ঢাকা, Tuesday 28 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

চালের দাম কমেনি, যে কোন সময় আমদানি শুরু

প্রকাশিত : 11:54 AM, 7 October 2020 Wednesday
53 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

সরকারের কঠোর পদক্ষেপেও বাজারে চালের দাম কমেনি। বরং কোথাও কোথাও সামান্য বেড়েছে। বাজারদর বেঁধে দেয়ার পরও ব্যবসায়ীরা তা কার্যকর করেনি। এ অবস্থায় সরকার আবারও আমদানিমুখী হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জনকণ্ঠকে বলেন, চাল আমদানির সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা আছে। যে কোন সময় আমদানির কার্যক্রম শুরু হবে।

সরকারী কোন পদক্ষেপেই সিন্ডিকেট মুক্ত হতে পারছে না চালের বাজার। এ অবস্থায় চালের অসাধু ব্যবসায়ী, মজুদদার ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত সাতটি মনিটরিং মাঠে রয়েছে। এর পরও সিন্ডিকেট মিল মালিকদের কারসাজি বন্ধ হয়নি। দাম বাড়ার কোন কারণ না

থাকলেও অস্থির হয়ে উঠছে চালের বাজার। দাম বাড়ার পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন এ রকম মিলারদের খুঁজে খুঁজে লাইসেন্স বাতিল করার চিন্তা-ভাবনা করছে সরকার। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ধানচাল সরবরাহ না করা এবং অবৈধ মজুদের কারণে মিল মালিকদের কালো তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাল আমদানি উন্মুক্ত করে দিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করার কথা ভাবা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার দাম নির্ধারণের পর দেশের কোথাও চালের দাম বাড়েনি। চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এটি অব্যাহত থাকবে। অবৈধভাবে মজুদ ধান বাজারে ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। আশা

করি, চালের বাজার কিছুটা কমে আসবে। তিনি আরও বলেন, চাল আমদানির ব্যাপারে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা রয়েছে। প্রয়োজনে যে কোন সময় আমদানি শুরু করা হবে। তিনি বলেন, অভিযানের কারণে চালের বাজার আর বাড়ছে না। আস্তে আস্তে বাজার আরও কমে আসবে।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ১/২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচয়ে কম দামের মোটা স্বর্ণা খ্যাত চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। আর সরু মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৬২-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। পুরান ঢাকার কাপ্তানবাজারের নুরু রাইছ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মোঃ নূরুল ইসলাম

জনকণ্ঠকে বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে চালের দাম কেজিতে ১/২ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মোটা চালের দাম একটু বেশি। এছাড়া মানভেদে মিনিকেট ৫০ কেজির বস্তা ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা চালের বস্তা ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বেশি হওয়ার কারণে খুচরায়ও দাম বেশি।

এদিকে, চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে। একেবারে খেটেখাওয়া সাধারণ মানুষ ও দিনমজুর মানুষের খাবারের ভরসা মোটা চাল। স্বর্ণা ও চায়না ইরি খ্যাত মোটা চাল গত ১৫দিন আগে পর্যন্ত রাজধানীতে প্রতিকেজি

৪২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন বাড়তে বাড়তে ৫০ টাকায় উঠে গেছে দাম। এ প্রসঙ্গে খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন মার্কেটের চাল বিক্রেতা জামশেদ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিকেজি পাইজাম ও লতা চাল ৫০-৫৩, স্বর্ণা চাল ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৫৬-৬০ এবং মিনিকেট মানভেদে ৬২-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। হঠাৎ করে বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে। কেন বাড়ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শুনেছি ধানের দাম বাড়ার কারণে মিলগেটে চালের দাম বেড়েছে। আর এ কারণে পাইকারি বাজারেও দাম বাড়তি। মজুদকৃত চাল বাজারে না এলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য কার্যকর না হওয়ায় চাল আমদানি উন্মুক্ত করে

দেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। মূল্য বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সরকার সরু চাল আমদানির অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। এর আগে গত সপ্তাহে খাদ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে চালকল মালিক ও চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে পঞ্চাশ কেজি ওজনের ভালমানের এক বস্তা মিনিকেট চালের দাম মিল গেটে ২৫৭৫ টাকা এবং মাঝারিমানের চালের দাম ২১৫০-২২৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এতে নতুন দর অনুযায়ী, মিল গেটে মিনিকেট চালের প্রতিকেজির দাম পড়বে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা। আর মাঝারি চালের দর মিল গেটে পড়বে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা দরে। কিন্তু বাজারে

এই দাম কার্যকর হয়নি। ওই সময় মন্ত্রী আরও জানান, সবাইকে এই দাম কার্যকর করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ১০ দিনের মধ্যে সরু চাল আমদানি করা হবে। একই সঙ্গে ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনক্রমেই আগামী এক মাস চালের দাম বাড়ানো যাবে না বলে ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করেন সাধন মজুমদার, পারিবারিকভাবে যিনি নিজেও চালকলের মালিক। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, র‌্যাব, ভোক্তা অধিদফতর, এনএসআই অভিযানে গেলে আপনাদের মানসম্মান নষ্ট হয়। কিন্তু নওগাঁয় যারা চাল স্টক করে রেখেছিল, তারা ডিসির সঙ্গে বসে বলেছেন, এসব ধান বাজারে ছাড়ার ব্যবস্থা করছি অভিযান বন্ধ রাখুন। ধান তো মজুদ আছে, এই ধান বের

করতে হবে। বাজার বাড়ানো যাবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT