ঢাকা, Tuesday 21 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

খাদ্যগুদামে ধান বিক্রিতে কৃষকের অনীহা

প্রকাশিত : 12:15 PM, 25 August 2020 Tuesday
174 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

দিনাজপুরের খানসামায় সরকারি খাদ্যগুদামে ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।
সোমবার পর্যন্ত গত ৩৬ দিনে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের লটারিতে বিজয়ী ৬৭৫ জন কৃষকের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৭ জন কৃষক সরকার নির্ধারিত ২৬ টাকা কেজি দরে খাদ্যগুদামে গিয়ে ধান বিক্রি করেছেন।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১ মে থেকে ধান সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ধান সংগ্রহ অভিযানের শেষ দিন আগামী ৩১ আগস্ট। গত ৩৭ দিনে এখানে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে মাত্র ৩৭ মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যে সময়সীমা প্রায় অর্ধেক গেছে। বাকি অর্ধেক সময়ে

ধান কীভাবে সংগ্রহ হবে, তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার তালিকাভুক্ত কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, রোদে ধান শুকিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি মণ ধান ৯৫০ থেকে ৯৮০ টাকা দামে বাড়ি থেকেই বিক্রি করা যায়। কিন্তু খাদ্যগুদামে এই ধান বিক্রি করতে হলে তিনবার রোদে শুকাতে হবে। ধানের আদ্রতা সঠিক আছে কি না, তা দেখতে নমুনা নিয়ে কয়েকবার গুদামে যাওয়ার ঝামেলা, পরিবহন খরচ এসবের কারণেই সরকারি গুদামে ধান বিক্রয়ে কৃষকদের মাঝে তেমন আগ্রহ নেই।

তারা আরো জানায়, করোনার প্রভাবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ধানের দাম বেড়েছে। তাছাড়া বাজারে চালের দামও কিছুটা বেশি। ভোগান্তি এড়াতেই কৃষকরা গুদামে ধান

বিক্রিতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে কৃষকেরা হাটেও ধান বিক্রি করছেন না। আমন ধান পাওয়ার আগেভাগে তারা বড়িতে মজুতকৃত ধান বিক্রি করবেন বলে জানান।

খানসামা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এদিব মাহমুদ বলেন, গত ২ জুন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধান কেনা শুরু হয়েছিলো। গত ৩৬ দিনে লটারিতে বিজয়ী খানসামা গুদামে তালিকাভুক্ত ২৫৩ জন কৃষকের মধ্যে ১৬ জন কৃষক সরকারি মূল্যে ধান বিক্রি করেছেন।

পাকেরহাট খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৌমিত্র বসাক বলেন, পাকেরহাট গুদামে ৪২২ জন কৃষকের মধ্যে ২১ জন খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করেছেন। এ অবস্থায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ জন্য ২/১ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্ত

সকল কৃষকের জন্য ধান সংগ্রহ অভিযান উন্মুক্ত করা হলে ধান সংগ্রহ করা যাবে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অ.দা.) ফিরোজ আহমেদ মোস্তফা বলেন, হাট-বাজারগুলোতে ধানের দাম এবার তুলনামূলক বেশি হওয়ার কারণেই ধান গুদামে নিয়ে আসার জন্য কৃষকেরা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

ইউএনও এবং খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম ধান সংগ্রহ হয়েছে। সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করার লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষকদের আগ্রহী করার লক্ষ্যে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। প্রয়োজনে ধান সংগ্রহে লটারি বিজয়ীসহ সব কৃষকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT