ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ছোটবেলার গল্প শোনার দিনগুলো আজ আর নেই…

প্রকাশিত : 08:20 AM, 17 March 2021 Wednesday
136 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

ছোটবেলার গল্প শোনার দিনগুলো এখন কত দূরে আর আসে না রাজার কুমার পঙ্খীরাজে উড়ে…’ পঞ্চাশের দশকে হেমন্তের কণ্ঠের এই গান আজও নস্টালজিক করে তোলে। প্রত্যেক মানুষের জীবনে ছোটবেলার দিনগুলো কতই না মধুর! একজন মনীষী বলেছেন : ছোটবেলার স্বপ্ন থেকেই জীবনের স্বপ্নযাত্রা শুরু। মায়ের কোলে শিশু নিশ্চিন্তে ঘুমায়। ছোটবেলার দিন মা বাবার কাছে থেকে আগামীদিনের স্বপ্ন দেখা ছাড়া আর কোন ভাবনাই আসে না। মা বাবার স্নেহের সুরে শাসনের ওপর ভর করেই শিশু এগিয়ে যায় পৌঁছে কিশোর যৌবন তারুণ্যে।

ভূমিষ্ঠের পর শৈশব থেকে ছোটবেলা হয়ে যৌবন ও তারুণ্যে এবং জীবনের শেষ অধ্যায়ে পৌঁছার গীত রচনা করেছেন বরেণ্য গীতিকার

পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। জীবনকে সাতটি অধ্যায়ে ভাগ করে তিনি লিখেছেন- অরূপের অন্ধকার থেকে প্রথমে আলোর বিন্দু এসে ঝরে পড়ে রূপের জগতে। সে আলোয় শিশুর প্রথম আবির্ভাবেই চেতনার জন্ম হয়। উপলব্ধির মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বলে, মাগো মা আমি এলাম তোমার কোলে, তোমার ছায়ায় তোমার মায়ায় মানুষ হবো বলে। সেই শিশু একদিন হাঁটতে শেখে। হাঁটি হাঁটি পা পা করে কৈশোরের উচ্ছলতা পেরিয়ে তারুণ্যের উদ্দীপনার পর উত্তরণ হয় যৌবনের অভিষেকে। অভ্যর্থনা জানায় এসো যৌবন এসো হে বন্ধু দিন গুনেছি তোমার জন্য। প্রশান্তির মাধুর্যে অনুভব করে সে একা নয় পাশে কেউ আছে। গেয়ে ওঠে তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তান

এই আমাদের পৃথিবী। দিন কেটে যায়… মাঝ রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ভাবতে থাকে জীবনের কত কাজ সারা হয়ে গেল আরও কত বাকি রয়ে গেল। কালের পাতার শেষ বেলায় সেই মায়ের কোলে ফিরে গিয়ে মুখ লুকিয়ে আকুতি জানায়, আমায় চিনতে কেন পারছ না মা সবই ভুলে গেলে আমি তোমার অবোধ ছেলে ফিরে এলাম মায়ের কোলে…।

মহাজীবন থেকে জীবনে আসা আর অনন্তকালের জীবনে পৌঁছানোর ধারায় সূচিত হয় ছেলেবেলা। সেই ছেলেবেলা বা মেয়েবেলা নিয়ে বেড়ে ওঠে জীবন। কেউ কখনও ভুলতে পারে না শৈশবের দিনগুলো। যা জীবনের সবচেয়ে মধুরতম অধ্যায়। প্রণয়ের সূচনা এই ছেলেবেলাতেই। প্রণয় বলতে শুধু মানব মানবীর প্রেমই

নয় হৃদয়কে আবেগে ভরে দেয় প্রণয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই হরমোন গ্রন্থিরস নিয়ে এগিয়ে যায় মানব জীবন।

জীবনের একেকটি সময়কে মনে হয় একেকটি অধ্যায়। সেই অধ্যায়ে রয়ে যায় কতই না স্মৃতি। সেই স্মৃতি যেন ব্যক্তি জীবনের ইতিহাসের পাতা। যে পাতা আবির মেখে রং ছড়ায়। বিবর্ণ হতে দেয় না মণিকোঠায়। সেই মণিকোঠায় তাকালে প্রথমেই ভেসে আসে শৈশবের দিনগুলো।

একবিংশ শতকে সেই শৈশব বুঝি হারিয়েই গেল। স্কুলে খেলার মাঠ নেই। কোথায় খেলবে! কেউ কোথাও বেড়াতে নিয়ে যায় না। সমবয়সীদের সঙ্গে কোথায় ছুটোছুটি করবে! দাদু নানু স্বজনরা কাছে নেই। বেড়াতেও আসে না। কার কাছে গল্প শুনবে, দুষ্টুমি করবে। অপার মমত্বের বায়না

ধরবে। কখনও বাবা, কখনও মা বাবা দুজনই অফিসে যায়। কাজের বুয়া আর কতক্ষণই থাকে। আর থাকলেই বা কি! এমন একাকীত্বে করবে টা কী! এইসব শিশু কিশোর নিজেরাই খুঁজে নিয়েছে আরেক জগত। ভার্চুয়াল বা ই পর্দা তাদের কাছে টেনে নিয়েছে। বর্তমানে এদের কাছে ট্যাব স্মার্ট ফোনের পর্দা এতটাই আকর্ষণ করে যে সুযোগ পেতে হয় না। সুযোগ এসে ধরা দেয়।

ছেলেবেলার বা মেয়েবেলার আঙ্গিনার খেলার দিনগুলোও আর নেই। অতীতের একান্নবর্তী পরিবার কতই না মধুর ছিল। চাচাত জ্যাঠাতো ভাইবোন মিলে মজা করে কতই না খেলা। মেয়েবেলায় পুতুল খেলা পুতুলের বিয়ে দেয়ার খেলা কতই না মধুময় অধ্যায়। সময়ের বিবর্তনে এসেছে

আধুনিক পুতুল বারবিডল।

ছেলেবেলার মিষ্টি মধুর দিনগুলোতে সন্ধ্যা বাতি দেয়ার আগেই ঘরে ফেরা ছিল বাধ্যতামূলক। ছেলেরা খেলার মাঠে দূরে কোথাও হৈ হুল্লোড় করে যেতে পারে। মেয়েরা ঘরের বাইরে বলতে বহিঃআঙ্গিনা। তবে বর্তমানে গ্রামের মেয়েরা নদী তীরে স্কুলের মাঠে ছুটোছুটি করে বেড়ায়। দড়ি খেলা বৌছি খেলা দাঁড়িয়াবান্ধা খেলে। শৈশবে ছেলেমেয়েরা একসঙ্গে ছুটোছুটি করে মাতিয়ে তোলে নিজেদের। বড় হয়ে বাস্তবতার চিরন্তন অধ্যায়ে ছায়াছবির ফ্রেমের মতো একের পর এক দৃশ্যপট ভেসে আসে স্মৃতির এ্যালবামে।

বর্তমানে স্মার্ট ফোন, ট্যাবের প্রতি শিশুদের মোহ সৃষ্টি হয়েছে। কোন অভিভাবক মনে করেন শিশুরা স্মার্ট হচ্ছে (!)। এই ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকগণ।

এক জরিপে বলা হয়, যেসব শিশু দিনে ৫ ঘণ্টা ভার্চুয়াল পর্দায় থাকে মেধার বিকাশে বিঘœ ঘটে। যারা লেখাপড়ার পাশাপাশি বাইরের জগত সম্পর্কে জানার জন্য অল্প সময় ট্যাবে বসে তাদের মেধার বিকাশে নানা মাত্রা যোগ হয়। গবেষকগণ পরামর্শ দিয়েছেন- শিশুরা অবশ্যই নতুন কিছু সম্পর্কে জানবে। জ্ঞানের পরিধি বাড়াবে। পাশাপাশি শিশুদের থাকতে হবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে। মাঠে খেলাধুলা, সমবয়সীদের সঙ্গে বন্ধুভাবাপন্ন হওয়া, কাছের মানুষ স্বজনদের সান্নিধ্য পাওয়া, পরিবারের সঙ্গে কোথাও বেড়াতে যাওয়া, নতুন কিছু দেখা ও শেখা। শিশুদের জন্য সময়গুলো এমন ভাবে সাজানো দরকার যাতে প্রতিটি মুহূর্ত তাদের কাছে মধুর অভিজ্ঞতা হয়ে ধরা দেয়। এভাবে শিশুরা মানসিক এবং

সামাজিকভাবে গড়ে ওঠে।

একজন মনোবিজ্ঞানী বলেছেন, একবিংশ শতকে পৃথিবী এত দ্রুত চলছে যে তাল মেলানো কঠিন। অতীতে প্রতিটি পরিবারের মধ্যে একটা মধুর বন্ধন ছিল। তারও আগে ছিল একান্নবর্তী পরিবার। বর্তমানে সবকিছু ভেঙ্গে গিয়ে নিউক্লিয়াস ফ্যামিলিতে পরিণত হয়েছে। সেখানে মা বাবা ও সন্তানদের নিয়ে একেকটি পরিবার। জীবিকার প্রয়োজনে বাবাকে রোজগার করতে হয়। দিনের বেশিরভাগ সময় থাকতে হয় বাইরে। কখনও বাবা মা দুইজনকেই চাকরি করতে হয়। বাড়িতে আত্মীয় স্বজনদের আগমনও বেশি হয় না। কুটুম্বিতা (স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া) একেবারে কমে গিয়েছে। এমন এক অবস্থার মধ্যে বেড়ে উঠছে বর্তমানের শিশুরা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT