ঢাকা, Saturday 18 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনায় তছনছ ॥ শৃঙ্খলায় ফেরা শিক্ষা ক্যালেন্ডার

প্রকাশিত : 08:54 AM, 6 January 2021 Wednesday
67 বার পঠিত

মোহাম্মদ রাছেল রানা | ডোনেট বাংলাদেশ নিউজ ডেক্স :-

দীর্ঘ এক যুগের চেষ্টায় শিক্ষার প্রতিটি স্তরে ফেরা শৃঙ্খলা করোনায় তছনছ। দীর্ঘ ১০ মাস ধরে প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত রীতিমতো থমকে আছে করোনার ছোবলে। টানা বন্ধে ওলট-পালট পুরো শিক্ষা ক্যালেন্ডার। কোন স্তরেই শুরু করা যায়নি স্বাভাবিক ক্লাস, পরীক্ষা এমনকি শিক্ষার অন্য কোন প্রক্রিয়াও। ক্ষতি কিছুটা পুুষিয়ে নিতে কম বেশি অনলাইনে ক্লাস চালিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে শুরু হয়েছে নতুন বছর। স্বাভাবিক শিক্ষা ব্যবস্থা

ফিরিয়ে আনতে বছরের শুরুতেই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার। কবে হবে স্বাভাবিক ক্লাস, পরীক্ষা ও রেজাল্ট? কিংবা কবে কিভাবে হবে বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি? এমন উদ্বেগজনক প্রশ্ন এখন সামনে। একাডেমিক

ক্যালেন্ডার থেকে একটি বছর প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পর এখন প্রশ্ন আসলে কোন দিকে যাচ্ছে শিক্ষার সঙ্কট? কিভাবে মোকাবেলা করা হবে শিক্ষার চ্যালেঞ্জ?

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, করোনায় শিক্ষা ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণে এখন পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন যায়নি। এমনকি শিক্ষাঙ্গন খোলার বিষয়েও কোন রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফেব্রুয়ারি মাসের কোন একটা সময় পরবর্তী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা আছে। যদিও তার ভবিষ্যতও নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। ‘সবার আগে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর

জীবন রক্ষা’ এমন চিন্তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাও করা যাচ্ছে না। তাছাড়া অনলাইনে পড়ালেখা অব্যাহত থাকায় শিক্ষা থেকে শিক্ষার্থীরা একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়নি বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিকে করোনা পরবর্তী শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট রূপরেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রুম টু রিড বাংলাদেশ। কিন্তু এই মুহূর্তে করণীয় কী? শিক্ষাবিদরা বলছেন, বাস্তবতা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরী। শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনায় একটি জাতীয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করে শিক্ষাবিদরা বলেছেন, শিক্ষাকে রক্ষায় কৌশল বের করতেই হবে। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষা কমিটির সুপারিশে শিক্ষা

কার্যক্রম পরিচালনা করা উচিত। একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়ে তারা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পরিকল্পনাও হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী। আগামীতে ছুটিয়ে কমানো, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো ও অব্যাহত রাখা, শিক্ষকদের ইনসেনটিভের ব্যবস্থা করে বিশেষ ক্লাস নেয়া, অবিষ্যতে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীর পাবলিক পরীক্ষা পিছিয়ে নেয়া, পরীক্ষা নেয়ার এক মাসের মধ্যে ফল প্রকাশ ও ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা, উচ্চ শিক্ষাঙ্গনের ভর্তি ও শিক্ষা কার্যক্রম আস্তে আস্তে সচল করার কৌশল বের করাসহ নানা বিষয়ে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।

শিক্ষায় স্থবিরতা ॥ করোনার মধ্যে একদিকে যেমন শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয় পরীক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাও করতে পারছে না,

তেমনি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তথ্য বলছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছাড়া সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন টানা বন্ধের ঘটনা আর ঘটেনি।

তবে করোনার কারণে শিক্ষার সঙ্কট এখন পৃথিবীজুড়েই। জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই বলেছে, এত বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থীর স্কুুলে যাওয়া বন্ধ আগে কখনও হয়নি। এমনকি দুটি বিশ^যুদ্ধের সময়ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এই সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

করোনার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করেছিল চীন। বাংলাদেশে প্রথম দফায় গত ১৭-৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর এখন পর্যন্ত দফায় দফায় বন্ধের মেয়াদ বাড়ছে। এর মধ্যে গত ১ এপ্রিল থেকে

