ঢাকা, Monday 18 October 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

কেবল বঙ্গবন্ধুই এ মাটির সন্তান

প্রকাশিত : 09:08 AM, 20 March 2021 Saturday
100 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রক্তাক্ত ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু সত্য ইতিহাস কখনও মুছে ফেলা যায় না, আজ তা প্রমাণ হয়েছে। আর বঙ্গবন্ধুই ছিলেন একমাত্র এদেশের মাটির ভূমিপুত্র। স্বাধীনতার আগে এবং ’৭৫ পরবর্তী যারা ক্ষমতায় এসেছিল তাদের কারোরই জন্ম বাংলাদেশের মাটিতে হয়নি। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ১০ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ও জমকালো অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতির

ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপনের ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠুক। বাংলাদেশের একটি মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, গৃহহীন থাকবে না, প্রতিটি মানুষের ঘরে আমরা আলো জ্বালব। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ উন্নত জীবন পাবে।

দশ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার তৃতীয় দিন শুক্রবারের অনুষ্ঠানের মূল থিম ছিল- ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা।’ বাংলাদেশে সফররত শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানান। বাক শ্রবণ-প্রতিবন্ধীদের সাংকৃতিক ও প্রতীকী ভাষার মাধ্যমে পরিবেশিত জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর মুজিব চিরন্তন থিমের ওপর টাইটেল এমিনেশন প্রদর্শন করা হয়। এরপর মিউজিক ভিডিও পরিবেশনায় থিম সং, যতকাল রবে পদ্মা যমুনা থিমভিত্তিক অডিও ভিডিও প্রদর্শনী, ফ্লাই পাস্টের রেকর্ডকৃত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। থিমভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ভি লাভরবের শুভেচ্ছা বক্তব্যের ভিডিও বার্তা পরিবেশন করা হয়। এ সময় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা-স্মারক উপহার দেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন দুদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাহিন্দা রাজাপাকসে। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নবনিতা চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ’৭৫ পরবর্তী ক্ষমতা দখলকারী সামরিক স্বৈরাচার, স্বাধীনতাবিরোধী, বঙ্গবন্ধুর খুনী ও তাদের দোসর যারাই ক্ষমতায় ছিল তাদের একটি নাম নিয়েই যত ভয় ছিল। সেই নামটি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে কারণেই তারা দেশের ইতিহাস

থেকে, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামটি মুছে ফেলার চেষ্টা করেছিল। ২১টি বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু সত্যকে কখনও মুছে ফেলা যায় না। বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চের ঐতিহাসিক আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিলের স্থান পেয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়ে ধাপের পর ধাপ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র হিসেবে বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলন শুরু করেছিলেন। এ কারণেই ১৯৪৮ সালের এই মার্চ মাসের ১১ তারিখে তিনি মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বপ্রথম কারাগারে অন্তরীণ হন। মুক্তি পাবার পর যখনই বঙ্গবন্ধু বাঙালীর ভাষা ও

মুক্তির জন্য আন্দোলন করেন তখনই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এভাবে বছরের পর বছর কারাগারে বন্দী থেকে নির্যাতন সহ্য করেছেন, কিন্তু কখনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য থেকে এতটুকু বিচ্যুত হননি, দমে যাননি।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন করতে গিয়েও বারবার গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত একটানা কারাবন্দী থেকে মুক্তির পর আবারও তিনি আন্দোলন শুরু করেন। সংগ্রামের পথ বেয়েই যুক্তফ্রন্ট গঠন হয় এবং নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয়। কিন্তু বাঙালীরা ক্ষমতায় থাকুক তা কখনই চায়নি পাকিস্তানী শাসকরা। তাই জরুরী অবস্থা জারি করে সরকার ভেঙ্গে দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করে পাকিস্তানী শাসকরা।

মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে দলের নেতৃত্ব গ্রহণের ইতিহাস বিশ্বে খুবই

বিরল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আন্দোলনের এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা ভাসানী দল থেকে চলে গিয়ে আরেকটি দল গঠন করেন। তখন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কারণ তিনি জানতেন কোন আন্দোলনে সফল হতে গেলে শক্তিশালী সংগঠন দরকার। আমরা দেখেছি, মন্ত্রিত্বের জন্য অনেকে দল ছেড়ে দেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন দলের জন্য। এমন দৃষ্টান্ত বিশ্বে খুব কমই পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী আবেগজড়িত কণ্ঠে শোকাবহ ১৫ আগস্টে বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের সবাইকে হারানোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে বলেন, ওই দিন শুধু একজন রাষ্ট্রপতিকে

নয়, আমাদের পুরো পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া বঙ্গবন্ধু ছোট বয়স থেকেই দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাগবে সব সময় ব্যস্ত থাকতেন। তখন এ দেশের মানুষের পেটে অন্ন ছিল না, পরনে ছিন্ন বস্ত্র, শোষিত-বঞ্চিত। সেই অসহায় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে বঙ্গবন্ধু তাঁর নিজের জীবনটা পর্যন্ত উৎসর্গ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই একমাত্র এদেশের মাটির সন্তান, যিনি এ দেশকে স্বাধীন করেছেন। মাটির সন্তান হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। ১৫ আগস্টের পরে বা স্বাধীনতার আগেও যারা (বাঙালী) ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাঁরা কেউ-ই এদেশের মাটির সন্তান না। তাদের জন্ম এ দেশের মাটিতে হয়নি। একমাত্র

ভূমিপুত্র ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

স্বাধীনতার দীর্ঘ আন্দোলনে তাঁর মা বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালীর অধিকার ও মুক্তির আন্দোলনে পাশে থেকে সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়ে গেছেন আমার মা। বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে বন্দী থাকতেন তখন সংগঠন, দল চালানো, পরিবার সামলানো, বঙ্গবন্ধুর মেসেজগুলো নেতাদের কাছে পৌঁছে সব কাজই দক্ষতার সঙ্গে চালাতেন আমার মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তাঁর কোন চাওয়া-পাওয়ার ছিল না। এভাবে সবসময় আমার মা বঙ্গবন্ধুকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে গেছেন বলেই বাবা স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম করতে পেরেছেন, বাঙালী জাতিকে মহার্ঘ স্বাধীনতা উপহার দিতে পেরেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ ও দেশের মানুষকে

নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর। তিনি তা পূরণও করে যাচ্ছিলেন। মাত্র সাড়ে ৩ বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের নৃশংসতায় তাঁর স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। আগে বাংলাদেশকে অন্যের কাছে হাত পেতে চলতে হতো। দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তা আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে দেশ সেবার সুযোগ দিয়েছিল বলেই ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পারছি। জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পেরেছিলাম বলেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছে।

বন্ধুপ্রতিম শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিব চিরন্তন’ এই

প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আজ তৃতীয় দিন। আজকের অনুষ্ঠানে বন্ধুপ্রতিম শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে আমাদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এই উদ্যাপনকে মহিমান্বিত করেছেন।

তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কা আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ। বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একই ধরনের মনোভাব পোষণ করে এবং আমরা পরস্পরকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকি। প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু এবং তিনি সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে অবস্থান করেন। আমিও চেষ্টা করি সেই বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের যোগদান তাঁর নিজের এবং শ্রীলঙ্কার জনগণের আমাদের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন। আমি নিজের, আমার সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে এবং তাঁর দেশের জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আশা করি, আমাদের দুই দেশের জনগণের মধ্যকার এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন ছিল এদেশে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত হবে, উন্নত-সমৃদ্ধশালী দেশ হবে, মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে, উন্নত জীবন পাবে। বিশ্বের বুকে মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে

দাঁড়াবে। তাই এই মাহেদ্রক্ষণে আসুন, আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলি।

অসম্ভবের দরজা একে একে খুলে যাবে- অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ॥ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে দেশের শীর্ষস্থানীয় বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর মতো এমন রাজনীতিক সমকালীন রাজনীতিতে খুব কমই আছে। এখন যারা রাজনীতি করছেন তাদের তেমন কোন প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয় না। বঙ্গবন্ধু নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে গণমানুষের অধিকার আদায় করেছেন, দেশকে স্বাধীন করেছেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতার রাজনৈতিক অর্জন সমকালে খুবই কমই আছে। যা তাঁকে অনুকরণীয় ব্যক্তির মর্যাদা দেয়। বঙ্গবন্ধুর অজীবনের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-ভাবনা ছিল

এ দেশের মানুষকে নিয়ে। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু আন্দোলন শিখেছেন। সেই শিক্ষা নিয়ে তিনি এদেশের রাজনীতিতে গণমানুষের অধিকার ও মুক্তির সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৭ মার্চ মুক্তির ডাক দিয়েছেন। যা ছিল নতুন একটি জাতির স্বাধীনতার নির্দেশনা। একাত্তরের ২৫ মার্চ পর্যন্ত ছিল তাঁর এই রাজনৈতিক সংগ্রামের ব্যাপ্তি। একাত্তর পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু প্রতিক্রিয়াশীলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরে এলে তাঁর সামনে পাঁচটি সমস্যা বড় হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যাগুলো বঙ্গবন্ধু দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলা করেন। তাঁর সাড়ে তিন বছরের মেয়াদে জাতিকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়

করিয়েছিলেন। তাই তো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন গেড়েছেন। বঙ্গবন্ধুর পথেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। অসম্ভবের সব দরজা একে একে খুলে যাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT