ঢাকা, Sunday 26 September 2021

পিআইডি এর নিয়ম অনুসারে আবেদিত

করোনায়ও ম্লান হয়নি পাঠ্য বইয়ের আনন্দ

প্রকাশিত : 08:56 AM, 2 January 2021 Saturday
127 বার পঠিত

| ডোনেট বিডি নিউজ ডেস্কঃ |

প্রাণঘাতী করোনার কারণে মাসের পর মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চার কোটির বেশি শিক্ষার্থীর সামনে এবার নতুন বছরের প্রথম দিনটা এলো ভিন্নরূপে। প্রায় একযুগ ধরে দেশজুড়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন বছরের প্রথম দিন আসে ‘পাঠ্য পুস্তক উৎসব’ হয়ে। এবার করোনার কারণে সেই উৎসবে ধাক্কা লেগেছে। তবে সরকারের একান্ত চেষ্টায় বই বিতরণের কর্মযজ্ঞ পুরোপুুরি ম্লান হয়ে যায়নি। করোনার কারণে এবার স্কুলে স্কুলে পাঠ্য পুস্তক উৎসব না করলেও শিশুদের হাতে হাতে ঠিকই তুলে দেয়া হচ্ছে নতুন পাঠ্যবই। করোনায় সৃষ্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সঙ্কটের মধ্যেই যেন নববর্ষের শুভেচ্ছা হিসেবে শিশুরা হাতে পাওয়া শুরু

করেছে ঝকঝকে পাঠ্যবই। কোন উৎসব নয়, তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে যখন যে স্কুলে যাচ্ছে সেই পাচ্ছে বই। কোথাও কোথাও বাড়িতে বই পৌঁছে দিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় প্রশাসন। তবে প্রথমদিন প্রাথমিকের শিক্ষার্থীর অধিকাংশের হাতে বই তুলে দেয়া হলেও মাধ্যমিকের বই বিতরণ হবে ১২ দিন ধরে। বছরের প্রথমদিনে প্রাথমিকের দুই কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে তাদের আনন্দ ধরে রাখতে চায় সরকার। সেজন্য বছরের প্রথমদিন ছুটির দিন হওয়ার পরও সারাদেশে কোমলমতি শিশুদের হাতে বই তুলে দেয়া হলো। করোনার মধ্যেও বছরের প্রথমদিন বই পেয়ে বেজায় খুশি শিশুরাও। তবে, বই বিতরণে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর

(ডিপিই) ২৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। সেখানে ‘নো মাস্ক, নো বই’এমন নির্দেশনাও রয়েছে।

মানতে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি, নির্দেশনা ॥ ডিপিই কর্মকর্তারা বলছেন, ভিন্ন একটি পরিস্থিতিতে এবার বই বিতরণ করতে হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বই সরাসরি শিক্ষার্থীর হাতে তুলে না দিয়ে অভিভাবকের হাতে তুলে দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। তারপরও নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নিতে সকাল থেকেই শিশুরা স্কুলে চলে আসছে। শিশুরা চলে এলে তাদের হাতেই বই তুলে দিতে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে বই বিতরণের সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষকদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। বই বিতরণের সময় সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সরকারের অন্যান্য

দফতরে যেসব স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এবার মুজিববর্ষ লোগো লাগানো বই দেয়া হবে তাই কোন অবস্থায় ২০২০ সালের বই বিতরণ করা যাবে না। বই বিতরণ করতে গিয়ে কেউ যদি অর্থ দাবি করে সেটা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। একই সঙ্গে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বাজারে বা অন্যকোন স্থানে বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে সরকারী চাকরি বিধি অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, এবার ১২ দিনব্যাপী বই বিতরণ করা হবে। তাই, এনসিটিবি থেকে এটা মনটরিং করার জন্য কয়েকটি কমিটি করা হয়েছে। তারা জেলা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের

সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যেকোন ধরনের অভিযোগ পেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীর হাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বই তুলে দেবে। ১-৩ জানুয়ারি নবম শ্রেণী, ৪-৬ জানুয়ারি অষ্টম শ্রেণী, ৭-৯ জানুয়ারি সপ্তম শ্রেণী এবং ১০-১২ জানুয়ারি ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বই দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং এবতেদায়ীর এক কোটি ৮৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫৩ শিক্ষার্থীকে ২৪ কোটি ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৭টি বই ও প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই কোটি ৩০ লাখ

৭৯ হাজার ৭৭৩ শিক্ষার্থীর হাতে ১০ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৫৫টি বই বিতরণ করা হবে।

১৯ ক্যাটাগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বই পাচ্ছে ॥ শুধু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় নয় বেসরকারী ও এনজিও দ্বারা পরিচালিত স্কুলসহ এমন ১৯ ক্যাটাগরির স্কুল এবার বিনামূল্যের বই পাচ্ছে। যেসব ক্যাটাগরির স্কুল বিনামূল্যের বই পাবেÑ সরকারী প্রাথমিক স্কুল, মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিকের সঙ্গে সংযুক্ত প্রাথমিক স্কুল, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাধ্যমিক স্কুলের সঙ্গে সংযুক্ত মাধ্যমিক স্কুল, এনসিটিবি কারিকুলামে চলে এমন কিন্ডারগার্টেন, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ স্কুল, শিশু কল্যাণ পরিচালিত স্কুল, কিশোর অপরাধ সংশোধন কেন্দ্রের পরিচালিত স্কুল, সরকার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এতিমখানা ও শিশু পরিবারে চালু প্রাথমিক স্কুল, বিদেশে অবস্থানরত স্কুল;

যেগুলো বাংলাদেশ মিশন ও এনসিটিবির কারিকুলাম দ্বারা পরিচালিত হয় এমন স্কুল, চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালিত স্কুল, বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, এনজিও যেগুলো সরকার অনুমোদন দিয়েছে এমন স্কুল, সরকার কর্তৃক বাস্তবায়িত আবাসন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের কমিউনিটি স্কুল, রস্ক প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত স্কুল, সমাজ কল্যাণ অধিদফতর পরিচালিত বিশেষ স্কুল, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন চর জীবিকা কর্মসূচীর আওতায় স্কুল, উপানুষ্ঠানিক ব্যুরো পরিচালিত স্কুল, এনসিটিবি কারিকুলাম অনুসরণ করে এমন সব স্কুল এবং সেকেন্ড চান্স এডুকেশন পরিচালিত স্কুল। এর আগে বৃহস্পতিবার পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিবছর গণভবনে শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে বই

উৎসব উদ্বোধন করা হলেও এবার করোনার কারণে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর শুক্রবার থেকে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ১২ দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বিতরণ শুরু হয় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক।

ঝকঝকে নতুন বই শিশুদের হাতে ॥ পাঠ্যবই বিতরণ নিয়ে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি স্কুল-কলেজে খোলা ছিল প্রাথমিকের শাখা। মাধ্যমিকে খোলা থাকলেও তার সংখ্যা ছিল কম। প্রাথমিকের শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব বই সময়মতো হাতে পাওয়ায় শুক্রবার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিতে পারবেন তারা। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা বলেছেন, সব ক্লাসের বই এখনও হাতে পাননি তারা। আগামী দুই থেকে সাত দিনের মধ্যে সব বই পাওয়া

যাবে বলে শিক্ষা অফিস থেকে তাদের জানানো হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে শুক্রবার নতুন বই হাতে তুলে দেয়া হলো রাজধানীর ধানমণ্ডি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিশুদের হাতে। প্রাথমিকের শিক্ষার্থী রাজিব বই পেয়ে খুুশি। বাবার সঙ্গে স্কুলে এসে বই নিয়েছে রাজিব। তার বাবা সোহরাব বলছিলেন, সকাল থেকেই স্কুলে বই বিতরণ করা হয়েছে। মুখে মাস্ক না থাকলে কাউকে যেন বই না দেয়া হয়; সেই নির্দেশনা দেয়া হয়। সন্তানকে নিয়ে এসেছিলাম। অনেকেই বই নিয়েছে। যখন যে এসেছে।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আর বেগম বলেন, ছুটির দিনেও আমরা প্রাথমিক স্তর খোলা রেখেছি। শিক্ষকরা শুক্রবার স্কুলে আসেন। শিশুদের

মাঝে বই বিতরণ করেছেন।

রাজধানীর সরকারী মোহাম্মদপুর মডেল কলেজে শিক্ষার্থীর মাঝে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ লে. কর্নেল কামাল আকবর, সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষ লে. কর্নেল কাজী শরীফ উদ্দিন পদাতিক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল ইসলাম। লে. কর্নেল কামাল আকবর বলেন, বিনামূল্যে বই বিতরণের জন্য ঝড়ে পড়া অনেক শিশুই আজ শিক্ষার আলো দেখতে পেরেছে। বই হলো সেই প্রকৃত বন্ধু যা পড়ে মানুষ প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে।

এদিকে রাজধানীর মতো সারাদেশের চিত্র ছিল একই। রাজধানীর বাইরে দেশের প্রায় প্রতিটি স্কুলে কমবেশি বই বিতরণ শুরু হয়েছে। কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ

জামাল হোসেন বলেছেন, তার উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার সকাল থেকে বই বিতরণ করা হচ্ছে। এখানে ক্লাস ভাগ করে বই দেয়া হচ্ছে। শুক্রবার যারা স্কুলে এসেছেন তাদের সবাইকে বই দেয়া হয়। ভিড় যেন না হয়ে সেই বিষয়টি মাথায় রেখে বই বিতরণ করা হচ্ছে, মাস্ক পরে সবাই বই নিচ্ছেন। বিদ্যালয়গুলোতে কয়েকদিন ধরে প্রাথমিকের বই বিতরণ করা হবে। আমরা চাইছি বই বিতরণ করতে গিয়ে কোনভাবেই যেন ভিড় না হয়।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মোঃ আহসান বলেন, তার উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শুক্রবার ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দেয়া শেষ হয়েছে। বই বিতরণ উপলক্ষে বিদ্যালয়গুলোতে

মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সাবান রাখা হয়েছে। যারা মাস্ক পরে আসেনি, বিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে তাদের মাস্ক দেয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, আমরা ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণীর বই পেয়েছি, শুক্রবার সপ্তম শ্রেণীর বই বিতরণ করা হচ্ছে। ২/১ দিনের মধ্যে অন্যগুলো পাওয়া যাবে। বই পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সরকারী নিয়ম মেনে গ্রুপ করে বিতরণ করা হবে। শেরপুরের নকলা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুর রউফ জানান, শুধু ষষ্ঠ শ্রেণীর বই তারা হাতে পেয়েছেন বলে শুক্রবার শুধু সেসব বই বিতরণ করা হচ্ছে। শিক্ষা অফিস থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, অন্য শ্রেণীর

বইও এক সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে। সেসব বই পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী কলেজিয়েট মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম মাসুদ কবির বলেন, শুধু ষষ্ঠ শ্রেণীর সব বই আর সপ্তম শ্রেণীর চারটি বই পেয়েছেন তারা। অন্যগুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসে আছে, বই হাতে পেলে বিতরণ করা হবে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল ইসলাম জানান, আইসিটি বিষয় বাদে নবম শ্রেণীর সব বই তারা হাতে পেয়েছেন।

আমরা শুধু নবম শ্রেণীর বই আজ দিচ্ছি। কারণ অন্য শ্রেণীর বই এখনও হাতে পাইনি। সেগুলো পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেব। নীলফামারীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২১

শিক্ষাবষের্র ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হয়েছে। সকালে নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাহারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এলিনা আক্তার ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম। এ বছর নীলফামারীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ভোকেশনালে দুই লাখ ৭৩ হাজার ৭৮৪ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৩৫ লাখ ২ হাজার ৬৫৭ কপি বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় ১৭২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে

বই বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার আমডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বই বিতরণ করা হয়।

বরগুনার আমতলী উপজেলার গোজখালী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ হয়। বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুস সোবাহান লিটন। বই পেয়েছে আমতলী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৪ হাজার ৩০০ কোমলমতি শিশু। সরকারী নির্দেশনা মতে শুক্রবার শিক্ষকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশু ও অভিভাবকদের হাতে বই তুলে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন পর স্কুলে এসে বই পেয়ে উচ্ছ্বসিত ও উৎফুল্ল কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

দিনাজপুরের খানসামায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বই

বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার মাধ্যমে বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু হাতেম ও ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজমুল হক, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আজমল হোসেন, সহকারী শিক্ষা অফিসাররা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। লালমনিরহাট কেডি বুড়ি কুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মাঝে বই বিতারণকালে উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুকুল চন্দ্র, সভাপতি রমেষ চন্দ্র বর্মন, ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান। কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল এ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন স্কুল এ্যান্ড কলেজ গবর্নিং

বডির চেয়ারম্যান ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ, স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহ জালাল সরকার, স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ও দ্বীপের শিক্ষানুরাগী খোরশেদ আলম।

লক্ষ্মীপুরে নতুন বইয়ের গন্ধে মাতোয়ারা প্রাথমিকের দুই লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। সকালে সদর উপজেলার উত্তর মজুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন বই পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশু শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে শিশুদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে এ বই বিতরণ করা হয়। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

বই বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক

মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম ভুলু ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাছিনা আক্তার প্রমুখ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় এবার প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ ১৯ হাজার ৪০০টি নতুন বই দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত দুই লাখ ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী এ বই পাবে। এছাড়া সদর ও রায়পুর উপজেলার ১৪৯ শিক্ষার্থীকে ইংলিশ মিডিয়ামের বই দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ৩৭, দ্বিতীয় শ্রেণীর ৩৪, তৃতীয় শ্রেণীর ২৭, চতুর্থ শ্রেণীর ২৬ ও পঞ্চম শ্রেণীর ২৫ শিক্ষার্থী এ বই পাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ডোনেট বাংলাদেশ'কে জানাতে ই-মেইল করুন- donetbd2010@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

ডোনেট বাংলাদেশ'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2021 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। ডোনেট বাংলাদেশ | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, ডেভোলপ ও ডিজাইন: DONET IT