করতে এসেছিলেন আবুল হোসেন চৌধুরী ও রাজিয়া হোসেন। স্বামী স্ত্রী দুজনই সরকারী কর্মকর্তা। বেড়ানোর খুব একটা সুযোগ হয় না। তাই বড়দিনে বের হয়েছিলেন। আবুল হোসেন চৌধুরীর বলছিলেন, আমরা দুজনই লম্বা সময় বিদেশে কাটিয়ে এসেছি। ক্রিসমাস কত বর্ণাঢ্য হয়, উৎসবের খুব কাছ থেকে

দেখেছি। নিজেরাও উদ্যাপন করেছি। সেই স্মৃতিকে নতুন করে জাগাতেই বলতে পারেন এখানে এসেছি। রাজিয়া হোসেনের মতে, লোকে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে অজ্ঞতার কারণে। ধর্ম একেক জনের একেকটা হতে পারে। উৎসবে তো বাধা নেই। তাই এ নিয়ে একদমই ভাবার কিছু নেই। বরং সবাই মিলে হাসি আনন্দে বাঁচার ওপর জোর দেয়া উচিত।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT