গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য ট্রাক প্রতি দুই হাজার টাকা চাঁদা - বর্ণমালা টেলিভিশন

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। সে অনুযায়ী সবজির দাম কমার কথা। কিন্তু কমেনি। উলটো বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে যৌক্তিকভাবে সবজির দাম বাড়ার কথা প্রতি কেজিতে ১১ পয়সা।

কিন্তু বাস্তবে বেড়েছে ৩৬ পয়সা পর্যন্ত। গত ৩ নভেম্বর ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে। সে অনুযায়ী বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে রাজধানীর কাওরানবাজারে প্রতি কিলোমিটারে পরিবহণ খরচ বাড়ার কথা ছয় টাকা। কিন্তু বেড়েছে ১০ টাকা ৮০ পয়সা।

এর মূল কারণ চাঁদবাজি। ট্রাক থেকে প্রতি ট্রিপে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে দুই হাজার টাকা। এছাড়া তিনটি পয়েন্ট থেকে পুলিশ খরচ বাবদ প্রতি ট্রাক থেকে আদায় করা হয় এক হাজার ৫০০ টাকা। সম্প্রতি একটি

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এরকম তথ্য।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সবজির খুচরা বিক্রেতা লাভ করছেন ক্রয়মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। অপরদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অনুযায়ী যে হারে পরিবহণ ব্যয় বাড়ানোর কথা তার চেয়ে তিনগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে রাজধানীর কাওরানবাজারে পণ্য পরিবহণে বগুড়া পৌর টোল পরিশোধ ও চাঁদা দিতে হয় ২০০ টাকা। যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো পৌরসভা এ ধরনের টোল আদায় করতে পারে না।

নিয়মবহির্ভূতভাবে যেসব পৌরসভা টোল আদায় করছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়া, শেরপুর ও সিরাজগঞ্জ। সিরাজগঞ্জ ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ট্রাকপ্রতি আদায় করা হয় ৫০ টাকা।

অপরদিকে

সিরাজগঞ্জ মোড়, যমুনা সেতু গোলচত্বর ও টাঙ্গাইল মোড়ে ট্রাকপ্রতি হাইওয়ে পুলিশকে দিতে হয় মাসে ৫০০ টাকা। ট্রিপপ্রতি যমুনা সেতু টোলে এক হাজার ৪০০ ও কাওরানবাজারে পার্কিং বাবদ দিতে হয় ৫০০ টাকা। সাভারের আমিনবাজারে লাঠিয়াল বাহিনীকে দিতে হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা।

টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে, বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ট্রাক থেকে কোনো পৌর টোল আদায় করা হয় বলে আমার জানা নেই। যদি কেউ টাকা তুলে থাকে তাহলে সে চাঁদাবাজি করছে। এর সঙ্গে পৌরসভার কোনো সম্পর্ক নেই।

বগুড়ার শেরপুরের পৌর মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, সবজির ট্রাক থেকে কোনো টোল আদায় করা হয় বলে আমার জানা নেই। তবে

বাস টার্মিনাল থেকে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেলের দাম বাড়ার আগে মহাস্থানহাট থেকে পাঁচ টনের একটি ট্রাক কাওরানবাজারে আসতে ভাড়া নিত ১২ হাজার টাকা। আর এখন নিচ্ছে ১৬ হাজার টাকা। রাস্তায় যত খরচ হয় সবই ট্রাক ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

সবজি বিক্রিতে খুচরা বিক্রেতাদের অস্বাভাবিক লাভের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ নভেম্বর এক সবজি বেপারী মহাস্থানহাটে কৃষকের কাছ থেকে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ কেনেন ৪০ টাকায়। কাওরানবাজার পর্যন্ত আনতে খরচ হয় আরও পাঁচ টাকা।

তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন ৪৮ টাকা দরে। পাইকার প্রতিকেজি কাঁচামরিচে আড়তের খাজনা দেন এক

টাকা করে। দোকান ভাড়া বাবদ পাইকারের খরচ হয় আরও এক টাকা করে। এ হিসাবে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের পেছনে পাইকারের মোট খরচ ৫০ টাকা।

আর পাইকার ওই মরিচ খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন ৫৫ টাকা দরে। পরদিন অর্থাৎ ১৬ নভেম্বর ওই মরিচ শান্তিনগর খুচরা বাজারে ১০০ টাকা ও হাতিরপুল বাজারে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

১৫ নভেম্বর নাটোরের হবিতপুর থেকে কাওরানবাজারে আসা একজন শিম ব্যবসায়ী গোয়েন্দাদের জানান, কাওরানবাজার পর্যন্ত শিম নিয়ে আসতে তার খরচ হয়েছে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা। ওই শিম তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছেন ৩৩ টাকা দরে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়তের খাজনা ও দোকান ভাড়া বাবদ পাইকারের খরচ হয়

আরও দুই টাকা। সে অনুযায়ী প্রতি কেজি শিমে তার খরচ হয় ৩৫ টাকা করে। তিনি খুচরা বিক্রেতার কাছে ওই শিম বিক্রি করেন ৪০ টাকা দরে।

পরদিন ১৬ নভেম্বর শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা ওই শিম বিক্রি করছেন ৭০ টাকা দরে। আর হাতিরঝিলে ওই শিম ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

বেগুন, শশা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পটল, পেঁপে, মূলা, ধনেপাতা ও ঢেঁড়সসহ অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। এর কারণ হিসাবে ব্যবসায়ীরা ডিজেলের দাম বাড়াকে দায়ী করছেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, যে হারে ডিজেলের

দাম বাড়ানো হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি হারে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছেন।

সেই হিসাবে বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত রাস্তায় (২০২ কিলোমিটার) একটি পাঁচ টনের ট্রাকের জ্বালানি খরচ বেড়েছে এক হাজার ২১২ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ার কথা ছিল ছয় টাকা।

কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাড়ানো হয়েছে ১৯ টাকা ৮০ পয়সা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে প্রতিকেজি সবজির পরিবহণ ব্যয় ১১ পয়সা বাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু বাড়ানো হয়েছে ৩৬ পয়সা।

গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরকেন্দ্রিক ভোক্তার কাছে সবজি পৌঁছার আগে বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়। হাত বদল

ও পরিবহণ চাঁদাবাজি ছাড়াও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফালোভী মনোভাবসহ নানা কারণে সবজির দাম বাড়ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাইকারি ক্রয়মূল্যের ৭০-৮০ ভাগ লাভ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তারা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।

গোয়েন্দাদের সুপারিশ, সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত হাত বদল কমাতে হবে। পরিবহণ ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি করতে হবে।

পাইকারি বাজার নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি খুচরা বাজারের মূল্য তালিকা প্রস্তুত ও বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া সব স্তরের সবজি ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি জরুরি। একইসঙ্গে নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যবসায়ীদের এর আওতায় এনে খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। সে অনুযায়ী সবজির দাম কমার কথা। কিন্তু কমেনি। উলটো বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে যৌক্তিকভাবে সবজির দাম বাড়ার কথা প্রতি কেজিতে ১১ পয়সা।

কিন্তু বাস্তবে বেড়েছে ৩৬ পয়সা পর্যন্ত। গত ৩ নভেম্বর ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে। সে অনুযায়ী বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে রাজধানীর কাওরানবাজারে প্রতি কিলোমিটারে পরিবহণ খরচ বাড়ার কথা ছয় টাকা। কিন্তু বেড়েছে ১০ টাকা ৮০ পয়সা।

এর মূল কারণ চাঁদবাজি। ট্রাক থেকে প্রতি ট্রিপে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে দুই হাজার টাকা। এছাড়া তিনটি পয়েন্ট থেকে পুলিশ খরচ বাবদ প্রতি ট্রাক থেকে আদায় করা হয় এক হাজার ৫০০ টাকা। সম্প্রতি একটি

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এরকম তথ্য।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সবজির খুচরা বিক্রেতা লাভ করছেন ক্রয়মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। অপরদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অনুযায়ী যে হারে পরিবহণ ব্যয় বাড়ানোর কথা তার চেয়ে তিনগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে রাজধানীর কাওরানবাজারে পণ্য পরিবহণে বগুড়া পৌর টোল পরিশোধ ও চাঁদা দিতে হয় ২০০ টাকা। যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো পৌরসভা এ ধরনের টোল আদায় করতে পারে না।

নিয়মবহির্ভূতভাবে যেসব পৌরসভা টোল আদায় করছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়া, শেরপুর ও সিরাজগঞ্জ। সিরাজগঞ্জ ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ট্রাকপ্রতি আদায় করা হয় ৫০ টাকা।

অপরদিকে

সিরাজগঞ্জ মোড়, যমুনা সেতু গোলচত্বর ও টাঙ্গাইল মোড়ে ট্রাকপ্রতি হাইওয়ে পুলিশকে দিতে হয় মাসে ৫০০ টাকা। ট্রিপপ্রতি যমুনা সেতু টোলে এক হাজার ৪০০ ও কাওরানবাজারে পার্কিং বাবদ দিতে হয় ৫০০ টাকা। সাভারের আমিনবাজারে লাঠিয়াল বাহিনীকে দিতে হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা।

টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে, বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ট্রাক থেকে কোনো পৌর টোল আদায় করা হয় বলে আমার জানা নেই। যদি কেউ টাকা তুলে থাকে তাহলে সে চাঁদাবাজি করছে। এর সঙ্গে পৌরসভার কোনো সম্পর্ক নেই।

বগুড়ার শেরপুরের পৌর মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, সবজির ট্রাক থেকে কোনো টোল আদায় করা হয় বলে আমার জানা নেই। তবে

বাস টার্মিনাল থেকে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেলের দাম বাড়ার আগে মহাস্থানহাট থেকে পাঁচ টনের একটি ট্রাক কাওরানবাজারে আসতে ভাড়া নিত ১২ হাজার টাকা। আর এখন নিচ্ছে ১৬ হাজার টাকা। রাস্তায় যত খরচ হয় সবই ট্রাক ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

সবজি বিক্রিতে খুচরা বিক্রেতাদের অস্বাভাবিক লাভের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ নভেম্বর এক সবজি বেপারী মহাস্থানহাটে কৃষকের কাছ থেকে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ কেনেন ৪০ টাকায়। কাওরানবাজার পর্যন্ত আনতে খরচ হয় আরও পাঁচ টাকা।

তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন ৪৮ টাকা দরে। পাইকার প্রতিকেজি কাঁচামরিচে আড়তের খাজনা দেন এক

টাকা করে। দোকান ভাড়া বাবদ পাইকারের খরচ হয় আরও এক টাকা করে। এ হিসাবে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের পেছনে পাইকারের মোট খরচ ৫০ টাকা।

আর পাইকার ওই মরিচ খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন ৫৫ টাকা দরে। পরদিন অর্থাৎ ১৬ নভেম্বর ওই মরিচ শান্তিনগর খুচরা বাজারে ১০০ টাকা ও হাতিরপুল বাজারে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

১৫ নভেম্বর নাটোরের হবিতপুর থেকে কাওরানবাজারে আসা একজন শিম ব্যবসায়ী গোয়েন্দাদের জানান, কাওরানবাজার পর্যন্ত শিম নিয়ে আসতে তার খরচ হয়েছে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা। ওই শিম তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছেন ৩৩ টাকা দরে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়তের খাজনা ও দোকান ভাড়া বাবদ পাইকারের খরচ হয়

আরও দুই টাকা। সে অনুযায়ী প্রতি কেজি শিমে তার খরচ হয় ৩৫ টাকা করে। তিনি খুচরা বিক্রেতার কাছে ওই শিম বিক্রি করেন ৪০ টাকা দরে।

পরদিন ১৬ নভেম্বর শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা ওই শিম বিক্রি করছেন ৭০ টাকা দরে। আর হাতিরঝিলে ওই শিম ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়।

বেগুন, শশা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পটল, পেঁপে, মূলা, ধনেপাতা ও ঢেঁড়সসহ অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। এর কারণ হিসাবে ব্যবসায়ীরা ডিজেলের দাম বাড়াকে দায়ী করছেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, যে হারে ডিজেলের

দাম বাড়ানো হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি হারে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছেন।

সেই হিসাবে বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত রাস্তায় (২০২ কিলোমিটার) একটি পাঁচ টনের ট্রাকের জ্বালানি খরচ বেড়েছে এক হাজার ২১২ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ার কথা ছিল ছয় টাকা।

কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাড়ানো হয়েছে ১৯ টাকা ৮০ পয়সা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে প্রতিকেজি সবজির পরিবহণ ব্যয় ১১ পয়সা বাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু বাড়ানো হয়েছে ৩৬ পয়সা।

গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরকেন্দ্রিক ভোক্তার কাছে সবজি পৌঁছার আগে বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়। হাত বদল

ও পরিবহণ চাঁদাবাজি ছাড়াও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফালোভী মনোভাবসহ নানা কারণে সবজির দাম বাড়ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাইকারি ক্রয়মূল্যের ৭০-৮০ ভাগ লাভ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তারা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।

গোয়েন্দাদের সুপারিশ, সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত হাত বদল কমাতে হবে। পরিবহণ ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি করতে হবে।

পাইকারি বাজার নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি খুচরা বাজারের মূল্য তালিকা প্রস্তুত ও বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এছাড়া সব স্তরের সবজি ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি জরুরি। একইসঙ্গে নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যবসায়ীদের এর আওতায় এনে খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য ট্রাক প্রতি দুই হাজার টাকা চাঁদা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৮:৪৯ 87 ভিউ
বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। সে অনুযায়ী সবজির দাম কমার কথা। কিন্তু কমেনি। উলটো বেড়েছে তিনগুণেরও বেশি। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে যৌক্তিকভাবে সবজির দাম বাড়ার কথা প্রতি কেজিতে ১১ পয়সা। কিন্তু বাস্তবে বেড়েছে ৩৬ পয়সা পর্যন্ত। গত ৩ নভেম্বর ডিজেলের মূল্য প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বেড়েছে। সে অনুযায়ী বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে রাজধানীর কাওরানবাজারে প্রতি কিলোমিটারে পরিবহণ খরচ বাড়ার কথা ছয় টাকা। কিন্তু বেড়েছে ১০ টাকা ৮০ পয়সা। এর মূল কারণ চাঁদবাজি। ট্রাক থেকে প্রতি ট্রিপে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে দুই হাজার টাকা। এছাড়া তিনটি পয়েন্ট থেকে পুলিশ খরচ বাবদ প্রতি ট্রাক থেকে আদায় করা হয় এক হাজার ৫০০ টাকা। সম্প্রতি একটি

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এরকম তথ্য। প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সবজির খুচরা বিক্রেতা লাভ করছেন ক্রয়মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। অপরদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি অনুযায়ী যে হারে পরিবহণ ব্যয় বাড়ানোর কথা তার চেয়ে তিনগুণেরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে রাজধানীর কাওরানবাজারে পণ্য পরিবহণে বগুড়া পৌর টোল পরিশোধ ও চাঁদা দিতে হয় ২০০ টাকা। যদিও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী কোনো পৌরসভা এ ধরনের টোল আদায় করতে পারে না। নিয়মবহির্ভূতভাবে যেসব পৌরসভা টোল আদায় করছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বগুড়া, শেরপুর ও সিরাজগঞ্জ। সিরাজগঞ্জ ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ট্রাকপ্রতি আদায় করা হয় ৫০ টাকা। অপরদিকে

সিরাজগঞ্জ মোড়, যমুনা সেতু গোলচত্বর ও টাঙ্গাইল মোড়ে ট্রাকপ্রতি হাইওয়ে পুলিশকে দিতে হয় মাসে ৫০০ টাকা। ট্রিপপ্রতি যমুনা সেতু টোলে এক হাজার ৪০০ ও কাওরানবাজারে পার্কিং বাবদ দিতে হয় ৫০০ টাকা। সাভারের আমিনবাজারে লাঠিয়াল বাহিনীকে দিতে হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। টোল আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে, বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ট্রাক থেকে কোনো পৌর টোল আদায় করা হয় বলে আমার জানা নেই। যদি কেউ টাকা তুলে থাকে তাহলে সে চাঁদাবাজি করছে। এর সঙ্গে পৌরসভার কোনো সম্পর্ক নেই। বগুড়ার শেরপুরের পৌর মেয়র জানে আলম খোকা বলেন, সবজির ট্রাক থেকে কোনো টোল আদায় করা হয় বলে আমার জানা নেই। তবে

বাস টার্মিনাল থেকে টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সম্প্রতি টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তেলের দাম বাড়ার আগে মহাস্থানহাট থেকে পাঁচ টনের একটি ট্রাক কাওরানবাজারে আসতে ভাড়া নিত ১২ হাজার টাকা। আর এখন নিচ্ছে ১৬ হাজার টাকা। রাস্তায় যত খরচ হয় সবই ট্রাক ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সবজি বিক্রিতে খুচরা বিক্রেতাদের অস্বাভাবিক লাভের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ নভেম্বর এক সবজি বেপারী মহাস্থানহাটে কৃষকের কাছ থেকে প্রতিকেজি কাঁচামরিচ কেনেন ৪০ টাকায়। কাওরানবাজার পর্যন্ত আনতে খরচ হয় আরও পাঁচ টাকা। তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন ৪৮ টাকা দরে। পাইকার প্রতিকেজি কাঁচামরিচে আড়তের খাজনা দেন এক

টাকা করে। দোকান ভাড়া বাবদ পাইকারের খরচ হয় আরও এক টাকা করে। এ হিসাবে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের পেছনে পাইকারের মোট খরচ ৫০ টাকা। আর পাইকার ওই মরিচ খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করেন ৫৫ টাকা দরে। পরদিন অর্থাৎ ১৬ নভেম্বর ওই মরিচ শান্তিনগর খুচরা বাজারে ১০০ টাকা ও হাতিরপুল বাজারে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। ১৫ নভেম্বর নাটোরের হবিতপুর থেকে কাওরানবাজারে আসা একজন শিম ব্যবসায়ী গোয়েন্দাদের জানান, কাওরানবাজার পর্যন্ত শিম নিয়ে আসতে তার খরচ হয়েছে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা। ওই শিম তিনি পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছেন ৩৩ টাকা দরে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আড়তের খাজনা ও দোকান ভাড়া বাবদ পাইকারের খরচ হয়

আরও দুই টাকা। সে অনুযায়ী প্রতি কেজি শিমে তার খরচ হয় ৩৫ টাকা করে। তিনি খুচরা বিক্রেতার কাছে ওই শিম বিক্রি করেন ৪০ টাকা দরে। পরদিন ১৬ নভেম্বর শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা ওই শিম বিক্রি করছেন ৭০ টাকা দরে। আর হাতিরঝিলে ওই শিম ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়। বেগুন, শশা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, পটল, পেঁপে, মূলা, ধনেপাতা ও ঢেঁড়সসহ অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। এর কারণ হিসাবে ব্যবসায়ীরা ডিজেলের দাম বাড়াকে দায়ী করছেন। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, যে হারে ডিজেলের

দাম বাড়ানো হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি হারে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর সরকার ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছেন। সেই হিসাবে বগুড়ার মহাস্থানহাট থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত রাস্তায় (২০২ কিলোমিটার) একটি পাঁচ টনের ট্রাকের জ্বালানি খরচ বেড়েছে এক হাজার ২১২ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়ার কথা ছিল ছয় টাকা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাড়ানো হয়েছে ১৯ টাকা ৮০ পয়সা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে প্রতিকেজি সবজির পরিবহণ ব্যয় ১১ পয়সা বাড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু বাড়ানো হয়েছে ৩৬ পয়সা। গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণ, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরকেন্দ্রিক ভোক্তার কাছে সবজি পৌঁছার আগে বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়। হাত বদল

ও পরিবহণ চাঁদাবাজি ছাড়াও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফালোভী মনোভাবসহ নানা কারণে সবজির দাম বাড়ছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে পাইকারি ক্রয়মূল্যের ৭০-৮০ ভাগ লাভ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তারা ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। গোয়েন্দাদের সুপারিশ, সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত হাত বদল কমাতে হবে। পরিবহণ ব্যয় কমাতে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নজরদারি করতে হবে। পাইকারি বাজার নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি খুচরা বাজারের মূল্য তালিকা প্রস্তুত ও বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া সব স্তরের সবজি ব্যবসায়ীদের এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরি জরুরি। একইসঙ্গে নীতিমালা প্রণয়ন করে ব্যবসায়ীদের এর আওতায় এনে খুচরা বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


































শীর্ষ সংবাদ:
নিয়োগে দুর্নীতি: জীবন বীমার এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা মিহির ঘোষসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে গাইবান্ধায় সিপিবির বিক্ষোভ গাইবান্ধায় সেনাবাহিনীর ভূয়া ক্যাপ্টেন গ্রেফতার জগন্নাথপুরে সড়ক নির্মানের অভিযোগ এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তারাকান্দায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ দেবহাটায় অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার আটক -১ রামগড়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাগমারায় ভেদুর মোড় হতে নরদাশ পর্যন্ত পাকা রাস্তার শুভ উদ্বোধন সরকারি বিধিনিষেধ না মানায় শার্শায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায় মধুখালীতে তিন মাসে ৪৩ টি গরু চুরি গাইবান্ধায় বঙ্গবন্ধু জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন গাইবান্ধায় শীতবস্ত্র বিতরণ রাজশাহীতে পুত্রের হাতে পিতা খুন বাগমারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার রামগড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শীতবস্ত্র বিতরণ করেন ইউএনও ভাঃ উম্মে হাবিবা মজুমদার জগন্নাথপুরে জুয়ার আসরে পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ এক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সিপিবি নেতা মিহির ঘোষসহ ৬ জন কারাগারে পিআইও’র মানহানির মামলায় গাইবান্ধার ৪ সাংবাদিকসহ ৫ জনের জামিন গাইবান্ধায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনালী ব্যাংক লি. গোমস্তাপুর শাখায় শীতবস্ত্র বিতরণ