ঢাকা, Sunday 26 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ছুটির দিনে বেড়েছে বইয়ের বিকিকিনি

প্রকাশিত : 08:42 AM, 31 March 2021 Wednesday
147 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

নতুন এক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। সেই সুবাদে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে স্বাধীনতার সাক্ষ্যবহ মার্চ মাসে শুরু হয়েছে মেলা। মহামারীর চ্যালেঞ্জকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছে প্রাণের মেলা। এছাড়া আপাতত মাঝপথে মেলা থমকে যাওয়ার শঙ্কাটিও উবে গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলবে আয়োজন। মঙ্গলবার ছিল মেলার ত্রয়োদশতম দিন। এদিন ছুটির দিনের আমেজটি দারুণভাবে ধরা দিয়েছে মেলা প্রান্তরে। সাধারণতম অন্য দিনগুলো বিকেল পাঁচটার আগে জনসমাগম হয় না। কিন্তু বিকেল তিনটায় দ্বার খোলার পর থেকেই এসেছে পাঠক ও দর্শনার্থী। প্রতিটি প্যাভিলিয়ন ও স্টলে ছিল গ্রন্থানুরাগীদের পদচারণার। বইয়ের সঙ্গে কেটেছে তাদের সুমধুর সময়। বিভিন্ন বই বিতান ঘুরে সংগ্রহ করেছেন

গল্প-উপন্যাস, কবিতা কিংবা প্রবন্ধসহ বিচিত্র বিষয়ের বই। পাঠকের চাহিদা মেটাতে স্টলের বিপণন কর্মীরাও কাটিয়েছেন ব্যস্ত সময়। বইয়ের বিকিকিনি, আড্ডা, লেখকের গল্প শোনা, দর্শনার্থীদের ঘোরাঘুরি রং ছড়িয়ে এদিনের বই উৎসবে। তবে অনেক ভালর মাঝে মেলায় এসেছে মাস্কবিহীন দর্শনার্থীদের দলবেঁধে ছবি তোলার চিত্রগুলো দৃষ্টিকটু লেগেছে। অন্যদিকে এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ছিল সিনেমার শুটিংয়ের বিড়ম্বনা। মেলার মাঝেই মুখোশ নামের চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের কারণে বিরক্ত হয়েছেন বিরক্তি বোধ করেছেন অনেকেই। করোনাকালে এই শুটিংকে ঘিরে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সিনেমার নায়ক-নায়িকাদের দেখার আশায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাদাগাদি করে ভিড় জমিয়েছে অসংখ্য দর্শকরা। এতে শূটিং স্পটের আশপাশের প্রকাশনা সংস্থাসহ অনেকেই অভিযোগের আঙুল

তুলেছেন মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমির দিকে। এদিকে আগাম কোন ঘোষণা ছাড়াই মেলার সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ।

এদিনের জমে ওঠা মেলায় কথা হয় কথা প্রকাশের ব্যবস্থাপক জাপিরুল ইসলামের সঙ্গে। আলাপচারিতায় তিনি বলেন, এবার মেলায় করোনার প্রভাব একেবারেই পড়েনি- এমনটা বলা যায় না। মহামারীর কারণে পাঠক কম আসছে। এছাড়া চৈত্রালে মেলা হওয়ার দুপুরে খরতাপ বয়ে যাওয়ায় সেই সময় তেমনভাবে পাঠক বা দর্শনার্থী আসেন না। তবে আজকের মেলায় দুপুর থেকেই প্রাণের প্রবাহ বইছে। সবচেয়ে বড় কথা দর্শনার্থীর চেয়ে পাঠক বেশি এসেছে। যারা আসছে তাদের অধিকাংশই বই সংগ্রহ করছে। সেই অর্থে অন্য দিনগুলোর তুলনায় বইয়ের বিকিকিনিও

বেশি হয়েছে। আর মেলার প্রাণ হচ্ছে পাঠক।

মঙ্গলবার দুপুর থেকেই ভিড় জমেছে পাঠক ও দর্শনার্থীদের। ফলে বিকেলে পর থেকে ১৫ লাখ বর্গফুটের বিশাল মেলা প্রান্তরেও শোনা গেছে বইকেন্দ্রিক কলরব। খ্যাতিমান লেখকদের দেখা না মিললেও তরুণ লেখকদের পদচারণায় কেটে গেছে শূন্যতা। দৃশ্যমান হয়েছে লেখকের অটোগ্রাফসহ বই সংগ্রহের সুন্দরতম দৃশ্য। মেলায় ঘুরতে ঘুরতে পরিশ্রান্ত অনেকেই ঢুঁ মেরেছেন ফুড কোর্টে বা চায়ের স্টলে। তবে মেলায় এসে অনেকেই ভুলে গেছেন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি। অনেকে মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়িয়েছেন মেলাজুড়ে। কেউ বা আবার নাক-মুখ ঢাকার বদলে পকেটে পুরে রেখেছিলেন মাস্কটি। একাডেমির মাইকে বারবার মাস্ক পরিধানের ঘোষণা দেয়া হলেও তাতেও বোধোদয় হয়নি

এসব নির্বিকার দর্শনার্থীদের।

মেলায় শূটিং বিড়ম্বনা ॥ দুপুর তিনটার পর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শূটিং পার্টির দেখা মেলে। অনুপম ও ইউনিভার্সেল প্রকাশনীর উল্টোদিকে চলতে থাকে লাইট-ক্যামেরা এ্যাকশনের কর্মযজ্ঞ। ইফতেখার শুভ পরিচালিত মুখোশ নামের চলচ্চিত্রের শূটিংকে কেন্দ্র করে ভিড় জমে যায় সেখানে। অভিনেতা মোশাররফ করিম ও নায়িকা পরীমনিকে দেখার জন্য একে অপরের গায়ের ওপর হুমড়ি খেড়ে পড়তে থাকে। এসময়টিতে আশপাশের প্রকাশনা সংস্থাগুলোকে পোহাতে হয় বিড়ম্বনা। এ বিষয়ে অনুপম প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মোঃ শাহীন বলেন, এই শূটিংয়ের কারণে আমাদের স্টলে পাঠক আসতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। কিন্তু দেখলাম শূটিং দলের সঙ্গে বাংলা একাডেমির দু-একজন কর্মকর্তাও রয়েছেন। এই শূটিংয়ের জন্য নাকি অনুমতি নেয়া

হয়েছে। তাহলে তো আমাদের বলার কিছু থাকে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণ লেখক বলেন, বাংলা একাডেমির অনুমতি পাওয়া নিয়ে আমার বিস্ময় লেগেছে। এখানে শূটিং নিয়ে এমন হুলস্থুল প্রকৃত অর্থে বইমেলার সৌন্দর্যহানি ঘটায়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

মেলার সময় কমল এক ঘণ্টা ॥ সোমবার থেকে মেলার সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে বাংলা একাডেমি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চায় একাডেমি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমদ জনকণ্ঠকে বলেন, শব-ই-বরাতের রাতের কথা বলে একদিনের

জন্য বইমেলার সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদ। এখন দেখছি তারা সেটা নিয়মিতভাবেই এক ঘণ্টা আগে বন্ধ করছেন। অর্থাৎ রাত নয়টার পরিবর্তে আটটায় শেষ হবে মেলা। অথচ কয়েক বছর আগে বইমেলার সময়সূচী রাতে এক ঘণ্টা বাড়ানোই হয়েছিল যাতে অফিস ফেরত মানুষরা বইমেলায় আসতে পারেন। এখন গরমের সময় বইমেলায় মানুষের আসার মূল সময়টাই ছিল রাত।

এদিন বিকেলে দিব্য প্রকাশের স্টলের সামনে ‘ইকিগাই’ নামের বইয়ের ভূমিকা পড়ছিলেন এক পাঠক। জাপানি ওকিনাওয়া দ্বীপের এক গ্রামের শতবর্ষী সুখী মানুষের জীবনের গল্প উঠে বইটিতে। ভূমিকা পড়ার একপর্যায়ে হেক্টর গার্সিয়া ও ফ্রান্সেস্ক মিরাসের লেখা

বিশ্ববিখ্যাত গ্রন্থটির শামীম মনোয়ার অনূদিত বইটি সংগ্রহ করলেন আরিফ রহমান। কথা প্রসঙ্গে এই গ্রন্থানুরাগী বললেন, ইচ্ছে থাকলে এর আগে মেলায় আসতে পারিনি। আজ ছুটির দিনে সেই সুযোগটি কাজে লাগালাম। এখানে এসে মনটা ভাল হয়ে গেল। বইয়ের সঙ্গে দারুণ সময় কাটছে। আরও কিছু বইয়ের তালিকা নিয়ে এসেছি। ঘুরতে ঘুরতে সেই বইগুলো সংগ্রহ করব।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলবে মেলা ॥ বইমেলা বিষয়ে মঙ্গলবার সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বইমেলা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঠিকঠাক চলছে। একেবারে দেয়ালে পিঠ না ঠেকে গেলে চেষ্টা করবো বইমেলা ধরে রাখতে। আমার প্রত্যাশা বইমেলা শেষ পর্যন্ত চলবে। যারা বইয়ের

মূল প্রেমিক তারাই আসছেন বইমেলায়। কয়েক দিন ধরে বিক্রিও বেড়েছে মেলায়। বইমেলা বন্ধের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন বই ॥ এদিন নতুন বই এসেছে ১১২টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ৮টি, উপন্যাস ১২টি, প্রবন্ধ ৮টি, কাব্যগ্রন্থ ৫০, গবেষণা ২, ছড়া-১, শিশুসাহিত্য ১, জীবনী ২, মুক্তিযুদ্ধবিষয় ১, বিজ্ঞানবিষয়ক ৪, ভ্রমণগ্রন্থ ২, ইতিহাসবিষয়ক ১টি, রাজনীতি ১টি, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ৪টি, ধর্মীয় ১টি, অনুবাদ ১ এবং একটি সায়েন্স ফিকশনসহ অন্যান্য বিষয়ের ১২টি নতুন বই এসেছে। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে ইকবাল খন্দকারের ভৌতিক উপন্যাস ‘লঞ্চঘাটের প্রেতাত্মা’ এবং মোশতাক আহমেদের কিশোর গোয়েন্দা ‘রেড ড্রাগন’ এনেছে কথাপ্রকাশ। সময় প্রকাশন থেকে এসেছে শান্তনু মজুমদারের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘গণতন্ত্র ঘাটতি বিশ্ব বিশ্ব

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশ’। অনন্যা থেকে এসেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর দিনলিপি ‘পরাজয় মানে না মানুষ’। অনিন্দ্য থেকে এসেছে আহমদ রফিকের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বই পড়া : কাগজ পড়ার একান্ত ভুবন’। বিভাস থেকে এসেছে মহাদেব সাহার কাব্যগ্রন্থ ‘একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের কবিতাসমগ্র’। যুক্ত থেকে বেরিয়েছে সনৎকুমার সাহার প্রবন্ধগ্রন্থ ‘চেনা-শোনা’। রোদেলা থেকে বেরিয়েছে সুফি মজিদের সুফি দর্শনবিষয়ক বই ‘কদমবুছির বৈধতার দলিল’। বেহলা বাংলা থেকে এসেছে এলিজা খাতুনের কাব্যগ্রন্থ ‘গহীনে দাহ’।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT