কিমের জন্মদিন পালনে উত্তর কোরিয়ায় সরকারি চাঁদাবাজি - বর্ণমালা টেলিভিশন

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে চাঁদাবাজি করছে দেশটির সরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, কিমের জন্মদিন বাতাসা এবং ক্যান্ডি বিতরণের উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকার পরিবারপ্রতি চাঁদা ধার্য করে দিয়েছেন সরকারি আমলারা।

ধনী-গরিব-ক্ষুধার্ত সব নাগরিককেই চাঁদা দিতে বাধ্য করছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা। কোনো কোনো প্রদেশে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার ওন চাঁদা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও আবার ধরা হয়েছে একটি ডিম।

৮ জানুয়ারি কিমের ৩৮তম জন্মবার্ষিকী। দেশের সবাইকে এদিন ক্যান্ডি-বাতাসা খাওয়াতে এই রাষ্ট্রীয় চাঁদাবাজির পথ বেছে নিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৪ ডিসেম্বর ২০১১ সালে রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর এবারই তার জন্মদিন

পালনে এত তোড়জোড়। উত্তর পিয়ংগান প্রদেশের একটি সূত্র বলেছে, কিছু এলাকায় কর্মকর্তারা সেখানকার প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ডিম প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ কারণে ওই সব এলাকার বাজারগুলোতে ডিমের অভাব দেখা দিয়েছে। এ ধরনের সরকারি তৎপরতায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ। তারা বুঝতে পেরেছেন, এ চাঁদা দাবি করার মানে কিমের জন্মদিনে শিশুদের জন্য বাতাসা তৈরি করা। প্রতিটি প্রদেশে বাতাসা তৈরি ও বিতরণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে এক কেজি ময়দার দাম ছিল ১২ হাজার ওন (২.৪ মার্কিন ডলার), সেটি বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ৩০ হাজার ওন (৯ মার্কিন ডলার) দিয়ে। ১৩ হাজার ওনের এক কেজি চিনি বেড়ে হয়েছে

২৫ হাজার ওন। একটি সূত্র জানিয়েছে, জন্মদিনের বাতাসা আর ক্যান্ডি বানানো শেষ হওয়া পর্যন্ত ময়দা আর চিনির দাম আরও বাড়তে পারে।

প্রায় দুই বছর আগে মহামারির শুরুতে চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত বন্ধ এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে সব বাণিজ্য স্থগিত করার কারণে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটে পড়েছে দেশটি। তার ওপর সীমানা বন্ধ থাকা দেশটির পক্ষে মিছরি বা বাতাসার জন্য পর্যাপ্ত চিনি একত্র করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, দেশটির চিনি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করত চীন। এমন এক সময় কিমের জন্মদিনটি ঘনিয়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার খাদ্যঘাটতির মতো সংকট মোকাবিলা করছে দেশটির সাধারণ মানুষ। বলা হচ্ছে, ১৯৯০-এর দুর্ভিক্ষের মতোই খারাপ অবস্থা বিরাজ

করছে দেশটিতে।

প্রক্রিয়াজাত আটা, চিনির সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যখন নিজেদের খাদ্য জোগাতে জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত, সে সময় কিমের জন্মদিনের ক্যান্ডি জোগাতে চাঁদা আদায় অমানবিকই।‘জন্মদিনের ক্যান্ডি’ ঐতিহ্যটি উনের দাদা কিম ইল সুং-এর শাসনামল থেকেই অনুসরণ করা হচ্ছিল। শিশুরা ১৫ এপ্রিল (কিম ইল সুং-এর জন্মদিন) এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি (কিম জং ইলের জন্মদিন) ক্যান্ডি পায়।

ডিসেম্বরের শুরু থেকেই উইজু কাউন্টির খাদ্য কারখানাগুলোতে কিম জং উনের জন্মদিনের উপহারের জন্য মিষ্টান্ন তৈরি শুরু হয়েছে।

২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্যান্ডি বানানো শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই গত এপ্রিলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পরিবার কিম ইল সুং-এর জন্মদিনের জন্য পাওয়া উপহার সামগ্রীগুলো বিক্রি করতে

শুরু করেছে। কারণ, দেশটি একটি বিধ্বংসী খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

কিম নিজেও তা জানেন এবং স্বীকার করেছেন। দলের অনুগত সামরিক বাহিনী চান কিম জং উন বলেছেন, দেশটির সামরিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অবশ্যই ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ‘সম্পূর্ণ অনুগত’ কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। সপ্তাহান্তে পিয়ংইয়ং-এ অনুষ্ঠিত কোরিয়ান পিপলস আর্মির সামরিক শিক্ষাবিদদের অষ্টম সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সব সামরিক শিক্ষাবিদকে ক্ষমতাসীন পার্টির আদর্শ নেতৃত্বের প্রতি অনুগত সত্যিকারের সৈনিক হওয়া এবং পার্টির নীতি ও পদ্ধতিগত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন কিম। ‘সেই ক্যাডেটদের কমান্ডিং অফিসার করা হবে- যারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থাকবেন’- জানান তিনি।

চলতি মাসেই ক্ষমতার দশম

বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিম। বৃহষ্পতিবার এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , বয়স ৪০ এর কোঠায় যাওয়ার আগেই বাবার কিম জং ইলের মতোই নিজেকে উত্তর কোরিয়ার সর্বেসর্বা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

আর এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তার ছবির রাজনীতি। কিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বুঝে গেছেন, একটা ছবি শত-সহস অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী।

এ কারণেই দেশের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা সত্ত্বেও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন ও জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়-পর্বত ভ্রমণ-প্রত্যেকটা ঘটনাই আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি এই সব ছবি বাধাই করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে টানানো হয়।

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে চাঁদাবাজি করছে দেশটির সরকার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, কিমের জন্মদিন বাতাসা এবং ক্যান্ডি বিতরণের উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকার পরিবারপ্রতি চাঁদা ধার্য করে দিয়েছেন সরকারি আমলারা।

ধনী-গরিব-ক্ষুধার্ত সব নাগরিককেই চাঁদা দিতে বাধ্য করছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা। কোনো কোনো প্রদেশে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার ওন চাঁদা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও আবার ধরা হয়েছে একটি ডিম।

৮ জানুয়ারি কিমের ৩৮তম জন্মবার্ষিকী। দেশের সবাইকে এদিন ক্যান্ডি-বাতাসা খাওয়াতে এই রাষ্ট্রীয় চাঁদাবাজির পথ বেছে নিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৪ ডিসেম্বর ২০১১ সালে রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর এবারই তার জন্মদিন

পালনে এত তোড়জোড়। উত্তর পিয়ংগান প্রদেশের একটি সূত্র বলেছে, কিছু এলাকায় কর্মকর্তারা সেখানকার প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ডিম প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ কারণে ওই সব এলাকার বাজারগুলোতে ডিমের অভাব দেখা দিয়েছে। এ ধরনের সরকারি তৎপরতায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ। তারা বুঝতে পেরেছেন, এ চাঁদা দাবি করার মানে কিমের জন্মদিনে শিশুদের জন্য বাতাসা তৈরি করা। প্রতিটি প্রদেশে বাতাসা তৈরি ও বিতরণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।

গত সপ্তাহে এক কেজি ময়দার দাম ছিল ১২ হাজার ওন (২.৪ মার্কিন ডলার), সেটি বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ৩০ হাজার ওন (৯ মার্কিন ডলার) দিয়ে। ১৩ হাজার ওনের এক কেজি চিনি বেড়ে হয়েছে

২৫ হাজার ওন। একটি সূত্র জানিয়েছে, জন্মদিনের বাতাসা আর ক্যান্ডি বানানো শেষ হওয়া পর্যন্ত ময়দা আর চিনির দাম আরও বাড়তে পারে।

প্রায় দুই বছর আগে মহামারির শুরুতে চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত বন্ধ এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে সব বাণিজ্য স্থগিত করার কারণে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটে পড়েছে দেশটি। তার ওপর সীমানা বন্ধ থাকা দেশটির পক্ষে মিছরি বা বাতাসার জন্য পর্যাপ্ত চিনি একত্র করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, দেশটির চিনি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করত চীন। এমন এক সময় কিমের জন্মদিনটি ঘনিয়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার খাদ্যঘাটতির মতো সংকট মোকাবিলা করছে দেশটির সাধারণ মানুষ। বলা হচ্ছে, ১৯৯০-এর দুর্ভিক্ষের মতোই খারাপ অবস্থা বিরাজ

করছে দেশটিতে।

প্রক্রিয়াজাত আটা, চিনির সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যখন নিজেদের খাদ্য জোগাতে জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত, সে সময় কিমের জন্মদিনের ক্যান্ডি জোগাতে চাঁদা আদায় অমানবিকই।‘জন্মদিনের ক্যান্ডি’ ঐতিহ্যটি উনের দাদা কিম ইল সুং-এর শাসনামল থেকেই অনুসরণ করা হচ্ছিল। শিশুরা ১৫ এপ্রিল (কিম ইল সুং-এর জন্মদিন) এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি (কিম জং ইলের জন্মদিন) ক্যান্ডি পায়।

ডিসেম্বরের শুরু থেকেই উইজু কাউন্টির খাদ্য কারখানাগুলোতে কিম জং উনের জন্মদিনের উপহারের জন্য মিষ্টান্ন তৈরি শুরু হয়েছে।

২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্যান্ডি বানানো শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই গত এপ্রিলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পরিবার কিম ইল সুং-এর জন্মদিনের জন্য পাওয়া উপহার সামগ্রীগুলো বিক্রি করতে

শুরু করেছে। কারণ, দেশটি একটি বিধ্বংসী খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে।

কিম নিজেও তা জানেন এবং স্বীকার করেছেন। দলের অনুগত সামরিক বাহিনী চান কিম জং উন বলেছেন, দেশটির সামরিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অবশ্যই ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ‘সম্পূর্ণ অনুগত’ কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। সপ্তাহান্তে পিয়ংইয়ং-এ অনুষ্ঠিত কোরিয়ান পিপলস আর্মির সামরিক শিক্ষাবিদদের অষ্টম সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সব সামরিক শিক্ষাবিদকে ক্ষমতাসীন পার্টির আদর্শ নেতৃত্বের প্রতি অনুগত সত্যিকারের সৈনিক হওয়া এবং পার্টির নীতি ও পদ্ধতিগত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন কিম। ‘সেই ক্যাডেটদের কমান্ডিং অফিসার করা হবে- যারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থাকবেন’- জানান তিনি।

চলতি মাসেই ক্ষমতার দশম

বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিম। বৃহষ্পতিবার এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , বয়স ৪০ এর কোঠায় যাওয়ার আগেই বাবার কিম জং ইলের মতোই নিজেকে উত্তর কোরিয়ার সর্বেসর্বা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

আর এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তার ছবির রাজনীতি। কিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বুঝে গেছেন, একটা ছবি শত-সহস অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী।

এ কারণেই দেশের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা সত্ত্বেও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন ও জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়-পর্বত ভ্রমণ-প্রত্যেকটা ঘটনাই আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি এই সব ছবি বাধাই করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে টানানো হয়।

ছবির রাজনীতিতে এক দশক ক্ষমতায়

কিমের জন্মদিন পালনে উত্তর কোরিয়ায় সরকারি চাঁদাবাজি

জন্মদিন ৮ জানুয়ারি, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই কারখানাগুলোতে মিষ্টান্ন তৈরি শুরু, শেষ করার সময়সীমা ২০ ডিসেম্বর * কোনো কোনো প্রদেশে পরিবারপ্রতি ৫০০০ ওন, কোথাও চাঁদা একটি ডিম

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৭ ডিসেম্বর, ২০২১ | ৯:০৫ 67 ভিউ
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে চাঁদাবাজি করছে দেশটির সরকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে, কিমের জন্মদিন বাতাসা এবং ক্যান্ডি বিতরণের উদ্দেশ্যে এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকার পরিবারপ্রতি চাঁদা ধার্য করে দিয়েছেন সরকারি আমলারা। ধনী-গরিব-ক্ষুধার্ত সব নাগরিককেই চাঁদা দিতে বাধ্য করছেন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা। কোনো কোনো প্রদেশে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ হাজার ওন চাঁদা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও আবার ধরা হয়েছে একটি ডিম। ৮ জানুয়ারি কিমের ৩৮তম জন্মবার্ষিকী। দেশের সবাইকে এদিন ক্যান্ডি-বাতাসা খাওয়াতে এই রাষ্ট্রীয় চাঁদাবাজির পথ বেছে নিয়েছে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২৪ ডিসেম্বর ২০১১ সালে রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর এবারই তার জন্মদিন

পালনে এত তোড়জোড়। উত্তর পিয়ংগান প্রদেশের একটি সূত্র বলেছে, কিছু এলাকায় কর্মকর্তারা সেখানকার প্রতিটি পরিবারকে একটি করে ডিম প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ কারণে ওই সব এলাকার বাজারগুলোতে ডিমের অভাব দেখা দিয়েছে। এ ধরনের সরকারি তৎপরতায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সাধারণ মানুষ। তারা বুঝতে পেরেছেন, এ চাঁদা দাবি করার মানে কিমের জন্মদিনে শিশুদের জন্য বাতাসা তৈরি করা। প্রতিটি প্রদেশে বাতাসা তৈরি ও বিতরণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। গত সপ্তাহে এক কেজি ময়দার দাম ছিল ১২ হাজার ওন (২.৪ মার্কিন ডলার), সেটি বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ৩০ হাজার ওন (৯ মার্কিন ডলার) দিয়ে। ১৩ হাজার ওনের এক কেজি চিনি বেড়ে হয়েছে

২৫ হাজার ওন। একটি সূত্র জানিয়েছে, জন্মদিনের বাতাসা আর ক্যান্ডি বানানো শেষ হওয়া পর্যন্ত ময়দা আর চিনির দাম আরও বাড়তে পারে। প্রায় দুই বছর আগে মহামারির শুরুতে চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত বন্ধ এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে সব বাণিজ্য স্থগিত করার কারণে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটে পড়েছে দেশটি। তার ওপর সীমানা বন্ধ থাকা দেশটির পক্ষে মিছরি বা বাতাসার জন্য পর্যাপ্ত চিনি একত্র করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, দেশটির চিনি চাহিদার অর্ধেকের বেশি পূরণ করত চীন। এমন এক সময় কিমের জন্মদিনটি ঘনিয়ে এলো, যখন উত্তর কোরিয়ার খাদ্যঘাটতির মতো সংকট মোকাবিলা করছে দেশটির সাধারণ মানুষ। বলা হচ্ছে, ১৯৯০-এর দুর্ভিক্ষের মতোই খারাপ অবস্থা বিরাজ

করছে দেশটিতে। প্রক্রিয়াজাত আটা, চিনির সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যখন নিজেদের খাদ্য জোগাতে জনগণের প্রাণ ওষ্ঠাগত, সে সময় কিমের জন্মদিনের ক্যান্ডি জোগাতে চাঁদা আদায় অমানবিকই।‘জন্মদিনের ক্যান্ডি’ ঐতিহ্যটি উনের দাদা কিম ইল সুং-এর শাসনামল থেকেই অনুসরণ করা হচ্ছিল। শিশুরা ১৫ এপ্রিল (কিম ইল সুং-এর জন্মদিন) এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি (কিম জং ইলের জন্মদিন) ক্যান্ডি পায়। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই উইজু কাউন্টির খাদ্য কারখানাগুলোতে কিম জং উনের জন্মদিনের উপহারের জন্য মিষ্টান্ন তৈরি শুরু হয়েছে। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্যান্ডি বানানো শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই গত এপ্রিলে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পরিবার কিম ইল সুং-এর জন্মদিনের জন্য পাওয়া উপহার সামগ্রীগুলো বিক্রি করতে

শুরু করেছে। কারণ, দেশটি একটি বিধ্বংসী খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। কিম নিজেও তা জানেন এবং স্বীকার করেছেন। দলের অনুগত সামরিক বাহিনী চান কিম জং উন বলেছেন, দেশটির সামরিক শিক্ষাব্যবস্থাকে অবশ্যই ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ‘সম্পূর্ণ অনুগত’ কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করতে হবে। সপ্তাহান্তে পিয়ংইয়ং-এ অনুষ্ঠিত কোরিয়ান পিপলস আর্মির সামরিক শিক্ষাবিদদের অষ্টম সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সব সামরিক শিক্ষাবিদকে ক্ষমতাসীন পার্টির আদর্শ নেতৃত্বের প্রতি অনুগত সত্যিকারের সৈনিক হওয়া এবং পার্টির নীতি ও পদ্ধতিগত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন কিম। ‘সেই ক্যাডেটদের কমান্ডিং অফিসার করা হবে- যারা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত থাকবেন’- জানান তিনি। চলতি মাসেই ক্ষমতার দশম

বছর পূর্তি উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিম। বৃহষ্পতিবার এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , বয়স ৪০ এর কোঠায় যাওয়ার আগেই বাবার কিম জং ইলের মতোই নিজেকে উত্তর কোরিয়ার সর্বেসর্বা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। আর এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তার ছবির রাজনীতি। কিম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বুঝে গেছেন, একটা ছবি শত-সহস অস্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী। এ কারণেই দেশের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা সত্ত্বেও তার বিলাসবহুল জীবনযাপন ও জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ঘোড়ায় চড়ে পাহাড়-পর্বত ভ্রমণ-প্রত্যেকটা ঘটনাই আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা হয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি এই সব ছবি বাধাই করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে টানানো হয়।

দৈনিক ডোনেট বাংলাদেশ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ট্যাগ:

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


































শীর্ষ সংবাদ:
নিয়োগে দুর্নীতি: জীবন বীমার এমডির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা মিহির ঘোষসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবীতে গাইবান্ধায় সিপিবির বিক্ষোভ গাইবান্ধায় সেনাবাহিনীর ভূয়া ক্যাপ্টেন গ্রেফতার জগন্নাথপুরে সড়ক নির্মানের অভিযোগ এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে তারাকান্দায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ দেবহাটায় অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার আটক -১ রামগড়ে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাগমারায় ভেদুর মোড় হতে নরদাশ পর্যন্ত পাকা রাস্তার শুভ উদ্বোধন সরকারি বিধিনিষেধ না মানায় শার্শায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা আদায় মধুখালীতে তিন মাসে ৪৩ টি গরু চুরি গাইবান্ধায় বঙ্গবন্ধু জেলা ভলিবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন গাইবান্ধায় শীতবস্ত্র বিতরণ রাজশাহীতে পুত্রের হাতে পিতা খুন বাগমারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী গ্রেপ্তার রামগড়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শীতবস্ত্র বিতরণ করেন ইউএনও ভাঃ উম্মে হাবিবা মজুমদার জগন্নাথপুরে জুয়ার আসরে পুলিশ দেখে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ এক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সিপিবি নেতা মিহির ঘোষসহ ৬ জন কারাগারে পিআইও’র মানহানির মামলায় গাইবান্ধার ৪ সাংবাদিকসহ ৫ জনের জামিন গাইবান্ধায় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের মানববন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনালী ব্যাংক লি. গোমস্তাপুর শাখায় শীতবস্ত্র বিতরণ