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোনমতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা গেলেও উত্তীর্ণদের কলেজ ভর্তির সময় পিছিয়ে যায় বহুদিন। পরে কোনমতে ভর্তি করা গেলেও পড়ালেখা সাভাবিক করার কোন উপায় নেই।

সঙ্কট প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত হলেও ক্ষতি বেশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে। কম বেশি কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যকর অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে, যদিও উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শিশু। তার ওপর এই দুই স্তরে বাসায় থেকেও পড়াশোনা ঠিকমতো হওয়ার সুযোগ কম। অনলাইনে পাঠদানে বৈষম্যও আছে। শহরের সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা এমনিতেই পড়াশোনায় এগিয়ে

থাকে। করোনা পরিস্থিতিতে তারা ক্লাস ও পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে অনলাইনে।

শহর ও গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সে সুযোগ পাচ্ছে না। গত ২৯ মার্চ থেকে মাধ্যমিকের এবং ৭ এপ্রিল থেকে প্রাথমিকের রেকর্ড করা ক্লাস সংসদ টেলিভিশনে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু টেলিভিশনের ক্লাস খুব কার্যকর হচ্ছে না। বলেই মনে করা হচ্ছে। স্কুল বন্ধ করার আগ পর্যন্ত প্রাথমিকে মাত্র ৩২ থেকে ৩৫ শতাংশ বিষয়ভিত্তিক পাঠদান সম্ভব হয়েছিল। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ইতোমধ্যোই সকল পরীক্ষা ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে। বাতিল হয়েছে পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষাও। সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচীতে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে করোনার যে পরিস্থিতি,

তাতে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কর্মকর্তারা মনে করছেন, করোনার বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এখন বিদ্যালয় খোলা ঠিক হবে না। তবে একাধিক সূত্র বলছে, দুই মন্ত্রণালয়ের একটি পরিকল্পনা হলো পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে দেখলেই কেবল প্রতিষ্ঠান খোলা হবে। বিশেষজ্ঞরাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনই খোলার বিপক্ষে। তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের কোনভাবেই ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। বিদ্যালয় খোলার ক্ষেত্রে শুধু বিশেষজ্ঞ নয়, শিক্ষকদেরও মতামত নিতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা দরকার, যাতে আতঙ্ক দূর করা যায়।

এসএসসি ও সমপর্যায়ের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ৩ ফেব্রুয়ারি। শেষ হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি। ১০/১২ বছর ধরে পরীক্ষা শেষ

হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের রেওয়াজ তৈরি হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এক মাস বিলম্বে ৩১ মে এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। বিলম্বে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হলেও একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হয় অন্তত সাত মাস।

এইচএসসি ও সমপর্যায়ের পরীক্ষার চিন্তাই শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে হয়েছে। বাস্তবতার কারনে বাধ্য হয়ে এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের এ পরীক্ষার পরিবর্তে পরীক্ষার্থীদের দশম ও অষ্টমের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়নের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সেই ফল ঘোষণা করা হবে। এদিকে বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমও ঝুলে আছে। এইচএসসির ফলের জন্য যেমন অপেক্ষা তেমনকি ফল ঘোষণার পরই কিভাবে কখন ভর্তি

পরীক্ষা হবে তাও অনিশ্চিত।

করোনার কারণে কাজে ধীরগতি অন্যদিকে প্রকাশকদের একটি সিন্ডিকেটের তৎপরতায় নতুন শিক্ষা বর্ষের পাঠ্যক্রম নিয়েও আছে জটিলতা।

বছরের প্রথম দিন প্রাথমিকের বইয়ের একটি বড় অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে মাধ্যমিকের বই নিয়ে আছে সঙ্কট। কিছু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে মাধ্যমিকের বহু বই আটকে আছে। ফলে স্কুলে ঠিকমতো সকল বই পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। মহামারীতে নতুন করে সেশনজটের আশঙ্কা এখন দেশের উচ্চ শিক্ষাস্তরের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর সামনে। সঙ্কটে পড়েছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীন সাত কলেজের আড়াই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। এমনিতেই বড় ধরনের সেশনজটে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ তাই সবচেয়ে বেশি।

সঙ্কট ও উত্তরণের পরিকল্পনা ॥ সঙ্কটের এখানেই শেষ

নয়। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গবর্ন্যান্সের একটি তথ্যে উঠে এসেছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে শিক্ষার্থীদের ৮০ শতাংশ পড়ালেখা এখন কম হচ্ছে। ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পরিবারের আয়মূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। করোনা নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে। কারণ বাবা-মায়েরা সন্তানদের কাজে পাঠাবে সংসারের অর্থ যোগানে। অনেকের পক্ষে শিক্ষার উপকরণ ও স্কুলের অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হবে না ফলে শিশুশ্রম বাড়বে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা তথ্য বলছে, করোনা-পরবর্তী স্কুলে ফিরতে সমস্যা হবে ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর, ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে পারবে আর ১০ শতাংশ শিক্ষার্থীর পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ায় রয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে দেখা যাচ্ছে আনেক শিক্ষার্থী তাদের মৌলিক অধিকার শিক্ষা

থেকে বঞ্চিত হবে। ইতোমধ্যেই করোনাজনিত আর্থিক অসচ্ছলতার অস্যখ্য বেসরকারী স্কুল চিরতরে বন্ধ ও বিক্রির মতো খবরও সামনে চলে এসেছে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বলছে, করোনার পরে ৩০ ভাগ শিক্ষার্থী ঝরে পড়তে পারে যা শুধু প্রাথমিকে নয়, শিক্ষার প্রতিটি স্তরেই প্রভাব ফেলবে। শিক্ষার সামনে এখন বহু চ্যালেঞ্জ। তাহলে শিক্ষা সামনে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের পরিকল্পনা কি? শিক্ষার দুই মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনায় শিক্ষা ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণে এখন পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়ন হয়নি। শিক্ষাঙ্গন খোলার বিষয়েও কোন রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।

কারন হিসেবে কর্মকর্তারা বলছে, করোনা কবে স্বাভাবিক হবে তা কেউ

যানেন না। আবার ঝুঁকি নিয়ে প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাও করছে না সরকার। যদিও শিক্ষাবিদরাও বলছেন, আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতি শিক্ষক শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। বলতে গেলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই একেকটি ‘সমাবেশ’। আবার শ্রেণী কক্ষেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। যা উন্নত দেশের মতো নয়। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়েও যেখানে উন্নত দেশগুলো প্রতিষ্ঠান খুলে সঙ্কটে পড়ছে সেখানে বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে খোলার চিন্তা ভয়াবহ বিপদের কারণ হতে পারে।

শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, ‘সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা তারা করছেন কিন্তু সেটি কবে নাগাদ হবে, তা নির্ভর করবে করোনা পরিস্থিতি ভাল হওয়ার ওপর। সীমিত আকারে শ্রেণী কার্যক্রম

শুরু নিয়ে ভাবছি। ২০২১ শিক্ষাবর্ষে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছি।’

তবে প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা ইতোমধ্যেই খোলাসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মহামারীর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হলে তখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত হবে। আমরা এখন ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছি, এর মধ্যে যদি অবস্থা ভাল হয়, খোলা হবে। যদি না হয়, আমরা খুলব না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

রূপরেখা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের ॥ করোনাকালে সকলের জন্য সমানভাবে ডিজিটাল সুবিধাসহ এ সংক্রান্ত ‘রিসোর্স’ নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন-বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে

বলে মত দিয়েছে শিক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রুম টু রিড বাংলাদেশ। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানো কার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে যুগান্তকারী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন-বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিখন-ঘাটতি পূরণে করোনা-পরবর্তী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের কোটি কোটি শিশুদের জন্য দরকার কার্যাবলির নির্দিষ্ট রূপরেখা। রুম টু রিড রূপরেখা দিয়ে সরকার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্কুল পরিরচালনা কমিটির ভূমিকা তুলে ধরেছে।

জানা গেছে, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, মাধ্যমিক

ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের সহযোগিতায় গবেষণাটি পরিচালনা করেছে রুম টু রিড। গবেষণায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ও রুম টু রিডের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে কর্মরত পিটিআই ইনস্ট্রাক্টর, ইউআরসি ইনস্ট্রাক্টর, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণীভিত্তিক বিষয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিকট থেকে গুণগত ও সংখ্যাগত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি প্রথমেই শিক্ষার্থীদের জন্য সুপারিশ তুলে ধরে বলেছে, ‘অবশিষ্ট কার্যদিবস বিবেচনা করে একটি মিশ্র-মডেল অনুসরণ করে রিমেডিয়াল পরিকল্পনা করা অপরিহার্য। মিশ্র-মডেলটি এরূপ হবে যেখানে শ্রেণীকক্ষকেন্দ্রিক পাঠদানের এবং বাড়িতে অভিভাবকের সহায়তায় শিক্ষার্থীর কাজের পরিকল্পনা

থাকবে। এক্ষেত্রে বিদ্যালয় এবং বাড়িতে শেখার বিষয়সমূহ নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা জরুরী। শিক্ষকের করণীয় সম্পর্কে রুম টু রিড বলেছে, প্রত্যেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় খোলার পূর্বেই অন্যান্য শিক্ষক, এসএমসি সদস্য, অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা (ধপঃরড়হ ঢ়ষধহ) তৈরি করা। নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে প্রচার চালানো। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নেয়া এবং তাদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত শেখা বিষয়ের ওপর পুনরালোচনার ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এসএমসি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট

সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নেয়া। শিক্ষার্থীসহ নিজেদের করোনা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং ঝুঁকি হ্রাসে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যাবশ্যক। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শ্রেণী শিখন-শেখানো কার্যাবলিতে আনন্দদায়ক ও শিশুবান্ধব বহুমুখী শিখন-শেখানো কৌশলের ব্যবহার করা। গাঠনিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে প্রদত্ত কাজ সম্পাদনে উৎসাহ প্রদান এবং যথাযথ ফিডব্যাক প্রদানের মাধ্যমে প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনে সহায়তা করতে সচেষ্ট থাকা।

শিক্ষার্থী ও শ্রেণী পাঠের অগ্রগতি মাঠপর্যায়ের শিক্ষা-কর্মকর্তাগণকে অবহিত করা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শিশুদের স্কুলে পুনরায় যোগদান/উপস্থিতি নিশ্চিত করা। প্রয়োজনমতো শিক্ষার্থীকে বাড়িতে শিখতে সহায়তা ও উৎসাহিত করা। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিদ্যালয় আয়োজিত অভিভাবক সভায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করা।

শিক্ষকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং শিক্ষকের পরামর্শ অনুযায়ী শিক্ষার্থীর শিখনে সহায়তা করা। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির করণীয় সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীর শিখনের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করার জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিশেষ সভা আয়োজন করা। বিদ্যালয়ে করোনা-পরবর্তী সময়ে শিখন-শেখানো পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে অভিভাবকগণকে সম্পৃক্ত করা। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নেয়া এবং তাদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করা।

শিক্ষা-কর্মকর্তাদের করণীয় কি হবে? বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা এবং এজন্য শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে প্রচার চালানো। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নেয়া এবং তাদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিদের

সম্পৃক্ত করা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে যোগাযোগ করা। এক্ষেত্রে করোনা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা ও ঝুঁকি হ্রাসে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের ব্যবস্থা করা। বিদ্যালয় পর্যায়ে পরিচালিত শিখন-শেখানো কার্যক্রম নিয়মিত একাডেমিক তত্ত্বাবধান করা এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় পেশাগত সহায়তা প্রদান করা। মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত শিক্ষা-কার্যক্রমের গতি-প্রকৃতি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করে তা বিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা।

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একগুচ্ছ সুপারিশ ॥ দুই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই বলছেন, করোনার ছোবলে কেন্দ্র থেকে শিক্ষার ক্ষতি দ্রুত সামাল দিতে কাজ শুরু করেছে সরকার। তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, বাস্তবতা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরী। শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনায় একটি জাতীয়

কমিটি গঠনের সুপারিশ করে শিক্ষাবিদরা বলেছেন, শিক্ষাকে রক্ষায় কৌশল বের করতেই হবে। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষা কমিটির সুপারিশে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনারও সুপারিশ করেছেন শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞরা একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়ে বলছেন, মনে রাখতে হবে করোনার কারনে সৃষ্ট আর্থিকসহ নানা সঙ্কটে দরিদ্র পরিবারের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়তে পারে। একই কারণে বন্ধ হয়ে যাবে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চাকরিও হারাবে বহু শিক্ষক-কর্মচারী। তাই দীর্ঘমেয়াদী এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পরিকল্পনাও হতে হবে দীর্ঘমেয়াদী।

দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ২০২১ শিক্ষাবর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডারও পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতি পোষাতে কমপক্ষে আরও দু’বছর লাগতে পারে

বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব ও ‘জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি’র সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর শেখ ইকরামুল কবির বলেন, ‘করোনায় শিক্ষায় বড় ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা নিতে না পারায়। তবে দীর্ঘ বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পর ছুটি কমাতে হবে, বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে- এর বিনিময়ে শিক্ষকদের ইনসেনটিভ দিতে হবে। এক-দুই বছর টার্গেট নিয়ে করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হবে।

প্রফেসর শেখ ইকরামুল কবির আরও বলছিলেন, দীর্ঘ বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর ছুটি কমাতে হবে, বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে- এর বিনিময়ে শিক্ষকদের ইনসেনটিভ দিতে

হবে। পরীক্ষার সময় ও ছুটি কমানো হলে এবং বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করলে আগামী দু’তিন বছরের মধ্যে একাডেমিক ও পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা নিরসন হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের একটি বছর যে পিছিয়ে যাচ্ছে সেটি আগামী দুই বছরের মধ্যে যাতে সমন্বয় করা যায় সে ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যদি এখনই পরিকল্পনা গ্রহণ করা না যায় তাহলে সে ক্ষেত্রে নানা সমস্যা তৈরি হবে। এছাড়া শিক্ষকদের জন্য একটা নির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। বাস্তবতা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরী। মনে রাখতে হবে, করোনার ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদী, তাই এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পরিকল্পনাও হতে হবে

দীর্ঘমেয়াদী।

প্রবীণ শিক্ষক নেতা ও ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহম্মেদ বলেন, এই সঙ্কটের সমাধান এককভাবে বের করাও সমীচীন নয়। গ্রামাঞ্চলের তৃণমূলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজেই শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল স্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়েই করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সঙ্কট উত্তরণে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ নিয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, করোনার পর শিক্ষার্থীদের ভীতি কাটাতে সকল প্রতিষ্ঠান স্যানটাইজ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

সঙ্কট যে দিকে যাচ্ছে তাতে এখনই পরিকল্পনা গ্রহণের তাগাদা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূন। তিনি বলছিলেন, মনে রাখতে হবে করোনাকালে যদি ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হয়

তাহলে পাশে বসে আর কিছু করা যাবে না। এ অবস্থায় একটি জাতীয় শিক্ষা কমিটি করা উচিত। দুর্যোগকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবার যাতে কেউ আক্রান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে কিভাবে চলতে পারি সেই পরামর্শ দেবে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিটি। কারণ নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার না করলে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি একই সঙ্গে বলেন, অনলাইনে ক্লাস চললেও একই সঙ্গে স্বল্প পরিসরে শ্রেণীকক্ষে কার্যক্রম শুরুরও পরামর্শ দিয়েছেন এ উপাচার্য। একই সঙ্গে অনলাইনে পরীক্ষার কথাও ভাবা জরুরী। কারন মনে রাখতে হবে, দীর্ঘদিন পরীক্ষার বাইরে কেবল অনলাইনে ক্লাস নতুন সঙ্কটের সৃষ্টি করবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড.

মিজানুর রহমান সঙ্কট সমাধানে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলছিলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অন লাইন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তি করা প্রয়োজন যেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য অল্প খরচে ডাটা প্যাকেজ দিতে পারেন। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম এর জন্য ডিভাইজ প্রয়োজন। যে সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের ডিভাইজ নেই তাদের বিনাসুদে ঋন দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর ওপর যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। উপজেলা ও থানা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েহ অনলাইন ক্লাস নেয়ার সফটওয়ারগুলো সরবরাহ করা প্রয়োজন।

তবে যে

সিদ্ধান্ত নেয়া হোক কেন একটি পরিপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক এবং সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলেন, দেরি করে হলেও একটা বিকল্প সমাধানের কথা ভাবতে হবে, শিক্ষা কার্যক্রম পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের উদাহরণটা নেয়া যেতে পারে। তবে মূল লক্ষ্য হবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন ঝুঁকির মুখে না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসে প্রাদুর্ভাবের কারণে মূলত তিনটি ক্ষেত্র ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রথমত শিক্ষা পঞ্জিকা এলোমেলো হয়ে গেছে। সেটাকে একটি ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অর্থাৎ পরীক্ষা কিভাবে নেয়া হবে সেই বিষয়ে যৌথ

সিদ্ধান্তে আসতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি সিলেবাস সংকুচিত করে এক সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ের ওপর পরীক্ষা নেয়ার পরামর্শ তার। সবশেষে, স্কুল যখন খোলা হবে তখন কি ধরনের ব্যবস্থাপনার আওতায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে সে বিষয়টিকে নীতিমালায় যুক্ত করার কথা জানান রাশেদা কে চৌধুরী।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT