কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি


অথর
জীবনধারা সংবাদদাতা   বর্ণমালা টেলিভিশন
প্রকাশিত :১৫ জুলাই ২০২২, ৩:৪০ অপরাহ্ণ | পঠিত : 126 বার
0
কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি

ঈদ-উল ফিতরের আনন্দ উৎসব কাটানোর পর প্রায় দুই মাস মূলতঃ কিছু সময় বিরতিতে চলেই যায়। তারপর শুরু হয় আর এক মহা আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি সেটা ঈদ-উল-আজহা কিংবা কোরবানির ঈদ। এই ঈদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভর্যের ভিন্নমাত্রার পবিত্রতহম অনুভূতি। হজ্ব্র করার মতো আর এক ইসলামিক বিধি বিধান। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই পবিত্র হজ্ব পালনে অংশ নেওয়া একপ্রকার ইবাদত বন্দেগির মতো শুদ্ধ পবিত্রতম অন্তরনিঃসৃত নিবেদন। তার সঙ্গে থাকে আর্থিকভাবে সক্ষমতার একটি ব্যাপার। সুদুর মক্কায় গিয়ে পবিত্র ‘কাবা শরীফ’ দর্শন ছাড়াও সবচেয়ে আনন্দের বিষয় মদীনায় রসুলুল্লাহ্্র পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারত করা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের এক অনন্য কর্তব্য সম্পাদন। হজ পালন ইসলামের ৫টি ফরযের মধ্যে অন্যতম একটি। যেখানে নারী-পুরুষের সমান অধিকার। সে কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকেও অনেক নারী হজব্রত পালনে মক্কায় গিয়ে থাকেন। তেমন প্রস্তুতি ধর্মীয় বিধি মোতাবেক আয়োজন করা হয়ে থাকে। আর কোরবানির ঈদের প্রস্তুতি বিশেষভাবে আলাদা মাত্রার। হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর ওপর আল্লাহর আদেশ বর্তানোর প্রেক্ষাপটে কোরবানির শুভযাত্রার ইতিহাস ইসলামের এক অনন্য নজির। যেখানে প্রিয়তম পুত্র ইসমাইলকে কোরবানি দিতে গেলে সর্বশক্তিমান আল্লাহ একটি পশু কোরবানির দিতে গেলে সর্বশক্তিমান আল্লাহ একটি পশু কোরবানির হুকুম জারি করেন। সেটা আরবির জেলহজ মাসের ১০ তারিখ। যা পবিত্র হজ পালনের পর পরই শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন দেশ। কাল ও স্থান বিবেচনায় পশু কোরবানির ধরনেও স্পষ্ট হয় বিভিন্ন তারতম্য এবং ভিন্নমাত্রার আয়োজন। বাংলাদেশ ও তার নিজস্ব কচি, সংস্কৃতি এবং যুগযুগ ধরে চলে আসা ব্যবস্থাপনায় ঈদ-উল-আযহাকে নিজেদের মতো পালন করে থাকে। ঊৎসব এবং আনন্দপ্রিয় জাতি আমরা বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিশেষ দিন, ধর্মীয় নির্দেশ সবই মহাআড়ম্বরে আয়োজন করা আমাদের চিরায়িত বৈশিষ্ট্য। আমাদের বাংলাদেশে তাই কোরবানির উৎসব আয়োজন ও মহাসমারোহে উদযাপিত হওয়া জাতিগত আচার আচরণের নিণায়ক। যেহেতু ব্যাপক আয়োজনে কোরবানির ঈদ উৎসব আমাদের মাতিয়ে দেয় সেখানে ঘরের গৃহিণীরাও হয়ে পড়েন মহাব্যস্ত। উৎসবের আমেজ ছাড়াও থাকে ব্যাপক প্রস্তুতি। গরু খাসি কোরবানি দেওয়া বলে কথা। ময় মশল্লা জোগাড় করাও বড় ধরনের কর্মব্যস্ততা। মাংসের রান্নায় সবচাইতে বেশি দরকার সুস্বাদু ও প্রাসঙ্গিক পেঁয়াজ। যে পণ্যটি নিয়ে সবসময় ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কঠোর তদারকি শুধু তাই নয়, সময় বুঝে দাম অতাধিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াও যাপিত জীবনের চরম দুর্ভোগ। সঙ্গতকারণে গৃহিণীরা মহামূল্যবান এই খাদ্য পণ্যটির ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক সাবধানতা অনুসরণ করে। পণ্যটি সবসময় ঝাঁজের উপরই থাকে সেখানে কোরবান এলে তার মাত্রা কিভাবে বাড়তের দিকে যায় তার সাক্ষি ক্রেতা সাধারণ। ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ সরবরাহ করা যেন সরকারের নৈমিত্তিক কর্মযোগ। তারপরেও শেষ রক্ষা সেভাবে হয়ওনা। গ্রাহককে মুল্য দিয়েই তা কিনতে হয়। তবে এক্ষেত্রে গৃহকর্ত্রীর এক প্রকার নজরই থাকে আগের থেকে অল্প অল্প পেঁয়াজ জমিয়ে রেখে বাজার দরের অগ্নিমূল্য যেন মোকাবেলা করতে না হয়। এমনিতে গরু খাসির চড়ামূল্য অসহনীয় হলে ততো আগের থেকে ধরে রাখা যায় না। সম্ভবও নয়। সুতরাং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পেঁয়াজ পাবে না। তাই গৃহকর্ত্রীর সজাগ সতর্কতায় পেঁয়াজের যথার্থ পরিচর্যা এই অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যটিকে সংরক্ষণ করাও যেন অবশ্যম্ভাবী এক কর্মযোগ সুগৃহিণীরা সেভাবে পেঁয়াজকে সামলিয়ে নিতেও বাড়তি নজরদারি করে থাকে। তাছাড়া মশল্লাপাতিও গুছিয়ে নেয় প্রয়োজন মতো। মাংস কাটতে গিয়ে দা, বড়ও ছোট চাকু, বটি, কাঠের একটা খন্ড খুবই দরকার। তেমন অতি আবশ্যিক জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখতে হয়। শিল-পাটায় দিতে নতুনদের কাছ থেকে। এমন সব লোক বিভিন্ন ভবনের আঙিনায় কোরবানের কয়েকদিন আগ থেকেই ঘোরাফেরা করতে থাকে। একটা উচ্চগলায় জানান দিয়ে তারা পাটা, দা, ছুরি ধারানোর জন্য বাড়ির আশেপাশেই অবস্থান করে। আর ঘরের কর্ত্রীরা সেই অপেক্ষায় থাকে। সময়মতো কোরবানের আগে সবকিছু গুছিয়েও নেয়। এ সময় নতুন পোশাকের দিকে তেমন আগ্রহ দেখা যায় না। যেখানে রমজানের ঈদে সবচাইতে বেশি নজরে থাকে বাজারে আসা নতুন পোশাক পরিচ্ছদ। কোরবানির ঈদে গৃহিণীদের সূক্ষè দৃষ্টি এড়ায় না মাংস সংরক্ষণ করার ফ্রিজ্ এবং রান্নাকরার পরিপাটি পাকঘরটিও। গোটা গরু-ছাগল কোরবানি দিনে সেটাকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ফ্রিজে গুছিয়ে রাখাও অনেক বড় দায়-দায়িত্ব। সেখানে সফল গৃহিণীরা সক্ষমতার সাথে সব কিছু সামলাতে পারেন। আর পাকঘরের রান্নায় জায়গাটি পরিচ্ছন্নভাবে গুছিয়ে রাখতেও ঘরের কর্ত্রীর জুড়িমেলা ভার। শুধু কি তাই? কোরবানি মাংসের বর্জ্য কিংবা আবর্জনা সাফ করে পরিবেশ শুদ্ধ রাখাও এক প্রকার সচেতন দায়বদ্ধতা। সেখানেও গৃহকর্ত্রীর সতর্ক নজরদারি পারিপার্শ্বিক অবস্থায় এনে দেয় স্বাস্থ্যসম্মত এক সুস্থ আঙিনা সুতরাং কোরবানি মানেই গৃহিণীরা মহাআড়ম্বরই শুধু তাই নয়, পর্বত্র প্রমাণ ব্যস্ততারও যেন শেষ নেই। অপরাজিত প্রতিবেদক

No Comments