চেয়ারম্যানদের বিদ্রোহের মুখে এমপি হারুন - বর্ণমালা টেলিভিশন

নির্বাচনি এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা বিএইচ হারুন। এরই মধ্যে হারুনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভা বর্জন করেছেন তারা।

পরিস্থিতির বদল না হলে ভবিষ্যতেও একই ধারা অব্যাহত থাকবে বলছেন চেয়ারম্যানরা। নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করাসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন করাই এ বর্জনের কারণ বলে জানিয়েছেন সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতারা। এসব অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ সংসদ সদস্য বিএইচ হারুন।

নির্বাচিত হওয়ার পর চেয়ারম্যানরা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতও করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র তো তারা দায়িত্বে এলেন। এরই মধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দ

নিয়ে অভিযোগ তোলা কতটুকু শোভন? এই সময়ের মধ্যে নতুন বরাদ্দ কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প এসেছে কিনা সেটাও তো জানতে হবে। নির্বাচনি এলাকায় দলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো আসলে মান-অভিমান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে।

বর্তমান সরকারের সময় টানা ৩ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন বিএইচ হারুন। ধর্ম মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও তিনি। তবে নির্বাচনি এলাকায় খুব একটা শান্তিতে নেই এই আওয়ামী লীগ নেতা। শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হচ্ছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা এবং মাসের পর মাস এমনকি বছরেও একবার নির্বাচনি

এলাকায় না আসা।

এমনকি ঢাকায় গিয়েও তার সঙ্গে দেখা করা যেত না বলেও অভিযোগ নির্বাচনি এলাকার অনেকের। এসবের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নে দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত না করে নিজের ভাই মজিবুল হক কামালের মাধ্যমে সবকিছু করা, উপজেলার যাবতীয় উন্নয়ন কাজের একটি বড় অংশ নিজের বাড়ির চারপাশে নিয়ে যাওয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এড়িয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে বরাদ্দ বাটোয়ারার অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে।

মূলত এসব কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২৮ নভেম্বর। এমপি হারুন ওইদিন যোগ দেন রাজাপুর উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত বিশেষ উন্নয়ন সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। আর এ সভাতেই অনুপস্থিত থাকেন রাজাপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা। এমনকি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়া হায়দার খানও যোগ দেননি ওই সভায়।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুধু রাজাপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু। সভায় না যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার খান বলেন, আওয়ামী লীগের এমপি হয়েও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরই চেনেন না এমপি হারুন। ছোট ভাই মজিবুল হক কামালকে দিয়ে ভিন্ন একটা লীগ তৈরি করেছেন তিনি। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে ওই ভিন্ন লীগকে দিয়েই এখানে ঠিকাদারিসহ সব কাজকর্ম করান হারুন সাহেব। এই লীগে আবার আওয়ামী লীগের কেউ নেই।

উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিউটি সিকদার বলেন, জনগণ

যে আমাদের ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছে তার কোনো মূল্য নেই এমপি সাহেবের কাছে। আমার এলাকায় কাজ হচ্ছে অথচ আমি জানতে পারছি না। তার ছোট ভাই কখনোই আওয়ামী লীগ করেননি। অথচ সেই এখন এখানকার দ্বিতীয় এমপি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নে আমাদের সঙ্গে রাখা তো দূর, পরামর্শটুকুও শোনেন না এমপি হারুন।

সংসদ সদস্য বিএইচ হারুন বলেন, সাধারণ মানুষসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীই রয়েছে আমার সঙ্গে। তা না হলে পরপর ৩ বার এমপি হতে পারতাম না। আমার এলাকায় যত উন্নয়ন হয়েছে তা আশপাশের আর কোনো এলাকায় হয়নি। দলের পরীক্ষিত আর ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়েই ঝালকাঠী-১ আসনে আওয়ামী লীগের দুর্গ গড়ে তুলেছি। আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলে

পক্ষ-প্রতিপক্ষ থাকবেই।

আমার এলাকাতেও রয়েছে। তাই বলে আমাকে জনবিচ্ছিন্ন বলা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। ইউপি চেয়ারম্যানদের সভায় না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটা ছিল আসলে উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা। আমি ইউএনও সাহেবকে বলেছিলাম উপজেলার সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিমন্ত্রণ জানাতে। তারা সবাই উপস্থিতও ছিলেন। সেখানে উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানও সেখানে ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেছিলেন যে তারা সভার নিমন্ত্রণ পাননি। এটা সত্য নয়। ইউএনও সাহেব যে তাদের দাওয়াত দিয়েছেন তার প্রমাণ আছে।

নির্বাচনি এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা বিএইচ হারুন। এরই মধ্যে হারুনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভা বর্জন করেছেন তারা।

পরিস্থিতির বদল না হলে ভবিষ্যতেও একই ধারা অব্যাহত থাকবে বলছেন চেয়ারম্যানরা। নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করাসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন করাই এ বর্জনের কারণ বলে জানিয়েছেন সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতারা। এসব অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ সংসদ সদস্য বিএইচ হারুন।

নির্বাচিত হওয়ার পর চেয়ারম্যানরা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতও করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র তো তারা দায়িত্বে এলেন। এরই মধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দ

নিয়ে অভিযোগ তোলা কতটুকু শোভন? এই সময়ের মধ্যে নতুন বরাদ্দ কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প এসেছে কিনা সেটাও তো জানতে হবে। নির্বাচনি এলাকায় দলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো আসলে মান-অভিমান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে।

বর্তমান সরকারের সময় টানা ৩ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন বিএইচ হারুন। ধর্ম মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও তিনি। তবে নির্বাচনি এলাকায় খুব একটা শান্তিতে নেই এই আওয়ামী লীগ নেতা। শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হচ্ছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা এবং মাসের পর মাস এমনকি বছরেও একবার নির্বাচনি

এলাকায় না আসা।

এমনকি ঢাকায় গিয়েও তার সঙ্গে দেখা করা যেত না বলেও অভিযোগ নির্বাচনি এলাকার অনেকের। এসবের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নে দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত না করে নিজের ভাই মজিবুল হক কামালের মাধ্যমে সবকিছু করা, উপজেলার যাবতীয় উন্নয়ন কাজের একটি বড় অংশ নিজের বাড়ির চারপাশে নিয়ে যাওয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এড়িয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে বরাদ্দ বাটোয়ারার অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে।

মূলত এসব কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২৮ নভেম্বর। এমপি হারুন ওইদিন যোগ দেন রাজাপুর উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত বিশেষ উন্নয়ন সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। আর এ সভাতেই অনুপস্থিত থাকেন রাজাপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা। এমনকি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়া হায়দার খানও যোগ দেননি ওই সভায়।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুধু রাজাপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু। সভায় না যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার খান বলেন, আওয়ামী লীগের এমপি হয়েও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরই চেনেন না এমপি হারুন। ছোট ভাই মজিবুল হক কামালকে দিয়ে ভিন্ন একটা লীগ তৈরি করেছেন তিনি। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে ওই ভিন্ন লীগকে দিয়েই এখানে ঠিকাদারিসহ সব কাজকর্ম করান হারুন সাহেব। এই লীগে আবার আওয়ামী লীগের কেউ নেই।

উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিউটি সিকদার বলেন, জনগণ

যে আমাদের ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছে তার কোনো মূল্য নেই এমপি সাহেবের কাছে। আমার এলাকায় কাজ হচ্ছে অথচ আমি জানতে পারছি না। তার ছোট ভাই কখনোই আওয়ামী লীগ করেননি। অথচ সেই এখন এখানকার দ্বিতীয় এমপি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নে আমাদের সঙ্গে রাখা তো দূর, পরামর্শটুকুও শোনেন না এমপি হারুন।

সংসদ সদস্য বিএইচ হারুন বলেন, সাধারণ মানুষসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীই রয়েছে আমার সঙ্গে। তা না হলে পরপর ৩ বার এমপি হতে পারতাম না। আমার এলাকায় যত উন্নয়ন হয়েছে তা আশপাশের আর কোনো এলাকায় হয়নি। দলের পরীক্ষিত আর ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়েই ঝালকাঠী-১ আসনে আওয়ামী লীগের দুর্গ গড়ে তুলেছি। আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলে

পক্ষ-প্রতিপক্ষ থাকবেই।

আমার এলাকাতেও রয়েছে। তাই বলে আমাকে জনবিচ্ছিন্ন বলা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। ইউপি চেয়ারম্যানদের সভায় না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটা ছিল আসলে উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা। আমি ইউএনও সাহেবকে বলেছিলাম উপজেলার সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিমন্ত্রণ জানাতে। তারা সবাই উপস্থিতও ছিলেন। সেখানে উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানও সেখানে ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেছিলেন যে তারা সভার নিমন্ত্রণ পাননি। এটা সত্য নয়। ইউএনও সাহেব যে তাদের দাওয়াত দিয়েছেন তার প্রমাণ আছে।

উন্নয়ন বরাদ্দ প্রশ্নে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

চেয়ারম্যানদের বিদ্রোহের মুখে এমপি হারুন

স্থানীয় নেতাকর্মীদেরও অভিযোগের অন্ত নেই * ‘মাত্র তো তারা দায়িত্বে এলেন, অভিযোগ তোলা কতটা শোভন’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৯:১০ 73 ভিউ
নির্বাচনি এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের বিদ্রোহের মুখে পড়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা বিএইচ হারুন। এরই মধ্যে হারুনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলা সভা বর্জন করেছেন তারা। পরিস্থিতির বদল না হলে ভবিষ্যতেও একই ধারা অব্যাহত থাকবে বলছেন চেয়ারম্যানরা। নির্বাচনি এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করাসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বাস্তবায়ন করাই এ বর্জনের কারণ বলে জানিয়েছেন সেখানকার আওয়ামী লীগ নেতারা। এসব অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ সংসদ সদস্য বিএইচ হারুন। নির্বাচিত হওয়ার পর চেয়ারম্যানরা তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতও করেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র তো তারা দায়িত্বে এলেন। এরই মধ্যে উন্নয়ন বরাদ্দ

নিয়ে অভিযোগ তোলা কতটুকু শোভন? এই সময়ের মধ্যে নতুন বরাদ্দ কিংবা উন্নয়ন প্রকল্প এসেছে কিনা সেটাও তো জানতে হবে। নির্বাচনি এলাকায় দলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো আসলে মান-অভিমান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের সময় টানা ৩ বার সংসদ সদস্য হয়েছেন বিএইচ হারুন। ধর্ম মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিও তিনি। তবে নির্বাচনি এলাকায় খুব একটা শান্তিতে নেই এই আওয়ামী লীগ নেতা। শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হচ্ছে আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা এবং মাসের পর মাস এমনকি বছরেও একবার নির্বাচনি

এলাকায় না আসা। এমনকি ঢাকায় গিয়েও তার সঙ্গে দেখা করা যেত না বলেও অভিযোগ নির্বাচনি এলাকার অনেকের। এসবের পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নে দলীয় নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত না করে নিজের ভাই মজিবুল হক কামালের মাধ্যমে সবকিছু করা, উপজেলার যাবতীয় উন্নয়ন কাজের একটি বড় অংশ নিজের বাড়ির চারপাশে নিয়ে যাওয়া এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এড়িয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে বরাদ্দ বাটোয়ারার অভিযোগও উঠে তার বিরুদ্ধে। মূলত এসব কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২৮ নভেম্বর। এমপি হারুন ওইদিন যোগ দেন রাজাপুর উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত বিশেষ উন্নয়ন সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। আর এ সভাতেই অনুপস্থিত থাকেন রাজাপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা। এমনকি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়া হায়দার খানও যোগ দেননি ওই সভায়। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শুধু রাজাপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা আক্তার লাইজু। সভায় না যাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার খান বলেন, আওয়ামী লীগের এমপি হয়েও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরই চেনেন না এমপি হারুন। ছোট ভাই মজিবুল হক কামালকে দিয়ে ভিন্ন একটা লীগ তৈরি করেছেন তিনি। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে ওই ভিন্ন লীগকে দিয়েই এখানে ঠিকাদারিসহ সব কাজকর্ম করান হারুন সাহেব। এই লীগে আবার আওয়ামী লীগের কেউ নেই। উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিউটি সিকদার বলেন, জনগণ

যে আমাদের ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানিয়েছে তার কোনো মূল্য নেই এমপি সাহেবের কাছে। আমার এলাকায় কাজ হচ্ছে অথচ আমি জানতে পারছি না। তার ছোট ভাই কখনোই আওয়ামী লীগ করেননি। অথচ সেই এখন এখানকার দ্বিতীয় এমপি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রশ্নে আমাদের সঙ্গে রাখা তো দূর, পরামর্শটুকুও শোনেন না এমপি হারুন। সংসদ সদস্য বিএইচ হারুন বলেন, সাধারণ মানুষসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীই রয়েছে আমার সঙ্গে। তা না হলে পরপর ৩ বার এমপি হতে পারতাম না। আমার এলাকায় যত উন্নয়ন হয়েছে তা আশপাশের আর কোনো এলাকায় হয়নি। দলের পরীক্ষিত আর ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়েই ঝালকাঠী-১ আসনে আওয়ামী লীগের দুর্গ গড়ে তুলেছি। আওয়ামী লীগের মতো একটি বড় দলে

পক্ষ-প্রতিপক্ষ থাকবেই। আমার এলাকাতেও রয়েছে। তাই বলে আমাকে জনবিচ্ছিন্ন বলা হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। ইউপি চেয়ারম্যানদের সভায় না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটা ছিল আসলে উন্নয়ন সমন্বয় ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা। আমি ইউএনও সাহেবকে বলেছিলাম উপজেলার সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নিমন্ত্রণ জানাতে। তারা সবাই উপস্থিতও ছিলেন। সেখানে উপজেলায় চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং সম্ভাব্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানও সেখানে ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করেছিলেন যে তারা সভার নিমন্ত্রণ পাননি। এটা সত্য নয়। ইউএনও সাহেব যে তাদের দাওয়াত দিয়েছেন তার প্রমাণ আছে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


































শীর্ষ সংবাদ:
নিয়োগে দুর্নীতি: জীবন বীমার এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা মিহির ঘোষসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে গাইবান্ধায় সিপিবির বিক্ষোভ গাইবান্ধায় সেনাবাহিনীর ভূয়া ক্যাপ্টেন গ্রেফতার জগন্নাথপুরে সড়ক নির্মানের অভিযোগ এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তারাকান্দায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ দেবহাটায় অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার আটক -১ রামগড়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাগমারায় ভেদুর মোড় হতে নরদাশ পর্যন্ত পাকা রাস্তার শুভ উদ্বোধন সরকারি বিধিনিষেধ না মানায় শার্শায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায় মধুখালীতে তিন মাসে ৪৩ টি গরু চুরি গাইবান্ধায় বঙ্গবন্ধু জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন গাইবান্ধায় শীতবস্ত্র বিতরণ রাজশাহীতে পুত্রের হাতে পিতা খুন বাগমারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার রামগড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শীতবস্ত্র বিতরণ করেন ইউএনও ভাঃ উম্মে হাবিবা মজুমদার জগন্নাথপুরে জুয়ার আসরে পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ এক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সিপিবি নেতা মিহির ঘোষসহ ৬ জন কারাগারে পিআইও’র মানহানির মামলায় গাইবান্ধার ৪ সাংবাদিকসহ ৫ জনের জামিন গাইবান্ধায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনালী ব্যাংক লি. গোমস্তাপুর শাখায় শীতবস্ত্র বিতরণ