ঢাকা, Saturday 18 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

ক্যাপিটলে উগ্র ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা

প্রকাশিত : 10:16 AM, 8 January 2021 Friday
117 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে যৌথ অধিবেশন চলাকালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের শত শত সমর্থক ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে, সহিংসতার মধ্যে পুলিশের গুলিতে এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় পাল্টে দেয়ার চেষ্টায় কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরের পর এই হামলা শুরু হয়। খবর বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, রয়টার্স, লস এ্যাঞ্জেলেস টাইমস, গার্ডিয়ান, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস ও ফক্স নিউজের।

হামলাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ক্যাপিটল ভবন কার্যত দখল করে নিলে অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হয় কংগ্রেস। পুলিশ পাহারা দিয়ে আইন প্রণেতাদের সরিয়ে নেয়া হয়

আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলে। যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকেও পাহারা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের নেয় পুলিশ। এরপর ক্যাপিটলকে ট্রাম্প সমর্থকদের দখলমুক্ত করতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরের তিন ঘণ্টায় হলওয়েগুলো দিয়ে ট্রাম্প সমর্থকদের ছোটাছুটি ও বিভিন্ন দফতরে গিয়ে খোঁজাখুঁজি, হাঙ্গামা-বিশৃঙ্খলায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সহিংসতার মধ্যে গুলিতে একজন নারী নিহত হন। পরে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর জানায় ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশ। এফবিআই জানায়, তারা দুটি সম্ভাব্য বিস্ফোরক ডিভাইস নিষ্ক্রিয় করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে কার্ফু জারি করা হয়। শহরে ১৫ দিনের জন্য জরুরী অবস্থা

জারির ঘোষণা দেন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউজার। হাঙ্গামার পর পুলিশ অন্তত ৫২ জনকে গ্রেফতার করেছে; তাদের মধ্যে ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কার্ফু ভঙ্গ করার জন্য। ৩ নবেম্বরের নির্বাচনকে ঘিরে কয়েক মাস ধরে যে বিভেদ সৃষ্টিকারী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল ক্যাপিটলে হামলা তার চূড়ান্ত পরিণতি বলে মন্তব্য করেছেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

ভোটে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে বলে কোন প্রমাণ ছাড়াই বারবার দাবি করে আসছিলেন ট্রাম্প এবং তার পরাজয় উল্টে দিতে তাকে সাহায্য করার জন্য সমর্থকদের আহ্বান জানাচ্ছিলেন। হোয়াইট হাউসের কাছে সমবেত কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ট্রাম্প বক্তব্য দেয়ার পর এই গোলযোগ দেখা দেয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত

হলে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নির্বাচনের আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ট্রাম্প। ক্যাপিটলে হামলার আগে হোয়াইট হাউসের কাছে কয়েক হাজার সমর্থকের উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের ক্ষোভ জানাতে সমর্থকদের ক্যাপিটলের দিকে মিছিল নিয়ে যেতে বলেন। কর্মকর্তাদের নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করতে চাপ দেয়ার জন্য তাদের বলেন তিনি। সমর্থকদের ‘লড়াই করার’ আহ্বানও জানান ট্রাম্প। দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ক্যাপিটলের ভেতরে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেন। ওয়াশিংটন মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধান রবার্ট কন্টি জানিয়েছেন, আক্রমণকারীরা যন্ত্রণাদায়ক রাসায়নিক নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে কয়েক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সাড়ে ৫টার একটু পরে ক্যাপিটল ভবন নিরাপদ বলে

ঘোষণা করে পুলিশ। এরপর নির্বাচনী জয়ের স্বীকৃতির প্রক্রিয়া শুরু করতে রাত ৮টার পর আইন প্রণেতারা অধিবেশন ফের শুরু করেন। এরপর অধিবেশনের সভাপতিত্ব করা ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেন, আজ যারা আমাদের ক্যাপিটলে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছ- তোমরা জয়ী হতে পারবে না। চলুন আমরা কাজ শুরু করি। কংগ্রেস সদস্যরা হাততালি দিয়ে তাকে অভিনন্দিত করেন। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল ঘটনাটিকে ‘ব্যর্থ বিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়ে ‘অনাচার ও হুমকির কাছে মাথা নত করব না’ বলে প্রতিশ্রুতি রাখেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের অবস্থানে ফিরে এসেছি। সংবিধানের অধীনে এবং আমাদের জাতির জন্য আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করব। আর আজ রাতেই

আমরা তা করতে যাচ্ছি।

বিক্ষোভে কয়েক ঘণ্টা কার্যত অবরুদ্ধ ক্যাপিটল প্রাঙ্গণ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের পাহারা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় পুলিশ অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত আইনপ্রণেতাদের তাদের আসনের নিচ থেকে গ্যাস মাস্ক বের করে পরার পরামর্শ দেয়। মিশিগানের কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স টুইটে লিখেছেন, আমি আমার অফিসের এক জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছি। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, এটা আমাকে লিখতে হচ্ছে। ক্যাপিটল পুলিশকে সহায়তা করতে কংগ্রেস ভবনে ন্যাশনাল গার্ডের সেনা, এফবিআই এজেন্ট এবং মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। কার্ফু শুরুর পর ন্যাশনাল গার্ডের সেনা ও পুলিশ প্রতিবাদকারীদের ক্যাপিটলের

আশপাশ থেকে সরিয়ে দেয়।

ট্রাম্পের অপসারণ চান মার্কিন ব্যবসায়ীরাও ॥ পার্লামেন্ট ভবনে সমর্থকদের তাণ্ডবের পর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ হজার কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী একটি গ্রুপের প্রধান। ট্রাম্পকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়িক গোষ্ঠীটি। ট্রাম্পের নিজ প্রশাসনেও ওই সংশোধনী প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা যদি প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য বলে বিবেচনা করে তাহলে তাকে সরিয়ে দিতে পারবে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই সংশোধনী প্রয়োগ করা হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স তাকে সরিয়ে দিতে মন্ত্রিসভায় ভোটাভুটির নেতৃত্ব দেবেন।

নিজ দলেই সমালোচনার মুখে ট্রাম্প ॥ মার্কিন পার্লামেন্ট

ভবনে বুধবারের সহিংসতার ঘটনায় নিজ দলেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সহিংসতার পর ফের শুরু হওয়া সিনেট অধিবেশনে এ ঘটনার নিন্দা জানান ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল বলেন, তারা আমাদের গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করতে চেয়েছিল। তারা পারেনি, তারা পরাজিত হয়েছে। ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডবের সময়ও ক্যাপিটল হিল ছেড়ে যাননি পেন্স। পরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলের দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে উল্লেখ থাকবে। সিনেটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করা পেন্স সহিংসতার পুরো সময়টাতে কংগ্রেসের নেতৃত্ব, পুলিশ এবং বিচার ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন যাতে পার্লামেন্ট ভবনের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে অধিবেশন আবার শুরু করা যায়। তিনি

বলেন, যারা আজ ক্যাপিটলে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছেন, আপনারা জয়ী হতে পারেননি। সহিংসতা কখনও বিজয়ী হয় না।

ট্রাম্পকে বিদায় করার আলোচনা ॥ পার্লামেন্ট ভবনে সমর্থকদের তাণ্ডবের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সরিয়ে দিতে আলোচনা শুরু করেছেন তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। অন্তত তিনটি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর ভিত্তিতে তাকে সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে।

ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের ॥ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস গত বছরের নবেম্বরে হওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বাইডেনের জয়কে স্বীকৃতি দেয়ার পরপরই ট্রাম্প জানুয়ারির ২০ তারিখ নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমতা হন্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ক্যাপিটল ভবনে বুধবার ট্রাম্প সমর্থকদের তাণ্ডব ও দাঙ্গার পর মার্কিন কংগ্রেসের

যৌথ অধিবেশনে বাইডেনের জয়ের স্বীকৃতি মেলে। আনুষ্ঠানিক এ স্বীকৃতির পর অপেক্ষা এখন কেবল ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের। কংগ্রেসের স্বীকৃতির পর দেয়া বিবৃতিতে ট্রাম্প নিয়মানুসারে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অবসর জীবনযাপন না করে সামনের দিনগুলোতেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, যদিও আমি নির্বাচনের ফলের সঙ্গে একমত নই, তবুও ২০ জানুয়ারি নিয়ম অনুযায়ীই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। আমি সবসময়ই বলে আসছি কেবল বৈধ ভোট গণনা করার এ লড়াই আমরা অব্যাহত রাখব। যদিও এখানেই প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা প্রথম মেয়াদের শেষ হচ্ছে, আদতে এটা হচ্ছে মেইক আমেরিকা গ্রেট এ্যাগেইন লড়াইয়ের কেবল শুরু।

ট্রাম্পের টুইটার, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম স্থগিত

॥ মার্কিন কংগ্রেসের অধিবেশনের মধ্যে ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালানো রিপাবলিকান সমর্থকদের উদ্দেশে টুইট করার পর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে টুইটার ও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে আসা ট্রাম্প ক্যাপিটলে হামলাকারীদের উদ্দেশে এক পোস্টে বলেন, আই লাভ ইউ। অবশ্য পরে আরেক পোস্টে তিনি সমর্থকদের ঘরে ফিরে যেতে বলেন। টুইটার বলেছে, তাদের ‘সিভিক ইনটিগ্রিটি পলিসির’ গুরুতর লঙ্ঘন হওয়ায় ট্রাম্পের তিনটি পোস্ট তারা সরিয়ে দিতে বলেছে। সেগুলো সরানো না হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইটার এ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে টুইটারের বিবৃতিতে। টুইটার কর্তৃপক্ষ বলেছে, ট্রাম্প যদি তাদের নিয়ম ভেঙ্গে এ

ধরনের টুইট চালিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে তার এ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ট্রাম্পকে তাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ২৪ ঘণ্টার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়ে তিনি ফেসবুক থেকে কোন পোস্ট করতে পারবেন না। ইউটিউব টাম্পের একটি ভিডিও সরিয়ে নিয়েছে। ইনস্টাগ্রামও ট্রাম্পের এ্যাকাউন্ট স্থগিত করেছে। ক্যাপিটলে হামলা-সহিংসতার মধ্যে এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, আমি তোমাদের ভালবাসি। ইউটিউব নীতি লঙ্ঘনের কথা বলে ট্রাম্পের ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলে। টুইটারও পরে একই পথ অনুসরণ করে এবং ট্রাম্পের এ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেয়।

হামলার পর আবার কংগ্রেস অধিবেশন শুরু ॥ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে

পার্লামেন্ট ভবন ইউএস ক্যাপিটলে ট্রাম্প সমর্থকরা হামলা চালানোর পর কংগ্রেসে আবার অধিবেশন শুরু করেছেন আইন প্রণেতারা। বাইডেনের জয়কে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিতে এই অধিবেশন চলছে। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১২টার পর অধিবেশনে রিপাবলিকানদের দ্বারা পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনের ফল পরিবর্তনের প্রস্তাব বাতিল করে দিয়েছে সিনেট। যেসব রিপাবলিকান সদস্য পেনসিলভানিয়ার ফলের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন তারা হলেন, মিজৌরির সিনেটর জশ হলে, টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ, আলাবামার টমি টুবারভিল, মিসিসিপির সিন্ডি হাইড-স্মিথ, কানসাসের রজার মার্শাল, ওয়াইওমিংয়ের সিনথিয়া লুমিস ও ফ্লোরিডার সিনেটর রিক স্কট। এর আগে গত ৩ জানুয়ারি টেড ক্রুজের নেতৃত্বে একদল রিপাবলিকান সিনেটর জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে ভোট

জালিয়াতির তদন্ত না হলে বাইডেনের জয়ের পক্ষে তারা ভোট দেবেন না। বুধবার রাতে সিনেটে অধিবেশন পুনরায় শুরু হওয়ার পর মাইক পেন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটলে আজকের দিনটি একটি কালো দিন হিসেবে উল্লেখ থাকবে। সিনেটের সভাপতি পেন্স বলেন, সহিংসতা কখনও জয়ী হয় না। স্বাধীনতা জয়ী হয় এবং এটা এখনও জনগণের কক্ষ (ক্যাপিটল ভবন)। আমরা যেহেতু আবার এই চেম্বার শুরু করছি, বিশ্ব আবার একবার দেখবে, অভূতপূর্ব সহিংসতা এবং ভাংচুরের মধ্যেও আমাদের গণতন্ত্রের দৃঢ়তা ও শক্তি কতটা মজবুত। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আবার একত্রিত হয়েছেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের প্রধান রবার্ট কন্টি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুটি পাইপ বোমা ও এক কন্টেনার

ভর্তি পেট্রোলবোমা উদ্ধার করেছে। ওয়াশিংটনে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে ॥ জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের দুটি আসনের রান অফ নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয়কক্ষে ডেমোক্র্যাট আধিপত্য নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের উচ্চাভিলাষী আইনী এজেন্ডা বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হলো। ওই রান অফ নির্বাচনে একটি আসনে ডেমোক্র্যাট রাফায়েল ওয়ারনক দায়িত্বরত রিপাবলিকান সিনেটর কেলি লেফলারকে পরাজিত করেছেন। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের সাবেক গির্জার ব্যাপ্টিস্ট ধর্মপ্রচারক ওয়ারনক জর্জিয়া থেকে মার্কিন সিনেটে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ। অঙ্গরাজ্যটির অপর আসনে রিপাবলিকান ডেভিড পারডুকে হারিয়ে ৩৩ বছর

বয়সী তথ্যচিত্র নির্মাতা ডেমোক্র্যাট জন অসফ সিনেটের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার ভোটের ফল ঘোষণা করা হয়। এই জয়ের ফলে সামান্য ব্যবধানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ২০ জানুয়ারি বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর তার পক্ষে উদারপন্থী বিচারকদের নিয়োগ দেয়া, করোনা ত্রাণ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অগ্রাধিকারমূলক আইনী এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়ন সহজ হবে। এই জয়ের পর এক বিবৃতিতে বাইডেন বলেছেন, জর্জিয়ার ভোটাররা স্পষ্ট একটি বার্তা দিয়েছেন: আমরা যে সঙ্কটগুলোর মুখোমুখি হয়েছি সেগুলোর বিষয়ে পদক্ষেপ চান তারা এবং তা এখনই চান। জর্জিয়ার এই ফলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান

করল। ১৯৩২ সালের পর তিনিই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি এক মেয়াদের মধ্যেই হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের উভয়কক্ষে নিজ দলের ভরাডুবির কারণ হলেন। ডেমোক্র্যাটরা জর্জিয়ার এই দুটি আসন পাওয়ায় সিনেট এখন ডেমোক্র্যাট সদস্য সংখ্যা ৪৮ হলেও স্বতন্ত্র দুই সদস্য বার্নি স্যান্ডার্স ও এ্যাঙ্গাস কিংয়ের ভোট প্রায়ই তাদের পক্ষে যায়। এরপর থেকে সিনেটে যে কোন বিলে ভোটের ক্ষেত্রে ফল ৫০-৫০ এ দাঁড়াতে পারে; সেক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তার ‘সিদ্ধান্তমূলক ভোট’ দেয়ার সুযোগ পাবেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT