ঢাকা, Sunday 24 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

কোম্পানীগঞ্জে চিরনিদ্রায় শায়িত মওদুদ

প্রকাশিত : 09:02 AM, 20 March 2021 Saturday
52 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা ও ভালবাসা নিয়ে বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রবীণ রাজনীতিক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। পাঁচ দফা জানাজা শেষে শুক্রবার নোয়াখালীর কোম্পানীুগঞ্জের মানিকপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তার মরদেহ। কফিনে ফুল দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তার মৃত্যুতে জাতির বড় ক্ষতি হলো, আমরা গভীর শূন্যতা অনুভব করছি। এর আগে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে সকাল সোয়া ৯টায় মওদুদ আহমদের মরদেহ নেয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। মরদেহ শহীদ মিনারে পৌঁছার আগেই বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সেখানে অবস্থান

নেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত মওদুদের মরদেহ রাখা হয় সেখানে। কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সর্বস্তরের মানুষ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন তাদের মধ্যে মধ্যে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুস সালাম, তৈমুর আলম খন্দকার, বিএনপি নেতা অধ্যাপক মামুন আহমেদ, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, কাজী আবুল বাশার, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, নিপুণ রায় চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডাঃ জাফরউল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান

মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের নেতা মোশতাক আহমেদ, জাগপা নেতা খোন্দকার লুতফর রহমান, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। এ সময় মওদুদের কফিনের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন মরহুমের ভায়রা ভাই তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়ে ডাঃ জাফরউল্লা চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে বলেন, মওদুদ আহমদের ছিল সংগ্রামী জীবন। তিনি আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারকে সহযোগিতা করেছেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় মওদুদ আহমদের মরদেহ নেয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণে। সেখানে আইনজীবীরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর

সেখানে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সুপ্রীমকোর্ট ও হাইকোর্টের কজন বিচারপতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবদীন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, ফজলুর রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, নাসির উদ্দিন অসীম, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রমুখ।

সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে বেলা ১১টায় মওদুদ আহমদের মরদেহ নেয়া হয় নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে প্রিয় নেতাকে

দলের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। প্রথমেই মওদুদ আহমদের কফিন দলীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরীসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী বিএনপির পক্ষ থেকে কফিনের পুষ্পমাল্য অর্পণ করে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিতে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে মানুষের ঢল নামে। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ শুধু রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি রাজনীতির

একজন কিংবদন্তি ছিলেন। তিনি অনেক পরিবর্তনের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন, প্রতিটি পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। তার চলে যাওয়া শুধু বিএনপির জন্য নয়, সারাদেশের জন্য, অপূরণীয় ক্ষতি হলো।

নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জানাজা শেষে হেলিকপ্টারে করে মওদুদ আহমদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জের নিজ জন্মভিটায়। বেলা ২টা ৫০ মিনিটে তার মরদেহ বহনকারী হেলিকপ্টারটি কবিরহাট সরকারী কলেজ মাঠে অবতরণ করে। এ সময় প্রিয় নেতার জন্য অপেক্ষমাণ সর্বস্তরের জনতা লাশ দেখতে এগিয়ে আসেন। সেখানে সর্বস্তরের জনতার শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কবিরহাটের জানাজায় অংশ নেন- নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী

লীগ নেতা একরামুল করিম চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, ইশরাক হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহিম , সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী, কোম্পানিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান রিপন, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এরপর বিকেল সাড়ে ৪টায় চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মওদুদ আহমদের প্রিয় ক্যাম্পাস বসুরহাট সরকারী মুজিব কলেজ মাঠে। ৫ম এবং শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বিকেল সাড়ে ৫টায় তার গ্র্রামের বাড়ি মানিকপুরে। এরপর

সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাবা মাওলানা মমতাজ উদ্দিন ও মা আম্বিয়া খাতুনের কবরের পাশে মওদুদ আহমদের লাশ দাফন করা হয়। ১৬ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মারা যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ২ ফেব্রুয়ারি তিনি চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮১ বছর। নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর-৫ (কবিরহাট-কোম্পানিগঞ্জ) আসন থেকে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মওদুদ আহমদ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকায় আনা হয়। কিছুক্ষণ তার কফিন গুলশানের বাসায় রাখার পর সেখান থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT