ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাস ভাড়া না থাকাই ভালো, নিদেনপক্ষে অর্ধেক- হাসানুল হক ইনু - বর্ণমালা টেলিভিশন

বাংলাদেশের সাবেক তথ্য মন্ত্রী (১৩সেপ্টেম্বর ২০১২ – ৭জানুয়ারী ২০১৯) ও বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জাসদ ও চৌদ্দ দল নেতা হাসানুল হক ইনু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে ডোনেট বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি তার সাক্ষাৎকার নেয়। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবার অনুমুতি, শিক্ষার্থীদের হাফ বাস ভাড়ার দাবিতে চলমান আন্দোলন, বাকস্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সোশ্যাল মিডিয়াতে ফেইক নিউজ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে ফেইসবুক/ইউটিউবসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারটিতে হাসানুল হক ইনু খোলামেলা কথা বলেছেন। টেলিফোনে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শতরূপা বড়ুয়া।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ আপনি জানেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ, তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা

নিতে যাবার অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে আপনার অবস্থান কি?

 

হাসানুল হক ইনুঃ বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করছি আমি। তিনি গুরুতর অসুস্থ, সেটা আমি জানি। তবে তিনি একজন দণ্ডিত বাক্তি এবং সে অনুযায়ী দু’টো মতের বিষয় রয়েছে। একটা হচ্ছে যে, আইনগত ভাবে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার, সে পদ্ধতি উনি ওনার পরিবার এবং উকিলদের অনুসরণ করা উচিত এবং একই সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারদের মতামতটাও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, ডাক্তার যারা দেখছেন, দেশের ভিতরে, তাদের মতামতটাও আমরা গুরুত্ব সহকারে নেবো। সুতরাং, ডাক্তারদের মতামত, আইনি প্রক্রিয়া ও পারিবারিক আবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তটা হবে। আমি আশা করছি, সরকার সেভাবেই সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করবে।

 

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সম্প্রতি জ্বালানির দাম বাড়ানোর

ফলে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার আন্দোলন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে , এ বিষয়ে আপনার ও আপনার দলের অবস্থান সম্পর্কে যদি বলেন।

 

হাসানুল হক ইনুঃ এটা আগেই আমি বলেছি যে, হুট করে এই তেলের দাম বাড়ানোটা একটা অনৈতিক, অযৌক্তিক একটা সিদ্ধান্ত। এবং এটা প্রত্যাহার করে, অবিলম্বে আমার মনে হয় বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা উচিত। সব সময়ের জন্যে ছাত্র ছাত্রীদের জন্যে বাস ভাড়াটা মওকুফ রাখাটাই মঙ্গলজনক। সুতরাং, কিছু বিষয় আছে যেখানে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে হয়। সুতরাং, ছাত্র ছাত্রীদের যাতায়াতের ব্যাপারটা নিশ্চিত করার জন্যে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা দেয়ার জন্যে বাস ভাড়াটা তাদের না থাকাই ভালো। নিদেনপক্ষে অর্ধেক হতে

পারে।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ থেকে বা বিদেশে বসে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ইউটিউব, ফেইসবুক ব্যবহার করে নানা ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন যেগুলো তথ্য নির্ভর নয়। এ ধরণের মিথ্যা প্রচারণা রোধের জন্য ফেইসবুক ও ইউটিউবের সঙ্গে বাংলাদেশের কি ধরণের সহযোগিতা চুক্তি আছে? কতটা সহযোগিতা আপনারা পাচ্ছেন? কি কি ক্ষেত্রে আরো সহযোগিতা প্রয়োজন?

 

হাসানুল হক ইনুঃ এই মুহূর্তে, এখন পর্যন্ত খুব একটা সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি না। এর একটি কারণ হচ্ছে যে, তারা বাংলাদেশে এখনও কোন কার্যকরী কার্যালয় খোলেনি। দ্বিতীয়ত হচ্ছে বাংলাদেশে কিছু আইন-কানুন তৈরি করা দরকার, অর্থাৎ সামাজিক গণমাধ্যমগুলো মোকাবেলা করার জন্যে বা ব্যবস্থাপনা করার জন্যে একটা দেশীয় আইন না থাকলে, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা

বলাটা ফলপ্রসূ হয় না। তাই আমরা পরামর্শ দিয়েছি সরকারকে যে, অবিলম্বে দেশের ভিতরে সামাজিক মাধ্যমগুলোর কার্যালয় স্থাপন করা, দ্বিতীয়ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবস্থাপনা একটি আইন তৈরি করে ফেলা হোক, যে রকম অনেক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতে করেছে। সেই আইনটা হলে, আইনের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে আমরা লেনদেনটা করতে পারবো। তবে এই মুহূর্তে সামাজিক গণমাধ্যমে যে কিছু বিশৃঙ্খলা এবং উচ্ছৃঙ্খলতা হচ্ছে, সেটা শুধু বাংলাদেশের জন্যে নয়, সারা পৃথিবীর নারীদের জন্যে, শিশুদের জন্যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যে এবং সামাজিক শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হচ্ছে। তো সেদিকটা দেখা উচিত বলে মনে করি আমি।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোন লেখা বা কার্টুন এঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিলেই

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হচ্ছে, এতে বাকস্বাধীনতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এ ব্যাপারে বক্তব্য কি?

 

হাসানুল হক ইনুঃ দেখুন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ২০১৮ সালে তৈরি হয়েছে। আইনটি কিন্তু কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইন না। এই আইনটা মূলত ডিজিটাল যে জগতটা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ এবং পৃথিবীতে তার ব্যবস্থাপনার জন্য এবং সেই আইনের মধ্য দিয়ে সাধারণ নাগরিককে, নারীকে, শিশুকে, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইত্যাদি রক্ষা করার জন্য, সাইবার অপরাধীদের দমন করার জন্য আইনটি তৈরি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ আইনটা যখন প্রয়োগ করা হয় তখন কোন সাংবাদিক মাঝে মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাংবাদিক হিসেবে তাকে হয়রানি করা হয়নি। বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে

কাজগুলো করা যাবে না অর্থাৎ চরিত্রহরণ, মিথ্যাপ্রচার অথবা অপপ্রচার অথবা সামাজিক শান্তি নষ্ট করার জন্য উস্কানীমূলক কথাবার্তা অথবা তথ্য নির্ভর কোন কথাবার্তা- সেই সংক্রান্ত বিষয়ে কতিপয় সাংবাদিক মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন। সেইখানে আমি মনে করি যে- দুই বছর পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিচের কর্মচারীর কিছু বাড়াবাড়ি আছে, কিছু ক্ষমতার অপব্যবহার আছে। সুতরাং আইনটা আবার পর্যালোচনা করে সাংবাদিকদের এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আরও কিছু সংশোধন করা দরকার। সেই দিক থেকে আমি মনে করি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকুক।সংশোধনের জন্য যদি প্রস্তাব আসে, সেগুলো আমরা আলোচনা করে সমাধান করতে পারবো।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ কিছুদিন আগে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট-এ মামলা

দেয়া হয়েছে, তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল; এর আগে কার্টুনিস্ট কিশোর, ফটোগ্রাফার কাজলসহ অনেক সাংবাদিককে নানা আইনে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, আপনি যে এই প্রচলিত আইনের অপপ্রয়োগ বা বাড়াবাড়ির কথা বললেন, তা রোধে আপনারা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি?

 

হাসানুল হক ইনুঃ প্রথম কথা হচ্ছে যেকোন দণ্ডবিধি, যেকোন আইনের প্রয়োগে নিচের পর্যায়ে বা একটা পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার থাকে। যেমন ৩০২ ধারায় খুনের আসামী, খুনের ঘটনা ঘটে, দেখবেন যে অনেক ক্ষেত্রে বহু লোককে জড়িয়ে মামলাটা করা হয়। সুতরাং এই যে অপব্যবহারটা রোধ করার সবচেয়ে বড় ব্যবস্থা হচ্ছে, শক্তিশালী একটা বিচার ব্যবস্থা। সুতরাং এরকম কোন অপব্যবহার ঘটলে বিচার ব্যবস্থার কাছ থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়। যেমন রোজিনা ইসলাম বা কাজলের ব্যাপারটা দেরিতে হলেও কিন্তু বিচার ব্যবস্থার কাছ থেকে জামিন পেয়ে গেছে এবং মামলা বিচারাধীন আছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, তারপরও আমি বলবো যে বিচার বিভাগের যে নিম্ন আদালতগুলো, সেইখানে আমরা আগেই সমালোচনা করে বলেছি যে, নিম্ন আদালতের বিচারকরা বহু সময় সঠিকভাবে বিচারটা করেননি অথবা বিবেচনাটি করেননি। সেই জন্যে আমাদের সমালোচনার সাথে সাথে উচ্চ আদালত, হাইকোর্টও কিন্তু তাদেরকে বকা দিয়েছে এবং তাদের কৈফিয়ত তলব করেছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, আধুনিক বাংলাদেশকে চালু রাখতে হলে, বিচার ব্যবস্থার কিছু ব্যাপার পর্যবেক্ষণ করে এগুলো সংশোধন করা দরকার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন… যেই যেই ক্ষেত্রে অপব্যবহারের জায়গাটা রয়েছে, সেই জায়গাটায় আবার পর্যালোচনা করে সংশোধন করে একটা প্রতিকারের ব্যবস্থা করে দেয়া দরকার। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোন সাংবাদিক হয়রানি হোক এটা আমি চাই না এবং ভিন্নমত প্রকাশ করার জন্য অথবা সরকারের সমালোচনা করার জন্য কেউ হয়রানি হোন বাংলাদেশে- এটা আমি চাই না এবং এরকম কোন হয়রানি হলে তা প্রতিকারের জন্য আমি পার্লামেন্টেও সোচ্চার হবো।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ সম্প্রতি আপনি সাইবার বিষয়ক বেশ কয়েকটি আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এই বৈঠকের অভিজ্ঞতাগুলো যদি একটু শেয়ার করতেন।

 

হাসানুল হক ইনুঃ দেখুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে আমি নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম নিয়ে ওয়াশিংটনে পাচঁদিনব্যাপী দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি এবং সেখানে মূল বিষয়টা ছিল যে প্রসারমান ডিজিটাল জগতের ভেতরে যে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে উঠছে, তার জন্য আইন তৈরি করা এবং ডিজিটাল বিষয়গুলোর উপরে আইনকানুন তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশে এবং এখানেও বা পৃথিবীতে ডিজিটাল জগতের ব্যবস্থাপনা আইনগতভাবে করা যায়। সুতরাং একটা আইনী কাঠামো তৈরি করার জন্য আসলে আমরা দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি। আমেরিকানদের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের অভিজ্ঞতা, যেরকম আমাদের এখানে এখনো ই-কমার্স অ্যাক্ট হয়নি, ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্টটা এখনো হয়নি, প্রাইভেসি অ্যাক্টটা এখনো হয়নি। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তার জগতটাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে গেলে, বাংলাদেশের বিনিয়োগটা নিশ্চিত করতে হলে, ডেটা অর্থাৎ তথ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যের সুশাসনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য যদি চুরি হয়ে যায়, তাহলে কেউ বিনিয়োগ করবে না। সুতরাং এখানে আমেরিকাসহ ইউরোপের দেশগুলোর একটা স্বার্থ আছে, যে বাংলাদেশ কিভাবে ডিজিটাল জগতটাকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রাইভেসি অ্যাক্ট, ডেটা নিরাপত্তা আইন, ই-কমার্স অ্যাক্টটা করছে এবং ক্রসবর্ডার আইনটা কিভাবে এখানে চালু হবে, যাতে টাকার লেনদেনটা আমরা করতে পারি। সুতরাং মূলত আলোচনাটা হয়েছে একটা আইনি কাঠামো কিভাবে তৈরি করা যায় এবং অবকাঠামোতে কিভাবে নিরাপত্তা বিধান করা য়ায়– সে ব্যাপারেই আলোচনা হয়েছে। আমি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে করছি এবং এটা আমাদের দুই দেশকেই সমৃদ্ধ করবে।

বাংলাদেশের সাবেক তথ্য মন্ত্রী (১৩সেপ্টেম্বর ২০১২ – ৭জানুয়ারী ২০১৯) ও বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জাসদ ও চৌদ্দ দল নেতা হাসানুল হক ইনু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে ডোনেট বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি তার সাক্ষাৎকার নেয়। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবার অনুমুতি, শিক্ষার্থীদের হাফ বাস ভাড়ার দাবিতে চলমান আন্দোলন, বাকস্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সোশ্যাল মিডিয়াতে ফেইক নিউজ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে ফেইসবুক/ইউটিউবসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারটিতে হাসানুল হক ইনু খোলামেলা কথা বলেছেন। টেলিফোনে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শতরূপা বড়ুয়া।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ আপনি জানেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ, তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা

নিতে যাবার অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে আপনার অবস্থান কি?

 

হাসানুল হক ইনুঃ বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করছি আমি। তিনি গুরুতর অসুস্থ, সেটা আমি জানি। তবে তিনি একজন দণ্ডিত বাক্তি এবং সে অনুযায়ী দু’টো মতের বিষয় রয়েছে। একটা হচ্ছে যে, আইনগত ভাবে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার, সে পদ্ধতি উনি ওনার পরিবার এবং উকিলদের অনুসরণ করা উচিত এবং একই সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারদের মতামতটাও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, ডাক্তার যারা দেখছেন, দেশের ভিতরে, তাদের মতামতটাও আমরা গুরুত্ব সহকারে নেবো। সুতরাং, ডাক্তারদের মতামত, আইনি প্রক্রিয়া ও পারিবারিক আবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তটা হবে। আমি আশা করছি, সরকার সেভাবেই সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করবে।

 

ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সম্প্রতি জ্বালানির দাম বাড়ানোর

ফলে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার আন্দোলন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে , এ বিষয়ে আপনার ও আপনার দলের অবস্থান সম্পর্কে যদি বলেন।

 

হাসানুল হক ইনুঃ এটা আগেই আমি বলেছি যে, হুট করে এই তেলের দাম বাড়ানোটা একটা অনৈতিক, অযৌক্তিক একটা সিদ্ধান্ত। এবং এটা প্রত্যাহার করে, অবিলম্বে আমার মনে হয় বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা উচিত। সব সময়ের জন্যে ছাত্র ছাত্রীদের জন্যে বাস ভাড়াটা মওকুফ রাখাটাই মঙ্গলজনক। সুতরাং, কিছু বিষয় আছে যেখানে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে হয়। সুতরাং, ছাত্র ছাত্রীদের যাতায়াতের ব্যাপারটা নিশ্চিত করার জন্যে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা দেয়ার জন্যে বাস ভাড়াটা তাদের না থাকাই ভালো। নিদেনপক্ষে অর্ধেক হতে

পারে।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ থেকে বা বিদেশে বসে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ইউটিউব, ফেইসবুক ব্যবহার করে নানা ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন যেগুলো তথ্য নির্ভর নয়। এ ধরণের মিথ্যা প্রচারণা রোধের জন্য ফেইসবুক ও ইউটিউবের সঙ্গে বাংলাদেশের কি ধরণের সহযোগিতা চুক্তি আছে? কতটা সহযোগিতা আপনারা পাচ্ছেন? কি কি ক্ষেত্রে আরো সহযোগিতা প্রয়োজন?

 

হাসানুল হক ইনুঃ এই মুহূর্তে, এখন পর্যন্ত খুব একটা সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি না। এর একটি কারণ হচ্ছে যে, তারা বাংলাদেশে এখনও কোন কার্যকরী কার্যালয় খোলেনি। দ্বিতীয়ত হচ্ছে বাংলাদেশে কিছু আইন-কানুন তৈরি করা দরকার, অর্থাৎ সামাজিক গণমাধ্যমগুলো মোকাবেলা করার জন্যে বা ব্যবস্থাপনা করার জন্যে একটা দেশীয় আইন না থাকলে, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা

বলাটা ফলপ্রসূ হয় না। তাই আমরা পরামর্শ দিয়েছি সরকারকে যে, অবিলম্বে দেশের ভিতরে সামাজিক মাধ্যমগুলোর কার্যালয় স্থাপন করা, দ্বিতীয়ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবস্থাপনা একটি আইন তৈরি করে ফেলা হোক, যে রকম অনেক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতে করেছে। সেই আইনটা হলে, আইনের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে আমরা লেনদেনটা করতে পারবো। তবে এই মুহূর্তে সামাজিক গণমাধ্যমে যে কিছু বিশৃঙ্খলা এবং উচ্ছৃঙ্খলতা হচ্ছে, সেটা শুধু বাংলাদেশের জন্যে নয়, সারা পৃথিবীর নারীদের জন্যে, শিশুদের জন্যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যে এবং সামাজিক শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হচ্ছে। তো সেদিকটা দেখা উচিত বলে মনে করি আমি।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোন লেখা বা কার্টুন এঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিলেই

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হচ্ছে, এতে বাকস্বাধীনতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এ ব্যাপারে বক্তব্য কি?

 

হাসানুল হক ইনুঃ দেখুন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ২০১৮ সালে তৈরি হয়েছে। আইনটি কিন্তু কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইন না। এই আইনটা মূলত ডিজিটাল যে জগতটা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ এবং পৃথিবীতে তার ব্যবস্থাপনার জন্য এবং সেই আইনের মধ্য দিয়ে সাধারণ নাগরিককে, নারীকে, শিশুকে, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইত্যাদি রক্ষা করার জন্য, সাইবার অপরাধীদের দমন করার জন্য আইনটি তৈরি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ আইনটা যখন প্রয়োগ করা হয় তখন কোন সাংবাদিক মাঝে মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাংবাদিক হিসেবে তাকে হয়রানি করা হয়নি। বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে

কাজগুলো করা যাবে না অর্থাৎ চরিত্রহরণ, মিথ্যাপ্রচার অথবা অপপ্রচার অথবা সামাজিক শান্তি নষ্ট করার জন্য উস্কানীমূলক কথাবার্তা অথবা তথ্য নির্ভর কোন কথাবার্তা- সেই সংক্রান্ত বিষয়ে কতিপয় সাংবাদিক মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন। সেইখানে আমি মনে করি যে- দুই বছর পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিচের কর্মচারীর কিছু বাড়াবাড়ি আছে, কিছু ক্ষমতার অপব্যবহার আছে। সুতরাং আইনটা আবার পর্যালোচনা করে সাংবাদিকদের এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আরও কিছু সংশোধন করা দরকার। সেই দিক থেকে আমি মনে করি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকুক।সংশোধনের জন্য যদি প্রস্তাব আসে, সেগুলো আমরা আলোচনা করে সমাধান করতে পারবো।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ কিছুদিন আগে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট-এ মামলা

দেয়া হয়েছে, তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল; এর আগে কার্টুনিস্ট কিশোর, ফটোগ্রাফার কাজলসহ অনেক সাংবাদিককে নানা আইনে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, আপনি যে এই প্রচলিত আইনের অপপ্রয়োগ বা বাড়াবাড়ির কথা বললেন, তা রোধে আপনারা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি?

 

হাসানুল হক ইনুঃ প্রথম কথা হচ্ছে যেকোন দণ্ডবিধি, যেকোন আইনের প্রয়োগে নিচের পর্যায়ে বা একটা পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার থাকে। যেমন ৩০২ ধারায় খুনের আসামী, খুনের ঘটনা ঘটে, দেখবেন যে অনেক ক্ষেত্রে বহু লোককে জড়িয়ে মামলাটা করা হয়। সুতরাং এই যে অপব্যবহারটা রোধ করার সবচেয়ে বড় ব্যবস্থা হচ্ছে, শক্তিশালী একটা বিচার ব্যবস্থা। সুতরাং এরকম কোন অপব্যবহার ঘটলে বিচার ব্যবস্থার কাছ থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়। যেমন রোজিনা ইসলাম বা কাজলের ব্যাপারটা দেরিতে হলেও কিন্তু বিচার ব্যবস্থার কাছ থেকে জামিন পেয়ে গেছে এবং মামলা বিচারাধীন আছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, তারপরও আমি বলবো যে বিচার বিভাগের যে নিম্ন আদালতগুলো, সেইখানে আমরা আগেই সমালোচনা করে বলেছি যে, নিম্ন আদালতের বিচারকরা বহু সময় সঠিকভাবে বিচারটা করেননি অথবা বিবেচনাটি করেননি। সেই জন্যে আমাদের সমালোচনার সাথে সাথে উচ্চ আদালত, হাইকোর্টও কিন্তু তাদেরকে বকা দিয়েছে এবং তাদের কৈফিয়ত তলব করেছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, আধুনিক বাংলাদেশকে চালু রাখতে হলে, বিচার ব্যবস্থার কিছু ব্যাপার পর্যবেক্ষণ করে এগুলো সংশোধন করা দরকার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন… যেই যেই ক্ষেত্রে অপব্যবহারের জায়গাটা রয়েছে, সেই জায়গাটায় আবার পর্যালোচনা করে সংশোধন করে একটা প্রতিকারের ব্যবস্থা করে দেয়া দরকার। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোন সাংবাদিক হয়রানি হোক এটা আমি চাই না এবং ভিন্নমত প্রকাশ করার জন্য অথবা সরকারের সমালোচনা করার জন্য কেউ হয়রানি হোন বাংলাদেশে- এটা আমি চাই না এবং এরকম কোন হয়রানি হলে তা প্রতিকারের জন্য আমি পার্লামেন্টেও সোচ্চার হবো।

 

ডোনেট বাংলাদেশঃ সম্প্রতি আপনি সাইবার বিষয়ক বেশ কয়েকটি আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এই বৈঠকের অভিজ্ঞতাগুলো যদি একটু শেয়ার করতেন।

 

হাসানুল হক ইনুঃ দেখুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে আমি নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম নিয়ে ওয়াশিংটনে পাচঁদিনব্যাপী দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি এবং সেখানে মূল বিষয়টা ছিল যে প্রসারমান ডিজিটাল জগতের ভেতরে যে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে উঠছে, তার জন্য আইন তৈরি করা এবং ডিজিটাল বিষয়গুলোর উপরে আইনকানুন তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশে এবং এখানেও বা পৃথিবীতে ডিজিটাল জগতের ব্যবস্থাপনা আইনগতভাবে করা যায়। সুতরাং একটা আইনী কাঠামো তৈরি করার জন্য আসলে আমরা দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি। আমেরিকানদের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের অভিজ্ঞতা, যেরকম আমাদের এখানে এখনো ই-কমার্স অ্যাক্ট হয়নি, ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্টটা এখনো হয়নি, প্রাইভেসি অ্যাক্টটা এখনো হয়নি। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তার জগতটাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে গেলে, বাংলাদেশের বিনিয়োগটা নিশ্চিত করতে হলে, ডেটা অর্থাৎ তথ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যের সুশাসনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য যদি চুরি হয়ে যায়, তাহলে কেউ বিনিয়োগ করবে না। সুতরাং এখানে আমেরিকাসহ ইউরোপের দেশগুলোর একটা স্বার্থ আছে, যে বাংলাদেশ কিভাবে ডিজিটাল জগতটাকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রাইভেসি অ্যাক্ট, ডেটা নিরাপত্তা আইন, ই-কমার্স অ্যাক্টটা করছে এবং ক্রসবর্ডার আইনটা কিভাবে এখানে চালু হবে, যাতে টাকার লেনদেনটা আমরা করতে পারি। সুতরাং মূলত আলোচনাটা হয়েছে একটা আইনি কাঠামো কিভাবে তৈরি করা যায় এবং অবকাঠামোতে কিভাবে নিরাপত্তা বিধান করা য়ায়– সে ব্যাপারেই আলোচনা হয়েছে। আমি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে করছি এবং এটা আমাদের দুই দেশকেই সমৃদ্ধ করবে।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বাস ভাড়া না থাকাই ভালো, নিদেনপক্ষে অর্ধেক- হাসানুল হক ইনু

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:৩৫ 160 ভিউ
বাংলাদেশের সাবেক তথ্য মন্ত্রী (১৩সেপ্টেম্বর ২০১২ - ৭জানুয়ারী ২০১৯) ও বর্তমানে তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জাসদ ও চৌদ্দ দল নেতা হাসানুল হক ইনু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলে ডোনেট বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি তার সাক্ষাৎকার নেয়। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবার অনুমুতি, শিক্ষার্থীদের হাফ বাস ভাড়ার দাবিতে চলমান আন্দোলন, বাকস্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সোশ্যাল মিডিয়াতে ফেইক নিউজ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে ফেইসবুক/ইউটিউবসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারটিতে হাসানুল হক ইনু খোলামেলা কথা বলেছেন। টেলিফোনে এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শতরূপা বড়ুয়া।   ডোনেট বাংলাদেশঃ আপনি জানেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন গুরুতর অসুস্থ, তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা

নিতে যাবার অনুমতি দেয়ার ব্যাপারে আপনার অবস্থান কি?   হাসানুল হক ইনুঃ বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করছি আমি। তিনি গুরুতর অসুস্থ, সেটা আমি জানি। তবে তিনি একজন দণ্ডিত বাক্তি এবং সে অনুযায়ী দু'টো মতের বিষয় রয়েছে। একটা হচ্ছে যে, আইনগত ভাবে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা দরকার, সে পদ্ধতি উনি ওনার পরিবার এবং উকিলদের অনুসরণ করা উচিত এবং একই সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারদের মতামতটাও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, ডাক্তার যারা দেখছেন, দেশের ভিতরে, তাদের মতামতটাও আমরা গুরুত্ব সহকারে নেবো। সুতরাং, ডাক্তারদের মতামত, আইনি প্রক্রিয়া ও পারিবারিক আবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তটা হবে। আমি আশা করছি, সরকার সেভাবেই সিদ্ধান্তটা গ্রহণ করবে।   ভয়েস অফ আমেরিকাঃ সম্প্রতি জ্বালানির দাম বাড়ানোর

ফলে বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার আন্দোলন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে , এ বিষয়ে আপনার ও আপনার দলের অবস্থান সম্পর্কে যদি বলেন।   হাসানুল হক ইনুঃ এটা আগেই আমি বলেছি যে, হুট করে এই তেলের দাম বাড়ানোটা একটা অনৈতিক, অযৌক্তিক একটা সিদ্ধান্ত। এবং এটা প্রত্যাহার করে, অবিলম্বে আমার মনে হয় বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা উচিত। সব সময়ের জন্যে ছাত্র ছাত্রীদের জন্যে বাস ভাড়াটা মওকুফ রাখাটাই মঙ্গলজনক। সুতরাং, কিছু বিষয় আছে যেখানে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করতে হয়। সুতরাং, ছাত্র ছাত্রীদের যাতায়াতের ব্যাপারটা নিশ্চিত করার জন্যে এবং আর্থিকভাবে সহায়তা দেয়ার জন্যে বাস ভাড়াটা তাদের না থাকাই ভালো। নিদেনপক্ষে অর্ধেক হতে

পারে।   ডোনেট বাংলাদেশঃ বাংলাদেশ থেকে বা বিদেশে বসে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ইউটিউব, ফেইসবুক ব্যবহার করে নানা ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন যেগুলো তথ্য নির্ভর নয়। এ ধরণের মিথ্যা প্রচারণা রোধের জন্য ফেইসবুক ও ইউটিউবের সঙ্গে বাংলাদেশের কি ধরণের সহযোগিতা চুক্তি আছে? কতটা সহযোগিতা আপনারা পাচ্ছেন? কি কি ক্ষেত্রে আরো সহযোগিতা প্রয়োজন?   হাসানুল হক ইনুঃ এই মুহূর্তে, এখন পর্যন্ত খুব একটা সহযোগিতা আমরা পাচ্ছি না। এর একটি কারণ হচ্ছে যে, তারা বাংলাদেশে এখনও কোন কার্যকরী কার্যালয় খোলেনি। দ্বিতীয়ত হচ্ছে বাংলাদেশে কিছু আইন-কানুন তৈরি করা দরকার, অর্থাৎ সামাজিক গণমাধ্যমগুলো মোকাবেলা করার জন্যে বা ব্যবস্থাপনা করার জন্যে একটা দেশীয় আইন না থাকলে, তাদের সঙ্গে কথাবার্তা

বলাটা ফলপ্রসূ হয় না। তাই আমরা পরামর্শ দিয়েছি সরকারকে যে, অবিলম্বে দেশের ভিতরে সামাজিক মাধ্যমগুলোর কার্যালয় স্থাপন করা, দ্বিতীয়ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবস্থাপনা একটি আইন তৈরি করে ফেলা হোক, যে রকম অনেক ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতে করেছে। সেই আইনটা হলে, আইনের ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে আমরা লেনদেনটা করতে পারবো। তবে এই মুহূর্তে সামাজিক গণমাধ্যমে যে কিছু বিশৃঙ্খলা এবং উচ্ছৃঙ্খলতা হচ্ছে, সেটা শুধু বাংলাদেশের জন্যে নয়, সারা পৃথিবীর নারীদের জন্যে, শিশুদের জন্যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যে এবং সামাজিক শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক হচ্ছে। তো সেদিকটা দেখা উচিত বলে মনে করি আমি।   ডোনেট বাংলাদেশঃ বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোন লেখা বা কার্টুন এঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিলেই

ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হচ্ছে, এতে বাকস্বাধীনতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, এ ব্যাপারে বক্তব্য কি?   হাসানুল হক ইনুঃ দেখুন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি ২০১৮ সালে তৈরি হয়েছে। আইনটি কিন্তু কোন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আইন না। এই আইনটা মূলত ডিজিটাল যে জগতটা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ এবং পৃথিবীতে তার ব্যবস্থাপনার জন্য এবং সেই আইনের মধ্য দিয়ে সাধারণ নাগরিককে, নারীকে, শিশুকে, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ইত্যাদি রক্ষা করার জন্য, সাইবার অপরাধীদের দমন করার জন্য আইনটি তৈরি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ আইনটা যখন প্রয়োগ করা হয় তখন কোন সাংবাদিক মাঝে মাঝে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাংবাদিক হিসেবে তাকে হয়রানি করা হয়নি। বরং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে

কাজগুলো করা যাবে না অর্থাৎ চরিত্রহরণ, মিথ্যাপ্রচার অথবা অপপ্রচার অথবা সামাজিক শান্তি নষ্ট করার জন্য উস্কানীমূলক কথাবার্তা অথবা তথ্য নির্ভর কোন কথাবার্তা- সেই সংক্রান্ত বিষয়ে কতিপয় সাংবাদিক মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন। সেইখানে আমি মনে করি যে- দুই বছর পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিচের কর্মচারীর কিছু বাড়াবাড়ি আছে, কিছু ক্ষমতার অপব্যবহার আছে। সুতরাং আইনটা আবার পর্যালোচনা করে সাংবাদিকদের এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আরও কিছু সংশোধন করা দরকার। সেই দিক থেকে আমি মনে করি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকুক।সংশোধনের জন্য যদি প্রস্তাব আসে, সেগুলো আমরা আলোচনা করে সমাধান করতে পারবো।   ডোনেট বাংলাদেশঃ কিছুদিন আগে প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট-এ মামলা

দেয়া হয়েছে, তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল; এর আগে কার্টুনিস্ট কিশোর, ফটোগ্রাফার কাজলসহ অনেক সাংবাদিককে নানা আইনে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বাকস্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে, আপনি যে এই প্রচলিত আইনের অপপ্রয়োগ বা বাড়াবাড়ির কথা বললেন, তা রোধে আপনারা কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি?   হাসানুল হক ইনুঃ প্রথম কথা হচ্ছে যেকোন দণ্ডবিধি, যেকোন আইনের প্রয়োগে নিচের পর্যায়ে বা একটা পর্যায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার থাকে। যেমন ৩০২ ধারায় খুনের আসামী, খুনের ঘটনা ঘটে, দেখবেন যে অনেক ক্ষেত্রে বহু লোককে জড়িয়ে মামলাটা করা হয়। সুতরাং এই যে অপব্যবহারটা রোধ করার সবচেয়ে বড় ব্যবস্থা হচ্ছে, শক্তিশালী একটা বিচার ব্যবস্থা। সুতরাং এরকম কোন অপব্যবহার ঘটলে বিচার ব্যবস্থার কাছ থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়। যেমন রোজিনা ইসলাম বা কাজলের ব্যাপারটা দেরিতে হলেও কিন্তু বিচার ব্যবস্থার কাছ থেকে জামিন পেয়ে গেছে এবং মামলা বিচারাধীন আছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, তারপরও আমি বলবো যে বিচার বিভাগের যে নিম্ন আদালতগুলো, সেইখানে আমরা আগেই সমালোচনা করে বলেছি যে, নিম্ন আদালতের বিচারকরা বহু সময় সঠিকভাবে বিচারটা করেননি অথবা বিবেচনাটি করেননি। সেই জন্যে আমাদের সমালোচনার সাথে সাথে উচ্চ আদালত, হাইকোর্টও কিন্তু তাদেরকে বকা দিয়েছে এবং তাদের কৈফিয়ত তলব করেছে। সুতরাং আমি মনে করি যে, আধুনিক বাংলাদেশকে চালু রাখতে হলে, বিচার ব্যবস্থার কিছু ব্যাপার পর্যবেক্ষণ করে এগুলো সংশোধন করা দরকার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন... যেই যেই ক্ষেত্রে অপব্যবহারের জায়গাটা রয়েছে, সেই জায়গাটায় আবার পর্যালোচনা করে সংশোধন করে একটা প্রতিকারের ব্যবস্থা করে দেয়া দরকার। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোন সাংবাদিক হয়রানি হোক এটা আমি চাই না এবং ভিন্নমত প্রকাশ করার জন্য অথবা সরকারের সমালোচনা করার জন্য কেউ হয়রানি হোন বাংলাদেশে- এটা আমি চাই না এবং এরকম কোন হয়রানি হলে তা প্রতিকারের জন্য আমি পার্লামেন্টেও সোচ্চার হবো।   ডোনেট বাংলাদেশঃ সম্প্রতি আপনি সাইবার বিষয়ক বেশ কয়েকটি আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এই বৈঠকের অভিজ্ঞতাগুলো যদি একটু শেয়ার করতেন।   হাসানুল হক ইনুঃ দেখুন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে আমি নয় সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম নিয়ে ওয়াশিংটনে পাচঁদিনব্যাপী দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি এবং সেখানে মূল বিষয়টা ছিল যে প্রসারমান ডিজিটাল জগতের ভেতরে যে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে উঠছে, তার জন্য আইন তৈরি করা এবং ডিজিটাল বিষয়গুলোর উপরে আইনকানুন তৈরি করা, যাতে বাংলাদেশে এবং এখানেও বা পৃথিবীতে ডিজিটাল জগতের ব্যবস্থাপনা আইনগতভাবে করা যায়। সুতরাং একটা আইনী কাঠামো তৈরি করার জন্য আসলে আমরা দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছি। আমেরিকানদের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের অভিজ্ঞতা, যেরকম আমাদের এখানে এখনো ই-কমার্স অ্যাক্ট হয়নি, ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্টটা এখনো হয়নি, প্রাইভেসি অ্যাক্টটা এখনো হয়নি। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তার জগতটাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে গেলে, বাংলাদেশের বিনিয়োগটা নিশ্চিত করতে হলে, ডেটা অর্থাৎ তথ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যের সুশাসনটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য যদি চুরি হয়ে যায়, তাহলে কেউ বিনিয়োগ করবে না। সুতরাং এখানে আমেরিকাসহ ইউরোপের দেশগুলোর একটা স্বার্থ আছে, যে বাংলাদেশ কিভাবে ডিজিটাল জগতটাকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য প্রাইভেসি অ্যাক্ট, ডেটা নিরাপত্তা আইন, ই-কমার্স অ্যাক্টটা করছে এবং ক্রসবর্ডার আইনটা কিভাবে এখানে চালু হবে, যাতে টাকার লেনদেনটা আমরা করতে পারি। সুতরাং মূলত আলোচনাটা হয়েছে একটা আইনি কাঠামো কিভাবে তৈরি করা যায় এবং অবকাঠামোতে কিভাবে নিরাপত্তা বিধান করা য়ায়-- সে ব্যাপারেই আলোচনা হয়েছে। আমি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মনে করছি এবং এটা আমাদের দুই দেশকেই সমৃদ্ধ করবে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


































শীর্ষ সংবাদ:
নিয়োগে দুর্নীতি: জীবন বীমার এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা মিহির ঘোষসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে গাইবান্ধায় সিপিবির বিক্ষোভ গাইবান্ধায় সেনাবাহিনীর ভূয়া ক্যাপ্টেন গ্রেফতার জগন্নাথপুরে সড়ক নির্মানের অভিযোগ এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তারাকান্দায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ দেবহাটায় অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার আটক -১ রামগড়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাগমারায় ভেদুর মোড় হতে নরদাশ পর্যন্ত পাকা রাস্তার শুভ উদ্বোধন সরকারি বিধিনিষেধ না মানায় শার্শায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায় মধুখালীতে তিন মাসে ৪৩ টি গরু চুরি গাইবান্ধায় বঙ্গবন্ধু জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন গাইবান্ধায় শীতবস্ত্র বিতরণ রাজশাহীতে পুত্রের হাতে পিতা খুন বাগমারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার রামগড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শীতবস্ত্র বিতরণ করেন ইউএনও ভাঃ উম্মে হাবিবা মজুমদার জগন্নাথপুরে জুয়ার আসরে পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ এক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সিপিবি নেতা মিহির ঘোষসহ ৬ জন কারাগারে পিআইও’র মানহানির মামলায় গাইবান্ধার ৪ সাংবাদিকসহ ৫ জনের জামিন গাইবান্ধায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনালী ব্যাংক লি. গোমস্তাপুর শাখায় শীতবস্ত্র বিতরণ